Jump to ratings and reviews
Rate this book

সোমেন চন্দ গল্পসমগ্র

Rate this book
Complete short stories by a Bengali author.

256 pages, Unknown Binding

Published January 1, 1997

Loading...
Loading...

About the author

Somen Chanda

10 books4 followers
Chanda, Somen (1920-1942) political activist, writer; full name Somendra Kumar Chanda, was born in Baliya village of narsingdi district on 24 May, 1920. He passed the Entrance examination in 1936 from Pogose School, Dhaka. He was admitted to Dhaka Mitford Medical School. But had to discontinue his studies because of ill health. Later, he joined the pragati lekhak sangha and became involved in Marxist politics and literary activism. He was killed on 8 March 1942 while participating in a procession organised by the Soviet Friendship Society.

Somen Chanda's political and literary careers were intertwined. Politically committed, he wrote stories describing the struggle of the general people and he meant to raise public awareness about their disadvantaged situation. Most of Somen Chanda's writings were presented at the weekly and fortnightly meetings of the Progressive Writers' Association. His story 'Vanaspati' was published in Kranti (1940). Sangket O Anyanya Galpa (1943) and Vanaspati O Anyanya Galpa (1944) were published from Dhaka and Calcutta after his death. Ranesh Daxgupta edited and published Somen Chander Galpaguchchha (The Collected Writings of Somen Chanda) in 1973. His story, 'Indur' (The Rat), has been translated into several foreign languages. He died in Dhaka on 8 March 1942.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (33%)
4 stars
5 (33%)
3 stars
2 (13%)
2 stars
0 (0%)
1 star
3 (20%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Ranendu  Das.
157 reviews65 followers
May 16, 2017
॥ সোমেন চন্দ গল্প সংগ্রহ ॥

[সম্পাদনা পবিত্র সরকার, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাদেমি, ২৬শে মে ১৯৯৭, ষাট টাকা]

সোমেন চন্দের জন্ম ঢাকা জেলার নরসিংদি এলাকার বালিয়া গ্রামে। তার (১৯২০-১৯৪২) তার স্বল্পায়ু জীবনের শেষ চার পাচ বছরই তিনি লেখালেখি করার সুযোগ পেয়েছিলেন। মাত্র বাইশ বছরেই তিনি খুন হন বিরুদ্ধ মতের রাজনৈতিক ঘাতকদের হাতে!

সোমেন চন্দ ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাশ করে ডাক্তারি পড়বার জন্য ভর্তি হন ঢাকার মিটফোর্ডে। কিন্তু, ডাক্তারি পড়বার নিয়মিত খরচ অকুলান হওয়ায় বছরখানেকের মধ্যেই তার লেখাপড়ার সমাপ্তি হয়ে যায়। তবে এই সময়ই (১৯৩৭) তার পরিচয় হয় আন্দামান ফেরৎ কম্যুনিস্ট নেতা সতীশ পাকড়াশির সঙ্গে! সতীশ পাকড়াশি ঢাকায় কম্যুনিস্ট আন্দোলন সংগঠিত করার প্রয়াস শুরু করেন, এবং সোমেন অচিরেই (১৯৩৮) গোপন ‘কম্যুনিস্ট পাঠচক্র’ এর প্রকাশ্য শাখা, প্রগতি পাঠাগারের পরিচালকের দায়িত্ব পান। আস্তে আস্তে তিনি কম্যুনিস্ট জীবনদর্শন, কর্মধারা ও সক্রিয় উদ্যোগের সাথে জড়িয়ে পড়েন ও মাত্র একুশ বছর বয়েসেই (১৯৪১) পার্টির সদস্য হন। ১৯৪০ নাগাদ ঢাকায় যে প্রগতি লেখক সংঘ পথ চলা শুরু করে, সোমেন ছিলেন তার অন্যতম সংগঠক। তিনি তার ট্রেড ইউনিয়নের কাজ ও আন্দোলনের পাশাপাশি লেখক সংঘের সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক বৈঠকেও নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তার রচিত গল্পগুলির অধিকাংশই লেখক সংঘের বৈঠকে পঠিত। ১৯৪১ এর ২২শে জুন হিটলার সোভিয়েতে আগ্রাসন চালালে, সারা পৃথিবীতে ফ্যাসীজম বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠিত হয়, এবং ঢাকায় স্থাপিত হয় সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি। ৮ই মার্চ ঢাকায় এক সর্বভারতীয় ফ্যাসিবিরোধী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, এবং এই সম্মেলনই হয়ে দাড়ায় সোমেনের ভবিতব্য, নেমেসিস!

তথাকথিত জাতীয়বাদী কিছু দল যারা ভেবেছিল হিটলার বা জাপানিরা এসে ভারত স্বাধীন করবে, তারা প্রথম থেকেই এই সম্মেলনে বিঘ্ন ঘটাতে চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাদের সে চেষ্টা ব্যাহত হলে, বেলা তিনটের সময় সোমেন যখন রেল কলোনীর শ্রমিকদের মিছিল নিয়ে সম্মেলনে যোগ দিতে আসছিলেন, তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে কিছু অস্ত্রধারী! তারা, “ভোজালি দিয়ে পরপর আঘাত করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয়, চোখদুটো উপড়ে ফেলে, জিভ টেনে বের করে তা কেটে ফেলে দেয়, পেট চিরে নাড়িভুড়ি বার করে দেয় এবং অট্টহাস্য করে পশুর মত তারা তাঁর ছিন্নভিন্ন দেহের উপর নাচতে থাকে।“ বাইশ বছরের তরুন ও মৃত সোমেনের হয়ে সাক্ষ্য দিতে রয়ে যায় তার পচিশটি গল্প, একটি উপন্যাস, দুটি একাঙ্কিকা আর তিনটি গদ্য কবিতা! (তথ্যসুত্রঃ সম্পাদকীয় ভুমিকা)

উপরর তথ্যরাজির শেষে এবার নিজের কথা বলি। বইটি কিনেছিলাম যথারীতি পাচ-ছয় বছর আগে, বইমেলায়। সোমেন চন্দের নামটি কেমন করে জেনেছিলাম তা মনে নেই, কোথাও নিশ্চই তার ব্যাতিক্রমী লেখনীর কথা পড়েছিলাম। ইঁদুর গল্পটি পড়া থাকলেও, এবারে বাকি চব্বিশটি গল্পই পড়ে ফেললাম। সম্পাদক যেমন সোমেন কে কথাসাহিত্যিক বলেছেন, তাতে আমার মতে নিশ্চই কিছু অতিশোয়াক্তি আছে। তবে! তবে, এটাও সত্যি যে সোমেন চন্দ অকালে প্রয়াত না হলে তার রচনা ভবিষ্যতে আরও শানিত, আরও ব্যাতিক্রমী হয়ে উঠত। সম্পাদক নিজেও আলোচনায় বলেছেন যে সোমেনের অনেক গল্প দুর্বল ও অসামাপ্ত রয়ে গেছে; তার সঙ্গে আমি একমত। বাস্তবিক পক্ষে বাইশ বছর বয়সে যেটুকু পরিনত বোধ নিয়ে সমাজের কাজে ঝাপিয়ে পড়া যায়, সেই বোধ, নির্দ্বিধায়, যথেষ্ট নয় আমাদের এই জটিল সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সর্বোপরি নর-নারীর সম্পর্ক বুঝে ফেলা! তবু, এই দুর্বলতার ভিতর দিয়েই বেশ কিছু চরিত্র উঠে আসে, যারা পাঠকের স্মৃতিতে স্থান করে নেয় অনায়াসে!

সোমেন চন্দের ভাষা সুন্দর, প্রকৃতির বর্ণনা মনোমুগ্ধকর এবং অযথা অলংকারাবৃত নয়। লেখকের কোন গল্পেই দারুন কোনো চমক দেওয়ার প্রচেষ্টা নেই; বরং পড়তে পড়তেই বেশ আঁচ করা যায় গল্পের পরিণতি কি হতে পারে। তার প্রতিটি গল্পই অসংখ্য দৃশ্যের সমাহার, ক্যালাইডোস্কপিক! গল্পগুলি সমাজের ও জীবনের অনেক স্তরকে ছুঁয়ে গেছে তাদের বিষয় ও চরিত্র বৈচিত্রে। এই বিবিধ বর্ণময় ছবির কোলাজের মাঝখানে তবু কোথাও যেন তার প্রতিটি গল্পেই বিষাদের একটি ছোয়া লেগে আছে; হাজার রঙের বুকে একটি মলিন ছায়াও যেন বিছানো আছে। অবশ্য তার সময়ে চতুঃপার্শ্বে আনন্দে উচ্ছসিত হওয়ার মতও তো কিছু ছিল না যা তার লেখায় আলোর ফুলকি হয়ে ফুটে উঠবে। এই মলিনতা আসলে আপাত ভাবে এই উৎসবমুখর, রূপটানে সজ্জিতা সমাজের ভেতরের ছায়াছন্ন এক রূপ, যা সোমেন চন্দের নজর এড়ায়নি!

এই গল্প সংগ্রহ (সমগ্র) এর পচিশটি গল্পের মধ্যে কয়েকটি গল্প, যেমন, স্বপ্ন, একটি রাত, ইঁদুর, প্রান্তর, বনস্পতি, ভাল-না-লাগার শেষ, রানু ও স্যার বিজয়শংকর বেশ ভাল লাগে। একটি রাত ও ইঁদুর, দুটি গল্পেই সুকুমার চরিত্রটি (লেখক) উপস্থিত। উপরন্তু সম্পাদক আমাদের জানান যে ইঁদুর গল্পে চরিত্র সুকুমারের মা-বাবা আসলে লেখকের মা-বাবার আদলেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অনেক গল্পের বেশ কিছু নারী চরিত্রও মন টানে, যেমন, রাত্রিশেষ গল্পে ললিতা, একটি রাত গল্পে বীণা, প্রান্তর গল্পে সতী, ভাল না লাগার শেষ গল্পে রমলা (ও অদিতি) ও বনস্পতি গল্পে সুকুমারী। সবশেষে এটাই বলা যায় যে, সোমেন চন্দের গল্প গুলিতে জীবনের বহিরঙ্গের চাইতে, মানুষের, অর্থাৎ, আমাদের অন্তরংগ মনের ভাবটুকু ও অন্যের সাথে তার আদান-প্রদানটুকু যে লেখক যে ভাবে তুলে ধরেছেন তা পাঠকের মনের ভেতর দীর্ঘসময় জুড়ে গুঞ্জরিত হতে থাকে। বাইশ বছর বয়সে শহীদ হওয়া তরুনটি তাই আজও সোমেন চন্দ নামে পৃথক পরিচয়ে আমাদের মধ্যে বেচে আছেন, থাকবেনও।
Profile Image for Sourav Atik.
26 reviews8 followers
May 11, 2021
আমি যদিও দ্যু এর টা পড়েছি৷ দাঙ্গা আর ইঁদুর নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। কিন্তু বাকি গল্প গুলাও খারাপ লাগেনি আমার। মানবিক প্রেম,বিরহ, জটিলতা, রাজনীতি সবই এসেছে।
Profile Image for Tareq Aziz.
2 reviews
July 3, 2026
১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখ, বিকাল বেলা।
বুড়িগঙ্গার তীরে করোনেশান পার্ক (এর অবস্থান ছিল নর্থব্রুক হল আর সদরঘাটের মাঝখানে, এখন বিলুপ্ত, সেখানে গাড়ি পার্কিং এর জায়গা বানানো হয়েছে) লোকে লোকারণ্য। নোবেলজয়ী একমাত্র বাঙ্গালী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য জড়ো হয়েছে ঢাকাবাসীরা। অভিনন্দন পত্রের উত্তরে কবি বলছেন, "...আমি অনেকদিন থেকেই ভেবেছিলাম, একবার আমার জীবনযাত্রা শেষ হবার পূর্বে বঙ্গজননীর যে দেবমূর্তি বাংলার সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত রয়ছে, সেসব স্থানে গিয়ে তীর্থদর্শন করি। আমি সেই আশা বুকে নিয়েই আজ আপনাদের এই প্রাচীন বৃহৎ নগরীতে এসেছি...।" ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের রিসিভিং ক্লার্ক নরেন্দ্রকুমার চন্দ একমাত্র ছেলেকে কাঁধে তুলে নিয়ে এসেছেন কবি দর্শনে। কিছুদিন আগে ছেলেটার মা মারা গেছে। তাই অফিস শেষে যথাসাধ্য সময় তিনি এই ছেলের সাথেই কাটান। আর কবিকে দেখবার এমন সুযোগ আবার কবে আসবে কে জানে!
কবিকে দেখিয়ে তিনি ছেলেকে বলছেন," ঐ দেখো বাবা, ঐ যে সাদা বড় চুল, সাদা সাদা দাড়ি, একজন বুড়ো মানুষ বসে আছেন; তিনি বাংলাদেশের একজন খুব বড়লোক।"
ছেলের প্রশ্ন, "বড়লোক কী বাবা?"
বাবাঃ "আরে খুব বিদ্বান আর খুব বড় কবি।"
ছেলেঃ " কবি কী বাবা?"
বাবাঃ " যাঁরা খুব লিখতে পারেন, যাঁদের লেখা পড়ে সকলে খুব সুখ পায়। আর পড়ে খুব জ্ঞান হয়।"
সামনের অসংখ্য লোকের ভীড় ঠেলে ছেলে দেখবার চেষ্টা করে কবিকে। এই ছেলেকে বাবা শম্ভু নামে ডাকেন, ক'দিন পর যখন পোগজ স্কুলে ভর্তি করলেন তখন স্কুলের খাতায় নাম উঠল সোমেন্দ্রকুমার চন্দ। আর ১৯৩৭ এ দেশ পত্রিকায় প্রথম যখন গল্প বের হল, তখন লেখক হিসেবে নাম হলো সোমেন চন্দ।
সোমেন চন্দের নাম প্রথম জানতে পারি ১৯৯৩ সালে, এস এস সি পরীক্ষা দেবার পর। তখন অখণ্ড অবসর, নানারকম বই পড়ে সময় কাটাই। এসময় হাতে আসে হুমায়ূন আহমেদের লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার'। বইটির প্রথম প্রকাশের ভূমিকা থেকে- "সোমেন চন্দের লেখা অসাধারণ ছোটগল্প 'ইঁদুর' পড়ার পরই নিম্ন মধ্যবিত্তদের নিয়ে গল্প লেখার একটা সুতীব্র ইচ্ছা হয়। 'নন্দিত নরকে', 'শঙ্খনীল কারাগার' ও 'মনসুবিজন' নামে তিনটি আলাদা গল্প প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই লিখে ফেলি।" হুমায়ূন আহমেদ এর মত একজন লেখক জন্মের সাথে যাঁর লেখনি জড়িত, শুরু হল তাঁর লেখার খোঁজ।
হতাশ হলাম, কারণ সেই সময়ে গোটা নিউমার্কেট খুঁজেও সোমেন এর একটা বইও পাইনি, এমনকি বেশীরভাগ বিক্রেতা তাঁর নামই শুনেনি। আমিও প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম তাঁর কথা, 'ইঁদুর' গল্পের কথা। চার বছর আগে বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে খান ব্রাদার্স এর স্টলে হঠাৎ চোখ আটকে গেল "সোমেন চন্দের সব গল্প' এই বইটাতে। এই বই বহুবার খুঁজে ব্যর্থ হয়েছিলাম একটা সময়ে! কিনে আনলাম। মোট ১৭টি গল্প আছে বইটিতে। পড়লাম বেশ সময় ধরে। 'ইঁদুর' পড়ে মুগ্ধ হলাম, ভালো লাগলো 'দাঙ্গা' গল্পটিও। সবচেয়ে ভালো লাগলো 'বনস্পতি'।
৩০-৪০ দশকের ঢাকার যে জটিল সময়টাকে ধারন করে গল্পগুলো লেখা হয়েছে, তা ভালো করে বুঝতে গেলে দেখতে হবে গল্পগুলোর পেছনের গল্প। আর তার পুরোটা জুড়েই আছে সোমেনের ২২ বছরের অতি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যুজ্জ্বল জীবন। সেই জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে সোমেন শিখছেন, নানা পেশার মানুষের কাছাকাছি আসছেন, তাদের জীবনের ওতপ্রোত অংশ হয়ে উঠছেন। একটি বই এর নাম এখানে উল্লেখ করছি - 'সোমেন চন্দের ছেলেবেলা'। লেখক আমিনুর রহমান সুলতান তাঁর অক্লান্ত শ্রম দিয়ে বইটি লিখেছেন। তথ্য দুষ্প্রাপ্যতার মধ্যেও তিনি তৈরি করেছেন সোমেনের ছেলেবেলার এক সম্পূর্ণ চিত্র। মূল্যবান কিছু আলোকচিত্র বইটিতে বাড়তি পাওনা।
লেখকের পাশাপাশি মানুষ সোমেনকে আর তাঁর সময়টাকে জানার জন্য অত্যন্ত সুপাঠ্য এক উপন্যাস - শ্রদ্ধেয় লেখিকা সেলিনা হোসেন এর 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'। লেখনির মাধ্যমে সময় ধারন করবার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা সর্বজন বিদিত। লেখিকা অনন্যসাধারন দক্ষতায় লিখে গেছেন - সোমেনের সাহিত্যিক হয়ে উঠবার গল্প, কিভাবে আন্দামান ফেরত বিপ্লবী সতীশ পাকরাশি সেই করোনেশান পার্কের বেঞ্চে বসে সোমেন এর ভেতরের লেখক সত্তাকে জাগিয়ে তুলছেন সেই গল্প। উপন্যাস এগিয়ে চলে, দেখা যায়- সোমেন আরো অনেক অনেক বই এর ভেতরে ডুবে যাচ্ছেন, গড়ে তুলছেন দক্ষিন মৈশুণ্ডিতে প্রগতি পাঠাগার, আরো গড়ে তুলছেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী জনমত। একটা সময়ে রেলওয়ে শ্রমিকদের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেন সোমেন, পরিবারের অবর্তমানে ঠাটারিবাজারে পুরানো রেলওয়ে কলোনির কাছে বাসা ভাড়া নেন। একটু একটু করে গল্প লেখা এগিয়ে চলে। সে সময় ঢাকা শহরে প্রায়ই দাঙ্গা লেগে থাকত। সোমেনের কলমে জন্ম নেয় গল্প 'দাঙ্গা'। প্রগতি লেখক সংঘের আসরে পড়ে শুনালেন সেই গল্প- সবাই মুগ্ধ। সদ্য কৈশোর পেরুনো কোন ছেলে অমন গল্প লিখতে পারে! হিটলারের সোভিয়েত আক্রমনের প্রতিবাদে সোভিয়েত সুহৃদ সুমিতি ঢাকা ব্যাপ্টিস্ট মিশন হলে (খুব সম্ভব জনসন রোডের রিজেন্টস পার্ক হল, এখন বিলুপ্ত, আলোকচিত্রে সর্বডানে দৃশ্যমান) আয়োজন করল সপ্তাহব্যাপি সোভিয়েত বিষয়ক প্রদর্শনী। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উদবোধন করলেন এই আয়োজন। সোমেন উদয়াস্ত পরিশ্রম করলেন একে সফল করতে। সারাদিন পরিশ্রম শেষে বাড়ি ফিরে চলতে থাকে 'ইঁদুর' লেখার কাজ। এই লিখতে লিখতেই কখন সোমেন হয়ে উঠেন 'ইঁদুর' গল্পের সুকুমার, কখনো 'দাংগা' গল্পের অশোক, আবার কখনো 'বনস্পতি' গল্পের সতীন।
সোমেনের জনপ্রিয়তা আর ফ্যাসিবাদ বিরোধী অবস্থানের জন্য তাঁর শত্রু তৈরি হতেও দেরী হয় না। ১৯৪২ এর ৮ই মার্চ, সুত্রাপুরের ফ্যাসি বাদ বিরোধী মহাসমাবেশে যোগ দেবার জন্য রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন সোমেন। লক্ষীবাজারে আসবার পর মিছিলে হামলা করে প্রতিপক্ষ। নৃশংসভাবে দিনে দুপুরে সবার সামনে হৃষিকেশ দাস লেনে খুন হন সোমেন। ঢাকার রাস্তা ভেসে যায় তাঁর রক্তে। অবাক বিস্ময়ে আমরা দেখি সোমেন মিশে যাচ্ছেন নিজ গল্প 'বনস্পতি'র সতীনের সাথে। সোমেনের ভাষায় -
"এক রক্তের গঙ্গা বহিয়া গেল, কতো রক্তের বীজ ছড়াইয়া আছে। সেই বীজ হইতে একদিন অংকুর দেখা দিবে, তারপর অনেক বৃক্ষ জন্ম নিবে, ইহাও আশা করা যায়।"
পরিশেষে বুদ্ধদেব বসুর 'প্রতিবাদ' কবিতার কয়েকটি পংক্তি। কবিতাটি লেখা হয়েছিল সোমেনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেঃ
"ক্ষমা? এরও কি ক্ষমা আছে? এ-উন্মত্ত হননবৃত্তিরে
নীরবে সহিতে পারে এত বড়ো মানব মহিমা
জানি না সম্ভব কিনা।"
Profile Image for Shapla.
28 reviews6 followers
July 10, 2023
লেখকের অকালমৃত্যু না হলে আমরা একজন কালজয়ী লেখককে পেতাম।
Displaying 1 - 4 of 4 reviews