Jump to ratings and reviews
Rate this book

বকুল ফুল #2

বিড়ালাক্ষী

Rate this book
দুইশত বছরের পুরোনো কাঠের পুতুল! বুকের দিকে খোদাই করে লেখা ১২১৭ বঙ্গাব্দ। পুতুলের ডান পা’টা ভাঙ্গা...

স্মিতা মহল। পুড়ে যাওয়া বাড়িটিতে রং করা হয়েছে, সাদা; নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। কে করেছে এসব?

রুক্মিনী চৌধুরি। প্রবল ক্ষমতাবান রুক্মিনীকে আইন কিছুই করতে পারেনি। সে এবার ক্ষমতার জাল বিছিয়েছে হিরমুখী পর্যন্ত।

চাঁদের আলোয় মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে ব্যাপারটা; দুটো ছায়া পাশাপাশি চলছে, একটা আমার... অন্যটা?

কৃষ্ণচূড়া গাছটার কাছেই নড়াচড়ার শব্দ। ছোটবেলায় এই কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে আমরা ভয়ে কেউ আসতাম না। গ্রামের লোকেরা বলতো গাছটা দোষী। আজব কথা! গাছ কখনো দোষী হয় নাকি? দোষী হয় মানুষ; অপরাধ করে মানুষ। ডাক দিলাম, ‘কে?’

সাড়াশব্দ নেই। হুটোপুটি থেমে গেছে। যদিও একটা চাপা গোঙানির শব্দ থেমে থেমে পাচ্ছি। এগুতে সাহস পেলাম না। রশির মতো ওটা কি ঝুলছে গাছ থেকে? বাতাসের সাথে সাথে জিনিসটা দুলছে। হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার ভয় লাগছে। সেই আদিম ভয়। শরীরের লোমগুলো একদম খাড়া হয়ে গেছে । আবারো চাপা স্বর পেলাম। এবার আরো জোরে বললাম, ‘কে ওখানে?’

কোন উত্তর পেলাম না এবারো, এখানে আর এক মুহূর্তও না। দ্রুত পা চালালাম...

‘কোথায় যাচ্ছেন?’

পেছন ফিরে তাকালাম, নীরন্ধ্র অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে পেলাম না।

‘এই যে মশাই... এই।’

152 pages, Hardcover

First published February 1, 2020

2 people are currently reading
48 people want to read

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
24 (26%)
4 stars
12 (13%)
3 stars
41 (45%)
2 stars
9 (10%)
1 star
4 (4%)
Displaying 1 - 30 of 31 reviews
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
June 24, 2020
বকুল ফুল সিরিজের দ্বিতীয় বই বিড়ালাক্ষী।
লেখক মনোয়ারুল ইসলাম। বকুলফুল যেখানে থেকে শেষ হয়েছিল সেই কাহিনীর সূত্র ধরেই এই বইয়ের কাহিনীর সূত্রপাত। তবে এবার গল্পের নায়ক কোনো অতৃপ্ত আত্মার না, মানবীর প্রেমে পড়ে। তবে পুরানো প্রেম কি ভোলা যায়, যতই রক্তমাংসের মানুষ থাকুক, বারবার প্রেতাত্মা স্মিতা চৌধুরানী টানে নায়ককে।
আর এবার ভৌতিক(!) কাহিনী শুরু হয় নায়কের গ্রামেই।

গত বইটাতে বলেছিলাম, মনে হয়েছিল লেখক জোর করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে, যদিও কিছু দৃশ্য হালকা ক্রিপি ছিল। এই বইয়ের ভয়াবহ দৃশ্যগুলো বা ডিস্টার্বিং সিনগুলো নিয়ে কিছুই বলার নেই। বলাই বাহুল্য, ভয় বা অস্বস্তির উদ্রেক ঘটাতে পারবি। সেই পুরানো শত্রু-ই নায়কের পিছু তাড়া করে, সেই পুরানো বকুল ফুলের গন্ধ, খালি প্রেক্ষাপট আলাদা। তবে একজনের গাছে ঝুলিয়ে খুনের বর্ণনাটা ক্রিপি ভাবে দিয়েছেন লেখক আর গ্রাম্য এরিয়ার বন্যা ও বৃষ্টির প্রকৃতির বর্ণনা ভালো হয়েছে। বইয়ের মধ্যে প্রাপ্তি এটাই। তাছাড়া নায়কের কাজকারবার অতিরিক্ত লেম ছিল(গত বইয়ের তুলনায় বেশি)। ছোট ছোট দৃশ্য লেখক লিখেছেন, কিন্তু সবগুলো কেমন যেন খাপছাড়া। জোড়ালো যোগসূত্র নাই। নূরা পাগলা চরিত্রটা ভালো ছিল, কিন্তু চরিত্র তেমনভাবে ডেভেলপ করেননি লেখক। পুরো বইয়ে মাত্র দুয়েকটা অধ্যায়ে সম্ভাবনা জাগিয়ে, সাথে সাথেই শেষ!! এসব যথেষ্ট বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। গল্পের কাহিনীর কথা বললে, নির্দিষ্ট কোনো কাহিনী-ই নেই, খালি বিভিন্ন ঘটনা ঘটার বর্ণনা। এন্ডিং তো আগেরটার মতই। তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। আগের বইটা এভারেজ হলে এই বইটা বিলো এভারেজ। যদিও বইয়ের আরেকটা পার্ট আসবে, কিন্তু প্রথম দুটো বই ভালো কিছুর প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি। আশা করি শেষটা ভালো কিছু হবে।
তবে এই কথাটা পূর্বের রিভিউয়ে বলেছি, আবারও বলছি লেখকের লেখনশৈলী বেশ ভালো। সুন্দরভাবে বর্ণনা করেন তিনি। লেখকের জন্য শুভকামনা।

অফ টপিক হলেও গতবার কমপ্লেইন করেছিলাম বইয়ের দাম নিয়ে। এবারও করছি। ১৫০ পৃষ্টার বইটির মুদ্রিত মূল্য ২৯০ টাকা! প্রডাকশন যে আহামরি সেটা কিন্তু না। সাধারণ পাঠক হিসেবে ব্যাপারটা অস্বস্তির 🙂

বিড়ালাক্ষী
মনোয়ারুল ইসলাম
নালন্দা
পৃষ্টা: ১৫০
মুদ্রিত মূল্য: ২৯০ টাকা
Profile Image for Noyon.
53 reviews8 followers
May 10, 2023
বকুল ফুল সিরিজের ২য় বই বিড়ালাক্ষী পড়ে, বকুল ফুলের মতো মন ভরলো না।
আশা করি সিরিজের ৩য় বই বাঁশি''
বাঁশির সুরে মুগ্ধ হবো!!
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
253 reviews11 followers
March 18, 2020
মশাই!!!!বকুলফুলের মত জমলো না গো।মোটেই জমলো না।বাশির অপেক্ষায় থাকলাম
Profile Image for Samsudduha Rifath.
432 reviews22 followers
September 25, 2023
বই:বিড়ালাক্ষী
(বকুলফুল সিরিজ২)
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
জনরা:হরর

কাহিনী সংক্ষেপ:
বকুলফুল বইয়ের কৃষ্ণনগর ও স্মিতামহল এ ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবার পর গল্পকথক নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন। কিন্তু সব রহস্যই কি শেষ হয়েছে? গল্পকথক মনে করছেন আর উনাকে এসবের মুখোমুখি হতে হবে না কিন্তু চাইলেই নিয়তিকে এড়ানো যায় না। গল্পকথক এবার নিজ গ্রামে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত ঘটনার সামনে পড়ে। এসব কিছুর সাথে কি আবার কৃষ্ণনগরের স্মিতামহলের সম্পর্ক আছে? রাত্রি কেনো হঠাৎ চমকে দেয় তাকে? কেনোই বা আবার গল্পকথককে ফিরে যেতে হবে সেই অভিশপ্ত গ্রামে। মাটির পুতুলেরই বা রহস্য কি?

পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
বকুলফুল সিরিজের প্রথম বই 'বকুল ফুল' পড়েই হুকড হয়ে গিয়েছি এই সিরিজের প্রতি। দারুণ সব হরর এলিমেন্ট, প্রকৃতির চমৎকার আবহের বর্ণনা, স্মিতা চৌধুরানীর মশাই ডাক সবকিছুই মনে গেঁথে গিয়েছিলো। এর প্ররিপ্রেক্ষিতে সিরিজের দ্বিতীয় বই বিড়ালাক্ষী তুলে নেই হাতে এবং একদিনেই শেষ করে ফেলি। বকুলফুল বইয়ে যেমন অনেক মারপ্যাচ ছিলো সেরকম বিড়ালাক্ষীতে নেই। তাছাড়া থ্রিল আর ভয়ের আবহও কম। তার ফলে একটু কম জমেছে বইটা। বকুল ফুল বইয়ে যেমন একটা ঘোর লাগা ব্যাপার আছে সেটা নেই বিড়ালাক্ষীতে। তাহলে কি আছে এতে?

এই বইয়ে লেখক আমাদের গ্রাম বাংলার কিছু পরিচিত ভয়ের কাহিনী ছোট ছোট সিকোয়েন্সে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। যেমন: তেতুল গাছ ঘিরে ভয়,নিশির ডাক,হঠাৎ দরজা জানালায় টক টক আওয়াজ, পুকুর ঘিরে রহস্য এরকম চেনা জানা কিছু কাহিনী লেখক সুন্দর ভাবে মার্জ করেছেন গল্পের মাঝে। বইয়ের প্রধান চরিত্র মানে গল্প কথকের কিছু কাজ কারবার একটু বিরক্তি ধরিয়ে দিচ্ছিলো। বইয়ের প্রথম থেকে ৮০-৯০ পেজ পর্যন্ত গল্প কথক এর উপর দিয়ে যাওয়া অতিপ্রাকৃত ঘটনাই ঘটে। এর পরেই আসে কিছু টুইস্ট এন্ড টার্ন যা আগের বইয়ের সাথে দারুণ খাপ খায়। রহস্য সমাধানের জন্য আবার ফিরে যায় গল্পকথক কৃষ্ণনগরে। সেখানে পা দেওয়ার সাথে সাথে ঘটতে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনা।

স্মিতা ভক্তদের নিয়ে লেখক দারুণ খেল দেখিয়েছেন। বইয়ে মায়াবিনী স্মিতার উপস্থিতি নিয়ে পাঠকদের অনেক অপেক্ষা করিয়েছেন লেখক। নুরা পাগলার চরিত্রটাও অনেক রহস্যজনক। একটা ব্যাপার দেখেছেন পাঠক? নুরা পাগলা বা নুরা নামে কোনো চরিত্র যেসব বইয়ে এসেছে সেগুলো অনেক আকর্ষণীয় রয়ে গিয়েছে প্রতিটি বইয়ে। যাই হোক যা বলছিলাম, এই নুরা পাগলার চরিত্রায়ন এই বইয়ে কিছু অসম্পূর্নই রেখেছেন লেখক। বাঁশি বইয়ে বোধহয় আরো ব্যাপ্তি বাড়বে। রাত্রি আর মইন উদ্দিনের ক্ষেত্রেও একই কথা।

বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারগুলো হচ্ছে প্রকৃতির দারুণ সব দৃশ্যের বর্ণনা। আগের বইয়ে যেমন লেখক শান্তশিষ্ট গ্রামের আবহাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন এই বইয়ে গ্রামের উপর বন্যা ভয়ঙ্কর থাবায় জর্জরিত গ্রামবাসীর বর্ণনাও তেমন নিখুঁত ভাবে দিয়েছেন।

বকুলফুলের মতো যদি আপনি ভয়ের আবহ খুঁজেন তাহলে কিঞ্চিৎ হতাশ হতে হবে। ভয়ের আবহ থাকলেও সেটা অনেককে ভয় দেখাতে পারবে না কিন্তু চমকে দিবে পরিচিত চরিত্রের কাণ্ডকারখানায়। প্রথম সিকোয়েন্সে একটু ভয়ের আবহ দারুণ ফুটিয়েছিলেন কিন্ত পরের গুলোতে তেমন প্রভাব ফেলেনি। প্রথম পর্বের ঘটনাবলী আর পরের বইয়ের জন্য স্টোরি বিল্ড আপের জন্যই এই বই লিখা। এবার বাঁশি পড়ার পালা। দেখা যাক সব ভালো তার শেষ ভালো বাক্য ফলে নাকি এই ট্রিলজিতে।
Profile Image for Sakib A. Jami.
346 reviews40 followers
October 16, 2023
একটি কাঠের পুতুল। বিড়ালের আকৃতির সে পুতুল যেন অতীতের কথা বলছে। সময়ে পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় দুইশ বছর। বিড়ালের বুকে আবছাভাবে খোদাই করা— ১২১৭ বঙ্গাব্দ। খুব বাস্তব মনে হয়। চোখগুলো মনে হয় জীবন্ত। ভাঙা পা'টা কোথায় যেন দেখা হয়েছে। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত….. গ��্পটা শুরু আবারও। নতুন রঙে সাজছে স্মিতা মহল। এবার দায়িত্ব নিলো কে?

▪️কাহিনি সংক্ষেপ :

কৃষ্ণনগর জমিদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার পর পেরিয়েছে সময়। বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। আমাদের গল্পকথক যে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তার সাথে কোনো কিছুর তুলনা নেই। অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা, হঠাৎ হঠাৎ চমকে যাওয়া, বকুল ফুলের ফুলের গন্ধ পাওয়া— সবই যেন ভ্রম ছাড়া কিছু নয়। এতসব কিছুর কারণে সাইকোলজিস্টের কাছেও যেতে হয়েছে। সুফল কি মিলেছে?

কথায় আছে, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। ঠিক এই কথাটাই যেন আমাদের গল্পকথকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নাহলে কেন কৃষ্ণনগরের পাশে নীলাসাগরের মাধ্যমিক স্কুলের তার চাকরি হবে। হয়তো ভাগ্যের টানেই সেখানে যাওয়া। কিন্তু সেখানেও কি নিস্তার আছে? বোধহয় না। সেই সময়ের ফেরে আবারও অতীত মনে পড়ে যায়। মাধ্যমিক সেই স্কুলের ছোটো মেয়েটা অদ্ভুত। জিনের আছর আছে যেন! সেই অদ্ভুতুড়ে গল্প আবারও সামনে এসে যায়। সেই পুরোনো বকুল ফুলের সুবাস। পুরোনো অনুভূতি। এবার যে সামনে আসে না।

রুক্সিনী চৌধুরীর কথা মনে আছে? আমাদের গল্পকথকের কারণেই সে আজ তার গড়ে তোলা অপরাধের সাম্রাজ্য হুমকির মুখে। সেই সাম্রাজ্য নতুন করে গড়ে তুলছে সে। টাকায় টাকা আনে। টাকার ব্যবহারে অযোগ্য ব্যক্তিরাও ক্ষমতার শীর্ষে উঠতে পারে। সবকিছু কিনে নিয়ে আবারও পুরনো সম্রাজ্য তৈরিতে মগ্ন রুক্সিনী চৌধুরী কি এর সহজে এমন মানুষকে ছেড়ে দিবে, যায় জন্য তার একটি ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে গিয়েছে? তাই আবারও পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে শুরু করা। সবাইকে হাত করে জীবন অতিষ্ট করে তোলা! এর ভবিষ্যৎ কী?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

“বকুল ফুল” সিরিজের দ্বিতীয় বই “ বিড়ালাক্ষী” পড়ে অনুভুতিটা মিশ্র। কিছু অংশ ভালো লেগেছে, আবার অনেক জায়গায় মনে নিয়েছে আরেকটু ভালো হতে পারত। সিরিজের প্রথম বই পড়ে যে প্রত্যাশার পারদ বেড়ে গিয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দ্বিতীয় বইটি। মোটের উপর যদিও ‘খারাপ না’ বলা চলে।

এই বইটিতে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসের অনুপস্থিতি ছিল, তা হলো ভয়। যা প্রথম বইয়ে ছিল। লেখক এখানেও প্রথম বইয়ের মতো রহস্য রাখতে পেরেছিলেন, কিন্তু ভয়ের সেই অনুভূতি পাওয়া যায়নি। পুরো বইয়ে রহস্য ছিল ভালোমতোই। একাধিক মৃ ত্যু যেন সেই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছিল। মাঝেমাঝে কিছু চমকও পাওয়া গিয়েছিল। তবে কেন যেন মন ভরেনি। আরো কিছু পাওয়ার ছিল মনে হয়েছে।

লেখকের লেখনশৈলী, বর্ণনাশৈলী নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। বরাবরের মতো দারুণ। তবে এই বইয়ের কিছু অংশে আড়ষ্টতা লক্ষ্য করেছি। তাড়াহুড়োর ছাপও স্পষ্ট ছিল। আমার পছন্দ হয়েছে গ্রামীণ পরিবেশে বর্ণনা। বৃষ্টির দিনে কাদামাটির মেঠো পথ, মাছ ধরা বা সবুজ প্রকৃতির দৃশ্য যেন ফুটে উঠেছিল লেখকের লেখনীতে। তবে বইটার এক অংশ একটু বেশি গালিগালাজের পরিমাণ বেশি ছিল, যেটা ভালো লাগেনি।

সেই পুরোনো স্মিতা মহলের পাশাপাশি বিড়ালের চোখের নতুন রহস্য যেন অজানাই থেকে গেল। হয়তো পরের বইয়ে সবকিছু ফুটে উঠবে। শেষটা এখানেও হুট করেই যেন হয়ে গেল। এভাবে ভয়ংকর অপরাধ জগতের সম্রাজ্ঞীর পালিয়ে যাওয়া মনঃপুত হলো না। আরেকটু রহস্য ভাব থাকলে পারত।

▪️চরিত্রায়ন :

প্রথম বইয়ে আফসোস ছিল, গল্পের মূল চরিত্র মশাই কেন ঠিকঠাক ফুটে ওঠেনি। সেই আফসোস পূরণ হয়েছে এখানে। পুরোটা সময় জুড়ে মশাইকে নিয়েই গল্প এগিয়ে চলেছে। তবে এবার আড়ালে চলে গিয়েছে স্মিতা চৌধুরানী। এবার তার ভূমিকা ছিল সামান্যই।

আগের বইটির মতো এখানেও রুক্সিনী চৌধুরীও আড়ালে ছিল। আড়ালে থাকলে কী হবে? ক্ষমতার জোরে আড়ালে থেকেই সব কলকাঠি নাড়ছিল সে। ক্ষমতার লোভ মানুষকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে, সেই প্রমাণও এই রুক্সিনী চৌধুরী।

এই গল্পে নতুন এক চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছে, রাত্রি। সেই চরিত্র নিয়েও ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। পুরোনো অনেক চরিত্র এসেছে, নতুন চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছে। সবগুলো চরিত্র নিজেদের জায়গায় ঠিকঠাক ছিল। কিছু চরিত্রের ক্ষেত্রে আরেকটু গুরুত্ব দেওয়া যেত। যেমন শেষাংশে থাকা পুলিশ চরিত্রগুলো।

▪️পরিশেষে, এবারও লক্ষ্য পূরণ হয়নি। হাতে পাওয়া যায়নি কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি। তাই আবারও লড়াই হবে। হায়েনারা সামনে আসবে নিজেদের কুৎসিত কাজগুলো পূরণের উদ্দেশ্যে। তখন কি সবকিছুর শেষ হবে? না-কি এভাবেই চলবে?

▪️বই : বিড়ালাক্ষী
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : নালন্দা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৫১
▪️মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
Profile Image for Minhaz Efat.
23 reviews1 follower
January 30, 2021
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
বিড়ালাক্ষী হলো বকুলফুল বইটার সিকুয়েল। সিরিজটিকে বকুলফুল সিরিজ বলা হচ্ছে।
বকুল ফুল বইটার মত বিড়ালাক্ষী তেও গল্প বলার ধরণ ভালো লেগেছে৷ খুব সুন্দর বর্ণনা ছিল ঘটনাস্থলের। গ্রামীন পরিবেশ এর আলোচনা, কথোপকথন আগের বইটার মতই ফুটিয়ে তুলেছেন, ট্রেনে আশেপাশের মানুষের কনভার্সেশন টা একদম র ছিল, বিষয়টা ভালো লেগেছে। নুরা চরিত্রটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল।
তবে বিড়ালাক্ষী তে অভিযোগ এর মাত্রা টা একটু বেশী, বকুল ফুল পড়ে যে এক্সপেকটেশন টা তৈরী হয়েছে,সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি। বেশ খাপছাড়া মনে হয়েছে বিড়ালাক্ষী। দুই একটা সিন ছাড়া তেমন সাসপেন্স পরিলক্ষিত হয়নি ওভাবে। বইয়ের শুরুর দিকে বেশ সময় নিয়ে এই বই এর স্টোরি বিল্ড আপ করেছে, কিছু কিছু জায়গায় অপ্রোয়জনীয় বর্ণনা মনে হয়েছে। বকুল ফুলে রান্নাঘরে মায়ের চিল্লানো দিয়ে ঘুরে পড়ার বিষয় টা ক্লিয়ার হয়নি, ভেবেছিলাম এটার রহস্যটা উদঘাটন হবে। মুল চরিত্র কে অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। শেষের দিকে বেশ তাড়াহুড়ো ছিল, অল্প কিছুক্ষণে অনেক কিছু ঘটে গেছে। তবে লেখকের স্টোরিটেলিং, বাক্য গঠন, পাঠক কে আকৃষ্ট করার মতই।
পরবর্তী বই বাঁশি তে আশাকরি সিরিজটি পরিপূর্ণতা পাবে। এখন বাঁশির জন্য অপেক্ষা।
Profile Image for Masum Ahmed.
Author 2 books44 followers
March 11, 2020
- এই যে মশাই।
- কে!
- ভুলে গেলেন মশাই?
- কে ওখানে?
- আমি স্মিতা।
- স্মিতা! স্মিতা চৌধুরানী!

স্মিতার কথা মনে আছে তো? কী ওল্টাপাল্টা বকছি, স্মিতার কথা আবার মনে না থাকে কী করে! বলতে বলতেই বকুল ফুলের ঘ্রাণ পাচ্ছি, অদ্ভুত তো!

মশাইয়ের চাকরি হয়েছে, তাও এমন এক জায়গায় যার নাম শুনলেই দুঃস্বপ্নের মত উঁকি দেয় একটা রাতের স্মৃতি। চাকরি হয়েছে নীলাসাগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। যাওয়ার কোনো ইচ্ছে না থাকলেও যেতে হচ্ছে। বাবার খুব সখ ছেলেকে সরকারি চাকরিতে দেখবেন।

এর মধ্যে রাত্রি নামে তার একজন গার্লফ্রেন্ডও হয়েছে। দেখা হয়েছে একবার, তাও বোরকা পরা অবস্থায়। এরপরেও কীভাবে যেন প্রেমটা হয়েই গেল। যাক সে কথা, রুক্সিনী চৌধুরী দেশের বাইরে, রমা জেলে, কৃষ্ণনগরের জমিদারবাড়ি নিয়ে ভয় নেই। যতটুকু ভয় সেটা নীলাসাগর যাওয়ার কথা উঠলেই মনে উঁকি দেয়।

যাইহোক, বকুল ফুল সিরিজের দ্বিতীয় বই বিড়ালাক্ষী। বেশি বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যেতে পারে, তাই সেদিকে আর যাচ্ছি না। তারচে বরং স্মিতা চৌধুরানীর সাথে আরেকটা রহস্যময় ভ্রমণে বের হওয়া যাক।

সাধারণত অতিপ্রাকৃত বই আমি রাতের বেলা পড়তেই পছন্দ করি। বিড়ালাক্ষীর বেলায়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গল্পের আবহের কারণে গা ছমছমে একটা অনুভূতি নিয়ে বই শেষ করেছি। সিরিজের প্রথম বই 'বকুল ফুল' পড়ে যে এক্সপেকটেশন তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশেই খর্ব হয়েছে বিড়ালাক্ষী পড়ে। সাধারণত ট্রিলজি সিরিজের প্রথম বইয়ে থাকে গল্পের প্রস্তাবনা, দ্বিতীয়টায় ঘটনার ঘনঘটা এবং শেষটায় পরিণতি। কিন্তু বকুল ফুল সিরিজের বেলায় এই কথাটা খাটাতে পারছি না। বিড়ালাক্ষী পড়তে গিয়ে মনে হলো, বকুল ফুল একটা স্ট্যান্ড এলোন গল্প ছিল, যেটাকে সিরিজ করতে গিয়ে বিড়ালাক্ষীর অবতারণা করা হয়েছে। যারা বকুল ফুল খুঁটিয়ে পড়েছেন তারা আমার সাথে একমত হবেন হয়তো।

একটা ট্রিলজি সিরিজের দ্বিতীয় বই হিশেবে বিড়ালাক্ষীকে আমি ফুল মার্কস দিতে পারছি না। বকুল ফুল পড়ার পর মনোয়ারুল ইসলামকে একজন পরিণত লেখক বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু বিড়ালাক্ষীর বেলায় সেটা বলতে পারছি না। গল্পের ধারাবাহিকতা অনেক জায়গাতেই নষ্ট হয়েছে। অনেক জায়গায় ভুল উপমা ব্যবহৃত হয়েছে। কি এবং কী এর ব্যবহারে অসতর্ক দেখা গেছে। একজন পরিণত লেখকের বেলায় এই ভুলগুলো হতে পারে শুধুমাত্র তাড়াহুড়া করলে। যেমনটা আমার বেলায় হয়েছিল শকুনের চোখের ক্ষেত্রে। তবে লেখকের প্রতি আমার আস্থা আছে, আশা করছি বাঁশি বাজিয়ে আমার কথাগুলোকে উনি ভুল প্রমাণ করবেন।

নালন্দার বইয়ের মান আগের থেকে উন্নত হয়েছে। কাগজ থেকে শুরু করে বাঁধাই সব কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। সাধুবাদ জানাই নালন্দার প্রকাশককে। চমৎকার প্রচ্ছদের জন্য ধন্যবাদ মোস্তাফিজ কারিগরকে।

বইঃ বিড়ালাক্ষী
লেখকঃ মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশকঃ নালন্দা
প্রকাশকালঃ বইমেলা ২০২০
প্রচ্ছদঃ মোস্তাফিজ কারিগর
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৫২
মূল্যঃ ২৯০ টাকা মাত্র।
Profile Image for Harun Rashid.
5 reviews4 followers
April 30, 2021
বই : বিড়ালাক্ষী
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনায় : নালন্দা প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : মোস্তাফিজ কারিগর
পৃষ্টা সংখ্যা : ১৫২
মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা

বৃষ্টিস্নাত কোনো এক মধ্য রাতে লেখক প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন ১২১৭ বঙ্গাব্দে গড়ে উঠা কৃষ্ণনগরের প্রাচীন রহস্যঘেরা জমিদার বাড়ি স্মিতামহলের রহস্যময়ী এক নারীকে। নিশ্চয়ই ভুলে যাননি প্রিয় পাঠক? জি, আমি স্মিতা চৌধুরানির কথাই বলছিলাম। বকুল ফুলের অপার্থিক স্মেল নিয়ে আবির্ভুত সেই রহস্যময়ী নারীর রহস্যময়তা থেকে লেখক কোনোভাবেই নিজেকে আড়াল করতে পারেননি। ক্ষমতার লোভে কাতর আরেক রহস্যময়ী নারী রুক্সিনী চৌধুরির ষড়যন্ত্রের জাল থেকেও লেখক পারেননি নিজেকে গুটিয়ে রাখতে।

নিস্তার নেই বাড়িতে পা রেখেও। মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত দেহ ঘুমের রাজ্যে সমর্পণ করে দিতে চাইলেও পরিস্থিতি কোনো ভাবেই স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে দিচ্ছে না। এক ভুতুড়ে ফোনকল এলোমেলো করে দিয়ে গেল সব। এমন কী হতে পারে, ফোন আসবে অথচ কললিস্টে রিসিভ নাম্বার থাকবে না? চরম তৃষ্ণায় টেবিলে রাখা জগ থেকে অন্ধকার মারিয়ে পানি পান করতে গিয়েই বিপত্তিটা টের পাওয়া গেল। একি! পানি এতো নোনতা কেন?

পদে পদে ওঁৎ পেতে থাকা রহসম্যময়তা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না লেখকের। ভেবেছিলেন রাত্রি নামের মেয়েটির সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিচয়টা বুঝি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে। আদতে হয়েছে তার উল্টোটা। ইদানিং কেন জানি রাত্রিও তাকে মশাই বলে ডাকে।

ভয়ানক সব স্বপ্ন লেখকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় বিষাদময় করে তুলেছে। একদল বন্য কুকুর রাত্রির দেহটাকে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে। আশ্চর্য তো! এমন স্বপ্নও কী কেউ দেখে? শুধু কি তাই? অদ্ভুত সব কান্ডকারখানা ঘটে যাচ্ছে নিরবধি। আচ্ছা, মৃত মানষও কখনও কথা বলে? স্পষ্ট মনে আছে লেখকের। বাল্যবন্ধু জহুর, গতকাল যাকে কবর দেয়া হয়েছে। মধ্যরাতে লেখকের সামনে হাজির! শুধু কী তাই? জহুরের সাথে কথাও বলেছেন তিনি। গায়ে হাত দিয়ে দেখেছেন, হিমশীতল ঠান্ডা দেহ। কী হচ্ছে এসব? পুরোটাই কী হ্যালুসিনেশন?

এদিকে আরেক টেনশন তো লেখকের মাথা থেকেই সরছে না। নীলাসাগর স্কুলে চাকরি হয়েছে তাঁর। আবার যেতে হবে ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতার কেন্দ্রস্থল নীলাসাগর গ্রামে। ওখানেও থিতু হতে পারেননি তিনি। হেড মাস্টারের মেয়ে হাফিজার সব অদ্ভুত কান্ডকারখানা লেখকের বিষন্ন জীবনকে করে তুলেছে আরও বিষাদময়।

নিজেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে চাকুরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে এলেন লেখক। কিন্তু এখানেও বিধিবাম। লেখকের ছন্নছাড়া অদ্ভূতুড়ে জীবনে আবারও সেই বিরহের জ্বালা। ঘটে গেল জোড়া খুনের ঘটনা। তিনি কী কোনো কারণে ফেঁসে যাবেন এই বীভৎস্য এই জোড়া খুনের সাথে? এগুলো কী তবে রুক্সিনী চৌধুরির পাতা ফাঁদ? কী চায় এই নারী? শুধুই কী কৃষ্ণনগরের জমিদারী?

আমি আসলে অতিপ্রাকৃত জনরার সাথে নিজেকে পুরোপুরিভাবে খাপ খাওয়াতে পারি না। বিষয়টি কেন জানি আমার সাথে যায় না। কিন্তু লেখক মনোয়ারুল ইসলামের অতিপ্রাকৃত উপন্যাস 'বকুল ফুল' অনেকটা দৈবিকভাবে আমাকে এই জনরার সাথে সখ্য তৈরি করে দিয়েছে। বকুল ফুলের অসমাপ্ত বিষয়াদির সমাপ্তি দেখার প্রবলিচ্ছাতেই গত বই মেলা থেকে এর সিক্যুয়েল বিড়ালাক্ষী ক্রয় করা।

উত্তম পুরুষে বর্ণিত বকুল ফুলের মত এই বইটিও আমাকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে লেখকের গল্প বলার কৌশল আর দৃশ্যপট বর্ণনার পারদর্শিতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বকুল ফুলের তুলনায় বিড়ালাক্ষীর সাহিত্যমান অনেক উর্ধ্বে। এক্ষেত্রে লেখককে পুরোপুরিভাবেই সফল বলা যায়। সহজেই অনুমেয় বইটিতে তিনি প্রচুর শ্রম দিয়েছেন।

বিড়ালাক্ষী হচ্ছে বকুল ফুলের সিক্যুয়েল। তাই বকুল ফুল পড়া না থাকলে এই বইটি পড়ে তেমন মজা পাওয়া যাবে না। বকুল ফুলের বেশ কিছু ঘটনার কিছু সমাপ্তি টানা হয়েছে বিড়ালাক্ষীতে। তবে পুরোপুরি সমাধান পেতে হলে যে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে, তা এই বইটি পড়ে নিশ্চিত হলাম। এ প্রতীক্ষাটা যেমন কিছুটা মিষ্টি যন্ত্রণাময়, আবার খানিকটা রোমাঞ্চকরও বটে। ভেবেছিলাম বিড়ালাক্ষীতে সবকিছুরই যবনিকাপাত ঘটবে। কিন্তু হলো না। আবারও প্রতীক্ষার প্রহর গুনবো, লেখকের শেষ বাঁশির সুর বেজে না উঠা অবধি।

বিড়ালাক্ষীতে তেমন বড় ধরণের কোনো অসঙ্গতি আমার দৃষ্টিগোচর না হলেও কিছু ভুল বানান আমার দৃষ্টিকে ফাঁকি দিতে পারেনি। তবে সেটা ছিল যৎসামান্য। একটু খারাপ লেগেছে, আঞ্চলিক ভাষায় বর্ণিত কিছু অশ্রাব্য গালি! যদিও সেটা লেখকের দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলার প্রাণপণ চেষ্টারই প্রতিফলন, তথাপি আমি কেন জানি নিজের সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি।

বিড়ালাক্ষীতে নতুন কিছু চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে, যা নিঃসন্দেহে বইটিকে করে তুলেছে আরও সুখপাঠ্য। গল্পের বিশ্লেষণ আর চরিত্রের বৃত্তময়তা বইটিকে আলাদা সৌন্দর্য দান করেছে। অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত ঘটনা লেখকের পাকা বর্ণনাশৈলী দৃশ্যগুলোকে করে তুলেছে একেবারে বাস্তব ও জীবন্ত। যা বইটিকে এক বসাতেই পড়ে ফেলার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে একজন লেখকের জন্য বড় সফলতা।

বিড়ালাক্ষীতে অপূর্ণতা বা অসঙ্গতি যেটুকু ছিল, তা গল্প বলার কৌশলের কারণে একেবারেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। একেবারে নিঁখুত পর্যবেক্ষণই কেবল এগুলো তুলে নিয়ে আসা সম্ভব। তবে পাঠক হিসেবে আমি কিছুটা খুতখুতে স্বভাবের। নিজে তেমন লিখতে পারি না, তবে যখন পড়ি; কেন জানি আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়টা বেশ সজাগ দৃষ্টি রাখে।

অন্ততঃ সেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের বরাত দিয়ে বলতে পারি, লেখকের বর্ণনাকৌশল থেকে শুরু করে একেবারে ছোট ছোট চরিত্রায়নেও বড় ধরণের কোনো অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়নি। প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি ছোট এবং পার্শ্ব চরিত্রগুলো লেখকের সুখপাঠ্য ও নিপুণ বর্ণনায় গল্পটিকে দিয়ে আলাদা কাব্যময়তা।

প্রিয় পাঠক, বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের এই বন্দি জীবনে এক ঝাপটা রহস্য রোমাঞ্চে নিজেকে সিক্ত করতে চাইলে কিছুটা সময়রের জন্য ঘুরে আসতে পারেন লেখক মনোয়ারুল ইসলামের এই অলৌকিক অতিপ্রাকৃত জনরার রাজ্যে। বিড়ালাক্ষীর অভিযাত্রায় সবাইকে স্বাগতম। ঘরে থাকুন, বই পড়ুন, প্রিয়জনকে সময় দিন। নিজে নিরাপদে থাকুন আর দেশকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করুন। হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews26 followers
May 24, 2021
বিড়ালের মতো অক্ষি যার তাই কি বিড়ালাক্ষী? না-কি এই বিড়ালাক্ষী অন্য কিছু?
'বকুল ফুল' এ মশাই আর বকুল সুবাসী স্মিতা চৌধুরানীর অতিপ্রাকৃত দেখা আর কথোপকথন যেন শেষ হয়েও বাকী রয়ে গেল। রুক্সিনীর ষড়যন্ত্রে শত বছরের সেই 'স্মিতা মহল' পুড়ে গেল, সাথে বকুল রানীও উধাও হয়ে গেল। রুক্সিনীর করা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র মশাইকে ভুগিয়েছে প্রচুর। ক্ষমতার বলে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে গুটি বসন্তওয়ালী রুক্সিনী।
কৃষ্ণনগর জমিদার বাড়ির সে ঘটনার পর নামহীন গল্প কথকের স্মিতার কথা যেন কেউ বিশ্বাসই করেনি। তাই তাকে মঈন উদ্দিন নামক সাইক্রিয়াটিস্ট-এর সাথে মাঝে মাঝেই সেশন এ বসতে হয়। জীবনে এসেছিল রাত্রি নামধারী এক প্রণয়িনী। চলছিল জীবন জীবনের মতোই। কিন্তু এক রাতে যেন সব গোলপাকিয়ে গেল। ফোনের শব্দে আচমকা ঘুম ভেঙে গেল আর ফোন তুলতেই প্রথম সম্বোধন "মশাই"! মুঠোফোনে দেখলেন সময় রাত দুটো বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। কিন্তু শেষ ফোন এসেছিল রাত বারোটা পঁয়তাল্লিশ-এ! এমা তাহলে একটু আগে ফোন কে করল! হাতঘড়িতে দেখলেন রাত তিনটা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট! মানে হচ্ছেটা কি! ধুকপুকানি করার মতোই অবস্থা। এ অবস্থায় একটু আরামের জন্য দরকার পানি। আর সেই পানি মুখে দিয়ে যদি দেখেন রক্ত পান করে ফেলেছেন তখন অবস্থাটা কেমন হয়? পরদিন সকালে উঠে দেখলেন সব ঠিকঠাক। যেন কিছুই ঘটেনি।
পুরনো চরিত্রের সাথে এসে যোগ হয়েছে নতুন কিছু চরিত্র যারা সমানে সমান করে গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছে। হঠাৎ করে বিভিন্ন মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু এমনকি বিভিন্ন পশুপাখি মারা যাচ্ছে। কে মারছে তাদের? মশাইয়ের ঘরে কার পায়ের ছাপ দেখা যায়? কোনো কুল কিনার হচ্ছেনা এসব ঘটনার। রুক্সিনী চৌধুরীর ক্ষমতা ও অবৈধ ব্যবসা করে আইনের বাইরে থাকা, মশাই তথা গল্প কথকের মিথ্যে খুনের দায়ে ফেঁসে যাওয়া কে দায়ী ছিল এর পিছে?
মশাইয়ের আবার সেই বকুলের সুবাস পাওয়া কি নির্দেশ করে? আশেপাশেই কি আছে কৃষ্ণসুন্দরী? না, মশাই আর এসব নিয়ে থাকতে চায় না। জীবন শুরু করতে হবে নতুন করে। চাকরি করবেন তিনি। নিজেকে গুছিয়ে নিবেন। পেয়ে গেলেন সরকারি চাকরি। কিন্তু এ কী অদৃষ্টের পরিহাস? চাকরি হলো তো হলো তা কোথায়? সেই নীলাসাগর গ্রামেই, যেখান থেকেই তার জীবনের সকল অনাচারের সৃষ্টি।
অগত্যা যেতে হলো সেখানে। রহস্য আর বিপদ কি তার পিছু ছাড়ে? নাহ, সেখানেও ঘটে গেল অদ্ভুদ সব ঘটনা। পুড়িয়ে দেয়া জমিদারবাড়ীর সংস্কার দেখে মশাই খুব কষ্ট ই পেয়েছিলেন। পুরোনো বাড়ীর বদলে সেখানে গড়ে উঠেছে ঝকঝকে তকতকে সাদা মহল। নামটাও কিছুটা পরিবর্তিত! "চৌধুরী মহল, ১২১৭ বঙ্গাব্দ"! সাথে এসেছেন নতুন এক চরিত্র রুদ্র মঙ্গল চৌধুরী।
২০০ বছরের পুরনো কাঠের পুতুলের বুকে খোদাইকৃত "১২১৭- বঙ্গাব্দ" যার ডান পা ভাঙা! দেখা মেলে পীত বর্ণী আঁখির বিড়াল যার নাম 'নিশি'। কাকতালীয়ভাবে তারও এক পা খুড়ো! সব ঝুট ঝামেলা পেরিয়ে নামহীন গল্প কথক দেখা করতে গেছিলেন তার বান্ধুবি বিড়াল চক্ষী 'রাত্রি' এর সাথে। উপহার হিসেবে নিয়েছিলেন একটা ছোট কাঠের তৈরি বিড়াল ছানা! কিন্তু একি! রাত্রি আর মশাই এর বাদে আরেকটা ছায়া কার ছিল? শেষের পৃষ্ঠার এই টুইস্টটা আপনাকে এর তৃতীয় এবং শেষ কিস্তি "বাঁশি" পড়তে বাধ্য করবেই।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: 'বকুল ফুল' পড়ে নামহীন মশাই আর বকুল সুবাসী স্মিতা চৌধুরানী মনে জায়গা করে নিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় 'বিড়ালাক্ষী' সংগ্রহ করেছিলাম। পড়ে সেই বকুলের সুবাসে আবার মেতে গেছি। বিড়ালাক্ষীতে নতুন চরিত্রগুলো বেশ ভালোভাবে সাজানো হয়েছে। সাথে নূরা পাগলার চরিত্রটাও বেশ জুতসই লেগেছে। কাঠের তৈরি বিড়াল আর কালো বিড়াল 'নিশি' এর ব্যাপারটা বেশ লেগেছে।
Profile Image for Sajol Ahmed.
56 reviews2 followers
April 16, 2021
'একা একা বসে আছেন মশাই?'
'হুম।'
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি স্মিতা চৌধুরানী! ঝটকা খেলেও সামলে নিলাম নিজেকে। মিষ্টি বাতাসে স্মিতার চুল উড়ছে। একটা আকাশি নীল শাড়ি পরেছে সে। অপার্থিব চাঁদের আলোয় কি সুন্দর লাগছে তাকে। চোখের দিকে তাকালাম। শীতল একজোড়া চোখ। পীতবর্ণের চোখ দুটোতে মায়া উপচে পড়ছে। আমি চেয়ে রইলাম সুন্দর মুখটার দিকে।
চৌধুরানী বলল, 'কি দেখেন অমন করে?'
'চোখ!'
একটু হেসে বলল, 'আমার আর চোখ, এমন তো বিড়ালেরও হয়।'

মশাই ডাকটা শুনলে আজকাল ক্যামন যেন লাগে। রাত্রিও মশাই বলে ডাকে। সেদিন রুক্সিনীও ফোন দিয়ে মশাই বলে ডাকল। জানি না সে কিভাবে জেনেছে!

হিরণমুখী এসেও শান্তিতে থাকতে পারছি না। রুক্সিনী চৌধুরী এবার জাল পেতেছে হিরণমুখী পর্যন্ত। বাড়ির আশেপাশে অস্বাভাবিক কারো পায়ের জলছাপ দেখা যায় বেশ কিছুদিন ধরে। অবলা প্রাণীগুলোর অস্বাভাবিক মৃত্যু! রাতে আজেবাজে স্বপ্ন। কেউ একজন চায় না ডাক্তার নইমুদ্দিন আমার ট্রিটমেন্ট করুক। সবমিলিয়ে এক বিচ্ছিরি অবস্থা। ক্ষমতার লোভ পাগল করে তুলেছে রুক্সিনীকে। যে করেই হোক আংটিটা পাওয়া চাই!

ইলিয়াস এসেছে নিজের বিয়ের দাওয়াত দিতে। তার সাথেই দুপুরের ট্রেনে নীলসাগর যাবো। সেখানের একটা স্কুলে চাকরি হয়েছে। দুদিন হেডমাস্টারের বাড়িতে থেকে নিজের থাকার জায়গা ঠিক করে চলে আসবো।

ট্রেনে ইলিয়াসের খাতির জমে রহিছ আর ফয়েজের সাথে। তারা তিনজনেই নামে মনতলা স্টেশনে। বাড়ি পৌঁছে ইলিয়াসের ফোন দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি।

হেডমাস্টারের বাড়িতে বাজে এক অভিজ্ঞতা নিয়ে চলে এলাম কৃষ্ণনগর, রহিম চাচার বাড়িতে। আসার পথে পত্রিকায় খবর দেখলাম রহিছ আর ফয়েজকে কেউ খুন করেছে। সাথে সাথে ইলিয়াসকে ফোন দিলাম। তার ফোন বন্ধ।

কৃষ্ণনগর থেকে ফেরার পথে ভাবলাম একবার জমিদার বাড়িটা ঘুরে যাই। কে জানতো জমিদার বাড়িতে ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করে আছে..!

** ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়া **

'বকুল ফুল' সিরিজের দ্বিতীয় বই 'বিড়ালাক্ষী'। প্রথম বইয়ের মতো এটাও এক বসায় শেষ করে ফেলার মতো। তবে বকুল ফুলের থেকে বিড়ালাক্ষীতে প্যাঁচগোচ কম। তাই বোধ হয় বকুল ফুলের থেকে জমেছেও একটু কম। প্রথম পার্টের মত রগরগে খুনের বর্ণনা নেই এখানে, নেই মাঝরাতে শ্মশানে হাঁটার সিন, থ্রিলও একটু কম। গল্পে পুরোপুরি হাড়িয়ে যেতে পারিনি। তবে হ্যাঁ মন্দ বলবো না, ভালো লেগেছে। শেষের টুইস্টটা ভালো ছিল; যদিও কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। আজ আর বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাবো না। এটুকুই থাক।

আর একটু প্রতিক্রিয়া না দেখালেই নয়। গল্পে একজনকে বড্ড বেশি মিস করেছি। স্মিতাকে 💔😌
মনে হচ্ছিলো লেখক টুকুস টুকুস স্মিতার ওরকম রোম্যান্টিক বর্ণনা দিয়ে আমার মতো পাঠকদের ভাবনা নিয়ে খেলছে 😒

** হ্যাপি রিডিং **

বই : বিড়ালাক্ষী
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী : নালন্দা
ধরন : ভৌতিক থ্রিলার
মলাট মূল্য : ২৯০ টাকা
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২০

['বকুল ফুল' সিরিজের শেষ বই 'বাঁশি']
Profile Image for Sarah Haque.
427 reviews103 followers
March 14, 2020
প্রথমবই যেই যেই কারণে ভালো লেগেছিল, বিড়ালাক্ষীতে সেই জিনিসগুলিই আর খুঁজে পাইনি। অসাধারণ কীভাবে এত সাধারণ হয়ে গেল জানিনা, আর বিড়ালাক্ষী কে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এইটার সিরিজে থাকার খুব চিহ্ন কোথাও পাইনি এতোটাই আলাদা। চরিত্রগুলির নাম বদলে ফেললে হয়ত বুঝার কোন উপায় থাকবে না যে এটার আগের কোন বই আছে।
Profile Image for তৃষা.
8 reviews2 followers
April 22, 2021
বকুল ফুলের চেয়ে এই বইটা একটু স্লো লেগেছে। তবে সুর কাটেনি একটুও। মশাই গুড জব।
রেটিং ৪.৫০/৫
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews68 followers
July 10, 2021
কাহিনী স্লো আর ভয় পাওয়ার মতো কিছুই ছিলো না। সবটা ঘোলা রেখে দিয়েছেন লেখক।
বকুলফুল হিসেবে ত��মন ভালো লাগে নি। দেখা যাক, 'বাঁশি' তে কি চমক আছে।
Profile Image for Imran.
136 reviews7 followers
July 16, 2021
বকুলফুল বইটি পড়ার পর সিরিজের এই দ্বিতীয় বইটির পড়তি একটু বেশি আশাবাদী ছিলাম আমি।দুঃখের বিষয় বইটা পড়ার পর একটু আশাহত হয়েছি। কেনো জানি কাহিনীটা আকর্ষণ করেনী আমায়।☹️
Profile Image for Ashraf Hossain Parvez.
83 reviews4 followers
March 18, 2020
খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে এবারের কিস্তিটা। শুরুর দিকে কিছুটা একঘেঁয়েমি লাগলেও শেষের দিকে এমন টানটান উত্তেজনা লেগেছে যা পুরোটা শেষ না করা অবধি উঠতে পারছিলাম না। সত্যিই দারুণ লেগেছে বকুল ফুল সিরিজের এই দ্বিতীয় কিস্তিটা।
Profile Image for Disha.
5 reviews
March 8, 2020
মুগ্ধ!
মুগ্ধ!
মুগ্ধ!
বাঁশি পড়ার জন্য অস্থির হয়ে আছি।
Profile Image for নূর.
67 reviews
October 16, 2020
প্রচুর হাইপ দেখে বকুল ফুল, বিড়ালাক্ষী কিনেছি। বকুল ফুলে মুগ্ধ হয়েছি, বিড়ালাক্ষীও আশা পূরণ করেছে তবে বইয়ের শেষ পার্টের জন্য অধীর অপেক্ষা করছি।
বাঁশিতে লেখকের কাছ থেকে আরো দারুণ কিছু চাই।
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
287 reviews23 followers
September 4, 2024
বিড়ালের চোখের মতো যার চোখ তাঁকে কী বিড়ালাক্ষী বলা যায়? হুম এককথায় প্রকাশ করলে তো সেটাই বলা যায়।

আচ্ছা মশাই আর স্মিতাকে মনে আছে তো? যার আগমনে মিষ্টি বকুলের গন্ধ নাকে আসতো মশাইয়ের। এবার তাঁদের নতুন এক গল্প। স্মিতা কিন্তু তাঁর মশাইকে ছেড়ে কখনো যেতে পারেনি।


মশাইয়ের জীবন সেই বকুল ফুল বইয়ের ঘটা ঘটনার পর থেকে বেশ এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। কেটে গেছে অনেকটা সময়। এখন মশাইয়ের জীবনে রাত্রি এসেছে। রাত্রি হচ্ছে মশাইয়ের গার্লফ্রেন্ড। যাকে মশাই খুব ভালোবাসে, এটা মশাইয়ের ধারণা। কিন্তু মশাইয়ের মন এখনো কিন্তু স্মিতাকে খোঁজে অবচেতনে। তবুও জোর করে মশাই স্মিতাকে ভুলতে চায়। স্মিতা, কৃষ্ণনগর, নীলাসাগর গ্ৰাম, রমা, রুক্সিনী চৌধুরানী এরা সবাই একটা দুঃসহ স্মৃতি মশাইয়ের কাছে।


যাই হোক মশাই এসেছে ছুটিতে গ্ৰামের বাড়িতে থাকতে। এখন নতুন করে মশাইয়ের জীবনে যোগ হয়েছে ডাঃ নাইমুদ্দিন। তিনি মনোবিদ এবং মশাইয়ের আত্মীয়। তাঁর তত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে মশাইয়ের। গ্ৰামে এসে খুব একটা ভালো লাগে না মশাইয়ের। হুট করেই অচেনা এক ফোন কল, বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা এসব চলছে এবং মাঝে মাঝে এখনো যেন সে বকুলের গন্ধ পায় অথচ স্মিতাকে ডেকেও সারা নেই।


মশাইয়ের চাকরি হয়েছে নীলাসাগর গ্ৰামের স্কুলে। যেখানে তাঁকে পার করতে হয়েছিল এক ভয়াবহ রাত। মশাইয়ের সেখানে যেতে অনীহা তবুও বাবার ইচ্ছায় ঠিক করলো জয়েন করবে। কিন্তু তাঁর আগে ঘটে গেল অদ্ভুত সব ঘটনা। তাঁদের পোষা কুকুর জিমি মারা গেল। সাথে আরেকদিন গেল গরু ছাগল মরে। এছাড়াও গ্ৰামে শুরু হলো বন্যা।


গ্ৰামে একজন পাগল কিসিমের মাঝি আছে সবাই নুরা পাগলা নামে ডাকে সে মশাইকে দেখেই বলে মশাইয়ের সাথে তাঁরা আছে। যাঁদের নাম রাত দুপুরে নিতে নেই। পাগলের কথা! মশাই হাসে শুনে। কিন্তু নুরাকে মেনেছিল জহুর ছেলেটা। একদিন রাতে সেও খু ন হলো নৃ শংস ভাবে। কে খু ন করলো ছেলেটাকে? মশাই ভাবনায় পড়ে। ওদিকে একদিন এলো রুক্সিনী চৌধুরানীর ফোন। মশাইকে আবারো জিনিসটা ফেরত দিতে হুমকি দিলো সে।


বকুলের গন্ধে আচ্ছন্ন হয় ঘর মাঝে মাঝে কিন্তু স্মিতা কেন আসে না? রুক্সিনী কী আবারো মশাইয়ের ক্ষতি করতে চায়? মশাই ট্রেনে করে নীলাসাগর যাচ্ছিল। পথে সঙ্গী কৃষ্ণনগর গ্ৰামের দূরের আত্মীয় ইলিয়াস। ট্রেনে দুই যুবকের সাথে আলাপ হয়। এরা গরীব খেটে খাওয়া মানুষ। মশাই পৌঁছে যায় নীলাসাগর কিন্তু এরপর খবর পায় সেই যুবকেরা তাঁরাও খুন হয়েছে গলা কে টে হ ত্যা। এসব হচ্ছেটা কী? প্রায়শই রাত্রিকেও অদ্ভুত লাগে মশাইয়ের। মেয়েটা অবিকল যেন স্মিতার মতো কথা বলে।


নীলাসাগরের হেডমাস্টারের বাড়িতে থাকতে মশাইয়ের ভালো লাগছে না। বারবার মনে হচ্ছে কোনো বিপদে পড়তে যাচ্ছে সে। আচ্ছা নীলাসাগর যখন এসেছে একবার যাবে নাকি কৃষ্ণনগরে? স্মিতা কেনো তাঁকে দেখা দিচ্ছে না? অথচ মশাই বারবার তাঁকে অনুভব করছে। কৃষ্ণনগরের স্মিতা মহল এখন নাকি বদলে গেছে মালিকানা বদল হয়ে। ইলিয়াসের মুখে শুনলো। একবার কী সত্যিই তাহলে যাবে? রুক্সিনীর ব্যাপারটাও দেখা দরকার। সে কী ফিরে এসেছে আবার?


                       ▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া ▪️


"বিড়ালাক্ষী" মশাই এবং স্মিতা বকুল ফুল ট্রিলজির দ্বিতীয় বই। এবং আমি এই পড়ে একটাই কথা ভাবছি এটা আমাকে হতাশ করলো কেন!


সিরিজের প্রথম বই বকুল ফুল যতটা দুর্দান্ত, বিড়ালাক্ষী ততটাই পানসে। এবং যতটা ভালো লাগা কাজ করেছিল প্রথম বইটা শেষ করে, এই বইটা পড়ে ততটাই হতাশ। তবে মনোয়ার ভাই লেখেন ভালো তাই গল্পটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারলাম।


প্রথমমত মনে হলো চরিত্রের হযবরল। একের পর এক চরিত্র ঢুকছে, বের হচ্ছে। তাল ঠিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। তবে বরাবরের মতই মশাইকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। ঠিক আগের মতই আছে সে। একটুও বদলায়নি।


গল্পের প্লট এবার হিজিবিজি হিজিবিজি। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। আমি বারবার পড়তে পড়তে বিড়বিড় করছি স্মিতা আসে না কেন। হাসবেন্ডকে জিজ্ঞেস করি স্মিতা আসে না কেন! সে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে বলে আসবে আসবে, ধৈর্য্য ধরে পড়তে থাকো। না আমি অভিযোগ করলাম স্মিতাকে কেন এমন আড়ালে রাখা হলো। মশাই একা একা সব ঘেঁটে ঘ করে ফেলেছে যে!


তবে বরাবরের মতই এই বইয়েও বেশ রহস্যময় আবহ বজায় ছিল। যদিও কিছু কিছু বোঝা যাচ্ছিল। তবে মোটামুটি ভালো লেগেছে। যদি প্রথমটার সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো নাহ প্রথমটা সিক্স মেরেছিল একদমই বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। এটা ওই মাঠে এক রান, দুই রান সংগ্ৰহের মতো অবস্থা।


তবে হাসবেন্ড আমাকে স্বান্তনা দিয়ে বলেছে এই সিরিজের শেষ বই "বাঁশি" বেশ জমজমাট। ওইটা নাকি আমার ভালো লাগবে। দেখা যাক কী হয়। "বাঁশি" শেষ করে আবার রিভিউ নিয়ে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ।


▪️ বইয়ের নাম: "বিড়ালাক্ষী"

▪️লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম 

▪️ প্রকাশনা: নালন্দা প্রকাশনী 

▪️ ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৮/৫
Profile Image for Nahid Ahsan.
Author 5 books8 followers
May 5, 2021
ছমছমে নীরবতা। ব্যাঙ ডাকছে। ঝিঁঝি ডাকছে। দুটি বিষয়ের অভাববোধ হচ্ছে। জোনাকিপোকা এবং চাঁদ। কোথায় গিয়ে লুকিয়েছে, কে জানে! সে যেখানেই থাকুক, আমার ভাবনা জুড়ে এখন স্মিতা, বকুলফুল এবং বিড়ালাক্ষী....

ছোট ছোট বাক্যে, শব্দ সাজিয়ে, গা ছিমছিমে আবহ তৈরি করেছেন মনোয়ারুল ইসলাম। "আরে! কীভাবে সম্ভব এটা!" -- এইধরণের রিয়্যাকশন চলে আসে ঘটনাগুলো ঘটার পর পর। দারুণ একটা গল্পের আঁচ পেয়েছি বকুলফুল পড়তে গিয়ে এবং সিরিজের দ্বিতীয় বই 'বিড়ালাক্ষী'তে সেই গল্প সুন্দরভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার দক্ষতাও দেখিয়েছে মনোয়ারুল ইসলাম।

মধ্যরাতে একটা ফোন আসে। অপ্রস্তুত হয়ে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে কেউ একজন কথা বলে, কণ্ঠ না চেনার কারণে গল্প কথক ঠিক আঁচ করতে পারেন না কে ফোন দিয়েছে এত রাতে। ফোনটা কেটে যাওয়ার পর থেকে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে বোধ করতে থাকেন তিনি, ঘেমে জবজবে হয়ে যান, ফোনের মাঝে সময় এবং কল লিস্ট চেক করে হতভম্ব হয়ে যান। এখন রাত দুইটা পঁয়তাল্লিশ, শেষ কল এসেছে বারোটা পঁয়তাল্লিশে! তাহলে একটু আগে কে কল দিয়েছে?

হতভম্ব হয়ে ঘড়িতে তাকিয়ে আরেকটা বড় ধাক্কা খান, ঘড়িতে বাজে তিনটা পঁয়তাল্লিশ! আশ্চর্য রকমের ঘটনা, তাইনা? এই তো সবে শুরু.....

বকুলফুলের মতো এতটা ভয়ানক পরিস্থিতি বিরাজ না করলেও বিড়ালাক্ষী বইয়ের পাতা উল্টানোর সাথে সাথে 'অসম্ভব' কিছু ঘটনার সাক্ষী হতে থাকবেন আপনি। যার না আছে কোনো উত্তর, না প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ আছে। গল্প-কথকের সাথে এক বসায় আপনার পড়ে যেতে হবে এই উপন্যাস -- আপনি চাইলেও থামতে পারবেন না। কেউ একজন টেনে নিয়ে যাবে আপনাকে বইয়ের ভেতর৷ একে একে শোনাবে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত কিসিমের সব ঘটনার কথা!

গ্রামীণ পরিবেশের একটা ভাব বজায় রেখে, তার মধ্য দিয়ে অতিপ্রাকৃত ঘটনা তুলে আনা একের পর এক, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে -- লেখক মনোয়ারুল এক্ষেত্রে বেশ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আপনার পরিচয় হবে রাত্রির সাথে, যার প্রচুর অভিমান। একটু এদিক-ওদিক হলেই গাল ফুলায় লেখকের সাথে। পরিচয় হবে নূরা পাগলার সাথে, যাকে একটু অদ্ভুত কিছু গল্পের মধ্য দিয়ে তুলে এনেছেন লেখক। পরিচয় হবে চেয়ারম্যানের সাথে। গল্পের প্রয়োজনে সামনে আসবে কৃষ্ণনগরের ইলিয়াসের সাথে। এভাবেই গল্প এগুতে থাকবে....

মজার ব্যাপার হলো, বকুলফুল উপন্যাসে 'নীলাসাগর' জায়গার সাথে আপনার পরিচয় ঘটবে এমনভাবে, যেখানে আপনি নিজেও কোনোদিন আর যেতে চাইবেন না। কিন্তু যার সাথে নীলাসাগরে এত কিছু হয়ে গেলো, সেই লেখক স্বয়ং সেখানে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছেন। সরকারি স্কুলের চাকরি, লেখক আর মানা করেননি। বিষয়টা আমার কাছে একটু অন্যরকম ঠেকেছে। সেখানে যাওয়া কোনোভাবেই উচিত না। কিন্তু লেখক এই অনুচিত কাজটা করেছেন। খানিকটা রাগ রাগ হয়েছিলাম।

কিন্তু মশাই - লেখক যদি নীলাসাগর না যায়, আমি তো এত ভালো একটা উপন্যাস পড়তে পারতাম না! মনে মনে আবার ধন্যবাদ দিলাম লেখককে। যাক, লেখক নিজে অতিপ্রাকৃত ঘটনার কবলে পড়ুক, তাতে আমার কি!

গল্প যত আগায়, বুকের ডিবডিব আওয়াজ তত বাড়ে। হঠাৎ করে খচ করে আওয়াজ পেলাম জানালার পাশ থেকে। আত্মা যেন আর সঙ্গে নেই আমার। এইরকম ভয় ভয় চিন্তা বিরাজ করছে আমার মধ্যে। এর জন্যেও লেখকই দায়ী। যাইহোক, এত এত দায়বদ্ধতা মাথায় নিয়ে লেখক মনোয়ারুল সত্যিই যে ভালো কিছু আমাদের উপহার দিয়েছেন সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। মজার বিষয় হলো, বইয়ের সম্পাদনা এবং প্রুফ রিডিং কোয়ালিটি এত চমৎকার -- পাঠকের কোনোভাবেই বিরক্তি আসবে না মাঝপথে।

নালন্দা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বকুলফুল সিরিজের দ্বিতীয় বই 'বিড়ালাক্ষী' আপনাকে সুন্দর একটা অবস্থানে নিয়ে যাবে, যা পরিষ্কার করার জন্য পড়তে হবে 'বাঁশি'। অর্থাৎ বইটা শেষ হবার পর, পরবর্তী ঘটনা জানার জন্য আমার মাঝে যেই আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, এখানেই তো লেখক সার্থক।

মোস্তাফিজ কারিগরের করা প্রচ্ছদ বকুলফুল সিরিজকে যেন আরও প্রাণবন্ত করেছে।

"বাঁশি" নিয়ে কথা বলব শীঘ্রই....
Profile Image for Nahian Mugdho.
5 reviews
May 10, 2021
কাহিনী সংক্ষেপঃ
কৃষ্ণনগরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর লেখক প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেখানকার পথ আর মাড়াবেন না। কিন্তু কৃষ্ণনগরের সেসব দুঃসহ স্মৃতি লেখকের পিছু ছাড়ছে না। এমন সময় চাকরির নোটিশ এলো লেখকের কাছে - তার চাকরি হয়েছে নীলাসাগর গ্রামের একটি স্কুলে,যে গ্রামকে নিয়ে আজও তিনি দুঃস্বপ্ন দেখেন। এবার নীলাসাগরে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে? এদিকে প্রবল ক্ষমতাধর রুক্সিনী চৌধুরীর অপকর্ম সব ফাঁস হবার পরও কেউ তাকে কিচ্ছুটি করতে পারেনি, অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। লেখকের সাথে তার বোঝাপড়া এখনো শেষ হয়নি - লেখক কি পারবেন এবারও রুক্সিনী চৌধুরীর ফাঁদ কেটে বের হতে? এত সব বিপদের পরেও লেখক শান্তি খুঁজতে থাকেন সদ্য পরিচিত রাত্রির কাছে , কিন্তু দিন দিন সেও রহস্যময়ী হয়ে উঠছে। লেখকের মনকে আরো অশান্ত করতে যুক্ত হলো মাঝরাতে এক ভুতুড়ে ফোনকল, যে ফোনকলে কোন নম্বর খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সব কিসের আলামত?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
“বকুল ফুল” ট্রিলজির ২য় কিস্তি হলো বিড়ালাক্ষী। ‘বকুল ফুল” উপন্যাসের পর পাঠকদের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন জমা হয়েছিল, সেগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে এই পর্বে। এই বইয়ের কয়েকটা বিষয় বেশ ভালো লেগেছে -
১। প্রথমত ‘বকুল ফুল’ বইয়ের রিভিউ দেয়ার সময় উল্লেখ করেছিলাম কিছু কিছ সংলাপের সামঞ্জস্যহীনতার কথা। কিন্তু এই বইটিতে সংলাপের ব্যাপারটায় কোন খুঁত ধরতে পারলাম না, প্রতিটি বাক্যালাপ একদম খাঁটি ।
২। নুরা পাগলা চরিত্রটি যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং ছিল।
৩। ‘বকুল ফুল’ এর মত এই বইটি গ্রামকেন্দ্রিক । এই বইয়ের একটা চ্যাপ্টারে লেখকের গ্রামে বন্যা দেখা দেয় , বন্যার বর্ণনা এবং বন্যার সময়ে গ্রামের অবস্থা লেখক খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৪। এই বইটিতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভৌতিক আবহের যে ব্যাপারটা - সেটা অনুপস্থিত । তবে লেখক খন্ড খন্ড কিছু ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন যা আপনাকে সেভাবে ভয় দেখাতে না পারলেও চমকে দিবে তা নিশ্চিত।
‘বকুল ফুল’ পড়বার পর কেউ যদি আরো বেশি হররের জন্য ‘বিড়ালাক্ষী’ ধরেন তাহলে কিঞ্চিত হতাশ হবেন। মূলত প্রথম পর্বের পরের ঘটনাবলী এবং শেষ পর্বের স্টোরি বিল্ড আপের জন্য ‘বিড়ালাক্ষী’র আগমন। বইটির কিছু কিছু অংশ নিয়ে আমার খটকা থেকে গিয়েছে। প্রথমত নুরা পাগলার মত ইণ্টারেস্টিং একটা চরিত্রকে খুব বেশি একটা বিকশিত করা হয়নি,এটা একটু হতাশাজনক। আর আরেকটা ব্যাপার হলো - রাত্রির ব্যাপারটা। রাত্রির বিষয়টা আমি ঠিক মিলাতে পারছিলাম না- এটা নিয়ে আর বেশি কথা বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে তাই বিষয়টি এড়িয়ে গেলাম।
‘বিড়ালাক্ষী’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২০ সালে। আর এ বছর এসেছে ‘বকুল ফুল’ ট্রিলজির শেষ পর্ব ‘বাঁশি’। কোনো সিরিজের নিখুঁত সমাপ্তি বলতে যা বোঝায় ‘বাঁশি’ সেরকম একটি উপন্যাস। এই চমৎকার সমাপ্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হলে আপনাকে ‘বিড়ালাক্ষী’র সাক্ষাৎ করতেই হবে।
May 1, 2021
গভীর রাতের ফোনকল। সময়টা এলোমেলো। ভুতুড়ে কল। সবকিছু মিলিয়ে ক্লান্ত মশাই পড়েছেন আশঙ্কায়। আশঙ্কা তীব্র হলো যখন তৃষ্ণার্ত হৃদয় নোনতা পানির স্বাদ গ্রহণ করছে। পানির স্বাদ তো এমন হবার কথা নয়⁉

আজকাল রাত্রি মশাই বলেই ডাকে, অথচ এই ডাক ছিলো স্মিতার। একদল বুন্য কুকুর রাত্রির দেহটাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। পরক্ষণেই মনে হলো এটা এক দুঃস্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্ন কি কোন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু স্বপ্নই নয়, অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে মশাইয়ের সাথে।

বাল্যবন্ধু জহুর যাকে কবর দেয়া হয়েছে, সে কি করে কথা বলবে। নূরা পাগলা যা বলে তাই হয় এরকমটা অনেকের ধারণা। অনেক সময় এসব ভেবেই গায়ের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায় মশাইয়ের। এগুলো কি শুধুই হ্যালুসিনেশন⁉

নীলসাগর স্কুলে চাকরি হয় মশাইয়ের। চাকরির সুবাদে তাকে আগেই যেতে হয় হেডমাস্টারের বাসায়। পথের মধ্যে ট্রেনে দেখা মিলে ময়নার। কে এই ময়না⁉ যার জন্য ছলিমের মন পুড়ে যায়। মশাই হেডমাস্টারের বাসায় থাকবে এতসব জানে কি করে রুক্সিনী⁉

বকুলফুলের নানা ঘটনার জট খুললেও। এখানে এসে মশাই নানা-রকম ঝামেলায় পড়ে। যেখানে স্মিতা তাকে খুব একটা সাহায্য করতে পারেনা, কিন্তু কেন⁉

নীলসাগর যাওয়ার পর হঠাৎ জোড়া খুন। সেই খুনের রহস্য ছাড়িয়ে সবগুলো থানাকে জানিয়ে ছিলো মশাই। কিন্তু মশাই নিজেই আসামী হয়ে থানায় আসে।ইলিয়াসের সাথে অনেক আগে থেকেই মশাইয়ের পরিবারের পরিচয়। ইলিয়াস তাদের বিয়ের দাওয়াত দিতে যায়। এই ইলিয়াসই মশাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষী দেয়। কেন তার বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছিলো ইলিয়াস⁉

থানায় দেখা হয় রুক্সিনীর মানুষের সাথে। স্মিতা মহলকে যে নতুন করে সাজিয়েছে তার সাথে রুক্সিনীর কি সম্পর্ক⁉ শেষ পর্যন্ত মশাইয়ের কি কোন মামলা-মোকদ্দমা হয়েছিলো নাকি রুক্সিনী ধরা পড়েছিলো⁉
এসবকয়টার উত্তর পেতে পড়তে হবে বিড়ালাক্ষী।

মনে আছে, জমিদার মহলের কথা, স্মিতা চৌধুরানির কথা। ক্ষমতার জাল বিছিয়েছে ক্ষমতালোভী রুক্সিনীর কথা। হ্যাঁ, বলছিলাম বকুলফুলের কথা। বিড়ালাক্ষী এই সিরিজের দ্বিতীয় বই। লাস্ট বই হলো বাঁশি।
Profile Image for নাঈম ইসলাম.
103 reviews5 followers
February 21, 2023
কেমন লাগবে বলুন তো.. যদি মাঝরাত্তিরে দেখেন মোবাইলের ঘড়িতে বাজে দুটো পঁয়তাল্লিশ কিন্তু পাশের হাত ঘড়িটা জানান দেয় যে সময়টা তখন তিনটে পঁয়তাল্লিশ ছুঁইছুঁই! আবার মাত্র আসা ফোন কলটার সময় বারোটা পঁয়তাল্লিশ!!

হ্যাঁ! ঠিক এমনটাই হয়েছে কথকের সাথে। কৃষ্ণনগরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা কাটিয়ে যে কি না ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে চাচ্ছিলো স্বাভাবিক জীবনের সাথে। স্থিতু হয়েছিল হীরণমুখীতে। পাশে পেয়েছিল রাত্রিকে। বাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য সরকারি চাকরি করতেও রাজি হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু বিধিবাম! পোস্টিং টা হলো লীলাসাগর গ্রামে! নামটা যেন মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছু। একটা অন্ধকার রাত! লাহুর নদী আর সাথে সেই কৃষ্ণরমনীকে! স্মিতা!

তাকে কি আর ভোলা যায়?!! ফোন কল আসা মেয়েটা কি যেন বলে ডাকলো তাকে? মশাই? হ্যাঁ হ্যাঁ! মশাই-ই তো! তবে কি চৌধুরানির কল!!

স্পইলার দিতে চাচ্ছি না।

বকুলফুল সিরিজের দ্বিতীয় বই বিড়ালাক্ষী।বকুলফুল পড়ে যতটা মুগ্ধ হয়েছিলাম বিড়ালাক্ষী ততই প্রশ্ন তৈরি করে গেছে মনে। আশা এখন একটাই। "বাঁশি" বাজবেই! উত্তরও পাবো।

অতিপ্রাকৃত গল্প প্রেমী হলে পড়ে ফেলতে পারেন বই দুইটা। বকুলফুলের সুবাসে মোহিত হতে বাধ্য হবেন মশাই!
Profile Image for Parvez Alam.
308 reviews12 followers
May 6, 2020
খুব একটা ভালো লাগেনি। কিছু কিছু জাগায় মনে হয়েছে একটু টেনে বড় করেছে বইটা। হরর তেমন কিছু পাইনি ভেবেছিলাম হরর থাকবে।
Profile Image for Alvi Rahman Shovon.
475 reviews16 followers
October 8, 2020
লেখকের বকুল ফুল সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব বিড়ালাক্ষী। অনেক ভালো লেগেছে অতিপ্রাকৃত এবং থ্রিলার জনারার বইটি। মনোয়ারুল ইসলাম আমার অন্যতম প্রিয় লেখকের তালিকায় জায়গা করে নিলেন।
Profile Image for Nasrin Mehzabeen Anindita.
25 reviews18 followers
January 8, 2021
১ স্টারের নিচে যদি কিছু থাকত, সেটা দিতাম।বকুল ফুল আর এটা একসাথে কেনা হয়েছে।ঐ বইটা যতটা ভালো লেগেছে,এই বই সেই ভালোলাগাটুকুকে স্রেফ ভাগাড়ে পাঠিয়ে দিয়েছে।আফসোস
4 reviews
January 30, 2022
লেখকের লিখনশৈলী বেশ ভালো। তবে এই বইটা অন্তত বকুলফুলের মত ভালো লাগেনি। প্লটও কিছুটা দুর্বল ছিল।
তবে বাঁশি বইটাতে হয়তো এক্সপেক্টেশন পুরোটা পুরোন হবে।
Profile Image for Harun Ahmed .
36 reviews1 follower
May 12, 2025
বকুলফুলের মতো মন ভরলো না।তবে কি সিরিজের তৃতীয় বই বাঁশির সুরের মুগ্ধ করে রাখবেন লেখক
Profile Image for অভ্রনীল.
12 reviews
May 27, 2021
আমি বইটা শেষ করেছি,।তবে বেশ কিছু প্রশ্ন মাথা দিয়ে ঘুরছে,।প্রথমে আসি শেষ টা নিয়ে,আমার কাছে শেষ টা ছোট গল্পের মত লাগছে,যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ।
স্মিতা আংটিটা পাবার পরে কি প্রতিশোধ পুরা করতে পেরেছিল?সেরকমটা উল্লেখ নেই,।
রুক্সিনী যে দাবি করেছিল আংটিটা তার সম্পদ,সে তো পালিয়ে গিয়েছিল,তার কি হলো? তার পরিনতি টা দেখানো দরকার ছিল, মুল খল চরিত্র সে!
যখন গ্রামের সবাই আগুন নিয়ে আসছিল বাড়িটা কে পুরিয়ে দেবার জন্য, এই অভিশাপ থেকে বাচার জন্য। তাদের এই কর্ম কান্ড কি জমিদার কন্যার প্রতিশোধ থামিয়ে দিল,নাকি তার অশরিরী আত্মাকে মুক্তি দিল,?
আর হ্যা উপকার এর উপহার হিসাবে স্মিতা তার হাতে একটা কিছু গুজে দিয়ে ছিল,কি গুজেদিয়েছিল,পাঠক হিসাবে জানার লোভ সামলাতে পারি নি😷।
আরেক টা রহস্য সমাধান করে নি লেখক,সেটা হলো,নীলা সাগর গ্রামে মেয়েরা, হারায় যায়, কেন হারায় তা ব্যাখ্যা করে নি।
রুক্সিনী তো হাড়ের ব্যাবসা করতো, তার কারবার ছিল ময়লা ভিটা লম্বা ভিটার কবর থেকে হার নিয়ে আসা।জীবিত মেয়েদের নিখোজ হওয়ার সাথে এর কোন কানেকশন পাইনি।
আরেক টা ব্যাপার খটকা লাগছে,মনা পাগলার মৃত্যু, যে কিনা,যুদ্ধের পর থেকে সব পরিচয় ছাড়া লাশ দাফন করছে,তার মৃত্যুতে জমিদার কন্যা বলছে তার পাপের শাস্তি পাইছে। কি সে পাপ??
প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো হার ব্যাবসায়ীদের সাথে এর যোগ আছে,পরে ১০৮ পেইজে ভুল ভাংলো যে মনার মারা যাবার কারন রুক্সিনীর সহযোগীরা।
তবে সে কোন পাপের শাস্তি পেল????
আরেক টা রহস্যের জট খুলে নি,সেটা হল ট্রেন এক্সিডেন্ট এর পরে,গল্প কথক যখন বাসায় আসলো সেখানে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে তার পোষা বিড়াল এর সাথে,আর তার মা মাছ কাটার পরে,দেখে মাছ নাই,মাছের আঁশ ছড়ানো,।সুস্মিতা বলেছে সে করেনি,তবে কে করলো এটা?
আমি এইগুলা নিয়ে চিন্তা করার সময়,২ টা জিনিষ মাথায় আসছে,।প্রথম টা পার্ট ২ আসবে।২য় টা হলো সাবীহা লেখকের ভাগনি,যে লেখার সময় তার পাতা ছিড়ে ফেলেছিল,আর ল্যাপটপে কিছু অধ্যায় মুছে দিয়েছিল,তা নতুন করে লেখক লিখেছিল।।
24 reviews
April 27, 2021
বকুল ফুল সিরিজের ২য় বই।
১ম বইয়ের তুলনায় একটু স্লো মনে ���লো, হতে পারে গল্পের প্রয়োজনেই এমন। বকুল ফুল পড়ে স্মিতা চৌধুরানীর প্রতি আগ্রহ জেগেছিলো, কিন্তু এ বইটায় স্মিতার উপস্থিতি কম থাকায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম।
তৃতীয় বই 'বাঁশি' পড়ার অপেক্ষায় আছি।
Displaying 1 - 30 of 31 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.