দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেদিনই জড়িয়ে পড়লেন মিথ্যা খুনের দায়ে। পুলিশের চোখ থেকে পালিয়ে খুঁজতে শুরু করলেন সত্যিকার খুনিকে। খুনের এই মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এলেন এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-বিনিময়ে তার চাই ভবিষ্যৎ দেখার যন্ত্র। যার খোঁজে বেরিয়ে গত পনেরো বছর ধরে নিখোঁজ দিল্লী ইউনিভার্সিটির একজন বিশিষ্ট প্রফেসর।
অন্যদিকে প্রাক্তন আর্কিওলজিস্ট খুঁজে বেড়াচ্ছেন অমরত্বের উৎস। অথচ এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মিয়ানমারের অচেনা এক মন্দিরের অন্ধকারে।
সবার অলক্ষ্যে বুনে উঠছে বিশ্রী ষড়যন্ত্রের জাল।
সাতশো বছরের আগে হারিয়ে যাওয়া অভিশাপ জেগে উঠছে আবারো।
লেগেছে গ্রহণ তিন চাঁদ সাত নক্ষত্রে রক্তের রেখা শপথ এঁকেছে সে শর্তে
আমার মত আমজানতা পাঠকদের কাছে শুধুমাত্র লেখনীর জোরে অনেক এভারেজ স্টোরিলাইনের বইও চালিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু লেখার হাত ভালো না হলে - সেই বই শেষ করাই বিরাট ঝক্কি-ঝামেলার কাজ হয়ে দাঁড়ায়৷
এই গল্পের প্লটে বইটি চার তারা, এমনকি পাঁচ তারাও পেতে পারত। কিন্তু বিরক্তিকর বর্ণনারীতির কারণে দুই তারার বেশি দেয়া সম্ভব হল না।
( ১ তারার বেশি দিতে পারব এমনটাও ভাবি নি। এন্ডিং ভালো হওয়ার কারণে ২ তারায় পৌছেছে শেষ পর্যন্ত)
অতিরিক্ত বর্ণনা। বিরক্তিকর বর্ণনারীতি। অপ্রয়োজনীয় অঢেল তথ্য। মোটাদাগে থ্রিলার জনরার বইয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হল অপ্রয়োজনীয় চরিত্র, সংলাপ, অদরকারি তথ্য প্রদান - যথাসম্ভব পরিহার করা। এসব দিকে "জাদুকর" ঢের পিছিয়ে। প্রচুর অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা। যে কারণে গল্প মাঝের দিকে একেবারেই ঝুলে পড়ে। বইটা পড়া চালিয়ে যাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়েছিল।
প্রতি ২ পেজ হাবিজাবি বর্ণনার পর পর আবার ২ পেজ ভর্তি "কেন" এর সমাহার। গল্পের ডিটেকটিভ এর ভাবনাচিন্তা দেখানোর জন্যে এবং সাসপেন্স বা থ্রিল তৈরির জন্যেই হয়ত। ডিটেক্টিভ অফিসারের মনে একই প্রশ্ন বার বার ঘুরে। আর পাঠক হয়ে সেসব একই প্রশ্নই ২পেজ পর পর বারবার পড়তে হয়। থ্রিল তো ক্রিয়েট করেই না, বরং বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
"জাদুকর" বইটির আরেকটি মেজর ড্র ব্যাক হলো সিচুয়েশনের সাসপেন্সকে গল্পে আনতে না পারা।
স্পয়লার ---
৫জন পুলিশ অফিসারের বহরকে আ্যমবুশ করে ঝাঝরা করে দেয়া হয়। প্রাচীন মন্দিরে আগুন লাগানো হয় ১৫০-২০০জন মারা যায় তাতে। (বইয়ে আবার একেকবার সংখ্যাটা একেকরকম দেয়া।)
---
এরকম পরিস্থিতির উত্তেজনাকে লেখায় ধারণ না করে, আজেবাজে তথ্য আর বর্ণনায় - ঠিকঠাক প্লটের গল্পের একেবারেই বিরক্তিকর ম্যাড়মেড়ে অবস্থা। সিচুয়েশনের সাসপেন্স ক্রিয়েট করতে না পারায় পুরো বই জুড়ে কোনো থ্রিলই ফিল করতে পারি নি।
বইয়ের প্লটহোলও প্রচুর। যেসব কিছুর ক্ষেত্রে যুক্তি প্রদান করা হয়েছে সেসবও বেশির ভাগ যথেস্ট স্ট্রং না। বইয়ের পিছনে যথেস্ট শ্রম বা সময় কোনোটাই হয়ত দেওয়া হয় নি। বরং বইয়ের মাঝের অংশ প্রচন্ড তাড়াহুড়োয় অযত্নে লিখে পৃষ্ঠা ভর্তি করার প্রচেস্টা মনে হয়েছে।
লেখক অনেক অনেক অদরকারি কথাবার্তায় বইটি দীর্ঘায়িত করলেও - গল্পের সাথে এনগেজ করতে পারি নি নিজেকে। গল্পে বুদ হয়ে থাকার ব্যাপারটা এই বই থেকে আশা না করাই ভালো। গল্পের চরিত্রগুলোর ডেভেলপমেন্ট স্ট্রং না হওয়া এর মূল কারণ। গল্পের বেশিরভাগ ক্যারেক্টারই সুগঠিত নয়৷
বইয়ের পজেটিভ সাইড হলোঃ গল্পের প্লট। স্টোরিলাইন৷ (দারুন বই হতে পারতো এই প্লটে। বিশাল হতাশা।) গল্পের এন্ডিং ভালো। এজন্যেই দুটো তারা কস্ট করে দিতে পেরেছি।
শেষের দিকে লেখনী খানিকটা ইম্প্রুভড। লেখকের প্রথম বই "জাদুকর"৷ দুর্বলতা থাকা স্বাভাবিক। তবে এতটা মেনে নেয়ার মত না।
I was expecting much better from জাদুকর। প্রথম বই দিয়েই সবকিছু জাজ না করে ফেলাই ভালো। জাদুকর ট্রিলজির ২য় বই পড়ব। এখন না হলেও, কিছুদিন পর। আশা করি ইম্প্রুভড কিছুই হবে।
গল্পটা শুরু হল খুব আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে। বেশ ক'টি রহস্যময় চরিত্র এল। তাদের চারপাশে দেখা দিল চেনা হয়েও অচেনা একটা পরিবেশ। তারপর এল মৃত্যু তথা একটি হত্যাকাণ্ড। ঠিক কেন ঘটেছে এই মৃত্যু তা জানা গেল না তখনই। কিন্তু পুলিশের নিশানায় রইল অবসর থেকে ফিরে আসা এক জাদুকর এবং মৃত্যুর সময় নিহতের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু। এরপর শুরু হল এক রুদ্ধশ্বাস দৌড়। গল্পটা মাঝামাঝি পর্যায়ে গিয়েই ফ্যান্টাসির নিজস্ব লজিক ছাড়িয়ে কথার স্তূপ হয়ে উঠল। একের পর এক চরিত্র এল স্রেফ অ্যাকশন আর সংলাপের খাতিরে। শেষে গল্পটা এমনই অবিশ্বাস্য একটা জিনিস হয়ে দাঁড়াল যে রহস্য বা সাসপেন্সের অনুভূতির বদলে বিরক্তি জমা হল মনে। আমি আর এই সিরিজের কাছাকাছি আসছি না।
অখ্যাত, লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক জাদুকর। অনুরোধের খাতিরে হুট করেই একদিন স্টেজ শো করতে উঠলো। স্টেজে জাদু দেখাতে গিয়ে তার হাতে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হল একটি ভার্সিটিপড়ুয়া ছেলের। আসলেই কি দুর্ঘটনা নাকি খুন? জাদুকর আর ওই খুন হওয়া ছেলের বন্ধুকে পুলিশ প্রধান সাস্পেক্ট হিসেবে গ্রেফতার করলো। জাদুর মাধ্যমে ওরা জেল ভেঙে পালালো। কিন্তু সকল সন্দেহ থেকে বাঁচার জন্য তাদের হাতে পড়লো অসম্ভবের কাছাকাছি একটা কাজ। খুঁজতে হবে রূপকথার কিছু লিপি। যা দিয়ে অতীত, ভবিষ্যত দেখা যায়। এই জার্নিতে নেমে ওদের মুখোমুখি হতে হল পুলিশ, খুনি, গুপ্তসঙ্ঘ ও অন্যান্য জাদুকরদের। ওরা কি পারবে নিজেদের রক্ষা করতে নাকি ওদের জন্য অপেক্ষা করছে করুন এক পরিণতি?
পাঠ প্রতিক্রিয়া: তরুণ লেখক মুশফিক উস সালেহীনের প্রথম মৌলিক উপন্যাস জাদুকর। উপন্যাসটিকে একাধারে ক্রাইম থ্রিলার, একশন এডভেঞ্চার ও আরবান ফ্যান্টাসি তিনটি জনরাতেই ফেলা যায়। অসাধারণ একটা প্লট তৈরি করেছেন লেখক। শুরু থেকেই রহস্য, মিথলজি ও একশনে ভর্তি। সবথেকে যে জিনিসটা ভালো লেগেছে সেটা হল লেখকের শব্দচয়ন। এছাড়াও কিছু উক্তি রীতিমত দার্শনিক পর্যায়ে চলে গেছে। এসব জিনিস কাহিনীকে চমকপ্রদ করে তুলেছে। কাহিনীর শেষে দুটো হাইভোল্টেজ টুইস্ট রয়েছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত বুঝা সম্ভব নয় মেইন কালপ্রিট কে। কাহিনী বেশ গতিশীল, জাগিয়ে রাখবে আপনাকে শেষ জানার জন্য। ফ্যান্টাসি প্রেমীদের জন্য মাস্ট রিড হলেও, আমি নিশ্চিত যেকোনো থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার প্রেমীদেরও ভালো লাগবে। জাদুকর চরিত্রটি আপনাকে টেনে রাখবে। চিরকুটের প্রথম মৌলিক বেশ সফল বলা চলে। সজল চৌধুরী ভাইয়ের প্রচ্ছদ বিশ্বমানের। বাইন্ডিংও ভালো। তবে কিছু বানান ভুল নজরে এসেছে। জাদুকর সকল পাঠকের জন্য হাইলি রিকমেন্ডেড।
কাহিনি সংক্ষেপঃ তাঈব সাহেব একজন জাদুকর। স্টেজে পারফর্ম করেননা অনেকদিন। হঠাৎ করেই একটা সুযোগ আসে তাঁর সামনে৷ মঞ্চে ওঠেন তিনি। আর ঠিক ওইদিনই অপ্রত্যাশিত একটা ঘটনা ঘটে যায়। জাদু দেখানোর সময় ওই মঞ্চেই একগাদা দর্শকের চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মৃদুল কর্মকার নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র৷ সন্দেহের তীর ছুটে আসে জাদুকর তাঈব সাহেব ও খুন হওয়া মৃদুলের বন্ধু শোয়েবের দিকে। পুলিশের ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ রীতিমতো আদাজল খেয়ে লেগে গেলেন ওদের দুজনের পেছনে।
জাদুকর ও শোয়েব যখন খুনের অভিযোগ থেকে বাঁচার রাস্তা খুঁজছে, ঠিক সেই সময়েই শাহাদাত খন্দকার নামের এক স্বনামধন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী তাদের দিকে বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যের হাত। বিনা স্বার্থে? মোটেও না। ধূর্ত শাহাদাত খন্দকার জাদুকর ও শোয়েবকে খুনের মামলা থেকে একটা বিশেষ শর্তে বাঁচাবেন। আর শর্তটা হলো কিংবদন্তিসম রূপকথা কাললিপির একটা অংশ নিক্ষপত্র এনে দিতে হবে তাঁকে। খুনের দায় মাথায় নিয়ে অগত্যা তাঈব সাহেব ও শোয়েবকে নিক্ষপত্রের সন্ধানে ছুটতে হলো ভারতে ও পরবর্তীতে মিয়ানমারে। ওদের সঙ্গী হলো শাহাদাত খন্দকারের খাস লোক আমজাদ।
বহুকাল ধরেই কাললিপির দুটো অংশ অনিক্ষপত্র (যেটার মাধ্যমে জানা যায় সমগ্র সৃষ্টিজগতের অতীত) ও নিক্ষপত্রের (ভবিষ্যৎ জানার বিদ্যা) পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন দিল্লী ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইব্রাহীম আলী। তাঁরই পথ ধরে তাঈব সাহেবদের দল পৌঁছে গেলো মিয়ানমারের হোমালিন শহরের অদূরে অবস্থিত টাউফা মন্দিরে। কিন্তু দুর্ঘটনা যেন ওদের পিছু ছাড়ছেনা। এদিকে হাশেম কিবরিয়া নামের এক নাছোড়বান্দা আর্কিওলজিস্ট নিজের পয়সা ও ক্ষমতার জোর খাটিয়ে প্রতি পদে অনুসরণ করে চলেছেন ওদেরকে। তাঁরও একটা চাহিদা আছে - অমরত্বের চাবিকাঠি আরেক কিংবদন্তি ইন্দ্রলিপি!
সি আই ডি অফিসার জাফর উদ্দিনের কাছে যখন ম্যাজিক শো মার্ডারের কেসটা এলো, ততোদিনে পড়ে গেছে আরো অনেকগুলো লাশ। কে বা কারা নিজেদের সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পুরোনো এক গুপ্তসঙ্ঘও যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বারবার৷ রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে জাদুকর তাঈব সাহেব ও শোয়েব কি শেষপর্যন্ত দেখা পাবে কাললিপি বা ইন্দ্রলিপির? নাকি সত্যটা আলাদা আলাদাভাবে ধরা দেবে সবার সামনে?
একটা অপ্রত্যাশিত খুনের ঘটনার পর ফেঁসে গিয়ে নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে চাওয়া জাদুকর ও শোয়েবকে নেমে পড়তে হলো সম্পূর্ণ অজানা এক খেলায়, যার সুতো হয়তো ধরে আছে আড়ালের কেউ।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রথম উপন্যাস হিসেবে 'জাদুকর'-এ মোটামুটি ভালোই দেখিয়েছেন লেখক মুশফিক উস সালেহীন। ইন্দ্রলিপি ট্রিলোজির প্রথম বই এটা, যার দ্বিতীয় বই 'ইন্দ্রলিপি' সম্ভবত ডিসেম্বরে আসবে। 'জাদুকর'-এর শুরুটা আমার কাছে বেশ ভালোই লেগেছিলো। কিন্তু ধীরে ধীরে যতোই এগোচ্ছিলো কাহিনি, মাঝে মাঝে একটু খাপছাড়া লাগছিলো। একই সিকোয়েন্সের রিপিটেশনও খেয়াল করেছি কয়েক জায়গায়। বিশেষ করে 'খুনের পেছনে কার হাত আছে?' টাইপ বিভিন্ন থিওরি নানা অ্যাঙ্গেলে আসতে থাকায় কিছুটা বিরক্ত লেগেছে।
জাদুকর তাঈব সাহেব, শোয়েব, আমজাদ, হাশেম কিবরিয়া, শাহাদাত খন্দকার, তানহা তারান্নুম, মিং শো মুনেন্দ্রা, জাফর উদ্দিন সহ অন্যান্য চরিত্রগুলোর অঙ্কন ও ভূমিকা বেশ ভালোই লেগেছে। শেষ দিকে এসে লেখক যে টুইস্টের অবতারণা ঘটিয়েছেন তা আমার কাছে অভাবনীয় ছিলো৷ পুরো বইয়ের মধ্যে এই শেষের কয়েকটা অধ্যায় আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি। কাললিপি ও ইন্দ্রলিপি সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোও বেশ ভালো লেগেছে। তবে ওভার অল, 'জাদুকর' যতোটা এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম ততোটা আসলে ভালো লাগেনি আমার। এখন দেখার ব্যাপার এই যে ট্রিলোজির দ্বিতীয় বই 'ইন্দ্রলিপি' কেমন লাগে।
নূর আমিন চরিত্রটার নাম 'নুর' আমিন হয়ে যাওয়া ও ইব্রাহিম আলীর নাম ইব্রাহিম 'আলি' হয়ে যাওয়ার মতো ছোটখাটো কিছু ভুলভ্রান্তি পেয়েছি এই বইয়ে৷ সেসব অবশ্য ধর্তব্যের মধ্যে না। চিরকুটের শক্তপোক্ত ও নান্দনিক প্রোডাকশন 'জাদুকর'-এর প্রচ্ছদটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
প্লটটা খুবই ইউনিক আর ইন্টারেস্টিং ছিল, এ ধরনের লেখা সচরাচর আমার পড়া হয়না তাই বইটাকে নিয়ে আগ্ৰহের কমতি ছিল না মোটেই. কিন্তু এত সুন্দর একটা প্লটের গল্পের শুরুটা ঠিকঠাক থাকলেও মাঝখানটা এত ম্যাড়ম্যাড়ে যে বিরক্তই হচ্ছিলাম , শুধু শুধু এখান থেকে ওখানে মনে হচ্ছে দৌড় প্রতিযোগিতা হয়েছে কাহিনী টানার জন্য.
শেষ ভাগের চমক সত্যি সত্যিই আসলেই চমকপ্রদ ছিল এবং শোয়েবের বিষয়টা একদম অপ্রত্যাশিত, একদম বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আর কি!
মাঝখানে কাহিনীর রস বিস্বাদ লাগার জন্য এরকম সুন্দর একটা বইকে তিনটি তারা তাও কষ্টেসৃষ্টে দেওয়ার দুঃখ আশা করি দ্বিতীয় বইটাতে চলে যাবে
প্রধানত যে কারনে আমি লেখকের বইগুলা পড়ি- ওনার স্টোরিটেলিং। ওনার স্টোরিটেলিং আমার খুব আরামদায়ক বা সুখপাঠ্য মনে হয়। আমার মতো নিরামিষ পাঠকের জন্য আসলে লেখনশৈলীর জোরে একটা নামকাওয়াস্তে প্লটের উপন্যাস 'তৃপ্তি'র কাছাকাছি পৌছেই যায়। সেখানে প্লট টা ছিলো অসাধারণ। জোশ লাগসে প্লট। থ্রিলারে ইদানিং পড়ছি এরকম হচ্ছে, প্লটে কোনো এক কাল্ট আসলে সেটাকে ড্যান ব্রাউনীয় প্যাচ কষতে যেয়ে গুব্লেট পাকিয়ে ফেলা এবং পড়তে গিয়ে খুব বিরক্তি আসা। সেদিক থেকে এই উপন্যাস টা একদম পারফেক্টলি এক্সিকিউটেড। শুরুতে বলেছি, লেখকের স্টোরিটেলিং আমার পছন্দের। তবে এই বইটিতে সেই পছন্দের রূপ কম আছে। যে কোনো উপন্যাসে ডিপ ডিটেইলিং আমার পছন্দের। তবে সেটার ও লেভেল রয়েছে। অপ্রাসংগিক কিছু অতিরিক্ত চলে আসতে থাকলে মনোযোগ ছুটে যায়। ডিটেইলাইজেশান জিনিস টা তরকারির লবণের মতো। আপনাকে পরিমাণ বুঝতে হবে। বেশি/কম- হইলেই সমস্যা। এই উপন্যাসে একটু বেশি মনে হয়েছে।
কাললীপি, অতীত-ভবিষ্যত দেখবার ক্ষমতা, কাল্ট, জাদু, আরবান ফ্যান্টাসি, এডভ্যাঞ্চার, মার্ডার মিস্ট্রির অপরূপ মিশেলের অদ্ভুত সুন্দর এই প্লটের উপন্যাস টা আমার ঠিক ততটুকু ভালো লেগেছে, যত টুকু ভালো লাগলে সিরিজের পরের বই পড়ার আগ্রহ অপরিবর্তিত থাকে।
* ট্রিলোজির দ্বিতীয় বই ইন্দ্রলিপি হাতে পেয়ে 'জাদুকর' আবার একটু স্কিপ রিড করলাম। স্কিপ রিড বলতে বেশ অনেক- অনেকটাই স্কিপ করেছি কারণ বইতে অহেতুক ও বিরক্তিকর বর্ণনার পরিমাণ অনেক ।*
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ তরুণ লেখক মুশফিক উস সালেহীনের লেখা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ জাদুকর। বইটি একই সাথে মার্ডার মিস্ট্রি ও আরবান ফ্যান্টাসি । কাহিনী সংক্ষেপে পড়েই বইটি পড়ার আগ্ৰহ জেগেছিল। আর বইয়ের প্রচ্ছদটাও নজরকাড়া। প্রচ্ছদশিল্পী সজল চৌধুরী বরাবরের মতোই দারুন কাজ করেছেন। রিভিউয়ে যাওয়ার আগে এই অস্বস্তিকর সময়ে বইটি উম্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য লেখ��� প্রকাশককে অনেক ধন্যবাদ।
বইয়ের শুরুটা ভালোই ছিল। শুরুর কয়েক পৃষ্ঠায় লেখকের বর্নণাভঙ্গিও আমার মোটামুটি ভালোই লাগছিলো। মনে হয়েছিল ২৪০ পৃষ্ঠার বই এক, দুই বসায় শেষ করে ফেলা যাবে। কিন্তু ঐ শুরুর কয়েক পৃষ্ঠার পরেই যেন কাহিনী খুবই বেশি ঝিমিয়ে গেল। বর্ণনাবঙ্গিতেও একটা খাপছাড়া ভাব চলে আসল। কাহিনীর গতি এবং ঘটনাপ্রবাহ ভালো ছিল না । লেখক অতিরিক্ত বর্ণনা দিয়েছেন অনেক বেশি। হ্যাঁ, কিছু অতিরিক্ত বাক্য ট্রিলজির বাকি বইগুলোর premise তৈরি করতে খরচ হয়েছে। আবার বেশ কিছু রেড হেরিংসও ছিল। একটা কথা বলে নেওয়া ভালো একটা ট্রিলোজির প্রথম বইয়ে বর্ণনা একটু বেশি থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু চাইলে এই অতিরিক্ত বর্ণনা দিয়েও পাঠককে ধরে রাখা যায় যদি তা ঠিকমতো উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে লেখক তা একদমই করতে পারেননি, বেশ বিরক্ত লাগছিল মাঝে পড়তে। আর হেভি ডিটেলসও একটু বেশি দিয়ে ফেলেছেন লেখক। এই একটা বইয়ে জাদুকর আর শোয়েবের সিগারেট খাওয়ার কথা যে কতবার আছে তা গুনে শেষ করা যাবে না! সংলাপগুলোও ভালো লাগেনি, বারবার মনে হচ্ছিল এই চরিত্রের তো এভাবে কথা বলার কথা না। তবে জাদুবিদ্যা , কাললিপি, ইন্দ্রলিপি ঘিরে বর্ণনাগুলো উপভোগ করেছি। যখনই কাললিপি বা ইন্দ্রলিপির অংশগুলো এসেছে তখনই গল্প যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আর বইয়ের একশন সিকুয়েন্সগুলিও (যার সংখ্যা খুব বেশি না) বেশ সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
ক্যারেক্টার ডিজাইনিং ও ডেভেলপমেন্ট খুব বেশি একটা ভালো লাগে নাই । কিছু চরিত্রেকে আরেকটু সময় দিলে, আরেকটু ফোকাস দিলে বইটি আরো ইন্টারেস্টিং হতে পারতো। বাকিদের থেকে জাদুকর তাইবের চরিত্রটাই একটু ভালো লেগেছে, তবে তার কিছু কর্মকান্ডও বেমানান লাগছিল। শোয়েবকে মোটামুটি লেগেছে, তার চরিত্রটি এক পর্যায়ে মনে হয়েছে ঠিকঠাক ডেভেলাপ হচ্ছে না । কিন্তু হাশেম কিবরিয়া আর শাহাদাত খন্দকার খুব কম সময়ের জন্য বইয়ে উপস্থিত থাকলেও আলাদা ছাপ রেখে যেতে পেরেছেন।
জাদকর বইয়ের প্লটটা এক কথায় দারুন। আরবান ফ্যান্টাসি ও মার্ডার মিস্ট্রি উভয়ের মিশেলে অনেক স্ট্রং একটি প্লট। তাই এক্সিকিউশন ও লেখনী দুর্বল লাগার পরেও পড়া চালিয়ে গেছি। সাধারণত আমি বইটাকে অর্ধেক পড়েই রেখে দিতাম। তবে বইটা শেষ করার পেছনে দুটো কারণ ছিল- ১) এরকম আরবান ফ্যান্টাসি, মার্ডার মিস্ট্রি মৌলিক কাহিনী আগে কখনো পড়া হয়নি ২) লেখকের প্রথম বই এইটা এবং প্রথম বইতেই তিনি বিস্তৃত ও দারুণ একটা প্লটে লিখেছেন।
কিন্তু কথা হচ্ছে যে, লেখনী না টানলে একটা বই পড়া আসলে একটু কঠিনই হয়ে যায়। মাঝপথে বিরক্তি নিয়ে কষ্ট করে পড়ে গেলেও এন্ডিংয়ে ভালো কিছু ছিল। জাদুকর বইয়ের সবচেয়ে স্ট্রং দিক এর ফিনিশিং। দুইটা হাই ভোল্টেজ ও দারুণ টুইস্টের কারণে শেষ ৫০ পেইজ একটানে পড়েছি। টুইস্টের ক্ষেত্রে কোথাও কোন ফাক ফোকর রাখেননি লেখক। টুইস্টগুলো ডেলিভারীও দারুণভাবে করেছেন লেখক।
জাদুকর পড়তে গিয়ে আপনার আমার মতো বিরক্তি ধরতে পারে, মাঝে খেই হারাতে পারেন। লেখকের প্রথম বই হিসেবে অভারওল বিলো এভারেজ বলব। প্রথম বইয়েই দারুন একটা গল্প সাজিয়েছেন লেখক এটা মানতে হবে। ডিটেইলিংয়ে টুকটাক সমস্যা থাকলেও কোন প্লটহোল পাইনি আমি। এক্সিকিউশন, বর্ণনাভঙ্গি, ডিটেলিং ও চরিত্রায়নে নজর দিয়ে ও এসব এরিয়াতে কাজ করলে লেখকের থেকে ভবিষ্যতে ভালো লেখা পাওয়া যাবে । এই বইয়ের শেষে সিকুয়েলের ইঙ্গিত স্পষ্ট এবং ইতোমধ্যে ত্রয়ীর দ্বিতীয় বই ইন্দ্রলিপি প্রকাশও হয়ে গেছে । জাদুকরের প্লট ও ফিনিশিং অনেক ভালো লাগার কারণেই ইন্দ্রলিপিটাও পড়ব ভবিষ্যতে । লেখকের জন্য শুভ কামনা।
বইয়ের কাহিনী ভালোই। তবে বর্ণনা আরও ভালো হতে পারত। অনেক জায়গায় সাধারণ বিষয়ের অতিরিক্ত বর্ণণা ও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়, পড়ার ছন্দে বাঁধা দেয়। বেশকিছু মুদ্রণ প্রমাদও রয়েছে, এ বিষয়ে প্রকাশনার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
নতুন লেখক হিসেবে বেশ ভালো উদ্যোগ। প্যানপেনে প্রেমের গল্প - কবিতা না লিখে এ ধরনের বই লেখার চেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। পরের খন্ড আশা করি আরও ভালো হবে।
শুরুটা ভালো হলেও মাঝে স্লো হয়ে গিয়েছিল লেখা। শেষে আবার গতি ফিরে পেয়েছে। নতুন লেখক হিসেবে প্রশংসার যোগ্য লেখা, বলতেই হয়। তবে কিছুটা বিরক্তিকর বর্ণনার জন্য পড়তে আলসেমী লাগছিল। শেষ করতেও বেগ পেতে হয়েছে বেশ। প্লটটা দারুণ ছিল।
এই বইয়ের রিভিউতে অনেকেই দেখলাম লিখেছেন অতিরিক্ত বর্ণনার কথা। এই অতিরিক্ত বর্ণনার ধরনটা সম্পর্কে একটু উদাহরণ দেই, পৃষ্ঠা ৭৪ থেকে - "নরম গদির সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে উঠে দাঁড়াল আমজাদ। মোজাইকের মেঝেতে দাপটের সাথে ছন্দ তুলে হেঁটে বেরিয়ে গেল শাহাদাত খন্দকারের অফিস থেকে।"
কিসের কথা মনে পড়ে? সেবা প্রকাশনীর মাসুদ রানা সিরিজের বইয়ের বর্ণনার। এটা নতুন না, যারাই সেবা পড়ে বড় হয়েছে, লিখতে গেলে তারা সেটার স্টাইল ফলো করে ইচ্ছা করেই হোক আর অজান্তে। যেমন হুমায়ূন আহমেদ পড়ে বড় হওয়ারা হু আ স্টাইল ফলো করে ছোট ছোট বাক্যের, মায়াবতী কন্যাদের বিবরণের। যাই হোক, সমস্যাটা সেখানে না, নরম গদির সাথে আমজাদ নামের এক এক্স আর্মি, বডিগার্ড বিচ্ছেদ ঘটালো সেটা চলবে, কিন্তু সমস্যা হলো - মোজাইকের মেঝেতে দাপটের সাথে ছন্দ তোলায় - মানে কী বোঝাতে চাইলো এখানে? তার নিজেরই বস শাহাদাত খন্দকারকে দাপট দেখিয়ে উপেক্ষা করে বের হয়ে গেল, নাকি ছন্দ তুলে দুলে দুলে নেচে বেরুলো? 🤔
এরকম আজাইরা বিশেষণের অযাচিত, অযৌক্তিক ব্যবহারই এই বইয়ের অন্যতম বিরক্তিকর দিক।
এরপরে আছে তথ্যের গোলমাল। বইয়ের শুরুতে লেখকের ভূমিকায় লেখক লিখেছেন যখন নাকি শুধু পাঠক ছিলেন অন্য লেখকদের ভুল ত্রুটির সবিশেষ উল্লেখ করে তাদের জাত উদ্ধার করেছেন, এবং নিজে লেখক হয়ে সেগুলা বহু পাতন ছাঁকন পরিশোধন করে পরিবেশনের চেষ্টা করেছেন। মনে হয় সে কারণেই আমার মতো খুঁতখুঁতে পাঠকের তথ্যবিভ্রাটগুলো বেশি চোখে লেগেছে। উদাহরণ ঐ ৭৪ পৃষ্ঠার পরেই, ৭৬-৭৭ এ - মহারাষ্ট্র কোন শহর না ভাইটু, ঐটা ভারতে একটা বিশাল প্রদেশ। তার রাজধানী মুম্বাই, আর এক বড় শহর পুনে, আর তার একটা ছোট শহর শোলাপুর হলেও, আর সেখানে একটা এয়ারপোর্ট থাকলেও, সমস্যা হলো তা ডোমেস্টিক এয়ারপোর্ট। মিয়ানমারের আরেক ডোমেস্টিক এয়ারপোর্ট নিয়ে যখন অত কচকচ করলো এটাতে মুম্বাই থেকে ট্রান্সফার নিয়েও করা যেত। আর তাছাড়া মহারাষ্ট্রে ডিসেম্বরে গলগলে ঘামের গরম থাকে না, ১০ ডিগ্রির মতো থাকে গড়পড়তা তাপমাত্রা, হোটেলের এসি ছাড়ার তো দরকার নেইই, চালিয়ে রেখে বেরিয়ে যাবারও দরকার নেই। আর ঐ যে এসির প্রসঙ্গেই আবার বর্ণনার বাতুলতা চলে আসে, মানে এই এসির চালিয়ে রেখে চলে যাওয়ায়, 'দমকা' বাতাস দরজা খুলতেই গায়ে লাগা এগুলার সাথে মূল কাহিনির কী কোন সম্পর্ক আছে? আমি তো পেলুম না! কখনো বা এক লোক ১০ বছর ধরে নিখোঁজ, তো কখনো ২০। কখনো পুরোহিত খাচ্ছে না সবার সাথে বসে, আবার পরের প্যারাতেই কোন কথায় মনোযোগ না দিয়ে খেয়ে যাচ্ছে।
তারপরে ধরা যাক পুলিশ অফিসারের মেডিকেলে পড়া মেয়ে ক্লাসে যাবার আগে কই-শিমের তরকারি রেঁধে রেখে গেছে। অ! আচ্ছা! বেশি রিয়ালিসটিক না আরকি ব্যাপারটা। আর সেই পুলিশের মৃত বউ কেমন ঘরকুনো ছিলো, তাতেই বা আমার কী! আবার অবাস্তব হলো মিয়ানমারের পেটের মধ্যের এক শহরে হিন্দি জানে লোকে, রেঙ্গুনেই তো আমি হিন্দি শুনিনি! দেয়ালের পলেস্তারা কে 'রঙ খসে পড়া' লেখার চাইতে ইংরেজি প্লাস্টার-এর অপভ্রংশ 'পলেস্তারা'-ব্যবহার বরং ঐ 'দাপটের সাথে ছন্দ তোলা'-র থেকে ভালো হতো আরকি, পড়তে সাবলীল, বাস্তবিক ��াগতো।
গল্পের জন্যে টেনেটুনে পাশ মার্ক ২, কারণ আমি আসলেও এর থেকে খারাপ গল্প আর লেখনির বই পড়েছি।
দুটোর মধ্যে কোনটা বেছে নিবেন? আর যদি দুটোই পেয়ে যান? পাওয়া অবশ্য সহজ নয়। ���াও এই দুই শক্তি খুঁজে বেড়াচ্ছে মানুষ অনেকদিন হলো। কেউ খুঁজছে কাললিপি, যা পেলে জানা যায় সৃষ্টির আদি-অন্ত, অতীত থেকে ভবিষ্যৎ। কেউ আবার পেতে চাইছে ইন্দ্রলিপি, অমরত্বের চাবিকাঠি।
শুনতে যত সরল, দুটোর কোনোটাই আয়ত্ত্ব করা অত সহজ নয়। শর্তও অনেক। হাতে থাকতে হবে অশ্বখুরাকৃতি রেখা, পেতে হবে ত্রিপত্র আর খর, আর একটু ভুল হলেই - মৃত্যু! কাললিপি আর ইন্দ্রলিপি যে ঠিক কী, তাও সঠিক জানা যায় না। হতে পারে তা বই, কোনো ডায়েরি, রক্ত বা স্রেফ এক টুকরো সুতো!
তাও বলে না, বুঝে সাধু যে জানে সন্ধান! তেমনই একজন সন্ধানী জাদুকর মোহাম্মদ তাঈব। তাঈব সাহেব অবশ্য স্বেচ্ছায় খুঁজতে নামেননি। শখের জাদু দেখান তিনি। শো দেখাতে ডেকে নিয়েছিলেন মৃদুল কর্মকার নামক তরুণকে। স্টেজেই মারা গেল ছেলেটা। পুলিশ ধরলো জাদুকরকে, সেইসাথে ধরা পড়লো মৃদুলের বন্ধু শোয়েবও। জাদুকর পালালেন, সাথে জুটে গেল শোয়েব।
পালিয়ে বাঁচা যেত কী না কে জানে, ভাগ্যিস নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহাদাত খন্দকার। বিনিময়ে খুঁজে দিতে হবে - কাললিপি! এদিকে জলে কুমির তো ডাঙ্গায় বাঘ - তৃতীয় আরো কেউ খুঁজছে ইন্দ্রলিপি, নিস্তার নেই জাদুকরের।
ছুটছেন তাঈব সাহেব শোয়েবকে নিয়ে, বাংলাদেশ থেকে ভারত, ভারত থেকে বার্মামুল্লুকে! পনেরো বছর আগে নিঁখোজ হয়ে যাওয়া ইব্রাহীম আলীর কাছে আছে রহস্যের সমাধান। জাদুকর নিজেও কি কম রহস্যময়? তাঁর কাছেই কেন আসছে সবাই লিপির খোঁজে? কী যেন লুকাচ্ছেন তিনিও!
মৃদুল হত্যাকাণ্ড যে এতো প্যাঁচালো হয়ে উঠবে, ভাবতেই পারেননি পুলিশ অফিসার জাফর উদ্দীন। তার সাথে প্যাঁচে পড়ে গেছেন পাঠকও। রহস্য, রোমাঞ্চ আর ফ্যান্টাসির মিশেলে লেখা উপন্যাসটি মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতোই।
মুশফিক উস সালেহীনের 'ইন্দ্রলিপি' ত্রয়ীর প্রথম বই 'জাদুকর'। প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই এর সুনাম শুনছিলাম, সাম্ভালার পর এই ধারায় আরেকটি দারুণ ট্রিলজি এসেছে। নতুন লেখক তাই কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু পড়ার সময় মনেই হচ্ছিলো না, এটি একজন নবীন লেখকের পরিবেশনা।
ইন্দ্রলিপি এবং কাললিপি নিয়ে লেখক যে প্লট সাজিয়েছেন, তাতে নতুনত্ব ছিল। এতো জটিল থিওরীটি পাঠকদের বুঝিয়েছেন দক্ষতার সাথে, কোনো ফাঁক রাখেননি। রহস্যের জাল যেমন ছড়িয়েছেন, শেষ পর্যন্ত গুছিয়েও এনেছেন ঠিকমতই। বর্ণনার দিক দিয়েও কৃপণতা করেননি। যার কারণে মায়ানমারের টাউফা মন্দির, এর নকশা, রহস্যময় পুরোহিত ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর।
বর্ণনার আধিক্য কিছু ক্ষেত্রে একটু ক্লান্তও করেছে। জাফর সাহেব যখন খাচ্ছেন, তখন কতটা খেলেন, কীভাবে হাত ধুলেন, চশমা মুছলেন - এরকম প্রতিটি দৃশ্যে খুব বিস্তারিত বর্ণনা কখনো কখনো একটু অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হচ্ছিল। অতীতের সময়কালের সাথে খুঁটিনাটি মেলাতে কিছু কিছু সমস্যা ছিল, আপনি - তুমি সম্বোধনেও গোলমাল হচ্ছিলো, পরবর্তীতে এসব শুধরে নেওয়া হবে আশা রাখি।
জাদুকর তাঈব গল্পে যতটা গাম্ভীর্য ধরে রেখেছেন, ততটাই শোয়েব সমতা রেখেছে মজার কর্মকাণ্ড দিয়ে। খলচরিত্রগুলোও বেশ ইন্টারেস্টিং। ইন্সপেক্টর জাফরের চিন্তা আর বিশ্লেষণের সাথে সাথে লেখক পাঠকের চিন্তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আলাদা করে দারুণ মজাদার লেগেছে ছোট এক চরিত্র - পুলিশ কনস্টেবল কালাম তালুকদার।
অনবদ্য প্রচ্ছদ পরিবেশন করে চিরকুট প্রকাশনী বইটির প্রতি সুবিচার করেছে পুরোমাত্রায়। বিস্তৃত জটিল প্লটের গল্পটির শেষ অবধি যা কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন ও খটকা রয়ে গেল তার উত্তর পেতে পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকতে হবে এবার।
কাহিনী বলার ধরনটা সুন্দর। চরিত্রায়নটা বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু শোয়েব কিভাবে হাসান হলো, সেটা আরেকটু পয়েন্ট আউট করা দরকার ছিল৷ আর শেষ দুটো চ্যাপ্টার বেশিই নাটকীয় মনে হয়েছে। লেখক সব সাসপেন্স, টুইস্ট এক ডোজে ডেলিভারি দিতে চেয়েছেন৷ একটু শিশুতোষ লেগেছে ব্যাপারটা। যদিও লেখকের প্রথম বই এটা। তাই সাধুবাদ তিনি পেতেই পারেন। মুশফিক উস সালেহীন এর জন্য শুভকামনা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
লজিক এবং ম্যাজিক দুটো পুরোপুরি আলাদা জিনিস। এক জায়গায় শুনেছিলাম, তামিল মুভি মানেই ম্যাজিক, এখানে লজিক খোঁজা নিষেধ। আমি আবার তামিল মুভির ফ্যান। তাই জানি অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে বাড়াবাড়ি থাকলেও, লজিকেরো একটা স্থান অবশ্যই আছে মুভিতে। বৃহৎ পেক্ষাপট জুড়ে লুকিয়ে থাকে একটা অসাধারণ গল্প। আমার দরকার গল্পটা। সেটা সাজাতে যদি ম্যাজিক লাগে, তাহলে আপত্তি নেই।
এই লজিক আর ম্যাজিকের মিশেলে নতুন একটি বই শেষ করলাম। জাদুকর। শেষ কবে এতো ভাল পেজ টার্নার থ্রিলার পড়েছি, মনে নেই। সাসপেন্স আর অ্যাকশনের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার পুরা দৌড়ের গতিতে ছুটিয়েছে বই জুড়ে।
লেখকের সাথে যখন কথা বলেছিলাম, উনি জানিয়েছিলেন জাদুকর ফ্যান্টাসি থ্রিলার। তাই প্রকাশক হিসেবে আগ্রহ থাকলেও, পাঠক হিসেবে আগ্রহ ছিল কিছুটা কম। এই ধারণা ভেঙ্গে যায় শুরুতেই। কারণ ম্যাজিক দিয়ে গল্প শুরু হলেও বইয়ের শুরু থেকেই ছিল দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চার। পাঠক হিসেবে যা আমার খুব পছন্দের। কল্পনার সাগড়ে ডুব দিয়ে দেশ বিদেশে দাপিয়ে বেড়ানোর থেকে উত্তম আর কী হতে পারে ! সেই সাথে লেখক যদি ইন্ডিয়া আর মায়ানমারের মুগ্ধ করা বর্ণনা দেন তো কথাই নেই। পাশাপাশি প্রতি চ্যাপ্টারের শেষের টুইস্টগুলো পড়ার গতি বাড়িয়েছে কয়েক গুণ।
কাহিনী সংক্ষেপঃ গল্পের শুরুতেই দেখা যায় জাদুকর তাঈব একটা কন্ট্রাক্ট পান। সেখানে জাদু দেখাতে গিয়ে মারা যায় একটা ছেলে। আর সেই কেসে ফেঁসে যায় জাদুকর ও ছেলেটির বন্ধু শোয়েব।
জেলে পুরে দেওয়া হয় তাদের। সন্দেহের তালিকায় নয় জন থাকলেও, এই দুজনকে আর ছাড়াছাড়ির নাম নেই। এমন সময় জাদুকর তাঈবের চোখে পরে তার আজন্ম শত্রু তাকে ফাসাতেই চলে এসেছে জেলে, দায়িত্বরত অফিসারের সাথে হাত বদল করছে মোটা টাকা। তো কি আর করার। শোয়েবসহ পালাতে বাধ্য হলেন জাদুকর।
কিন্তু কথায় আছে, যেখানে বাঘের ভয়....। জেল পালানোর আধ ঘন্টার মধ্যে ফের বন্দি হয়ে গেল দুজন। তবে পুলিশের হাতে নয়, শাহাদাত খন্দকারের কাছে।
শাহাদাত খন্দকার। জুয়েলারি ব্যবসায়ী। প্রচুর টাকা পয়সা। কিন্তু পৃথিবীতে কিছু মানুষ জন্মায়, যাদের টাকায় মন ভরেনা। তাদের আবদার অমরত্ব। ইনিও সেই দলের। তবে তার একটা গল্প আছে। তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পান। এবং দেখতে পেয়েছেন শোয়েব এবং জাদুকরের হাতে আছে সেই রেখা, যা দিয়ে তারা অক্ষিপত্র খুঁজে ব���র করতে পারবে। তাই সোজাসাপ্টা জাদুকরকে প্রস্তাব দেন, সে যদি এই জিনিস এনে দিতে পারে, তাহলে দিল্লীতে পার্মানেন্ট থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। সাথে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ফেরারি হয়ে বাচার চেয়ে, এই জীবন নিঃসন্দেহে ভালো। তাই আর অমত করেন না জাদুকর। কারণ এখানে বেচে থাকার একটা সুযোগ অন্তত থাকছে। অরাজি হলে সেটাও হারাতে হবে।
শুরু হলো খোঁজা। থুক্কু ধাওয়া। এদিকে জাদুকর যেমন খুঁজে চলছে অমরত্ব, ওদিকে পিছু লেগেছে আরেকদল। সেই সাথে পুলিশ তো আছেই। শেষ পর্যন্ত পাশার দান কার হাতে ঠেকবে.....জাদুকর, শাহাদাত খন্দকার, পুলিশ নাকি লুকিয়ে থাকা কোনো মুখোশধারীর কাছে ?
ব্যক্তিগত মতামতঃ মুশফিক উস সালেহীনের প্রথম বই এটা। কিন্তু বেশ ভালো লিখেছেন । লেখায় জড়তা চোখে পরে। কিন্তু সেসব ঢাকা পরে যায় কাহিনীর দুর্দান্ত গতির কারণে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গার যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন এটা বেশি আকৃষ্ট করেছে আমাকে। ভাল লেগেছে ঘাটাঘাটি করে বই লেখার বিষয়টাও। গল্পের দৌড়ে যখন ২২০ পৃষ্ঠা পৌঁছে গিয়েছি তখন গালিই দিচ্ছিলাম মনে মনে। আর ২০ পেজ বাকি, অথচ যে আকাঙ্ক্ষিত বস্তুর জন্য এতদূর দৌড়াদৌড়ি চলল, তার দেখা নাই। আর তখনি ব্লাস্ট। মানতেই হবে পাঠকের সাইকোলজি নিয়ে ভাল খেলা খেলেছেন লেখক। পরিশেষে বলব, রহস্য-রোমাঞ্চ-অভিযান- কল্পকাহিনীর মিশেলে দুর্দান্ত একটি সুখপাঠ্য থ্রিলার ছিল জাদুকর।
চমৎকার একটা প্লট ছিল। উপন্যাসের শুরুটাও ছিল দারুণ। অসাধারণ একটা উপন্যাস হতে পারতো। কিন্তু লেখক ঠিকভাবে এক্সিকিউট করতে পারেননি। বরং অপ্রয়োজনীয় বর্ননা, সময়কালের পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব বিরক্তি উৎপাদন করেছে।
আপনি যখন আপনার সময়কালের বাইরে গিয়ে কোন কিছু লেখবেন, তখন আপনাকে ঐ সময়ের পারিপার্শ্বিক সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা থাকতে হবে। যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখার সময় এতটা না ভাবলেও চলে। কিন্তু অতীতের কোন সময়কাল নিয়ে লিখতে গেলে, আপনাকে অবশ্যই ঐ সময়েরই চিত্র তুলে ধরতে হবে। আর লেখক এখানেই ব্যর্থ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, লেখক ২০১৮/১৯ সনের চোখ দিয়ে ২০০১ সালকে দেখাতে চেয়েছেন। নিচে কিছু ভুল তুলে ধরা হল...
১. কাহিনির সময়কাল ২০০১ সালের শেষের দিকের। ঐ সময়ে মোবাইল ফোন বাংলাদেশে ছিলো, কিন্তু ব্যয়বহুল ছিল। সবার পক্ষে মোবাইল ব্যবহার করা খুবই কঠিন ছিল। খুব বেশি বিত্তবান ছাড়া, কারোপক্ষে মোবাইলের মালিক হওয়া কঠিন ছিল। উপন্যাসে দেখা যাচ্ছে, ইন্সপেক্টর আবু সাইদ, উনার স্ত্রী, কনস্টেবল কালাম, চারুকলার ছাত্রী বিনু, মৃদুল, জাদুকর, ব্যাংকার মুনির, প্রায় উপন্যাসের সব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেরই মোবাইল ফোন ছিলো, যা ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে বেমানান।
২. জাফরউদ্দিন এর মোবাইলের মডেল, নকিয়া ১১০০। কিন্তু এই মডেলের মোবাইল বাজারে এসেছে ২০০৩ সালের শেষের দিকে।
৩. জাফরউদ্দীন আর রুদ্রের কথোপকথন খুবই সহজ ভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০০১ সালের প্রেক্ষাপটে ইন্টারন্যাশনাল কল করা সহজ ছিলো না।
৪. রুদ্র কিভাবে জাদুকরের দলকে খুঁজে পেল, তার কোনো বর্ননা দেওয়া হয়নি।
৫. রুদ্র, জাফরউদ্দীন কে বলছে, নেটওয়ার্ক এর সমস্যার কারণে ছবি পাঠাতে দেরি হতে পারে। একই কারণে তার এসিস্ট্যান্ট শ্রীলেখাকেও ছবি পাঠাতে পারেননি। এ জিনিসটা অস্পষ্ট, এখানে নেটওয়ার্ক প্রবলেম বলতে কি বোঝানো হয়েছে, মোবাইল ফোনের না সাইবার ক্যাফের? সাইবার ক্যাফের কথা, উপন্যাসে আসেনি। আর মোবাইল ফোন হলে, বলতে হয়, ফোন থেকে ইমেইল পাঠানোর মত স্মার্ট ফোন তখনও বাজারে আসেনি। আর আসলেও রুদ্রের মতো একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর এর এরকম মোবাইল থাকবে তা বাস্তব সম্মত নয়। বুঝতে হবে সময়টা ২০১৯ নয় ২০০১।
৬. বিনু বলেছে, শোয়েবের সাথে তার একবার পরিচয় হয়েছিল, কিন্তু এই শোয়েবই যখন, আবু সাইদ নামে পুলিশ পরিচয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যায় তখন সে চিনতে পারেনি, যা বাস্তব সম্মত নয়।
৭. যেহেতু, জাদুকর আর পুলিশের মধ্যে সারাক্ষণই ক্যাট এন্ড মাউসের প্রতিযোগিতা চলেছে। আর এখানে মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল, সেখানে তৎকালিন প্রেক্ষাপটে উপন্যাসে চিত্রিত মোবাইলের ব্যবহার বাস্তব সম্মত নয়। যা লেখার মানকে কমিয়ে দিয়েছে।
এরকম আরও অনেক ভুল আছে উপন্যাসে। শুনেছি বইটি একটি ট্রিলজির অংশ, আশাকরি লেখক তার পরবর্তী বইগুলোতে ভুলগুলো কাটিয়ে উঠবেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ফ্যান্টাসী জনরা হিসেবে বইয়ের কনসেপ্ট দারুণ! প্রথম বই হিসেবেও লেখক ভালো করেছেন। কিন্তু সমস্যা 'অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা'তে। এমনিতে অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা নিয়ে আমার বড় ধরণের এলার্জি নাই। তবে এক্ষেত্রে বর্ণনাগুলো ছিল মোটামুটি বিরক্তিকর।
লেখকের দোষ দিচ্ছি না। এডিটিং প্যানেলের হয়তো আর একটু ভালো কাজ দেখানো যেতো- এই আর কি!
প্রকাশনী থেকে ফ্রী পিডিএফ দেওয়াতে গুডরিডস রিভিও বেশি সুবিধার না হওয়া সত্ত্বেও পড়া শুরু করেছিলাম ইন্দ্রলিপি সিরিজের প্রথম বই, জাদুকর। পড়া শেষে মনে হচ্ছে, রিভিও দেখেই বইটি পড়ার প্ল্যান বাতিল না করা লাইফের অন্যতম ভাল ডিসিশন ছিলো। গত কয়েক মাসের মধ্যে পড়া সেরা থ্রিলার ছিলো এটি। । গল্পের প্রোটাগনিস্ট মোঃ তাঈব, ছোটখাটো স্টেজ শো করা এক জাদুকর। হঠাৎ একদিন এক ম্যাজিক শো তে ম্যাজিক দেখানোর সময় রহস্যজনকভাবে মারা যায় ভলান্টিয়ার হিসেবে ডেকে নেওয়া এক দর্শক। পরবর্তীতে জাদুকরের সাথে পরিচয় হয় স্বর্ণ ব্যাবসায়ী শাহাদাত খন্দকারের। তার থেকে জানা যায় নিক্ষপত্র ও অনিক্ষপত্রের গল্প যা দিয়ে জানা যায় সৃষ্টির সব অতীত-ভবিষৎ। নিক্ষপত্রের খোজে নামে জাদুকর, সহযোগী হয় মাদক ব্যাবসায়ী শোয়েব। ক্রমান্বয়ে লেখক পরিচয় করিয়ে দেয় আরো এক রুপকথার, ইন্দ্রলিপি, যা দেয় অমরত্বের স্বাদ... । গল্পের প্লট নিঃসন্দেহে অসাধারন। লেখকের মুন্সিয়ানা থাকলে থ্রিলারটি আরো উত্তেজনাপূর্ন হতে পারতো। প্রথম মৌলিক উপন্যাস হিসেবে কিছু ভুল ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। থ্রিলার উপন্যাসগুলোতে চরিত্র ও ঘটনার বিবরন কাহিনীর সাথে মিল রেখে দিলেই ভাল লাগে। ড্রামা কিংবা রোমান্টিক উপন্যাসের মতো এতো ডিটেইলস শুধু বিরক্তিরই উদ্রেক ঘটায়। চরিত্রের বাহুল্য নিয়েও অনেক সময় যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছি। আগেই রিভিও দেখে নিয়ে তাই খুব সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলেছি অনাকাঙ্ক্ষিত বিবরণ। হয়তো এটিও একটি কারন বইটি অসাধারন লাগার পেছনে। তারপরেও আগেও বলেছি, আবারও বলছি, পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠকভেদে বিভিন্ন হতেই পারে। । ধন্যবাদ লেখক ও চিরকুট প্রকাশনীকে, বইটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য। ইন্দ্রলিপি সিরিজের দ্বিতীয় বই 'ইন্দ্রলিপি' খুব শীঘ্রই পড়ে ফেলতে হবে। নেক্সট বুক হাউলে 'জাদুকর' ও 'ইন্দ্রলিপি' দুইটাই সংগ্রহ করার ইচ্ছা আছে।
মোটামুটি মানের থ্রিলার। ৩.৫ স্টার দেয়া যাচ্ছে না, তাই ৪ স্টার দেওয়া। আরো ভালো হতে পারতো। কাহিনির বেশ কিছু জায়গায় লজিক নাই। কয়েকটা টুইস্ট খাপছাড়া এবং অপ্রয়োজনীয় ছিল। এছাড়া ভালোই।
The book is actually 240 pages. Who added this? :/
The book is beautiful. I'm glad I have it. The cover is beautiful, the pages are pretty, and the font is clear. I felt so, so happy when I first held it in my hands.
Anyway, when I began reading this, I had no idea that it's the first part of a trilogy. My reading experience would have definitely been different. I liked reading it, actually. There were some small details that I particularly enjoyed. But the storyline is very linear. Most of the main plot was revealed through dialogues. I personally prefer revelation through description, in bits. Also, I could not relate to any of the characters. There were a lot of characters (which was good, actually!) and only 240 pages are not enough to portray them in a way to make the reader empathize with them all. But I wanted so badly to have one character I could fawn over. If this book gets a fandom, there wouldn't be enough material to fantasize about the characters because the only thing that stands out is that they keep fainting.
But one thing is for sure. I will definitely read the other two books.
❛কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে অনেক সত্য। ভবিষ্যত অজানা। বর্তমানই পুঁজি। কেমন হয় সৃষ্টির শুরু থেকে হওয়া অজানা ঘটনাগুলো জেনে ফেললে? অনেক রহস্য উন্মোচন হয়ে যেত তবে। আবার ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে জানা গেলে কেমন হতো? কিন্তু আদতে কি সম্ভব সেটা?❜
অখ্যাত জাদুকর মোহাম্মদ তাঈব। বহুদিন পর উঠেছেন জাদুর মঞ্চে। তবে জাদুর খেলা দেখানোর মাঝেই ঘটে গেলো এক দু র্ঘটনা। প্রাণ হারালো একজন তরুণ, নাম মৃদুল কর্মকার। অগত্যা খু নের প্রধান সন্দেহভাজন আ সা মী হিসেবে তাকে হাজতে পুরলো ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ। সেই সাথে হাজতে জায়গা হলো মৃদুলের সাথে থাকা বন্ধু শোয়েবেরও। মিথ্যে খু নের দায় নিয়ে তিনি পালিয়ে গেলেন ভেলকি দেখিয়ে। সাথে সঙ্গী হলো মৃদুল বন্ধু শোয়েব। তবে ঝামেলা যেন পিছু ছাড়ছেই না। গন্ধওয়ালা হাজত থেকে মুক্ত বাতাসে না আসতেই মাথার পিছে আচমকা বাড়ি। পরেরবার চোখ খুলে দুজনেই আবিষ্কার করে তারা আছে আরেক ব্যক্তির কব্জায়। যার পরিচয় শাহাদাৎ খন্দকার। পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তবে তার আগ্রহ অন্য জায়গায়।
❛আপনি কি বিশ্বাস করেন কেউ অতীত বলে দিতে পারে? ঐযে রাস্তায় পাখি নিয়ে বসে থেকে ভবিষ্যত বলা বা হাত দেখেই অতীত বলায় বিশ্বাস করেন? এগুলো বুজরুকি নাকি কারো কারো সত্যিই অতীত দেখার ক্ষমতা আছে?❜
শাহাদাত সাহেবের আগ্রহ তেমনই। সে খুঁজে চলেছেন এমন এক বস্তু যাতে ভবিষ্যত জানা যায়। কালক্রমে পৃথিবীতে এসেছিল নিক্ষপত্র এবং অনিক্ষপত্র নামের বস্তু। যাকে একত্রে কাললিপি বলা হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আগ্রহ সেই নিক্ষপত্রে। যাতে ভবিষ্যত জানা যাবে। সেই কাজেই জাদুকর এবং শোয়েবকে নিয়োগ দিলেন তিনি। মাথার উপর মিথ্যে খু নের মামলা থেকে বাঁচার জন্য এই কাজে হ্যাঁ বলা ছাড়া উপায় নেই। তাই তারাও লেগে গেলেন কাজে। জাদুকর সাহেবের জাদুকরী ক্ষমতা বেশ। সাথে সে বেশ রহস্যময়। বয়স অনুমান করা যায়না। তিনিও এই নিক্ষ অনিক্ষের ব্যাপারে জানেন। তবে বিশ্বাস নিয়ে সংশয় আছে। তবুও সে কাজে মাধ্যম অনুযায়ী খোঁজ শুরু করেছেন। এদিকে এক দুর্ঘটনায় মৃদুল কেসের অফিসার প্রাণ হারালে দায়িত্ব পায় জাফর উদ্দিন। তিনিও লেগেছেন রহস্য উদঘাটন করতে।
❛আবে হায়াতের নাম শুনেছেন? বাংলায় অম রত্বের ধারা বা ঝর্ণা বলা হয়। আসলেই কি চাইলে কেউ অম র হতে পারে? নাকি বেঁচে থাকাটা দীর্ঘায়িত করার একটা পথ মাত্র?❜
প্রাক্তন এক আর্কিওলজিস্ট বহু বছর ধরে নিখোঁজ। এক অদ্ভুত পা গ লামীতে পেয়েছিল তাকে। খুঁজে চলেছিলেন এক লিপি। যাকে ❛ইন্দ্রলিপি❜ বলা হয়। এর কাজও কাউকে অম র করা বা আয়ু দীর্ঘায়িত করা। তবে এ এক শাস্তি। আর্কিওলজিস্ট সেই লিপির খোঁজে নিজেই নিখোঁজ। কাললিপি, ইন্দ্রলিপি হোয়াটএভার সবই মিশে আছে ভারত পেরিয়ে মিয়ানমারের এক প্রাচীন মন্দিরে। জাদুকর, শোয়েব যাত্রা করেছে সেদিকেই। তাদের অনুসরণ করছে অজানা কেউ। পদে পদে শ ত্রুর নিশ্বাস। এত কিছুর মাঝে অনেকগুলো প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। কে হ ত্যা করলো মৃদুলকে? তানহা তারান্নুম কে? কাকড়ার পিঠে ঘড়িতে দেড়টা বাজার অর্থ কী? অফিসার খুঁজছে খু নিকে, ফেঁ সে যাওয়া আসামী নিজেকে বাঁচানোর জন্য আরেকজনের কাজ করছে আর বিপদের মধ্যে পড়ছে। এতকিছুর সমাধান সম্ভব কীভাবে? শত শত বছর আগের এক অভি শাপ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নিস্তার নেই।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝জাদুকর❞ মুশফিক উস সালেহীনের প্রথম উপন্যাস। জাদুকর ত্রয়ীর প্রথম বই। লেখকের আগের দুটো বই পড়া হয়েছিল। লেখায় কিছুটা অবাস্তব ঘটনা যার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই এমন ধারার লেখা লিখতে মনে হয় লেখক বেশ পছন্দ করেন। জাদুকর উপন্যাসকে থ্রিলার বলা যায়, যেখানে আরবান ফ্যান্টাসি আর অ্যাডভেঞ্চার মিশেছে। তবে পুরোপুরি ফ্যান্টাসি ধরা যায় না। যদিও শুরুর দিকের আলামতে উপন্যাসটিকে বেশ ভালো ধরনের একটা ফ্যান্টাসি যাত্রা বলেই মনে হচ্ছিলো। উপন্যাসের প্লট বেশ দারুণ এবং পাঠকের জন্য আগ্রহ জাগানিয়া। আমিও কয়েক বছর আগে বেশ আগ্রহ নিয়েই উপন্যাসটা সংগ্রহ করেছিলাম। অপেক্ষায় ছিলাম শেষের খন্ড আসলে একত্রে পড়তে শুরু করবো। তবে জাদুকরের পর ❛ইন্দ্রলিপি❜ ও আগেই প্রকাশিত কিন্তু প্রিন্টে না থাকায় নেয়া হচ্ছিল না (কয়দিন আগে সংগ্রহ করেছি)। আর তৃতীয় বই ❛রাজগড়❜ আসার নামকন্দ নেই দেখে শুরু করে দিলাম।
একদম সংক্ষেপে ব্যক্ত করলে উপন্যাসটা আমার মাঝারি মানের মনে হয়েছে। অনেক আশা দিয়ে ভঙ্গ করা একটা উপন্যাসের মতো মনে হয়েছে। শুরুটা বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। একটু একটু ক্রা ইমের সাথে সামনে আসতে থাকা ফ্যান্টাসির গন্ধ উপভোগ করছিলাম। এরপর জানিনা কী হলো খেই হারিয়ে একবার স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে যাচ্ছে, একবার কুঁজো হাশেম কিবরিয়ার কাছে যাচ্ছে,মাঝে একবার কোন হাওলাদার এলো এরপর ইব্রাহিম আলীকে নিয়ে টানাটানি করলো। এক অফিসার হুদাই প্রাণ দিলো। আরেক গ্যাস্ট্রিক ওয়ালা অফিসার একা এক কেস সলভ করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করলো। মাঝেমাঝে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ল। এরমাঝে জাদুকর যে কিনা রহস্যের আঁধার, দুনিয়া ভেজে খাওয়া মানুষ সে একবার খন্দকারের জালে পড়ে জ্ঞান হারাচ্ছে একবার কিবরিয়ার জালে ঘুরে পড়ছে। সাথে শোয়েব আছে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে। তার আবার অন্য এক পরিচয় আছে। সবই রহস্যের খেলা। উপন্যাসের কাহিনি থেকে আমার মনে হয়েছে লেখক অপ্রয়োজনীয় বক্তব্যে মন দিয়েছেন। খু নের সম্ভাব্য কারণ আর কিছু জিনিসের বারবার রিপিটেশন বিরক্তি এনে দিচ্ছিলো। এক প্রশ্ন ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার কেসের সাথে জীবনকে বাস্তবিকভাবে দেখাতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত জীবনই হাইলাইট হয়েছে। তাকে কেস সম��ধানে পটু মনে হয়নি। তার মেয়ে খাবার দেয়নি তাই সে খাবার আনেনি, হোটেলে খাইছে বুকে ব্যাথা ওষুধ খেয়েছেন এগুলোই বারবার আসছিল। ওদিকে জাদুকরকে আরো বুদ্ধিদীপ্ত করা যেত। সাত ঘাটের পানি খাওয়া লোক ব ল দে মোতাহার হবেন আশপাশে চোখ রাখবেন না নেহাতই বেও কুফ প্রমাণ হবেন ব্যাপারটা আমার পছন্দ হয়নি। অনেককিছুই ব্যাখ্যা ছিল না। কারণ নেই হচ্ছে। কারণ নেই কিন্তু বিশাল রহস্যের সমাধান করে দিলেন এমন মনে হয়েছে। ফ্যান্টাসি হিসেবে উপন্যাসটা প্রাচীনকালের একটা নির্দেশ করছিল খুব আগ্রহ পাচ্ছিলাম। কিন্তু সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে লেখক আশপাশে সময় দিয়ে মনে হয়েছে উপন্যাসের মূল আকর্ষণকে পানসে করে ফেলেছেন। শেষটুকু বেশ থ্রিল থ্রিল ভাব ছিল। শেষটা অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে সেখানেও কেমন ঠিকঠাক কারণ দেখতে পেলাম না। কিছু চরিত্রের আগমন তাদের রহস্য বা সন্দেহ করার পিছে যথেষ্ট কারণ দেখিয়েও ক্লাইম্যাক্সে তাদের মাকাল বানিয়ে ফেলাটা মনে ধরেনি। সামনে চলবে ইন্দ্রলিপির যাত্রা। জানিনা ওতে কী আছে। একবার পড়ার জন্য উপন্যাসটা খারাপ না। তবে উঁচু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পড়লে হতাশ হতে হবে। উপন্যাসের প্রেক্ষাপট বর্তমান থেকে ২২-২৩ বছর আগের হিসেবে আমার মনে হয়নি সে সময়ের একটা ভাব তিনি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। সবথেকে অবাক লেগেছে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী কনস্টেবলের নাতনিও আছে দেখে। যদিও অসম্ভব নয় এটা। তবুও বর্ণনায় সেটাকে মানানসই করতে পারেননি।
প্রোডাকশন:
বানান ভুল আর টাইপোর ছড়াছড়ি ছিল। কোনো বাক্যের মধ্যে শব্দের ঠিক প্রয়োগ না করেই পুরো প্যারা সাজিয়ে ফেলেছেন। ভুল শব্দের প্রয়োগ ছিল। যার ফলে পড়ার অভিজ্ঞতাও ভালো হয়নি। বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিলাম।
❛ইন্দ্রলিপি বা কাললিপি যাই থেকে থাকুক না কেন আপনার সামনে যদি বর্তমানকে উপভোগ করার মধ্যে অতীত, ভবিষ্যত দেখার ক্ষমতা বাছাই করতে দেয়া হয় কোনটা করবেন? অথবা নশ্বর এই পৃথিবীতে অবিনশ্বর হতে চাইবেন কি?❜
ধীরে পায়ে মঞ্চে উঠলেন জাদুকর । তবে কোথায় যেন একটা গন্ডোগোল মনে হচ্ছে । তবে অনেক দিন পর আবার মঞ্চ কাপাতে এসেছেন তিনি । হাততালির জোড়ালো শব্দের মাঝেও শুনলেন গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ । ছেলেটা মাটিতে লুটিয়ে পরেছে । মুখে ফেনা দেখা যাচ্ছে । ধীরে ধীরে দেহ নিথর হয়ে পরে রইল । জাদুকরের চোখের সামনেই একটা জীবন্ত মানুষ লাশ হয়ে গেল ।
.
খুনের দায়ে গ্রেফতার হলেন জাদুকর । কিন্তু তিনি জানেন তিনি খুন করেননি । তাহলে খুন কে করল? আর খুন করার জন্য এত প্ল্যান করার সময় পেল কোথায়? খুনি কি শোতেই ছিল? নাকি তাকে ফাসানোর জন্য ই করা হয়েছে । অনেক রহস্যের জট । ধীরে ধীরে তাকে খুলতে হবে । কিন্তু কিভাবে?
.
জাদুকর পালালেন সাথে এক ড্রাগ ডিলার । যদিও সে আদৌ ড্রাগ ডিলার কিনা সেটা এখন জানার উপায় নেই । তবে পুলিশি রেকর্ড তাই বলে । তবে জাদুকরের সঙ্গী বলতে এখন সেই । এই সঙ্গীকে নিয়ে জাদুকর কে সামনে যেতে হবে । তার সাথেই হয়ত তার ভাগ্য রেখা জুড়ে গিয়েছে । কে জানে হয়ত এই ভাগ্য তাকে তার লক্ষ্যে পৌছে দেবে । তবে কি সামনে আরও বিপদ অপেক্ষা করছে ?
.
আচ্ছা, যদি মানুষ অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যৎ সব কিছু আগে থেকেই জেনে যেতো তবে কেমন হতো? অতীত না জানলেও ভবিষ্যৎ তো সবাই জানতে চায় । কিন্তু এই জানাটাও যে ভয়ংকর । তার চেয়ে বরং অজানার পথে থাকাটাই শ্রেয় । আবার যদি অমরত্ব পাওয়া যায় । তখন কি বেচে থাকার আনন্দ থাকবে । নাকি তখন সে পৃথিবীর অন্যতম মানুষের তালিকায় স্থান করে নেবে । এই অমরত্বের পিছু নিয়ে একদল ভয়ংকর লোক । তাদের ধারনা কোন এক কালে লিপিতেই আবদ্ধ আছে সব কিছুর ইতিকথা ।
.
সাতশো আগের এক অভিশাপ আবার যেন সামনে চলে এসেছে । লিপির পেছেনে ছুটে চলেছে একদল হিংস্র মানুষ । জাদুকরের সামনে এখন একটাই পথ খোলা লিপি খুজে বের করা । এই অভিশাপ থেকে যেন তার মুক্তি নেই । আজ এত বছর পর এভাবে সামনে চলে আসবে সেটা হয়ত সে বুঝতেও পারেনি । তবে কি এই অভিশাপ তাকেও রক্ষা করবে না । নাকি এই অভিশাপে শেষ হবে সব কিছু ।
.
লিপি পেলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে । এই লিপির জন্য ই ছুটে বেরেচ্ছে সবাই । একজন আর একজন কে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করছে না । অমরত্ব আর ভবিষ্যৎ জানার যেই লিপি সেই লিপির জন্য পাগল হয়ে উঠছে দুই দল । কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয় । এ যেন এক লড়াই । যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে পরাজিত করাই হচ্ছে লক্ষ্য । কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হবে । কার কাছে যাবে এই লিপি । কি আছে জাদুকরের ভাগ্যে । নাকি তিনি নিজেও তার ভাগ্য জানেন না । হয়ত এক সময় এই রহস্যের উন্মোচন হবে ।
.
“জাদুকর” বইটি শুরু করার পর একটা কথাই মাথায় এসেছিল । বইটি আগে পড়তে হবে । আমি আস্তে আস্তে পড়েছি । বোঝার চেষ্টা করেছি লেখকের ধারনা ও তার গল্পকে । কোথায় শুরু এবং কোথায় শেষ সেই সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি ।
.
বইটি এক ইতিহাস ও লিপির কথা বর্ননা করেছে । যেখানে মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দেয়ার এবং ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । তাই এই লিপি মানুষের নাগালের বাইরে রাখা হয়েছে । যদিও একদল লোক সেটার কথা অনেক আগেই জানেতে পেরেছে । শুধু জানত না এই লিপি কার কাছে রয়েছে । হয়ত এটাই কাল ছিল ।
.
সেই সময় থেকেই এর পিছনে ছুটে বেরিয়েছে লোকজন । রাজা, তার ছেলে এবং ধীরে ধীরে লিপি চলে আসে হাতে হাতে । এর রক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয় সংগঠন । তাদের কাজ লিপি রক্ষা করা জীবনের বিনিময়ে হলেও এই লিপি রক্ষা করতে হবে ।
.
বিংশ শতাব্দীতে এসেও এই লিপি রয়েছে সেটা বিশ্বাস করা কষ্টের কিন্তু সেটাই জেনো সত্যি হয়ে উঠেছে । গল্পের টান একটু ধীর । থ্রিলার জনরার গল্প শুরুতে ধীর হয় । ধীরে ধীরে সেটা জটিল হয়ে সেটার উন্মোচিত হয় । তবে লেখকের প্রথম বই হিসেবে ভাল ই প্রয়াস বলতে হবে ।
.
যতদূর জানি এটা একটা সিরিজ । এই সিরিজের আরও দুটো বই আসবে । মানে রহস্যের খেলা এখনও দুটো বাকি আছে । তবে আমার মনে হয় এই বইয়ের যে টুইষ্ট সবশেষে দেয়া হয়েছে সেটা ভাল হলেও অনাকাংক্ষিত । জাদুকর এর পরিনতি আরও ভাল হতে পারত । হয়ত শেষ পর্যন্ত তার উপর সব কিছু নির্ভর করে দেয়া যেতো ।
.
আমি লেখক নই তাই লেখকের ভাবনা নয় পাঠকের ভাবনা থেকেই বললাম । আমি বইটা পড়ার শুরুতেই খুব আশা রাখিনি । তাহলে হতাশ হতে হতো হয়তবা । তবে বইটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে নিঃসন্দেহে এটা বলা যায় । এর পরবর্তি বইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম ।
“লেগেছে গ্রহণ তিন চাঁদ সাত নক্ষত্র রক্তের রেখা শপথ একেছে সে শর্তে” ।
মো: তাঈব। সবাই যাকে জাদুকর তাঈব নামেই চেন���। জাদুবিদ্যাই মূলত তার পেশা। যদিও ইদানিং এখন আর স্টেজ শো করা হয় না। হঠাৎ একদিন ফোনের ঐপাশ থেকে এক অপরিচিত কন্ঠ ভেসে আসে। জাদুকরের সামনে পেশ করা হয় স্টেজে উঠে জাদু দেখানোর নতুন এক প্রস্তাব। তিনিও প্রস্তাবটি লুফে নেন। স্টেজ তৈরি। সেই সাথে হল ভর্তি দর্শক। স্পট লাইটগুলো সব জ্বলে উঠেছে ইতিমধ্যেই। অন্য সবার মতো সেদিন শো দেখতে গিয়েছিলেন দুই বন্ধু মৃদুল কর্মকার এবং শোয়েব হাসান। অভিনব কায়দায় মঞ্চে উপস্থাপনা করে চলেছেন তানহা তারান্নুম নামের এক তরুণী। মঞ্চে উঠলেন তাঈব সাহেব। বরাবরের মতো দর্শকসাড়ি থেকে একজনকে যাওয়ার আহ্বান করলেন তিনি। মৃদুল ধীর পায়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলেন মঞ্চের দিকে। আশ্চর্যজনকভাবে সেদিন মঞ্চে মৃদুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী মৃতের হাতে এবং ঠোঁটে এক জাতীয় বিষের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সন্দেহজনকভাবেই জাদুকর তাঈব সাহেব এবং মৃত মৃদুলের বন্ধু শোয়েবকে পুলিশ হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মধ্যরাতেই সবাইকে ফাঁকি দিয়ে হাজত থেকে পালায় দুজন। পথিমধ্যে জুয়েলারী ব্যবসায়ী শাহাদাত খন্দকার তাদেরকে অপহরণ করে তার নিজের জিম্মায় নিসে আসে। তিনি জানান জাদুকর যদি কাললিপির একটি অংশ অর্থ্যাৎ নিক্ষপত্রের (সৃষ্টির ভবিষ্যৎ অংশ) সন্ধান দিতে পারেন তবে এই কেস থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত করে দিবেন। অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও একপ্রকার বাধ্য হয়েই জাদুকর শোয়েবকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন সেই নিক্ষপত্রের সন্ধানে। অন্যদিকে হাশেম কিবরিয়া নামের এক আর্কিউলোজিস্টও জাদুকরের পিছু নিয়েছেন। তিনি অবশ্য চান ইন্দ্রলিপি (যা দ্বারা অমরত্বের স্বাদ গ্রহণ করা যাবে)। প্রথম গন্তব্য ভারতের মহারাষ্ট্র। জাদুকর জানতে পারেন, সেখানকার দিল্লি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইব্রাহিম আলীই একমাত্র এই নিক্ষপত্রের সন্ধান দিতে পারেন। সেখানে ইব্রাহিম আলীকে না পেয়ে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে মিয়ানমারের হোমালিন শহরের টাউফা মন্দিরের কথা। তারপর তারা আকাশপথে পাড়ি জমালেন সেই টাউফা মন্দিরের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেখানে ঘটে আরেক বিপত্তি। কোন এক অজানা কারনে সেই মন্দিরে আগুন লেগে প্রধান পুরোহিতসহ প্রায় সবাই মারা যান। জাদুকরের বুঝতে বাকি রইল না কোন এক অজানা শত্রু তাদের পিছনে লেগেছে। নিক্ষপত্র খোঁজার শেষ আশাটুকুও পুড়ে ছাই হয়ে গেল এই কথা যখন জাদুকর তাঈব ভাবছেন তখনই তাদের সাথে দেখা হয় ভারতের দীনেশ বাগচির। যার মাধ্যমে জাদুকর জানতে পারেন বাংলাদেশী আর্কিউলোজিস্ট গোলাম কিবরিয়া সম্পর্কে। যিনি বর্তমানে এই নিক্ষপত্রের সন্ধান দিতে পারেন। তারা পাড়ি জমান বাংলাদেশে। এয়ারপোর্ট থেকে তাদের আটক করেন সিআইডি হোমিসাইড অফিসার জাফর উদ্দীন। কিন্তু গতবারের ন্যায় এবারও তারা হাজত থেকে পালালেন। এবং উদ্দেশ্য মোতাবেক গোলাম কিবরিয়ার সাথে সাক্ষাতের জন্য রওয়ানা হলেন। কিন্তু গোলাম কিবরিয়াও খুন হলেন কোন এক অজানা কারনে। জাদুকর বাকরুদ্ধ! ঘটনা পরম্পরায় ইন্দ্রলিপির সন্ধান করা সেই হাশেম কিবরিয়ার সাথে তাদের আবার সাক্ষাত হয়। এবং হাশেম কিবরিয়ার সাহায্যে তারা আবার পাড়ি জমান সেই হোমালিন শহরের টাউফা মন্দিরের উদ্দেশ্যে। হোমালিন শহরে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে সব জট খুলতে শুরু করে। বেড়িয়ে পড়ে আসল রহস্য। ধীরে ধীরে বের হতে থাকে ইন্দ্রলিপি, নিক্ষপত্র এবং অনিক্ষপত্রের সেই ধাঁধার রহস্য। উন্মোচিত হয় সব সত্য।
শেষ পর্যন্ত কি জাদুকর শাহাদাত খন্দকারকে সেই নিক্ষপত্রের খোঁজ দিতে পেরেছিল। অনিক্ষপত্রের মালিকই বা কে? হাশেম কিবরিয়া কি ইন্দ্রলিপির সন্ধান পেয়েছিল? মৃদুলকে খুঁন করেছিল কে? গল্পে শোয়েবের ভূমিকাই বা কি? সবগুলো প্রশ্নের উত্তর একটাই। বইটি পড়া।
কঠিন রহস্য আর থৃলে ভরপুর এই বইটি পড়া শেষ না করা পর্যন্ত এক প্রকার মোহের আবেশে জড়িয়ে রেখেছিল আমাকে। একদম শেষ পৃষ্ঠায় না যাওয়া পর্যন্ত পাঠক উন্মোচন করতে পারবে না গল্পের টুইস্ট। ভুনাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারি নাই আমি। লেখকের সার্থকতা ঠিক এই জায়গাটিতেই। আমি বড়সড় একটি ধন্যবাদ দিতে চাই লেখক মুশফিক উস সালেহীনকে এত সুন্দর একটি মৌলিক থ্রীলার আমাদের উপহার দেয়ার জন্য।
A unique fantasty & thriller category, having interest from the first chapter to last, first book of a series is জাদুকর (Magician) which was written by Mushfiq Us Salehin, also his first ever written unique book. The plot was too astonishing to enjoy for me. There were much discussion about নিক্ষপত্র, অনিক্ষপত্র & ইন্দ্রলিপি. The central character in this book is the magician Tayeeb & an university student Shoaib. Misspellings for the several times bothered me very much. But the binding, cover & quality of the paper were too amazing. No one can deny that. Kudos to Chirkut Publication.
"হাততালির বিকট শব্দের মাঝেও গ্লাস ভাঙার শব্দটা স্পষ্ট শুনতে পেলেন জাদুকর তাঈব। ছেলেটা স্টেজের মেঝেতে পড়ে গেছে। মুখে দিয়ে সাদা ফেনা বেরুচ্ছে! মেঝেতে বসে পড়লেন জাদুকর তাঈব, আর তার চোখের সামনেই লাশ হয়ে গেলো কিছুক্ষণ আগের সেই প্রাণবন্ত ছেলেটা!"
A magician, to say the least, leads his life by magic shows. The work has not come for a long time. One day suddenly the magician got on the stage again after agreeing to a tempting offer. Every spectator is fascinated by the game of magic in that show. Mridul and Shoaib, two university students, came to enjoy the show. Meanwhile, the magician called Mridul from the audience as a volunteer on stage. With a straw in an empty glass the magician said to take the sip. Immediately lemon juice comes out of the straw. But in the end the disaster happened! Auditorium roared with applause but by then the boy had fallen to the ground and was biting like a hysteria patient. Dead before anything is understood!
Who is this Mridul? All evidence clearly points to the magician. The magician realizes that he is being framed in this murder case. He also understands that if he wants to survive, he has to find the real killer. The magician escaped from the jail with Shoaib who is a drug dealer & friend of Mridul. And then he met Shahdat Khandaker, a gold trader who claims that he can see the future from time to time. But he wants to get that power for the whole time. And to get this he needs, "নিক্ষপত্র"! On the other hand, another person also followed the magician. An archaeologist named Hashem Kibria who wants to get ইন্দ্রলিপি. It's also a miraculous power. He who has the power can gain immortality forever!
To find all the answers, the magician dives into the abyss of mystery. And that answer is in ইন্দ্রলিপি. On the back there is অনিক্ষপত্র and in front there is নিক্ষপত্র. If you want to get the ইন্দ্রলিপি, you need to know where it actually was and where it will be. But the answer to all these questions is hidden in the darkness of an unknown temple in Myanmar!
"এসেছে নতুন শিশু ,তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান , জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ মৃত আর ধ্বংসস্তূপ- পিঠে । "
তাঈব সাহেব একজন জাদুকর । বহুদিন স্টেজে জাদু পারফর্ম করেন না । হঠাৎ একদিন তারেক নামক একটি লোকের অনুরোধে " কাশেম মেমোরিয়াল ফান্ড অ্যান্ড ম্যাজিক শো "র মঞ্চে ওঠেন তিনি । আর সেদিনই দুর্ভাগ্যবশত তাঈবের বিশেষ জাদু দেখাতে গিয়ে জাদুর মঞ্চেই খুন হয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র মৃদুল কর্মকার ।
খুনের সন্দেহে পুলিশ আটক করে জাদুকর তাঈব ও মৃদুলের বন্ধু শোয়েবকে । পরিস্থিতি আরও গোলমাল করে জেল থেকে অদ্ভুত উপায়ে পালিয়ে যান জাদুকর । সাথে জুটে যায় শোয়েব ও । জাদুকর ও শোয়েব যখন খুনের অভিযোগে রাস্তায় পালিয়ে ঘুরছে , ঠিক সেই সময়েই শাহাদাত খন্দকার নামের এক স্বনামধন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী তাদের দিকে বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যের হাত।বিনিময়ে তাকে দিতে হবে রূপকথায় থাকা কাললিপির একটি অংশ যার নাম নিক্ষপত্র ।
কাললিপির দুটো অংশ । অনিক্ষপত্র,যেটার মাধ্যমে জানা যায় সৃষ্টির আদি-অন্ত, সমগ্র সৃষ্টিজগতের অতীত এবং নিক্ষপত্র, যা দিয়ে ভবিষ্যৎ জানা যায় ।
এদিকে হাশেম কিবরিয়া নামের আর্কিওলজিস্ট ও জিনিস তাদের কাছ থেকে হাসিল করতে চায় । যার নাম ইন্দ্রলিপি ।ইন্দ্রলিপি হচ্ছে অমরত্বের চাবিকাঠি । যার কাছে এটি থাকবে সে ল���ভ করবে অমরতা ।
তবে এ দুটি আয়ত্ত্ব করার জন্যও আছে কিছু কঠিন শর্ত। হাতে থাকতে হবে অশ্বখুরাকৃতি রেখা,সাথে থাকতে হবে ত্রিপত্র আর খর, আর একটুএদিক ওদিক হলেই - মৃত্যু!
কাললিপি আর ইন্দ্রলিপি যে ঠিক কী, তাও সঠিক জানা যায় না। হতে পারে তা বই, কোনো ডায়েরি, রক্ত বা স্রেফ এক টুকরো সুতো!
এ দুটির সন্ধানে তাঈব সাহেব, শোয়েব আর শাহাদাত খোন্দকারের ড্রাইভার আমজাদরা ছুটলেন বাংলাদেশ থেকে ভারত, ভারত থেকে মিয়ানমারে!
সবার অলক্ষ্যে বুনে উঠছে বিশ্রী ষড়যন্ত্রের জাল।পুরোনো এক গুপ্তসঙ্ঘও যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বারবার। সাতশো বছরের আগে হারিয়ে যাওয়া অভিশাপ জেগে উঠছে আবারো।
বইটা শুরুর দিকে অতটা ভাল না লাগলেও , লাস্টের দিকের কয়েকটা হাইভোল্টেজ টুইস্টে তবদা খেয়ে গেছি ।হলফ করে বলতে পারি শেষটা যে কেমন হবে তা সম্পূর্ণ বইটি না পড়লে আপনি বুঝতেই পারবেন না !