'নীতু ও তার বন্ধুরা' জাফর ইকবাল স্যারের লেখা একটি কিশোর উপন্যাস৷ আমি ঠিক নিশ্চিত নই তবে খুব সম্ভবত ১৯৯৯ সাল নাগাদ এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। একটি ১০০ পৃষ্ঠার কিশোর উপন্যাস নিয়ে সত্যিকার অর্থে খুব বেশি কিছু বলা যায়না৷
উপন্যাসটি নামকরণ হয়েছে নীতু নামে একটি মেয়ে ও তার বান্ধবীদের নামে৷ নীতু মূলত দশ বছর এর সামান্য বেশি বয়সী এক কিশোরী (নাকি শিশু?)। শহুরে পরিবেশে নিশ্চিন্ত জীবনযাপনের মাঝে হঠাৎ করেই তার মা মারা যায় এবং তার বাবা নতুন আরেকটি বিয়ে করে ফেলে৷ নতুন মা নীতুকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে না পারায় নীতুর বাবা নীতুকে দিয়ে আসে বহুদূরের এক গার্লস হোস্টেল কাম স্কুলে যেখানে কিনা তাদেরই দিয়ে আসা হয় যাদের বাবা-মা কিংবা মা মারা গেছে, ডিভোর্সি হয়ে গেছে অথবা সেই শিশুসন্তানকে যাদের বাবা মা আর তাদের রাখতে চাননা। সত্যি বলতে আমি যেটা বলে ফেললাম সেটুকু উপন্যাস সম্বন্ধে কোন ধারণাই দেবেনা৷ কেননা, মূল উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয়েছে এরপরে। এই উপন্যাসের নামকরণে নীতুর যে বন্ধুদের কথা বলা হয়েছে তারা মূলত নীতুর রুমমেট।
উপন্যাসে ভিলেন হিসেবে মূল যে চরিত্রটিকে দেখা গেছে তিনি গোটা স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং বিশেষত এই স্কুলটি যিনি চালান- খোড়াসানি ম্যাডাম৷ ভয়ংকর দর্শন চেহারার এই মহিলাটি গোটা উপন্যাসেই ভয়ংকর রূপে বিচরণ করেছেন। গার্লস স্কুলের হোস্টেলের মেয়েদের জীবন অতিষ্ট করে দেওয়াটাই মূলত তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল। আর সেটি খোড়াসানি ম্যাডাম সফলভাবে পারছিলেনও যতক্ষণ পর্যন্ত না নীতুর এক দুষ্টুমির ছলে স্কুলে এক নতুন সদস্যের আবির্ভাব হয়৷ মূলত, নীতুকে প্রথম থেকেই খোড়াসানি ম্যাডামের অসহ্য লাগতে শুরু করে এবং নীতু তাদের বন্ধুকে এই ভয়ংকর দর্শন খোড়াসানি ম্যাডামের হাত থেকে উদ্ধার করবার চেষ্টা করে যায়৷
উপন্যাসে আরো যেসব চরিত্রের আগমন ঘটেছে তাদের মধ্যে নীতুর বন্ধুরা ছাড়াও আছেন কাসেম নামে একটি মেয়ে৷ জ্বী, একটি মেয়ে। দুরন্তপনা কাসেম মূলত স্কুলের সবার জীবন অতিষ্ট করে দেওয়া এক চরিত্র, যার সাথে প্রথমদিকে হোস্টেলে নীতুর সামান্য বিবাদ দেখা যায়৷
উপন্যাসটিতে এই কিশোরীর বিভিন্ন দুষ্টুমি যেমন আনন্দ দেয়, এর শেষ পর্যায়ে দারুণ এক এডভেঞ্চার তেমনি শিহরণ জাগায়৷ কিশোর উপন্যাস হিসেবে এটি পড়তে একেবারেই খারাপ লাগেনি। হোস্টেলের কড়া নিয়মকানুনের মধ্যে দিয়ে নীতুর সমস্ত দুঃসাহসিক কাজ আমাকে বরং বেশ শৈশবেই নিয়ে যাচ্ছিল।