Jump to ratings and reviews
Rate this book

নয়নতারা

Rate this book
বাচ্চাটা মেয়ে।

পিঙ্গল চুল, ঝুঁটি করে রাখা ফিতা দিয়ে। আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে মেয়েটিকে। সূচনা জিজ্ঞেস করলো, ‘নাম কী সোনা?’ বাচ্চাটা করুণ চোখে তাকাল। ঠোঁটগুলো যেন গোলাপের পাপড়ি, থরথর করে কাঁপছে। সূচনা আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘সোনা ভয় পেয়েছিস?’ মাথা ডানে বামে ঘোরায় বাচ্চাটা। একবার ভুরু কোঁচকায়। মুখ দিয়ে অনুচ্চস্বরে কিছু একটা বলে, ‘না...না...ন...ন...’। কপালের ভাঁজগুলো মিশিয়ে দেবার ছলে সূচনা মেয়েটার কপালে হাত দিল, কপাল বেশ গরম। বাচ্চাটা ফিক করে হেসে দিল, হাসিটা কেমন অদ্ভুত। সূচনা খেয়াল করলো মেয়েটার পায়ের কড়ে আঙ্গুল নেই... এবং জিভটা কুচকুচে কালো। ইয়াল্লা! একি! বাচ্চাটার কি অসুখ? এমন অসুখ কি মানুষের হতে পারে! নাকি অন্যকিছু? শরীরটা সূচনার ঝাঁকি খায়, সে গুঙ্গিয়ে উঠে।

চমন হাসপাতালের জানালায় দাঁড়িয়ে যে দৃশ্য দেখছে তা অসহ্যকর - একটা বাচ্চা মেয়ে কাকের দুটো ছানাকে গলা টিপে ধরেছে, সাথে মরা কাকটাকে পায়ের তলায় পিষছে আর চমনের দিকে তাকিয়ে হাসছে। মেয়েটার চোখ মুখে ক্রুর হাসি। এর অর্থ কি?

সূচনা ভাবছিল নয়নতারা গাছগুলোর কথা, হঠাৎ ঘন্টার শব্দ পেয়ে সে লাফিয়ে উঠল। ঘণ্টার সাথে সাথে মন্ত্র পড়ার সুর কানে এলো - “ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম। ধান্তারীং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।”

160 pages, Hardcover

First published February 1, 2020

Loading...
Loading...

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
27 (45%)
4 stars
13 (21%)
3 stars
16 (26%)
2 stars
3 (5%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 20 of 20 reviews
Profile Image for Taznina Zaman.
276 reviews85 followers
March 15, 2020
প্রিভিউ পড়ে ভেবেছিলাম ভৌতিক উপন্যাস। লেখক অনেক চেষ্টা করেছেন ভৌতিক আবহ আনতে কিন্তু আমার মনে হয়েছে তিনি সফল হননি। গোটা উপন্যাসেই একটার পর একটা প্রেতের আগমন ঘটেছে, ভূতুড়ে ঘটনা ঘটেছে কিন্তু সেগুলো কেন ঘটছে, এসবের উৎস কোথায় তার কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। জাস্ট ঘটনাগুলো একটার পর একটা ঘটেই গেছে। আর ভৌতিক ঘটনার একটা বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া লাগে, তবেই না মানুষ ভয় পাবে! এখানে একটার পর একটা ভূত এসেছে, আবার চলেও গেছে। মনে ভয় তো দূরের কথা, কোন অনুভূতিই সৃষ্টি হয়নি। আমি অনেক আশা নিয়ে পড়তে বসেছিলাম, একেবারেই আশাহত হয়েছি। তিন স্টার দিলাম কেবল একটা পাঠযোগ্য উপন্যাস লেখার জন্য।
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews33 followers
March 4, 2020
লেখা ভালো। তবে বিষয়বস্তু তেমন বুঝিনি। 'শেষ হইয়াও হইলো না শেষ' - টাইপ কিছু একটা করা কিংবা পরবর্তীতে সিরিজ হিসেবে কাহিনী টানার চেষ্টা চলছে সম্ভবত। চেষ্টাটা ভাল্লাগছেনা।
Profile Image for Zannat.
41 reviews19 followers
April 7, 2021
লেখকের বর্ণনা খুব চমৎকার, পড়ে আরামবোধ হয়। কিন্তু বইটা শেষ করার পর মনে হলো, ভাল্লাগেনি তেমন। লেখক অতিপ্রাকৃত বিষয়গুলো আড়ালেই রেখে দিয়েছেন, বিশ্লেষণ আর করেননি!
Profile Image for Jemin Nelim.
39 reviews
April 17, 2021
মূল কাহিনী সুচনা,চমন,আলম আরা এই তিন চরিত্র নিয়ে এবং চমনদের পুরনো ধাঁচের হিন্দু বাড়ি টি নিয়ে (যা আসলে চমনদের নিজেদের বাড়ি না)I লেখক অনেক রকমে ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন যদিও তেমন ভয়ঙ্কর কিছুই ছিল নাI বইয়ের শুরুতেই চমনের সাথে একটি দূর্ঘটনা ঘটে (গল্পের এই অংশ পড়ে কিছুুটা ভয় পেয়েছি)I এর মাঝে হঠাৎ অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু ঘটে চমনের দুই বন্ধু ফয়সাল ও রিফাতের এবং কিছু দিনের মধ্যেই ইন্সপেক্টর শামীম এরI পুরো উপন্যাসেই একাটার পর একটা ঘটনা দেখানো হয়েছে কিন্তু তাদের কারন স্পষ্ট করা হয় নিI অনেক গুলো রহস্য ঘোলাটে রেখে উপন্যাসটি এমন ভাবে শেষ করা হয়েছে যেন, 'শেষ হইয়াও হইলো না শেষ'I স্পষ্টতই পরবর্তি সিরিজের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে I তোহ অপেক্ষায় আছি রহস্য জট্ পরবর্তি সিরিজেই খুলবেI আর অবশ্যই আশা করি পরবর্তি সিরিজ অসাধারন হবেI
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews69 followers
November 4, 2020
লেখকের 'বকুলফুল' এর পর 'নয়নতারা' পড়লাম।আমার কাছে 'বকুলফুল' বেশী ভালোলাগছে 'নয়নতারা' থেকে।এটা একটা হরর বই,মনে হচ্ছে এটা সিরিজ।
.
দুই/তিনদিন,এই বইয়ের টুংটাং শব্দ আমার পিছু ছাড়ে নাই।যেখানে যাই মনে হতো,আশেপাশে টুংটাং শব্দ হয়! -_-
Profile Image for Disha.
5 reviews
March 15, 2020
নয়নতারা খুব সুন্দর ফুল। আর এই উপন্যাসটা আরো সুন্দর। লেখক এত মায়া দিয়ে বইটা লিখেছেন যে চোখে ভাসছে সূচনা, চমন, দেবেত্রী দেবিদের।
আলম আরার জন্য মন খুব খারাপ হয়েছে। বইটা শেষটা এমন হবে ভাবতেও পারিনি। এই বইয়ের সিকুয়েল আসুক চাই। লেখক তরতর করে গল্প বলে গেছেন। মনোয়ারুল ইসলাম হরর সাহিত্য জেনে বুঝে লেখছেন বুঝা যায়। গতবাঁধা হরর কাহিনী, ভূত প্রেতে ঠাসা কোনো গল্প না নয়নতারা। একটা সুন্দর আর গোছানো গল্প। যেখানে একটা পরিবার আস্তে আস্তে অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হয়।
লেখকের জন্য শুভকামনা।
Profile Image for তৃষা.
8 reviews2 followers
April 22, 2021
গতবছর মেলাতে কিনেছি বইটা। কিন্তু পড়িনি। এবার মেলার নতুন দুইটা সহ পড়ে শেষ করেছি। মনোয়ারুল ইসলামের অন্য বইগুলোর চেয়ে এইটার লেখার ধাচ আলাদা মনে হইলো।
৪.৫০/৫
Profile Image for Ashraf Hossain Parvez.
83 reviews4 followers
March 27, 2020
পুরো রহস্যের মিশেলে ভরপুর এই বইটিতে। কাহিনী যতদূর এগিয়েছে ততোবারই রহস্যের এক অন্তঃজালে শিহরিত হয়েছি। তবে শেষের দিকে গল্পের সমাপ্তি এমনভাবে টেনেছে যা পরবর্তী পর্বের ইঙ্গিত দেয়। ফয়সাল, রিফাত আর ইন্সপেক্টর শামীম আহমেদের মৃত্যু রহস্য হয়তো পরের পর্বে পাওয়া যেতে পারে।
Profile Image for Alvi Rahman Shovon.
524 reviews21 followers
August 21, 2020
নবীন লেখক মনোয়ারুল ইসলাম। লেখকের ৩য় বই নয়নতারার মাঝে এতটাই ডুবে গিয়েছি যে লেখকের প্রথম দুটি বই বকুলফুল এবং বিড়ালাক্ষী বই দুটি সংগ্রহের তাড়না বোধ করছি।
Profile Image for Harun Rashid.
5 reviews4 followers
April 30, 2021
বাসনা বসে মন অবিরত,
ধায় দশ দিশে পাগলের মতো।
স্থির আঁখি তুমি ক্ষরণে শতত
জাগিছ শয়নে স্বপনে।

নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে
রয়েছ নয়নে নয়নে,
হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে
হৃদয়ে রয়েছ গোপনে।

চরনগুলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রার্থনা কবিতার অংশবিশেষ। অনেক ছোটকালে তিনি লিখেছিলেন এই কবিতা। পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সামনে কবিগুরু নিজ জবানিতে পাঠ করে শোনান এই কবিতা। কালজয়ী এই কবিতার পাঠ সন্তানের কণ্ঠে শুনে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখেন কবিগুরুর পিতা। পরক্ষণেই চোখ খুলে স্মিত হেসে পুত্রের হাতে পাঁচশত টাকার একটি চেক ধরিয়ে দিয়ে তিনি বললেন,

“দেশের রাজা যদি দেশের ভাষা জানিত ও সাহিত্যের আদর বুঝিত, তবে কবিকে তো তাহারা পুরস্কার দিত। রাজার দিক হইতে যখন তাহার কোনো সম্ভাবনা নাই তখন আমাকেই সে-কাজ করিতে হইবে।”

বাংলা সাহিত্যে অতিপ্রাকৃত জনরার বরপুত্র এ সময়ের জনপ্রিয় লেখক মনোয়ারুল ইসলামের 'নয়ন তাহারে পায় না দেখিতে' বইটি শেষ করে সত্যিই আজ কবিগুরুর প্রতি পিতার এই রোমাঞ্চকর স্মৃতিটা আমার মনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে এর উল্টোটা। আমার খুব করে ইচ্ছে করছে লেখককে ডেকে নিয়ে কানে কানে বলি, 'মশাই বই লিখেন সমস্যা নেই। পাঠকের ঘুম কেড়ে নেয়ার অধিকার তো আপনাকে কেউ দেয়নি। এহেন অপরাধে (?) আপনার নামে আদালতে মামলা ঠুকে দেয়া উচিত'।

প্যাঁচাল বাদ দিয়ে এবার আসি মূল কথায়। এখানেও সমস্যা। আলোচনা শুরু করতে গিয়েও চরম বিপত্তিতে পড়ে গেলাম। কিভাবে শুরু করব, কোত্থেকে শুরু করা যায়, মাথার ভেতর ক্রমাগত কিলঘুষি মারছে এরকম নানান প্রশ্ন। একে তো বইয়ের ঘোর এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি, অপরদিকে স্পয়লারের চরম আশঙ্কার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রিভিউ লিখতে বসেছি। কেন জানি বার বারই মনে হচ্ছে, গল্পের প্লটটা আলোচনায় আনতে গেলেই বুঝি স্পয়লার হয়ে যাচ্ছে। মশাই, বড়ই বেকায়দায় ফেলে দিলেন আমাকে। আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি, স্মিতা চৌধুরানি চরমভাবে গ্রাস করে ফেলেছে আপনাকে।

তথাপি অতি সতর্কতার সাথে কিছু আলোচনা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। আসাদের সাথে পালিয়ে যাবার প্রত্যয়ে ঘর থেকে সোনা-গয়না নিয়ে বেরিয়ে আসে সুমি। সন্ধ্যা লগনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যা ভবনের সামনে এসে সুমি মুখোমুখি হয় এক ভৌতিক পরিবেশের। দমকা উড়ে আসা কালো মেঘের আচ্ছাদনে রোদ্রোজ্জ্বল সূর্য হঠাৎ করে আড়াল হয়ে যাওয়ার মতোই এক অবর্ণনীয় মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয় সুমির মাঝে। আবছায়া অন্ধকারে মুখোমুখি সুমি আর আসাদ। সাইড ব্যাগ থেকে একটা সুইস নাইফ হাতে নেয় সুমি। নিচের দিকে থাকা বাটনে চাপ দিতেই চিক করে বেরিয়ে আসে ধারালো ফলা। এই ভর সন্ধ্যায় মাথাটা হঠাৎ ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল সুমির। ক্যাঁচ করে একটা জোরালো শব্দ হলো।

বেশ স্বাচ্ছন্দেই কেটে যাচ্ছিল সুমন-মারিয়ার দাম্পত্য জীবন। এক অজানা কারণে ব্যাংকার সুমনের সংসারে উদিত হয় এক ভয়াবহ দুর্যোগের ঘনঘটা। ওয়াশরুমের আয়নায় ধুম করে লাথি মারে সে। হঠাৎ করেই মেরুদণ্ডে চোরা হিমশীতল স্রোতে বয়ে যায় সুমনের। ভাঙা কাচের সুচালো ফালিটা হাতে নেয় সে। খচর খচর শব্দে এক নিমিষেই অন্ধকার নেমে আসে সুমন-মারিয়ার সুখের সংসারে।

এভাবেই একের পর এক খুন হয়ে যাচ্ছে কিছু মানুষ। খুনের তদন্তে নেমে এক ইস্পাত কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন সাব-ইনস্পেকটর মুরাদ। নিজেই জড়িয়ে পড়েন কঠিন সময়ের জালে।

আপাত দৃষ্টিতে সবগুলো ঘটনাই আত্মহত্যা মনে হলেও এতে বাধ সাধে আধুনিক প্রযুক্তি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্ট হাতে পেয়ে চোখ দুখান বেরিয়ে আসার উপক্রম হয় ইনভেস্টিগেশন টিমের। চরম বিপত্তিতে পড়ে যায় পুরো ডিপার্টমেন্ট। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এর ডালপালার বিস্তৃতি পেতে থাকে রাজধানী পেরিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে শুরু করে আখাউড়ার রূপনগর গ্রাম পর্যন্ত। যার বিভিন্ন দৃশ্যপটে দেখা মেলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মুখোশধারী বিভিন্ন মানুষের।

লেখক অত্যন্ত সিদ্ধহস্তে প্রত্যেকটি চরিত্রকে দিয়েছেন আলাদা স্বকীয়তা। একজন থ্রিলারপ্রেমী হিসেবে আমি শতভাগ রহস্যের স্বাদ অনুভব করেছি। বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এর গতি রোলারকেস্টার থেকেও বেশি অনুভব করেছি। এক মলাটে এতো থ্রিল নিয়ে খুব কম সংখ্যক বই-ই আমি পড়েছি।

রহস্য, রোমাঞ্চ, হিংসা, লোভ, ক্ষোভ, ঘৃণা আর ভালোবাসার মিশেলে সৃষ্ট 'নয়ন তাহারে পায় না দেখিতে' আমার পড়া বেস্ট বইয়ের তালিকায় জায়গা করে নিলো। কিছু দৃশ্যপটে লেখক রেখেছেন পাঠকের ভাবনার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বাধীনতা। পাঠক এগুলো নিজের মতো করে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন। এই বিষয়টা আমাকে দারুণভাবে বিমোহিত করেছে। কিছু অবৈজ্ঞানিক বিষয় বইটিতে স্থান পেয়েছে, লেখক যা মুখবন্ধে নিজেই নিরুৎসাহিত করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বিষয়গুলো অবৈজ্ঞানিক হলেও পড়তে গিয়ে পাঠক চরম রহস্য অনুভব করবেন। দৃশ্যপটের সাথে লেখার চমৎকার বর্ণনাশৈলীর কারণে এসব অবৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোও বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে আমার কাছে। আর এখানেই বোধহয় লুকিয়ে আছে অতিপ্রাকৃত জনরার রহস্য।

আগে নিয়মিত রিভিউ লিখতাম। বই পড়া শেষ করেই রিভিউ লেখার জন্য মনপ্রাণ উতলা হয়ে উঠতো। নানাবিধ কারণে অনেকদিন রিভিউ লিখি না। মনে হচ্ছে যেন ভুলে গেছি সব। কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি রিভিউ লেখার প্যাটার্ন। যাই হোক, আজকে মূলত রিভিউ লিখি নাই। বইটি পড়া শেষে মনের অভিব্যক্তিটুকু অগোছালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। সবশেষে যা বলে আজকের বকবকের ইতি টানতে চাই তা হলো, সত্যিকার অর্থেই দুর্দান্ত একটি বই পড়েছি অনেকদিন পর। নালন্দা থেকে প্রকাশিত মোন্তাফিজ কারিগরের করা চমৎকার প্রচ্ছদে প্রকাশিত বইটির বাইন্ডিং থেকে শুরু করে প্রিন্টিং এবং কাগজের মানও ছিল অতি চমৎকার। বইটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো পুরো বইটিতে, একটি মাত্র ভুল বানান আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঝরঝরে লেখা আর ছোট ছোট বাক্যগঠনে পুরো বইটি ছিল পাঠরস আস্বাদনের এক ইনটেনসিভ রস ইউনিট।

মশাই, চালিয়ে যান। কলম চলুক অামৃত্যু। অনেক অনেক শুভকামনা জানবেন। এবার বাঁশি বাজানোর পালা। হ্যাপি রিডিং প্রিয় পাঠক।

বইঃ নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে
লেখকঃ মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনীঃ নালন্দা
প্রচ্ছদঃ মোস্তাফিজ কারিগর
পৃষ্টা সংখ্যাঃ ১৪৮
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা।
Profile Image for Sakib A. Jami.
383 reviews51 followers
October 27, 2023
সূচনা ও চমনের সংসার। সত্য বিবাহিত দুই তরুণ তরুণী। শ্বাশুড়িকে নিয়ে ভালোই দিন কাটছে সূচনার। শ্বশুর অনেক আগেই গত হয়েছেন। হাসি আনন্দে কাটানো সংসারে হুট করে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে, কিছু স্বপ্ন শান্তিতে থাকতে দেয় না সূচনাকে। বাচ্চাকে নিয়ে বীভৎস সেসব স্বপ্ন ভয় ধরায়। সূচনাও কেমন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপর বদলে যায় সে। কী জন্যে? সেই বদলে যাওয়ার জন্যই কি না, না কোনো এক অজ্ঞাত কারণে— ভয়াবহ এক অঘটনের সামনে দাঁড়িয়ে চমন। যেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেছে! বুকটা ফালাফালা করে ফেলেছে কিছু একটা? কী সেটা? কোন বিপদ নেমে এসেছে ওদের সামনে? কেন চমনের দুই বন্ধুর এমন পরিণতি হলো? ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।

সামনের বাড়িটা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। হুট করেই কেউ যেন সেই বাড়িতে থাকা শুরু করেছে। গভীর রাতে আলো জ্বলে। বাচ্চা এক মেয়ের হাসির আওয়াজ পাওয়া যায়। মা আর মেয়ে থাকে বোধহয় বাড়িটাতে। না-কি আরো কেউ? যেই বাড়িটাকে ভৌতিক, মৃত বলে কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হতো না, সেখানে কে থাকতে আসবে? চমন বোঝে না। বাড়ির আশেপাশে কারা যেন ঘোরাঘুরি করে। দূরের সেই নয়নতারা ফুলের রহস্য বা কী?

চমনের দুই বন্ধুর মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে যে এমন পরিণতি হবে জানলে হয়তো এই রহস্যের তদন্ত করার সাহস কেউ দেখাত না! তদন্ত করতে গিয়ে কীসের দেখা পেয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার? কে জানে! সূচনা-ই বা কেন বদলে যায় এভাবে? বাচ্চাদের সাথে শত্রুতা কী? বাচ্চারা ফুলের মতো পবিত্র। কিন্তু সূচনা বাচ্চাদের দেখলে বদলে যায়। কখনো লাথি দিয়ে না কখনো হাত মুচড়ে দিয়ে সুখ খুঁজে নেয়! কেন? এসব কি মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ? কী ঘটছে, কেন ঘটছে কিছুই বোঝার উপায় নেই। কারণও অজানা। যা নিয়ে যাবে সূচনার গোপন কোনো অতীতে। কী সেটা?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

লেখক মনোয়ারুল ইসলামের সব বই পড়ার সুবাদে তার লেখনীর সাথে বেশ ভালোভাবে পরিচয় আছে। তিনি গল্প বলেন। তার সেই গল্প দারুণভাবে ফুটে ওঠে তার সহজ সাবলীল লেখনশৈলীর মাধ্যমে। কিন্তু “নয়নতারা” বইটি সবক্ষেত্রেই মনে হয়েছে অপরিণত।

বইটিতে একটি গল্প আছে, কিন্তু সে গল্প যেন ঠিকঠাক ফুটে ওঠেনি। মনে হয়েছে কিছু এলোমেলো গল্পকে এক করার চেষ্টা করা হয়েছে। শেষে এসে চমক দেওয়ার চেষ্টা করে একটা গল্পের পরিণত আকার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। লেখকের এহেন লেখার সাথে পরিচয় নেই। লেখকের প্রথম দিককার লেখাগুলোর মধ্যে এই বইটিই ভীষণ দুর্বল। হয়তো আরো ভালো কিছু হতে পারত।

লেখকের লেখনশৈলীও বেশ হতাশ করেছে। এই বইটিতে সেই অমায়িক, বোধগম্য লেখনী যেন অনুপস্থিত ছিল। লেখক বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সে বর্ণনায় আবেগ অনুভূতিগুলো ঠিকঠাক ফুটে ওঠেনি। একাধিক ঘটনা ঘটেছে যার অধিকাংশই মনে হয়েছে খাপছাড়া। কেন ঘটছে, কী ঘটছে কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তাছাড়া এমন কিছু ঘটনা আবর্তিত হয়েছিল যারা অনেক কিছুই বাড়তি মনে হয়েছে। মনে হয়েছে অপ্রয়োজনীয়। সেগুলো গল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছিল বারবার। তবে লেখকের প্রাকৃতিক পরিবেশ বর্ণনার তারিফ করতে হয়। এক্ষেত্রে লেখক বরাবর অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ভৌতিক আবহও ঠিকঠাক ফুটে উঠেনি। মনে হয়েছে জোর করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ভৌতিক ঘটনাগুলোর তো নির্দিষ্ট কারণ থাকা উচিত, সেই কারণ বা উদ্দেশ্য— কিছুই বোঝা যায়নি। হয়তো আমিই বুঝতে পারিনি। চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে কিছু ব্যাকস্টোরি এসেছে যার অধিকাংশ মনে হয়েছে অপ্রয়োজনীয়। মূল ঘটনার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে বেগ পেতে হয়েছে।

বইটিতে যে জিনিসটা ভালো লেগেছে, তা হলো শ্বাশুড়ি-বউয়ের সম্পর্ক। সংসারে থাকলে টুকটাক ঝগড়াঝাঁটি হবে, মনোমালিন্য হবে। দিনশেষে এভাবেই এক হয়ে থাকতে হয়। বউয়ের প্রতি শ্বাশুড়ির যেমন স্নেহ থাকে, শ্বাশুড়ির প্রতিও তেমন মমতা দেখানো গেলে সংসারে কোনো ঝুটঝামেলা থাকে না।

যেহেতু মৃত্যু আর পুলিশের তদন্তের বিষয় বইতে ছিল, তাই সেই দিক আরেকটু নজর দেওয়া যেত। পুলিশকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করলে হয়তো ভালো হতো। সেই দিক আড়ালে চলে গিয়েছে। এছাড়া কিছু বিষয় ঠিক ভালো লাগেনি। যেমন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে থাকা চমন কারো সাহায্য না নিয়ে একা একা হেঁটে বেরিয়েছে বিষয়টা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। যেখানে সে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছে। একইভাবে বাসায় আলমারির ড্রয়ারে এত টাকা রেখে বাইরে ঘুরে বেড়ানো, মাঝেমাঝে টাকার চিন্তা করাও যুক্তিসঙ্গত লাগেনি। হ্যাঁ, বইয়ে বলা হয়েছে টাকাগুলো বাসায় কারণ, তারপরও আমার কাছে সঠিক পন্থা কিনে হয়নি।

▪️পরিশেষে, অনেক প্রশ্ন জমে আছে। যার কোনো উত্তরই শেষে মেলেনি। রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদি কখনো বইটির সিকুয়াল আসে, তবেই হয়তো সবগুলো প্রশ্নের উত্তর মিলবে। নাহলে একটি গল্পহীন গল্পের মতো থেমে থাকবে “নয়নতারা”।

▪️বই : নয়নতারা
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : নালন্দা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৫৯
▪️মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা
May 1, 2021
সদ্য বিবাহিত দম্পতি। মা, সূচনা আর চমনের সুখের সংসার। কোথাও কোন ঝামেলা নেই। মাঝেসাঝে সূচনা শুনতে পায় টুংটাং শব্দ...যে শব্দ বইজুড়ে রহস্য তৈরি করে রেখেছে।

একটি দূর্ঘটনায় চমনের জায়গা হয় হসপিটালে। চমনকে দেখতে আসে দুই কাছের বন্ধু। তাদের সাথে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পুলিশের সন্দেহের তীর নিবদ্ধ থাকে সূচনা আর চমনের উপর। সন্দেহ কী ঠিক আছে নাকি অন্য কেউ আছে এর পেছনে!?
ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য দেখে চমন ভয়ে চুপসে যায়। অশুভ কিছুর ইঙিত পায় সে। অন্যদিকে সূচনা প্রায়ই একা একা আলাপ-সালাপ পারে এই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি শ্বাশুড়ি আলম আরার। সন্দেহ বাড়তে থাকে...
পুকুরপাড়ে নয়নতারা অনেকগুলো গাছ, কিন্তু গাছের পাতায় হাত রাখা যায়। এত গরম।
দেবিত্রী দেবী সব দেখছে। সবদিকে সে আছে।

নয়নতারা বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠাকে লেখক রহস্যের মায়াজালে বন্দি করেছেন। এই মায়াজাল ভেদ করতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে নয়নতারা।

আর একটা কথা না বললেই নয়। প্রকৃতির এত সুন্দর বর্ণনা করেছেন লেখক। মনে হয় প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে উঠেছে একদম। এদিকটা লেখকের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক মনে হয়েছে তার অন্যান্য বই পড়ে... রাতের বেলায় আকাশ তাকিয়ে থাকে, গাছ কথা বলে। ঠিক এমনটাই ফিল হবে প্রকৃতি কথা বলছে আপনার সাথে। শেষ করছি জীবনান্দের কবিতা দিয়ে। কবিতাটি নয়নতারা উপন্যাসে আছে-

নিয়ে গেল তারে;
কাল রাতে ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।
কি মনে হয় শেষটা দিয়ে। কি ঘটেছিলো চমন সূচনার জীবনে⁉

নয়নতারা
মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী- নালন্দা
প্রচ্ছদ- মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য- ২৯০
Profile Image for Mashfiqur Rahman Jesun.
10 reviews
June 26, 2026
অনেকদিন ধরে রিডিং ব্লকে থেকে বইটা শেষ করলাম, এককথায় দুর্দান্ত।

অসাধারণ লেখনী, প্রতিটি চরিত্রি চমৎকারভাবে উপভোগ্য তবে বইয়ের শেষটা কেমন তাড়াহুড়ো টাইপ লেগেছে। শুরুর দিকে ভৌতিক একটা পরিবেশ লেখক ভালোভাবেই তৈরি করতে পেরেছে বলে মনে করি তবে শেষটায় এসে অনেকটাই অগোছালো হয়ে যায়,তবুও পড়তে বিন্দুমাত্র বিরক্তবোধ করিনি। চমন,সূচনা আর আলম আরা এই তিন মূল চরিত্রকে ঘিরেই উপন্যাস তবে দারুণভাবে প্রভাব ফেলেছে নয়নতারা ফুল,দেবিত্রী দেবী এবং অন্যান্য সকল চরিত্র।
শেষটায় কিছু বিষয় ঘোলাটে লেগেছে, যার প্রপার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি "কিছুটা শেষ হইয়াও হইলো না শেষ টাইপ", লেখক হয়তো একটি সূত্র রেখে গেছে পরের পর্বের আশায় কিন্তু যাই বলা হোক না কেনো শেষমেষ একটাই কথা দূর্দান্ত, দুর্দান্ত আর দুর্দান্ত!!!!!
Profile Image for Tahrima Islam.
2 reviews
February 23, 2025
নয়নতারা
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী : নালন্দা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : 159
কভার : হার্ডকভার

সহজ পঠন যোগ্য তবে মনে ধরার মতো নয়।
রহস্যময় বই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয় কেননা এতো সব ভূতের আনাগোনা ছিলো কিন্ত শেষ অব্দি একটার গল্পও মিললো না। বই জুড়ে ৪ টি মৃত্যু কিন্ত মৃত্যুর রহস্য রয়েই গেলো, শেষ হলো না।
সব মিলিয়ে ভালো লাগেনি
Profile Image for Rahitul.
8 reviews
February 29, 2024
আল্লাহ মালুম এই বইটার সিক্যুলের জন্য লেখক আর কত বছর অপেক্ষা করাবে!
Profile Image for Jihad.
5 reviews
March 16, 2024
সেকেন্ড পার্টের জন্য কতদিন অপেক্ষা করাবেন লেখক!
Profile Image for নূর.
68 reviews
November 10, 2020
৪.৫০ রেটিং!
বর্ণনা পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেছি।
এটার সিকুয়েল আসবে কি?
সূচনা, চমনের কি হলো জানার ইচ্ছা জাগছে।
Profile Image for Nasrin Mehzabeen Anindita.
25 reviews19 followers
February 4, 2021
একটা বইয়ের ন্যূনতম একটি গল্প বলা উচিৎ।এরকম মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়া বইগুলো পড়লে আর কোনো সিরিজের প্রতি আগ্রহ থাকে না।
Displaying 1 - 20 of 20 reviews