রোমান্টিক সাহিত্যিকের লেখা ভ্রমণকাহিনী পড়তে গেলে যে অসুবিধাটা হয় তা হলো, লেখায় ভ্রমণের বিবরণ থাকে ৩০% আর বাকি ৭০% ই থাকে লেখকের কল্পিত রংচড়ানো সাহিত্য। তার ওপর নারীপ্রেমী হলে তো কথাই নেই। বার্মিজ নারীদের আকর্ষণীয় শারীরিক বর্ণনা ও কাজকর্মের বিবরণ পড়তে পড়তে ভুলেই গিয়েছিলাম এটা কি ট্রাভেলগ নাকি রোমান্টিক উপন্যাস। ‘অপরূপ মিয়ানমার’ এর বদলে ‘অপরূপ মিয়ানমারের রমণীকূল’ নাম হলে বোধয় ভালো মানাত।
বিপ্রদাশ বড়ুয়াকে খুব বেশি দোষ দিবনা। তিনি রোমান্টিক লোক, তাই লেখায় রোমান্স আসবেই। এসেছেও। পাহাড় নদী আকাশ বাতাস সবখানে নারীকল্পনা৷ দোকানি বার্মিজ মেয়ে থেকে স্থানীয় বাঙালি প্রৌঢ়া - কেউ বাদ নেই! লেখকের হাই লেভেলের কল্পনা আর উপমা পড়তে পড়তে মাঝেমাঝেই ভাবছিলাম এই লেখা শেষ হবে কবে। শেষদিকে তো স্কিপই করেছি অনেক পার্ট।
মিয়ানমারের ইতিহাস, ধর্ম, সামাজিক ব্যবস্থা, আচার অনুষ্ঠান, বিভিন্ন স্থান নিয়ে কিছু লেখা আছে। কিন্তু ১৭০ পেজের বইয়ে সেসব যোগ করলে ১৭ পেজও হবেনা।
আর হ্যাঁ, ছোট ছোট বাক্য যথেষ্ট বিরক্তিকর। লেখায় বাক্যগঠন তাই ভালো লাগেনি। হয়তো অন্যের ভালো লাগতে পারে।
রেটিং ২.৫/৫। মিয়ানমার নিয়ে বেটার কোনো বই পাই কিনা দেখি।