মিয়ানমার বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ হলেও, কঠোর জান্তা শাসনে থাকা দেশটি সম্পর্কে বাঙালির জানার সুযোগ নেই বললেই চলে। মিয়ানমার তাই এত কাছে হয়েও বাঙালির জন্য রহস্যময় এক দূরদেশ। মিয়ানমারের ধর্ম ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুলেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া তাই সুযোগ পেয়েই পাড়ি জমিয়েছেন দেশটিতে। আর আমাদের জন্য নিয়ে এসেছেন রকমারি অভিজ্ঞতার ঝুড়ি। মিয়ানমারের রহস্য খোলাসা করতে এই বই কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে - এমনটাই প্রত্যাশা।
মিয়ানমারকে চেনা, জানা, অনুভব এবং অনুসন্ধান করার জন্য দারুণ একটা বই। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অাধুনিক মিয়ানমারে হয়ত এখন অনেক পরিবর্তন চলে এসেছে। তবে তার রূপ-রসহ্য-সৌন্দর্য অাগের মতই অাছে বলে বিশ্বাস, যেমনটা ছড়িয়ে অাছে এ বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায়।
রোমান্টিক সাহিত্যিকের লেখা ভ্রমণকাহিনী পড়তে গেলে যে অসুবিধাটা হয় তা হলো, লেখায় ভ্রমণের বিবরণ থাকে ৩০% আর বাকি ৭০% ই থাকে লেখকের কল্পিত রংচড়ানো সাহিত্য। তার ওপর নারীপ্রেমী হলে তো কথাই নেই। বার্মিজ নারীদের আকর্ষণীয় শারীরিক বর্ণনা ও কাজকর্মের বিবরণ পড়তে পড়তে ভুলেই গিয়েছিলাম এটা কি ট্রাভেলগ নাকি রোমান্টিক উপন্যাস। ‘অপরূপ মিয়ানমার’ এর বদলে ‘অপরূপ মিয়ানমারের রমণীকূল’ নাম হলে বোধয় ভালো মানাত।
বিপ্রদাশ বড়ুয়াকে খুব বেশি দোষ দিবনা। তিনি রোমান্টিক লোক, তাই লেখায় রোমান্স আসবেই। এসেছেও। পাহাড় নদী আকাশ বাতাস সবখানে নারীকল্পনা৷ দোকানি বার্মিজ মেয়ে থেকে স্থানীয় বাঙালি প্রৌঢ়া - কেউ বাদ নেই! লেখকের হাই লেভেলের কল্পনা আর উপমা পড়তে পড়তে মাঝেমাঝেই ভাবছিলাম এই লেখা শেষ হবে কবে। শেষদিকে তো স্কিপই করেছি অনেক পার্ট।
মিয়ানমারের ইতিহাস, ধর্ম, সামাজিক ব্যবস্থা, আচার অনুষ্ঠান, বিভিন্ন স্থান নিয়ে কিছু লেখা আছে। কিন্তু ১৭০ পেজের বইয়ে সেসব যোগ করলে ১৭ পেজও হবেনা।
আর হ্যাঁ, ছোট ছোট বাক্য যথেষ্ট বিরক্তিকর। লেখায় বাক্যগঠন তাই ভালো লাগেনি। হয়তো অন্যের ভালো লাগতে পারে।
রেটিং ২.৫/৫। মিয়ানমার নিয়ে বেটার কোনো বই পাই কিনা দেখি।