Marzuk Russell is a Bangladeshi lyricist, poet, model, and actor. He made acting debut in a self-titled role through the drama-film Bachelor in 2004 and got mainstream acclaim.
Since then he acted in many television drama and worked for numerous television commercials. He made his television debut by TV play Ayna Mohol was directed by Mostofa Sarwar Farooki.
মারজুল রাসেল কে সবাই ব্যাচেলর পয়েন্ট এর মতো কমেডি নাটকের অভিনেতা হিসেবে চিনে। তার গীতিকার ও কবি পরিচয় এতদিন লাইমলাইটে আসেনি। ২০২০ সালে যখন তার এই [ গ- নির্বাচিত কবিতা] অর্থাৎ ' দেহবন্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর ' নামক বইটি বের হয় তখন তা মুড়ি-মুড়কির বিক্রি হয়ে বেস্ট সেলারে পরিণত হলে, সবার মনে পড়ে যে মারজুক মীরাবাঈ,গোল্লা, দ্বিধা এর মত জনপ্রিয় গানের গীতিকার। অনেকেই নাটকের কিম্ভূত চরিত্রে অভিনয় করা উৎকটদর্শন মারজুককে এতো চমৎকার সব গানের গীতিকার হিসেবে কল্পনা করতে পারেনি। অভিনেতা মারজুক আমার কখনোই পছন্দের ছিলোনা তবে তার বেপরোয়া জীবনযাত্রা, স্ট্রেটকাট কথা বলার ভঙ্গি বেশ লাগতো।দিনশেষে অভিনেতা মারজুক থেকে আমার গীতিকার মারজুক ই বেশি পছন্দ।
মারজুকের বই বেস্টসেলার হবার পেছনে বইয়ের কাব্যগুণ প্রধান কারন ছিলো না।স্বভাবতই তার বইয়ের ক্রেতারা হচ্ছে তার অভিনীত নাটক ও লাইফ স্টাইলের পাগলা ফ্যানেরা।যারা দলবেঁধে বই কিনেছে বাসায় এসে ছবি তুলে ফেসবুকে দিবার জন্য; ক্যাপশন হচ্ছে -" মারজুক গুরুর অটোগ্রাফেই হেব্বি পিনিক" নয়তো "মেয়ে তোমারে লাগাতে পারিনি তাই লাগানোর ফিলিংস কেমন জানতে চেয়ে গুরুর সাথে!" তারপর ' যার কেউ নাই তার হাত আছে' কবিতা খুঁজে পড়ে, বই ফেলে হাতের কাজে লেগে যাওয়া।
উক্ত বইটি আসলে মারজুকের পূর্বোক্ত চারটি বইয়ের বিশেষ কবিতা সংকলন। ভূমিকায় 'গ নির্বাচিত' ক্যানো তার সুন্দর ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।
মারজুকের যে কয়টি লাইন বাজারে জনপ্রিয় সেগুলো আশ্চর্য রকমের witty and striking. প্রচলিত মৌখিক শব্দের অভূতপূর্ব ব্যবহারের মাধ্যমে করা তার এই সূক্ষ্ম Pun গুলো চমৎকার পর্যবেক্ষণ এবং অসম্ভব হিউমারের পরিচায়ক। এ বাদে সাধারণত মারজুকের কবিতার ভাষাশৈলী বেশ দুর্বোধ্য। পুরো কবিতার মর্মার্থ বের করা মোটামুটি দুঃসাধ্য। কিছু কবিতা নানান ভাবে পড়েও কিছু মেলানো যায়না আবার কিছু কবিতা deconstruct করলে চমৎকার মনে হয়। মারজুকের কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, তার শুরু হয় আপাত নিরীহ ভাষায়, কিন্তু পুরো কবিতা শেষ হবার দেখা যায় যে এর মধ্যে নানান জটিল জিনিস মারজুক নিজ স্বভাবসুলভ হিউমার যোগ করে ইনপুট দিয়ে দিয়েছে। সাদাসিধা স্ট্রেইট ভাষায় বাঁকা কথা বলা। এর ফলাফল কয়েকটা তে ভালো লেগেছে আবার কয়েকটা তে ভালো লাগেনাই। যৌনতার অনুষঙ্গের ব্যাপারে ও একই ব্যাপার। কিছু যৌক্তিক আবার কিছু বেহুদা মনে হয়েছে। তবে পৃথিবী কে দেখার মারজুক রাসেলের যে নিজস্ব উদ্ভট দার্শনিক দৃষ্টি তা বেশ উপভোগ্য।
" পৃথিবীর কথা মনে পড়ে ; যে পড়াচ্ছো, তাকে ভালোবাসি।"
কয়েকটা কবিতা ভালো, কয়েকটা বিরক্ত লেগেছে, মিক্সড অনুভূতি... এবারের বইমেলার অন্যতম হাইপের বই। হাইপের বই থেকে একটু দূরে থাকি, এবার এই বইটা পড়ে দেখলাম, মন্দ না।
প্রতিটা কবিতা বিদ্রোহ করেছে প্রচলিত মতের, চিন্তার বা ভাবনার, সেটা প্রেম নিয়ে হোক অথবা নারী, কবিতা কিংবা সামাজিক-রাজনৈতিক হোক। হৃদয়ের তানপুরায় কম্পন লাগিয়ে তৈরি করে এমন সুর যা আগে শোনা যায় নি, কিন্তু মনে হয় কতকাল থেকে শুনছি। কবি প্রচলিত কিছু ধারনার সাথে বিদ্রোহ করেছেন আবার মেনে নিয়েছের অকোপটে। কি? জানতে হলে পড়তে হবে। কবিতাগুলি বইয়ের মলাটের চেয়েও সুন্দর, তার ধারনায় শুধু দিতে পারি।