আখতারুজ্জামান আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে কবিতা ও প্রবন্ধরচনার জন্য তাঁর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
বইটির ব্যপারে কিছু লেখার আগে এর তরুন লেখক সম্পর্কে কিছু বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তিনি ফেসবুকে দেশ সমাজ রাজনীতি সংক্রান্ত সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা পড়ার অভ্যাস আছে এমন পাঠকের কাছে সুপরিচিত। আমার জানামতে তিনিই বাংলাদেশে লেখক হিসেবে ক্লাউড ইনকাম সোর্সিং (সোজা ভাবে বললে – তার লেখা পড়ে কেউ খুশি হয়ে লেখার দাম/পারিশ্রমিক পাঠাতে চাইলে তার বিকাশে তিনি যেকোন পরিমান অর্থ নিয়ে থাকেন) শুরু করেন এবং বিষয়টাকে নর্মালাইজ করেন। তিনি নিজেই তার বই বিক্রি করে থাকেন। তিনি প্রাবন্ধিক এবং কবি। আমি তার কবিতার সাথে পরিচিত নই তাই তার কাব্য প্রতিভা নিয়ে কিছু বলছি না। তবে এযুগের প্রাবন্ধিক হিসেবে তাকে উঁচুদরের বলেই আমার মনে হয়। স্যাটায়ার করে লেখা তার প্রবন্ধগুলো পড়তে বেশ ঝরঝরে এবং বিশ্লেষণ ও তিনি ভাল করেন। তার বই আমি প্রথম কিনি ২০২০ এ । এক্ষেত্রে বলে রাখি, তার বই কেনা একটা ঝক্কির ব্যাপার। তিনিই তার বই বিক্রি করেন বলে তার বই প্রচলিত বইয়ের দোকানগুলোয় পাওয়া যায় না। যার কারনে বইমেলায় স্টল থেকে তার বই কেনার পরে তাকে নক করে আলাদা ভাবে তার কাছ থেকে বই কিনতে গিয়ে আমার পাক্কা ১ বছর গ্যাপ পরে গেল আর কি। এর কারন আমি মূলত দোকানে গিয়ে বই কিনি, অথবা কতগুলো বই কেনার তালিকা করে একসাথে সেগুলো অনলাইনে অর্ডার করে কিনি। তাই আমার মত অলস পাঠকের জন্য লেখককে আলাদা ভাবে নক করে, বিকাশ করে বই সংগ্রহ করার অবসর বের করতে সময় লেগে গেল আরকি। তবু, তার লেখা পছন্দ করি বলেই এ ঝক্কিটা নেয়া।
আগের কেনা বইটি প্রবন্ধ ছিল এবং বরাবরের মতই বেশ ভাল লেগেছিল। এ বইটা গল্পের। আমার পছন্দের প্রাবন্ধিক গল্প লিখেছেন, অতএব এই বই নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল এন্তার। অতএব বলা যায় টানা পড়ে শেষ করেছি। বইয়ে সংকলিত ১০টি গল্পের বিষয়গুলো একদম আনকমন কিছু নয়। আমাদের সমাজে আমাদেরই চারপাশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মানুষ ও বিষয় নিয়ে গল্পগুলোর প্লট সাজানো। বইটি লেখক উতসর্গ করেছেন তার সার্ধশত প্রেমিকাকে, অতএব অনুমান করা শক্ত নয় যে গল্পে নারীঘটিত ব্যাপার গুরুতরভাবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। লেখার ধরন এডাল্ট তবে অবশ্যই ইরোটিকা জাতীয় কিছু নয়। কমন বিষয় নিয়ে লেখা হলেও আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছি যেহেতু, সেহেতু লেখা খারাপ বলার উপায় নেই। তবে, তার গল্প লেখার ধরন তার প্রবন্ধ লেখার ব্যাঙ্গাত্মক ধরন দ্বারা ভালমাত্রায় প্রভাবিত। যার কারনে, গল্প পড়তে পড়তে প্রায়ই মনে হচ্ছিল আমি যেন প্রবন্ধ পড়ছি... এই বিষয়টা আমার তেমন ভাল লাগেনি কারন এতে পড়ে যেতে একটু বোরডোম কাজ করে, মনে হয় যেন রিপিটিটিভ কিছু পড়ছি। গল্প লেখার ক্ষেত্রে লেখার আলাদা ধরন/স্টাইল পেলে পাঠক হিসেবে খুশি হতাম আর কি। আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়ে গেছে মাকে নিয়ে লেখা গল্পটা। গল্পগুলোর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর চরিত্রগুলো পড়লে মনে হয় ‘আরে! একে তো আমি চিনি!!’, ঘটনাগুলো পড়লে মনে হয় ‘আরে! এই ঘটনা তো আমি জানি”... এর মানে হল পাঠকের কাছে গল্পগুলো রেলেভেন্ট মনে হবে। চেনা গল্পে পাঠকের আগ্রহ জিইয়ে রাখতে পারাও লেখকের এক ধরনের সার্থকতা।
এবার বইয়ের প্রচ্ছদের কথা বলতে গেলে মোটামুটি লেগেছে, মন্দ নয় গোছের। অনেক গল্পেই যেহেতু নারী একটি কমন বিষয় সেহেতু প্রচ্ছদটাও তেমনি। বইয়ের কাগজ, ফন্ট সাইজ এবং বাধাইয়ের ধরনের জন্য হাতে নিয়ে পড়তে আরাম পেয়েছি। এসবকিছুর পরে সাধারণ পাঠক হিসেবে বলতে চাই, গল্প লেখার ধরনের আরো উতকর্ষ হবে সেই আশা করি।
সবমিলিয়ে বইটা হতাশ করবে না, পড়ার জন্য রেকমেন্ডেড। অন্ততঃ লেখকের আরো বই পড়ার ইচ্ছে আমার ষোলআনাই আছে এইটুকু বলতে পারি। ব্যক্তিগত রেটিং ৩.৫/৫। লেখার জন্য ৩ তারা, বই প্রচ্ছদ, পাতা ,ফন্ট ইত্যাদি ভাল লাগায় .৫ যোগ হয়েছে।
বড়দের ছোটগল্প লেখকের ১০টি ছোটগল্প নিয়ে রচিত হয়েছে। লেখক স্যাটায়ারের মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরেছেন। বইটা অনেকের ভালো লাগবে, অনেকের লাগবেনা এটাই স্বাভাবিক।