আনাতোলিয়া। এশিয়া মাইনর। তুরস্ক। কত নামেই না তাকে ডাকা যায়। অথচ নামের চেয়ে উজ্জ্বল তার রাজধানীÑইস্তাম্বুল! বাইজেন্টিয়াম। কনস্টান্টিনোপল্স। তারও কত বিশেষণ। দুটি মহাদেশ, দুটি সমুদ্র, দুটি ধর্ম, দুটি সংস্কৃতির অত্যুজ্জ্বল নগরী। পরতে পরতে যার রূপ-রহস্য আর অপরূপার রোশনী। ছ’শো বছরের ওসমানী খিলাফত আর ইব্রাহিম থেকে শুরু করে আতাতুর্কের জানা-অজানা কত না গল্পে ভরপুর ওরিয়েন্ট-এক্সপ্রেস। হেলেন থেকে জাজা-গাবর পর্যন্ত কত নায়ীকার পদচারণায় ধন্য সে দেশ; সেই যাদুনগরী! এ-শুধু ভ্রমণ নয়, ইতিহাস; পাঠ নয়, সমৃদ্ধি। সাহিত্যের জন্য তো বটেই, আত্মার প্রশান্তির জন্যও এক আকর গ্রন্থ। Unless noted otherwise in the ordering pipeline, Rubi Enterprise ships all items within two days of receiving an order. You will receive notification of any delay or cancellation of your order. Rubi Enterprise ship worldwide. Shipping Standard Transit time 14 to 21 Business days International Transit time 14 to 21 Business days International Transit time 03 to 07 Business days
লেখক ও কবি বুলবুল সরওয়ার পেশাগত জীবনে একজন চিকিৎসক ও শিক্ষক। অসাধারণ কিছু ভ্রমণকাহিনী রচনার জন্য অধিক খ্যাত হলেও গল্প, কবিতা, উপন্যাসেও তাঁর অবাধ বিচরণ। এছাড়া অনুবাদ সাহিত্যে তাঁর শক্তিশালী অবদান রয়েছে।
ভ্রমণকাহিনী খুব একটা পড়া হয় না। কি জানি কেন! কিন্তু যখনই পড়ি মন আর টিকে না। আর এর আগে পড়েছি তো কেবল মুজতবা আলী। আমার পড়া বুলবুল সরওয়ারের এটাই প্রথম বই। অনেকদিন থেকেই শুনছি তিনি খুব ভালো লিখেন। বিসাকের কল্যাণে একেবারে সামনে পেয়ে গেলাম। সত্যি বুলবুল সরওয়ার অসাধারণ একজন লেখক। এত সাবলীল ভাষা। আর একেক জায়গার বর্ণনা শুধু আছে তা না, সাথে আছে গল্পের ছলে ইতিহাস। ভ্রমণকাহিনী তখনই সার্থক মনে হয় যখন তা পড়ে মনে হয় আমিও সেই জায়গায় আছি। সেই হিসাবে ইস্তাম্বুল সার্থক, লেখক সার্থক। আর আমি নানা কারণে ঘুরাঘুরি করতে পারি না। তবে ইচ্ছা আছে টাকাপয়সা জমায় দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবো। ইস্তাম্বুল আমার ঘুরাঘুরির লিস্টে থাকলো। বিঃদ্রঃ ভ্রমণকাহিনী পড়লে একটা কথা আমাকে খুব খোঁচায়। আমাদের দেশ ঘুরে কেউ কেন এরকম ভ্রমণকাহিনী লিখে না। আমার মনে হয় এটা আমাদের জন্যই খুব দরকারি।
বুলবুল সরওয়ার ২০০৪ এবং ২০০৮ সালে গিয়েছিলেন প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধনকারী তুরস্কে। সাধারণত তার ভ্রমণকাহিনিতে ভ্রমণের চাইতে ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি বেশি থাকে। এই বইতেও তার বিকল্প দেখিনি। তুরস্কের অতীত ইতিহাসের বর্ণনা যত বেশি ছিল ততটাই কম ছিল নিজে কেমন তুরস্ক দেখে এসেছেন তার বয়ান। অন্যান্য বইগুলোর চে' এটি যথেষ্ট বিরক্তিকর ছিল। লেখার কোনো ধারাবাহিকতা ছিল না। হঠাৎ হঠাৎ আজগুবি কিছু ছবি যোগ করেছেন বইয়ের পাতায় পাতায়। এই ছবিগুলোর সঙ্গে বইয়ের বর্ণনার কোনো মিল পাইনি।
মোটকথা বুলবুল সরওয়ারের সবচেয়ে খাপছাড়া, নিকৃষ্ট লেখনীর ভ্রমণকথা 'ইস্তাম্বুল'।
ইস্তাম্বুল । শুধু নাম না, জীবন্ত ইতিহাস । অবস্থানগত কারণে সবার লোভাতুর নজর একবার করে হলেও পড়েছে । নানা ধর্মের, গোত্রের, সংস্কৃতির, পেশার মানুষের চলাচল এখানে ছিল । আর এখনো আছে । দু এক লাইনে ইস্তাম্বুলের বিবরণ, উঁহু । অসম্ভব । বুলবুল সারোয়ারের লেখনীতে কিঞ্চিত পরিচয় উঠে এসেছে বারাঙ্গনা ইস্তাম্বুলের । লেখক ইতিহাসের প্রতিপদে বিচরণ করতে চেয়েছেন । করেছেনও বটে । চোখ ভরে দেখেছেন । আবেগের সাথে স্মরণ করেছেন ইতিহাসকে । ভ্রমণকাহিনী লেখা আর অন্য কাহিনী লেখার বিস্তর তফাত । মনের চোখে দেখে, রসের কালিতে মাখিয়ে, আবেগের কাগজে ফুটিয়ে তুলতে হয় । লেখক কার্পণ্য করেননি । সব মিলিয়ে দারুণ একটা উপাখ্যান ।
ইউরোপ আর এশিয়ার মিলনস্থল এই ঐতিহাসিক ইস্তাম্বুল নগরী। ঐতিহাসিক প্রেক্ষপটে বিবর্তনের পথে আজকের এই ঝমকালো নগরীরর সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন বুলবুল সারওয়ার। বুলবুল সারওয়ারের লেখা পড়লে মনে হবে যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি কি ঘটে চলেছে।