বনের ভেতর থেকে এমিলি নামের ছোট্ট এক মেয়েকে উদ্ধার করল অয়ন, জিমি আর রিয়া। ওকে নাকি ড্রাগন আক্রমণ করেছিল! এমিলির মা বললেন, তাঁর মেয়ে বড্ড কল্পনাবিলাসী। ওর জগৎটা রাজকন্যা-রাজপুত্র, দত্যি-দানো, পরী-জাদুকর আর রূপকথার সব প্রাণী দিয়ে ভরা। তা-ই যদি হবে, এমিলিকে আক্রমণ করল কে? অদ্ভুতদর্শন এক পাখি নিয়ে কে ঘুরে বেড়াচ্ছে উপত্যকায়? অলোকদর্শী অ্যালথিয়াই বা অমঙ্গলের আশঙ্কা করছে কেন? কেনই বা হামলা আসছে অয়ন-জিমি-রিয়ার ওপর... বার বার? রহস্যের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে গোয়েন্দারা। শেষে বুঝল, এই রহস্যের সমাধান করতে চাইলে এমিলির চোখ দিয়ে দুনিয়াটা দেখতে হবে ওদের। উঁকি দিতে হবে রূপকথার জগতে!
বেশ ব্যতিক্রমী এক সূত্র আছে এই বইটির রহস্য সমাধানের ক্ষেত্রে। কিছু বিষয় জেনেছি। ভাল লেগেছে। তাছাড়া আছে জিমি আর রিয়ার বেশ কিছু দুর্দান্ত খুনসুটি। অয়নও গতানুগতিক লেকচার ঝেড়ে পরিবেশ যথেষ্ট পরিচিত রেখেছে। তবে গল্পের নতুন আগত চরিত্র "এমিলি" দারুণ। পরবর্তী বইগুলোতে ওকে পেলে মন্দ হয় না।
বরাবরের মতোই একটি সুখপাঠ্য বই। তবে শুরুর দিকে কিছুটা ধীর গতির। সেটুকু কাটিয়ে উঠতে পারলে এক টানে সমাধান। শিশু এবং কিশোর পাঠকরা দারুণ উপভোগ করবে এই আয়োজন।
কিশোর বয়সী মগজ যে রহস্যে বিভ্রান্ত হবে, যে ট্যুইস্টে চমকে উঠবে- পুর্ন বয়সী মগজের কাছ থেকে স্বভাবতই সেই একই প্রতিক্রিয়া আশা করা যায় না। কাজেই প্রত্যাশার ঘুড়িকে বেশি উঁচুতে না উড়িয়েই ছেলেবেলার অন্যতম প্রিয় সিরিজের নতুন এই বই গুলো পড়া শুরু করেছিলাম। তাছাড়া ঘুরি বেশি উঁচুতে উড়ানোও রিস্কি ব্যাপার,মাঞ্জা দেয়া ধারালো সুতায় বেঁধে স্যাটেলাইট ফ্যাটেলাইট ভেঙে পরে যেতে পারে 😑। সে যাই হোক, প্রত্যাশা যেটা ছিল, সেটা হচ্ছে লেখকের লেখনি এবং এই সিরিজের অতীর রেকর্ড। অতীতে অনিয়মিত ভাবে অল্প যে কয়েকটা বই বের হয়েছে এই সিরিজের, সবগুলোর কাহিনিই ছিল মানসম্মত। আর লেখকের যে কয়টা অনুবাদ বা রুপান্তর আগে পড়েছি, তার সবগুলোর কাহিনীই হয়তো আমার সমান ভাল লাগে নাই, কিন্তু অনুবাদ পড়ার স্বাদ পেয়েছি ষোলআনা। আগেই বলেছি, খুব জটিল কোন গল্প আশা করিনি, কিন্তু তারপরও স্বীকার করতেই হচ্ছে, প্রতিটা বইয়েরই একাধিক জায়গায় চমকে দিতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। চারটে বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভাল লেগেছে 'এমিলির চোখ' - সম্ভবত এর ব্যাতিক্রমধর্মী কাহিনির জন্য। বিষয়বস্তর জন্য 'কালোজাদু' হয়তো অনেককেই 'তিন গোয়েন্দা' সিরিজের টেরর ক্যাসেলের কথা মনে করিয়ে দেবে, তবে মিল ওই টুকুই। 'রাত নিশুতি' বলা যায় পিওর সাসপেন্স থ্রিলার। এই বইটায় গোয়েন্দাপ্রধান অয়নের অ্যাক্টিভিটি তুলনামুলক কম থাকলেও (মগজাস্ত্রের ব্যবহার বাদে), দুর্দান্ত গতির কারণে পড়া শুরু করার পর হাত থেকে রেখে দেয়া মুশকিল। তবে একটা বিষয় নিয়ে সামান্য একটু খটকা আছে। এখানে বললে স্পয়লার হয়ে যাবে, সময় সুযোগ হলে লেখকের কাছ থেকে জেনে নেবার ইচ্ছা আছে। 'নিষিদ্ধ দ্বীপ' যথেস্ট আনপ্রেডিক্টেবল, এমিলির চোখের পর এটাই সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে। সবগুলা বইয়েরই প্রচ্ছদ চমৎকার হয়েছে। বইগুলো সংগ্রহ করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বড় হবার পর আমার কন্যা পড়বে এগুলো। একই উদ্দেশ্যে আরও বই সংগ্রহ চলছে :) । কিন্তু কেনার পর নিজেই পড়ার লোভ সামলাতে পারি না। একেকটা বই যেন একেকটা টাইমমেশিন। কয়েক ঘন্টার জন্য যে কিশোর বয়সে ফিরে যাই। অয়ন-জিমির কাছে ফিরে আসি। ছেলেবেলার প্রিয় এই সিরিজটা কেন যেন সবসময়ই কিছুটা আড়ালেই থেকে গেল। একটা সময়ে তিন গোয়েন্দার স্বর্ণালী যুগের ছায়ায় ঢাকা পরে গিয়েছিল এই সিরিজটা। আর এখন সম্ভবত লেখকের পেশাগত ব্যস্ততা একটা কারণ। কারণ যাই হোক, সিরিজটা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে (করোনার জন্য একটা ছেদ পরেছে যদিও), আশা করা যায় বিরতিহীন ভাবে আরও অনেকদিন চলবে সিরিজটা। আপাতত 'জল টলমল' এর অপেক্ষায়।
দারুণ!একদম জমে ক্ষীর!পুরনো তিন গোয়েন্দার ভাইভ পেলাম বইটা শেষ করে।সেই শুরুর দিকের তিন গোয়েন্দার বইগুলোর মতো।ইউনিক একটা প্লট সাথে ইসমাইল আরমান স্যারের দুর্দান্ত লেখনী,জিমি এবং রিয়ার খুনসুটি সব মিলিয়ে দারুণ উপভোগ করেছি বইটা।সত্যি বলতে অয়ন জিমি যতগুলো বই পড়েছি কোন গল্পই হতাশ করে নি এখন অব্দি।নিঃসন্দেহে সেরা একটা কিশোর থ্রিলার বইটা
অনেকদিন পর সেই পরিচিত ছাঁচের বাইরে নতুনত্বের স্বাদ পেলাম। ক্লাইমেক্স যদিও অতটা টানেনি, তবে রহস্যের বিষয়টা আর ধরণটা ইন্টারেস্টিং ছিলো। চরিত্রের আনাগোণা বোধহয় একটু বাড়ানো দরকার। তিন গোয়েন্দায় রহস্য সমাধানের মতোই উপভোগ্য ছিলো স্যালভেজ ইয়ার্ডের কথাবার্তা, রাশেদ চাচা-মেরী চাচীর নরম ঝগড়াগুলো। এই বিষয়গুলো তিগো পড়া ছাড়ার আগে প্রচুর মিস করতাম। আর অয়ন জিমিকে তিন গোয়েন্দার উত্তরসূরী মনে হওয়ায় না চাইতেও মনের মধ্যে তিন গোয়েন্দার সাথে একটা তুলনা কাজ করে। সিরিজটা আরো ভালো হবে ধীরে ধীরে আশা করি।