Jump to ratings and reviews
Rate this book

রাষ্ট্র ও ভাবাদর্শ: লুই আলথুসের

Rate this book

108 pages, Hardcover

First published January 1, 2020

1 person is currently reading
52 people want to read

About the author

Altaf Parvez

20 books39 followers
আলতাফ পারভেজের জন্ম ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬। দর্শনশাস্ত্রে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন শেষ করেন। ছাত্রত্ব ও ছাত্র রাজনীতির পর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু। পরে গবেষণা ও শিক্ষকতায় সংশ্লিষ্টতা। প্রকাশিত গ্রন্থ ছয়টি। যার মধ্যে আছে—‘কারাজীবন, কারাব্যবস্থা, কারা বিদ্রোহ : অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা’, ‘অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ, কর্নের তাহের ও জাসদ রাজনীতি’, ‘বাংলাদেশের নারীর ভূ-সম্পদের লড়াই’, 'মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী ইতিহাসের পুনর্পাঠ'।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (31%)
4 stars
12 (41%)
3 stars
7 (24%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews434 followers
Read
December 14, 2024
গ্রামসি, লেনিন আর আলথুসেরের তত্ত্বের তুলনামূলক আলোচনা বইটির উল্লেখযোগ্য অংশ।ব্যক্তিগতভাবে আলথুসেরের তত্ত্বকে গ্রামসি'র হেজেমনি তত্ত্বের সম্প্রসারণ বলেই মনে হয়েছে। আলথুসের রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে দুইভাগে ভাগ করেছেন -
১. RSA (repressive state apparatus)
২. ISA (ideological state apparatus)


প্রথমটার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সরাসরি ও ভীতির সাথে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন - প্রণীত আইন, পুলিশ, জোর করে নিয়ম মানানো, রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি। এর তুলনায় ISA পরোক্ষ, এর প্রভাব সরাসরি বোঝা যায় না কিন্তু অধিক কার্যকর। ধর্ম, বিদ্যালয়, বুদ্ধিজীবী, পত্রিকা প্রভৃতিকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সরকার ব্যক্তি, পরিবার, সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিজেদের মতবাদ বা ধারণা এমনভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই মতবাদের অনুসারী হয় এবং তাদেরকে যে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অচেতন থাকে। (এ ব্যাপারে আসিমভের "ফাউন্ডেশন " এর কথা স্মরণ করা যেতে পারে। নিজেদের শাসকগোষ্ঠীকে ঈশ্বরের প্রেরিত পুরুষ বলে প্রচার করে মানুষের মধ্যে তাদের সম্বন্ধে ভীতির সঞ্চার করে রাখা হয় এবং যুদ্ধের সময় এই ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহার করে বিপক্ষদলকে ধরাশায়ী করা হয় - সাধারণ মানুষ "প্রেরিত পুরুষ"দের বিপক্ষে যাওয়ার সাহস পায়নি।) আলথুসের ব্যবহৃত আরেকটি শব্দ Interpellation দ্বারা প্রক্রিয়াটি আরো সহজে বোঝা যায়। আলতাফ পারভেজ এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে -

" Interpellation একটা 'প্রক্রিয়া', যে প্রক্রিয়ায় আমরা বিভিন্ন ভাবনা ও সংস্কৃতি নিজেদের ভেতর প্রবেশ করাই এবং একপর্যায়ে সেটা 'নিজের' মনে করি।...  আমরা যখন দেখি, মাতা-পিতারা ছেলে সন্তানের খেলনা হিসেবে বন্দুক এবং মেয়েশিশুর খেলনা হিসেবে পুতুল পছন্দ করে-তখন কেন সেটা তাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়? কীভাবে তাদের উপহার বাছাইয়ের এই যৌক্তিকতা তৈরি হলো?...  আসলে এভাবেই বিভিন্ন ভাবাদর্শ জাতিপ্রশ্নে, নর-নারীর সম্পর্ক প্রশ্নে, শ্রেণিপ্রশ্নে আমাদের পছন্দ-অপছন্দ তৈরি করে এবং আমরা সে অনুযায়ী সমাজে গ্রহণ-বর্জনে প্রবৃত্ত হই।...  ভাবাদর্শ এভাবেই আমাদের 'পরিচয়' নির্ধারণ করে এবং আমরা সেই পরিচয় 'গ্রহণ' করি এবং সেভাবেই সমাজে নিজেকে স্থাপন করি। এই প্রক্রিয়াটি যে সহিংসতার মধ্যদিয়ে ঘটে তা নয়; পরিবার, স্কুল, ধর্মালয়, সংস্কৃতির অনুষ্ঠানসহ নানান স্থান থেকে নীরবে, আগ্রহের সঙ্গে আমরা এই পরিচয়, পছন্দ-অপছন্দ আত্মস্থ করে নিই।.. সেভাবেই আমরা সকল বিষয়ে আমাদের অবস্থান গ্রহণ করি। জন্মের পর এভাবেই সমাজ আমাদের 'তৈরি' করে নেয়। এই তৈরি করার পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রয়েছে অধিপতিশ্রেণির ভাবাদর্শ। অধিপতি শ্রেণির রাজনীতিও। অধিপতি শ্রেণির বড় এক 'অর্জন'-এর জায়গা এটা।"



কী কী পদ্ধতিতে এই নিয়ন্ত্রণ করা হয় আলথুসের তাও আলোচনা করেছেন। আলতাফ পারভেজ সংক্ষিপ্ত পরিসরেই আলথুসেরের দর্শন ও মতবাদ কার্যকরীভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন।
Profile Image for Shiblee Shahed.
10 reviews4 followers
November 16, 2020
শুরুতেই বলে রাখি এই বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে— আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ বিষয়ে মার্ক্স-এঙ্গেলস-লেনিনের চেয়ে আলথুসের অনেক অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। এই প্রাসঙ্গিকতা এমনকি গ্রামসি’র চেয়েও বেশি। যদিও গ্রামসি’র সাথে আলথুসের’র চিন্তায় অনেক মিল আছে। তথাপি, এই কথাটা বলে রাখা দরকার যে— গ্রামসি আমাদেরকে হেজেমনি সংক্রান্ত যে ধারণা দেন তা অনেকটাই ধোঁয়াশায় ভরা। অবশ্য গ্রামসিকে দোষ দেওয়া চলে না। তাঁর কী-ই বা করার ছিলো। প্রিজন নোটবুক লেখার সময় তিনি মুসোলিনির কারাগারে বন্দী। ফলে সেখানকার সেন্সরশিপ এড়াতে তাঁকে এই ভাষাগত অস্পষ্টতার আশ্রয় নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আলথুসের আরো সুগঠিত এবং গোছালোভাবে হেজেমনি-সংক্রান্ত ধারণাগুলো আমাদের সামনে হাজির করেন।
এই বইটি মূলত আলথুসের-এর ‘ Ideology and Ideological state apparatus’ নামক রচনাটির অনুবাদ। আলথুসের বলছেন, রাষ্ট্রের দু’ধরণের কলকব্জা বা apparatus আছে। একটি হলো Repressive State Apparatus(আরএসএ) বা রাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক কলকব্জা আরেকটি— Ideological State Apparatus(আইএসএ) বা ভাবাদর্শিক কলকব্জা। আরএসএ’র মধ্যে আছে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আদালত, কারাগার ইত্যাদি। এদের কাজ হলো সহিংসতার উপর ভর করে নিপীড়ন চালানো। অন্যদিকে আছে আইএসএ-যার মধ্যে আছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, আইনগত প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন, রেডিও-টিভি-পত্রিকা, খেলাধুলা, সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যম ইত্যাদি।
এর মধ্যে আইনগত প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত একই সঙ্গে আইএসএ এবং আরএসএ হিসেবে কাজ করে। আবার, আরএসএ কেবল রিপ্রেসিভ নয় এর ভাবাদর্শিক ফাংশনও আছে। অন্যদিকে আইএসএ কেবল ভাবাদর্শিক নয়, এর রিপ্রেসভ ফাংশনও আছে। এই অংশটুকু পাঠ করতে গিয়ে আমি যেন কোররিলেট করতে পারছিলাম,যেমন, গত বছর এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন সেশন চার্জ কমাবার দাবী করে আন্দোলনে নামে তখন কিভাবে সেই প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলন দমন করে— তা ওই আইএসএ’র রিপ্রেসিভ ফাংশনের একটা উদাহরণ। এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ আছে। আলথুসের-এর মতে এই সমাজব্যবস্থা মানুষের ইচ্ছা-পছন্দের অগ্রাধিকার সবই নির্ধারণ করে দেয়। সমাজ তার মতো করে ব্যক্তিকে সাবজেক্টে পরিণত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের apparatus-এর বাস্তব উপাদান হিসেবে তৈরি করে। ভাবাদর্শ এবং রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের এই দিকটিকে বলা হচ্ছে Materialization of ideology in state apparatus— যাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলথুসের তার theory of interpellation-এর অবতারণা করেন। এই interpellatioin একটা প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র বিভিন্ন সংস্কৃতি,ভাবাদর্শ নাগরিকদের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তদেরকে ভাবতে শেখায় যে, এই সংস্কৃতি এই ভাবদর্শ নাগরিকদের নিজদেরই সংস্কৃতি এবং ভাবাদর্শ।
বইটির শেষের দিকে লেনিন-গ্রামসি-আলথুসের নিয়ে লেখকের নিজস্ব পর্যালোচনা আছে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে লেখক বলতে চেয়েছেন,মার্ক্সীয় চিন্তায় যেমন সমাজের ভিত্তি বা অবকাঠামো হিসেবে অর্থনীতির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, তেমনি গ্রামসি বা আলথুসের-এর চিন্তায় উপরিকাঠামো অর্থাৎ রাষ্ট্রচিন্তা প্রাধান্য পায়। যার সূচনা মূলত লেনিনের হাত দিয়ে শুরু হলেও আলথুসেরে এসে এর একটা পরিণত রূপ দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রপ্রশ্নের গভীর-উপলব্ধি এবং রাষ্ট্রচিন্তার সম্প্রসারণে এই বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। আমাদের দেশে এধরণের বইয়ের সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। আলথুসের নিয়ে এদেশে তেমন কাজ হয় নি আগে। শ্রদ্ধেয় Altaf Parvez ভাইকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা।
Profile Image for Vendetta .
34 reviews1 follower
September 4, 2020
বইটি পড়ার পর নিজের চিন্তা ভাবনায় একটা ভালো ধাক্কা লেগেছে৷ নিজেকে আমরা যতই অরাজনৈতিক বা নিহিলিস্ট দর্শন ধারণ করি না কেনো, আমরা রাজনীতি অথবা হেজেমনির বাইরে নই। বইটি এই হেজেমনিক কালচার বা প্রোপাগাণ্ডার সম্পর্কে ভালো ধারণা দিবে। বইটি রাষ্ট্রের হেজেমনিক কালচার ও নিজের চিন্তার ধরণের সাথে রাষ্ট্রের ভাবাদর্শের মিল খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। আরেকটা জিনিস যেটা মনে ধরেছে যে, আমরা যাই চিন্তা করি না কেনো, আমাদের সমস্ত কিছুই কারো না কারো দ্বারা প্রভাবিত। আমরা ভাবাদর্শের বিষয়ী। কিন্তু, প্রভাবিত মানুষের মাঝে প্রভাবগুলোকে আলাদা করে ধরার ক্ষমতা জন্ম নেয়। এই মানুষগুলোই আছে বলে আমরা রাষ্ট্রীয় ভাবাদর্শ আর মানুষের ভাবাদর্শের মাঝে মিল-অমিল, কোনটা কোনটাকে প্রভাবিত করছে বুঝতে পারি।
সর্বশেষ, বইটি অনেক নতুন চিন্তা জাগ্রত করে।
Profile Image for Syed Abir.
10 reviews3 followers
March 20, 2020
শিক্ষাব্যবস্থা কেবল জ্ঞানের কারবারী নয়—

সমাজের "নিয়ম-কানুন" ও "চাহিদা" অনুযায়ী মানুষকে 'প্রস্তুত' করা এবং বিদ্যমান সামাজিক মূল্যবােধের প্রতি তাকে অনুগত করে তােলাই যে তার বড় কাজ।
Profile Image for Azahar Hossain.
55 reviews9 followers
October 20, 2021
রাষ্ট্র ও ভাবাদর্শ ~ লুই আলথুসের
অনুবাদ - আলতাফ পারভেজ

মার্ক্সীয় চিন্তা ঐতিহ্যের অন্যতম চরিত্র লুই আলথুসার। মার্ক্সের চিন্তার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র ও ভাবাদর্শের আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোবাদী বিশ্লেষণ হাজির করেছেন। হেগেল ও মার্ক্স অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সূচনা। 'ফর মার্ক্স' এবং 'রিডিং ক্যাপি' তাঁর এ সময়ের জগৎবিখ্যাত দুই গ্রন্থ। সমাজ-রূপান্তর চিন্তায় তরুণদের প্রভাবিত করেছেন ব্যাপকভাবে। ১৯৪৫ পর্যন্ত জার্মানদের হাতে যুদ্ধবন্দি ছিলেন দীর্ঘদিন। বহু বছর ধরে ফ্রান্সে বিপ্লবী ও রূপান্তবাদী রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
"আইডিওলজি এন্ড আইডিওলজিক্যাল স্টেইট অ্যাপারেটাসেস" বিশ্বব্যাপী লুই আলথুসারের সবচেয়ে আলোচিত লেখা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝে লিখিত এই লেখায় আলথুসের মূলত দেখান - কীভাবে, কোন কোন উপায়ে, একটা সমাজে অল্প সংখ্যক শাষকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ওপর ভাবাদর্শিক আধিপত্য কায়ম করে এবং তা বজায় রাখে। প্রথম ভাগে তিনি দেখান রাষ্ট্রের উপরিকাঠামোতে দু'ধরনের হাতিয়ার রয়েছে -'ভাবাদর্শিক' ও 'দমনমূলক'। ভাবাদর্শিক হাতিয়ার সমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শিক্ষা সংস্থাগুলো, যেমন - সরকারি-বেসরকারি স্কুলে-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবারব্যবস্থা, রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন, বিশেষভাবে ধর্মীয় সংস্থাগুলো। অন্যদিকে রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনরা সহিংসতার উপর ভর করে আরও কিছু হাতিয়ার ব্যবহার করে তাকেই বলেছেন দমনমূলক হাতিয়ার। যেমন - পুলিশ, সেনাবাহিনী, কারাগার ইত্যাদি।
বিশেষ করে বিদ্যাপীঠশমূহ এক্ষেত্রে কীভাবে ভূমিকা রাখে। বর্তমান ধাঁচের রাষ্ট্র, উৎপাদন সম্পর্ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে - তার রাজনৈতিক চরিত্রটির ওপর আলথুসারই প্রথম নির্মোহ আলো ফেলেন এবং বিদ্যাপীঠেল ভূমিকা নিয়ে ঐতিহাসিক ভাবালুতার অবসান ঘটান। রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ে আগ্রহী সকলেলই গ্রন্থটি কাজে লাগবে।

সংহতি প্রকাশন (বাংলাদেশ)।
দাম - ২০০ টাকা।

আমি Books of Bengal এর মাধ্যমে আনিযয়েছি।
Profile Image for Minhaj Abedin.
28 reviews20 followers
December 29, 2020
যেকোনো রাষ্ট্র চালাতে দরকার কতগুলো আইডিওলজিকাল স্টেইট এপারেটাস। যেমন স্কুল, কলেজ, সমাজ কিংবা পরিবার।
এই প্রতিটি একেকটি এপারেটাস, যেগুলো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো হিসেবে কাজ করে। লুই আলথুসের রাষ্ট্র আর ভাবাদর্শ বইটি এই থিমের উপর ভিত্তি করেই যেখানে রাষ্ট্র এবং ভাবাদর্শ কীভাবে একে অপরের পাশে ঘুরপাক খায় তা নিয়ে কথা হবে।

এই রাষ্ট্রকাঠামো কখনো হয়ে উঠতে পারে নিপীড়ন যন্ত্র, রাষ্ট্রের ধরাবাধা সিস্টেমের বাইরে গিয়ে যাতে বিদ্রোহ করতে না পারে কেউ তা নিয়েও তারা সর্বদা সজাগ।

রাষ্ট্রের গঠন, এর ভাবাদর্শগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে বইটি পড়ে ফেলা যায়।
Profile Image for Siam.
43 reviews
April 11, 2024
আইএসএ ও আরএসএ - এর কার্যক্রম উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম নিজ চোখে দেখা আর অনুভূতির মধ্যে জাগ্রত থাকা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্মৃতি থেকে। প্রথমটা হলো রাষ্ট্র পরিচালনার সময় শাসক শ্রেণী যে আইডিওলজি বা আদর্শ দ্বারা মানুষের মগজ মস্তিষ্কে যেসব ধারণা প্রতিষ্ঠিত রাখতে চায় তার শাসনের সুবিধার্থে তার একটা পূর্ণাঙ্গ আবেগ। এর মধ্যে পরিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে। একটু লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে এগুলো আবেগ তৈরির জায়গা। সেই আবেগকেই আমরা আদর্শ বলে ভুল করি। আবেগ যা চেতনা আকারে আমাদের রাষ্ট্র বাংলাদেশের সামনে উপস্থিত।
আর আরএসএ মূলত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠা দমনমূলক শিরোনামের মূল চরিত্র পুলিশ, সেনাবাহিনী, আদালত এর অনুরুপ।

এখন দুইটার যে যোগাযোগ বা সম্পর্ক কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

আমার নিজস্ব একটা রিডিং আছে। সম্প্রতি বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি চালু করার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কয়েকটা ব্যাপার কথার মাধ্যমে উঠে এসেছে। তা হল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের অবদান আছে যাকে অস্বীকার করার উপায় নাই তাই এখানে ছাত্র রাজনীতি থাকতে হবে। একটু খেয়াল করেন এখানে তাদের আদর্শিক অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা এই আদর্শ সবার মধ্যে ইনপুট করতে চান। তাদের সহযোগিতা করবে আমাদের মিডিয়া। মানে একটা আদর্শ যা তারা লালন করেন সেটা তারা সবার মধ্যেই দেখতে চান। এবং তা যদি তারা দেখতে না পান কোন কারণে তারা এমন একটা ভাব দেখান যেহেতু তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী তাই তাদের খুন করে ফেলা যাবে।
এখন ধরেন আদর্শ তো একটা অ্যাবস্ট্র্যাক্ট বিষয়। এটাকে তো ধরা ছোঁয়া যায় না। তাই মারামারি হাতাহাতি টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এর দ্বারা সম্ভব নয়। সুতরাং এখন করতে হবে কি আরএসএর ব্যবহার। তারা বলেন পুলিশ যদি মেরেও ফেলেন ওই চেতনা বিরোধীদের তাহলে অসুবিধা নেই। এই যে একটা আদর্শের সাথে রাষ্ট্রের দমনমূলক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক এটাকেই আলথুসের এর আইএসএ এবং আরএস - এর প্রাথমিক পাঠ হিসেবে সামনে উপস্থিত বাস্তব উদাহরণের পরিপ্রেক্ষিতে আমি রিড করি।

এখানে একটা কথা বলা উচিত। আমি কোন মতেই ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার বিপক্ষে না। কিন্তু কোন ডমিনেটিং ডিসকোর্স যদি আদর্শ আকারে সামনে এসে দমনকে জাস্টিফাই করতে চায় তবে সেই যুক্তির পক্ষে দাঁড়ানো উচিত না। আমাদের মনে রাখা উচিত আদর্শ বাস্তবতার উপরে উঠতে পারে না।

ভাবাদর্শ নিয়ে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো এটাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মনের মধ্যে স্থান করে নেওয়া একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট বিষয়। রাজনৈতিক ভাবাদর্শ, ধর্মীয় ভাবাদর্শ তো কাল ক্রমে আমাদের মধ্যে স্থান করে নেয় এভাবেই। যার মধ্যে নেতিবাচক ও ইতিবাচক দুইই আছে।

ছোট এই বই বারবার পাঠ এর দাবি রাখে তাই।
নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ঝালিয়ে নেওয়ার কারণে যেটি মনে হয়েছে সুখ পাঠ্য।
Profile Image for Animesh Mitra.
349 reviews18 followers
September 30, 2022
Good. Universities are the ideological state apparatus of bourgeoisie state. Universities replaced Church and conduct the reproduction of the material conditions of production and the reproduction of the relations of production. Universities and family are the ideological state apparatus of bourgeoisie state. Apprenticeship is the training process of the subject to ideological indoctrination and interpellation and through this apprenticeship universities and education system conduct the reproduction of material conditions of production and the reproduction of relations of production. Althusser’s ideological state apparatus is similar to Gramsci's hegemonic apparatus. Both manufacture consent of the proletariat. Ideological state apparatus i.e. universities and family are different from repressive state apparatus i.e. police, court, law, army. Law and court are both ideological state apparatus and repressive state apparatus.
Profile Image for Ashraful Alam Khan Pranto.
34 reviews2 followers
June 19, 2023
আমাদের সমাজে লালিত ভাবাদর্শ তথা ideology গুলোর সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্পর্ক বুঝতে বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। রাষ্ট্র কেনো ভাবাদর্শ সৃষ্টি করে এবং কিভাবে তাকে নিজের বলয়ে টিকিয়ে রাখে সেটি নাগরিকদের জানা প্রয়োজন। আলথুসের মনে করেন, গণমানুষের ভাবাদর্শের উপর প্রভূত ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র নিজের কতৃত্ববাদী চেহারাসহ এগিয়ে যায়।
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.