Shawkat Ali (Bangla: শওকত আলী) is a major contemporary writer of Bangladesh, and has been contributing to Bangla fiction for the last four decades. Both in novels and short stories he has established his place with much glory. His fiction touches every sphere of life of mass people of Bangladesh. He prefers to deal with history, specially the liberation war in 1971. He was honored with Bangla Academy Award in 1968 and Ekushey Padak in 1990.
"প্রদোষে প্রাকৃতজন" খ্যাত শওকত আলী ততদিনে অসুস্থ। লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছেন। তবু নিরন্তর অনুরোধ আসছিল আত্মকথা লেখার জন্য। নিজে লিখতে পারতেন না। ডিকটেশন দিতেন। লিখে দিতো জনৈক আব্দুস সাত্তার। অবশেষে বই আকারে তার স্মৃতিকথা বের হলো। কিন্তু তা লেখকের মৃত্যুর পর।
আগেই বলেছি শওকত আলী নিজে লেখেননি। শুধু গল্পের ছলে, কথোপকথনের ভঙ্গিতে ডুব দিয়েছেন নিজের অতীতে। জন্মেছিলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। উল্লেখ্য, '৪৭ সালে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার উত্তর অংশ পশ্চিমবঙ্গে যোগ হয় এবং দক্ষিণ অংশ পড়ে বাংলাদেশে। সেই দিনাজপুরই এরশাদ তিনটি জেলায় ভাগ করেন যথা- ঠাকুরগাও, পঞ্চগড় এবং দিনাজপুর। শওকত আলীর জন্ম ভারতের দিনাজপুরে।
নিজের পৈত্রিকভিটা রায়গঞ্জের চমৎকার বর্ণনার পাশাপাশি বাবা ও মায়ের চারিত্রিক বৈপরীত্যের দিকগুলিও বারবার স্মরণ করেছেন শওকত আলী। বাবা ঘোর কংগ্রেসি। মা মুসলিম লীগার। বাবা উদাসীন স্বভাবের, মা গৃহিণী। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান শওকত আলী। কিন্তু সেই সময়ে পড়তির দিকে। পুরো মাত্রায় অভাব দেখা দেয়নি। আবার জমি থেকে খাজনার উসুল আদায়ও নিয়মিত নয়। অর্থাৎ এমন একটি সময়ে বেড়ে উঠছেন শওকত আলী যখন নিজেদের ধন-সম্পদ বলতে শুধু জায়গাজমি। নগদ নেই। আছে অতীতে বংশের বিত্ত-বৈভবের গল্পগাঁথা। তাই দারিদ্র্যও আঁচড় বসাচ্ছে সংসারে। মাকে বাধ্য হয়েই স্কুল শিক্ষক চাকরি নিতে হয়েছে।
একদিকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অনবদ্য ছোট্ট ছোট্ট স্মৃতি, অপরদিকে দেশভাগ নিয়ে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান তিক্ততা। রায়গঞ্জ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। শওকত আলীরা সেখানে সংখ্যালঘু মাত্র। কৈশোর থেকেই দেখেছেন দুই সম্প্রদায়ের দূরত্ব। দেখেছেন হিন্দু সহপাঠীরা খ্রিস্টান কিংবা বৌদ্ধ সহপাঠীদের সাথে যত সহজভাবে মেশে, ততটাই ব্যবধান বজায় রাখতে চায় মুসলমানদের থেকে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িকতার প্রাবল্য নিজেই চাক্ষুষ করেছেন বারবার। হয়েছেন তার চরম শিকার।
তার বাবা নিজে কংগ্রেসের মনোনয়নে বিধানসভা নির্বাচন করেছিল। ছিল থানা পর্যায়ের বড় কংগ্রেস নেতা। '৪৭ সালেও শওকত আলীর কংগ্রেসি পিতা ভারত ছাড়তে চাননি। অথচ দেশভাগ হওয়ার পর তাকেই প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িকতার শিকার হতে হয়েছে৷ এই সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করেছিল তারই এতদিনকার ব্রাহ্মণ বন্ধুরা। যাদের সাথে দেশভাগের আগে ছিল সুসম্পর্ক। তারাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল মুসলমান এই পরিবারটিকে উৎখাত করে তাদের জায়গাজমি দখল করার। হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাকে শওকত আলী নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে চিহ্নিত করেছেন শুধু ব্রাহ্মণদের সাম্প্রদায়িকতা হিসেবে। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা কখনোই মুসলমানদের সাথে বিরূপ আচরণ করতো না বলে দাবি শওকত আলীর।
দাদি মারা গেল, মা মারা গেল। পুরো পরিবারের ওপর এরইমধ্যে আঘাত করলো দেশভাগ। সপরিবারে চলে এলেন বাংলাদেশের দিনাজপুরে। মূলত দেশভাগপূর্ব স্মৃতিই বইয়ের চৌম্বকীয় অংশ।
তৎকালীন পূর্ববঙ্গে এসে শওকত আলী জড়িত হয়ে গেলেন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে। '৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ দিলেন। গেলেন জেলে। সেখানে পরিচয় হলো কমিউনিস্ট পার্টির বড় বড় নেতাদের সাথে। নয়মাস কারাবাসের পর জেলমুক্তি ঘটলো। বের হয়ে ঘটলো কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ে প্রত্যক্ষ মোহমুক্তি। পার্টির নেতাদের নিয়ে বলছেন,
" অনেক বিখ্যাত কমিউনিস্ট পার্টির লিডারদের সাথে তখন পরিচয় হয়েছিল। তারাই পরবর্তীতে বড় ব্যবসায়ী অথবা আমলা হয়েছিল। অনেকদিন পরে তাদের সাথে দেখা হলে আমাকে তারা চিনত না। সেটাই ছিল বড্ড কষ্টের বিষয়। "
ঢাবি থেকে মাস্টার্স করে ফিরে গেলেন দিনাজপুরে। স্কুলে মাস্টারি নিয়ে। 'কমিউনিস্ট' অজুহাতে পুলিশের নজরদারি সইতে না পেরে ঢাকায় চলে এলেন। মুনীর চৌধুরীর সুপারিশে চাকরি হলো জগন্নাথ কলেজে। এরপরে শুধুই জগন্নাথ কলেজ এবং অজিত গুহ নিয়ে স্মৃতিচারণা।
প্রথমেই বলি, খুব উৎসাহ কাজ করছিল বইটি নিয়ে। সেসব কিছুই পূরণ হয়নি। শ্রুতিলিখনের কারণে শওকত আলীর আপন গদ্যবৈভবের সাক্ষাৎ পাইনি। এও এক হতাশার কারণ। দ্বিতীয়ত, ঘটনা বলবার ক্ষেত্রে লেখকের স্মৃতিকাতরতার আধিক্যের হেতুই হয়তো দেশভাগপূর্ব ঘটনা তথা নিজের শৈশব,কৈশোরের দখলে চলে গেছে বই। একেবারেই কম গুরুত্ব পেয়েছে পরবর্তী জীবন। তাই এই স্মৃতিকথা অনেকাংশে অসম্পূর্ণ।