সেজান মাহমুদ প্রথম সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস আয়ুষ্কাল ও ত্রিমিলার প্রেম-এ নিয়ে আসেন মানুষের বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার সকল তত্ত্ব - টেলোমেয়ার, জিনেটিক ডিকোড, মাইটোকন্ড্রিয়াল তত্ত্ব আর সুপার এনজাইম। কিন্তু সেখানেও ত্রিমিলা নামের 'অন্য মানুষের' প্রেম, মানব সভ্যতার অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন।
লীথী উপন্যাসে নিয়ে আসেন উপকথার অনুষঙ্গ। লীথী, গ্রীক উপকথার একটি নদীর নাম। যে নদীর জলপান করে মানুষ অতীতের সব স্মৃতি ভুলে যেতে পারে। অতিদূর ভবিষ্যত পৃথিবীতে যেখানে আল্ট্রা সুপার, সুপার আর মানুষেরা বাস করে। মানুষেরা যেন আল্ট্রা সুপারদের দাস। লীথী কি পারবে কারো অতীতের স্মৃতি ভুলিয়ে মানুষের মুক্তি কেড়ে আনতে? এরকম এক প্রশ্নের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় শ্বাশত প্রেম।
কসমিক সংগীত-এ দেখতে পাওয়া যায় ভিন্ন মাত্রার একেকটি সায়েন্স ফিকশন গল্প। সেখানে প্যারালাল ইউনিভার্সে একেকটি মানুষের অস্তিত্ব যেন একেকটি সংগীতের নোট বা সারগাম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম থেকে অতি বুদ্ধিমান কৃত্রিম প্রোগ্রামের জন্ম, মুঠোফোনের মহাকাণ্ড আর মহাজাগতিক দুঃস্বপ্ন দেখা যায়।
মানুষের মধ্যে মানুষ উপন্যাসে ন্যানো টেকনোলজি দিয়ে মানুষের শরীরের মধ্যে সৃষ্ট হয় বুদ্ধিমান জিনেটিক মলিকিউলগুলো যা পাল্টে দেয় বিবর্তনের ইতিহাস।
তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস দেবদূত মানুষ-এ এই পৃথিবীর মহাধ্বংসকে প্রত্যক্ষ করেন পাঠক; আর তা করতে গিয়ে জানতে পারেন এমন সব বিস্ময়কর তথ্য যা মানব ইতিহাসের, এই পৃথিবীর ইতিহাসের সকল জানা পাল্টে দেয়। পাঠককে নিয়ে যায় এক ভিন্ন দূর-কল্পনার রাজ্যে। কিন্তু এখানে শেশে নামের এক বিজ্ঞানীর প্রেম সমস্ত কল্পকাহিনীকে এক মানবিক সম্পর্কের দিয়ে নিয়ে যায়।
এভাবে ঔপন্যাসিক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানী সেজান মাহমুদ যখন এই গল্পগুলো নিয়ে সায়েন্স ফিকশন লেখেন, তখন তা আর শুধু সায়েন্স ফিকশন থাকে না; তা হয়ে ওঠে মানবিক প্রেমের উপন্যাস, কল্পবিজ্ঞানের মধ্যেও উঠে আসে জীবনের দার্শনিক অন্বেষা, পরিণত হয় এক জীবন-জিজ্ঞাসার দলিলে। এক মলাটের ভিতর সবগুলো কল্পবিজ্ঞান কাহিনীই আশা করি পাঠকের ভাল লাগবে।
সূচি - আয়ুষ্কাল ও ত্রিমিলার প্রেম লীথী মানুষের মধ্যে মানুষ দেবদূত মানুষ কসমিক সংগীত