হাসনাত আব্দুল হাই (English: Hasnat Abdul Hye) একজন বাংলাদেশি লেখক এবং প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তিনি ঢাকা, ওয়াশিংটন, লন্ডন ও কেমব্রিজে লেখাপড়া করেন। তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, জগদীশ চন্দ্র বসু পুরস্কার, শের-ই-বাংলা পুরস্কার, এস.এম. সুলতান পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল পুরস্কারে ভূষিত হন।
হাসনাত আবদুল হাইয়ের "জর্নাল '৮৯ " এবং "সাফারি" নিয়েই বুকক্লাব প্রকাশনী বের করেছে ভ্রমণ সমগ্র ১।
প্রচলিত ধারার ভ্রমণকথা নয় বইটি। গৎবাঁধা ঘোরাঘুরির আলোকচিত্র নেই। তবু পড়তে ভালো লেগেছে। কারণ হাসনাত আবদুল হাইয়ের গদ্য। ১৯৮৯ সালে ব্রিটেনে হাজির হয়েছিলেন লেখক। সেখানে রিজভী ( গওহর রিভজী, বর্তমানে শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা) তাকে নিয়ে যান নীরদ সি চৌধুরীর বাসায়। এই বইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলেন নীরদ সি চৌধুরী। হাসনাত আবদুল হাই নিজে যেমন ঋদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তেমনি পাঠককে জ্ঞানের নানা শাখায় পদচারণার পথটি দেখিয়েছেন।
ব্রিটেনে তখনও চলছে কনজারভেটিভ পার্টির শাসন। রাজনীতি নিয়ে খুবএকটা মাথা না ঘামালেও তৎকালীন সময় নিয়ে ধারণা পাওয়া যায়।
ভবঘুরেদের দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। বুঝতে চেয়েছেন তাদের মন-মানসিকতা।
বাঙালি এলাকা ব্রিকলেন। সেখানে বিলাতের বিত্ত-বৈভবের রাজত্ব দেখতে পাননি। দেখেছেন প্রবাসী বাঙালিদের দেশের জন্য আকুতি, নিজেই লক্ষ্য করেছেন শ্বেতাঙ্গ বখাতে গ্যাংয়ের ভয়ে কেমন সিঁটিয়ে থাকছে সবাই। অভিযোগ শুনেছেন, পুলিশও সাদাদের পক্ষেই কাজ করে।
রবীন্দ্রগবেষক কেতকী কুশারী ডাইসন হাইয়ের বর্ণনায় বেশ কয়েকবার এসেছে। বাঙালি কিংবা দক্ষিণ এশিয়দের ইংরেজি ভাষায় লিখে প্রতিষ্ঠা পাওয়া নিয়ে কেতকী কুশারী ডাইসনের বিশ্লেষণ পাঠককে পশ্চিমা সাহিত্যসমাজ নিয়ে বিশ্লেষণী মনোভাব জাগিয়ে তুলবে।
বিলাতে নামজাদা অনেক বাঙালির সাক্ষাতই পেয়েছেন লেখক। যাপিত জীবনের অংশ হিসেবেই সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন।
''সাফারি'' হলো আফ্রিকার কেনিয়া এবং জিম্বাবুয়ে ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে লেখা।
কোনো স্থানে গেলে সেখানকার গুণী-জ্ঞানীদের সান্নিধ্য পাওয়ার একটি প্রচেষ্টা হাসনাত আবদুল হাইয়ের স্বভাবধর্মে দেখা যায়। কেনিয়াতে এসে সাক্ষাৎ পেলেন প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক রিচার্ড লিকির। লিকি যেন প্রাণখুলে কথা বলেছেন হাসনাত আবদুল হাইকে পেয়ে৷ লিকির সাথে আলাপে প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে অনেক তথ্যই জানা যায়। কিন্তু পড়তে গেলে তা সুখপাঠ্য কম, দুর্বোধ্য বেশি মনে হয়।
হাসনাত আবদুল হাইয়ের ভ্রমণকথা পড়তে মন্দ লাগে না। কিন্তু প্রায়শই লেখার গতি খুব কমে গেছে। অনেক কথাবার্তাই অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। অর্থাৎ লেখকের লেখনশৈলী সঙ্গে একাত্ম হতে পারিনি।
আমার কাছে মাস্ট রিড লেভেলের কিছু মনে হয়নি। অগাধ সময় থাকলে পড়তে পারেন। লেখার স্টাইলটা নতুন। বাদবাকি নিরস।