লেখিকার লিখনী সহজ সাবলীল এবং ভীষণ রকমের সুন্দর। চরিত্র কোনোটাই নিয়ে কথা বলতে চাই না। প্লট টা তেমন আহামরি কিছু ছিল না, বলা যায় গল্পের প্লট ২০২০ এর ফেমাস গার্লফ্রেন্ড আছে তবে বাধ্য হয়ে নায়িকাকে বিয়ে করতে হয় এমন টাইপ। তাছাড়া বইটা পড়ার প্রথমে যা ভালোলেগেছিল তারপর ধীরে ধীরে ইট ওয়েন্ট ডাউনহিল😑। এতো বড় রকমের হতাশ দ্বিতীয়বার হয়েছি। গল্পের নায়ক চরিত্র ধুসরের পতন অধিক। মূল কথা আমার মতো চুজি পাঠকরা গল্পের নায়কের এক্স চায় না, তারা নায়ক নায়িকার ভালোবাসা দেখতে চাই, তাই এই বইটা আমার জন্য না।
ধূসর: ম্যারেজ ইজ রিয়েলি স্ক্যারি যদি সেই পুরুষ বউয়ের সাথে স্বামী মূলক রোম্যান্টিক আর ক্যারিং আচরণ এক্স কে দেখানোর জন্য করে, রেগে কন্ট্রোল হারিয়ে বউকে যেখানে সেখানে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে যায়, বউ অন্তঃসত্ত্বা জেনেও গলা চেপে ধরে, এক্সের ফেভারিট রঙ নীল বলে বউয়ের পরনের নীল শাল পুড়িয়ে ফেলে, নীল শাড়ি পড়তে দেয় না, এক্স কে নীলাঞ্জনা ডাকে কিন্তু বউ কে বিড়ালের বাচ্চা, How sweet! ইনিই গল্পের নায়ক —ডক্টর ধূসর। যে বউকে প্রাধান্য কম দেয়, লোভী আর চিপ মনে করে যখন মন চায় তখন ঝাড়ি, বকা সব দিয়েছে। তার এক্সকে দেখানোর জন্য বউয়ের সাথে রোম্যান্স পর্যন্ত করেছে। রাজা ধূসর কলিগ কে বেইব আর সুইটহাট বললে নায়িকা জ্বলে যা নায়ক মেনে নিতে পারে না কারণ এটা তার জন্য খুবই স্বাভাবিক। নায়ক সবাই কে কমপ্লিমেন্ট দিতে জানে কেবল নায়িকা বাদে। তারপর বউ কে বউ না মানার একটা ব্যাপার স্যাপার তার মাঝে ছিল।
ঝুম: চিদকাদুনে একটা মেয়ে, তার আত্মসম্মান নাকি প্রবল তাই এত অবহেলার পরও পিছু হটে নি। প্রথম দিকে নায়িকাকে কিছুটা ভালো লাগলেও পরে তার ভূমিকা ছিল মাটির পুতুলের ন্যায়। তার ইমোশন ঠিকঠক মতো খাটেনি, বেশ কিছু জায়গায় সে আসলে গোবর ভর্তি ব্রেইনলেস চিক এর মতো বিহেভ করেছে। সে নিব্বি টাইপ, যেমন ফেসবুকের নীল রিং দেখে ধূসরের জন্য নিজের ফেসবুক একাউন্ট ডিলিট করে দেয়😵💫। আহারে এত ভালোবাসা দিয়েও ভালোবাসা পেলো না। তবে তার প্রতি এত অবহেলা এত বর্বর আচরণ আমার খুবই খারাপ লেগেছে। তার স্বামীর এক্স নিজের ফুফাতো বোন হওয়ায় তার অনেক ইন্সিকিউরিটি ছিল ( যা, একজন মেয়ে হিসাবে এটা আমার জন্য বিশাল দুঃস্বপ্ন।)
তাছাড়া নায়িকার শাশুড়ি, জয়ত্রী আর দিগন্তকে বেশ ভালো লেগেছে। ধ্রুব কে মোটামুটি ভালো লেগেছে কিন্তু তাদের দুই ভাইয়ের রাগ আর হাত তোলার অভ্যাস জঘন্য লাগে আমার।
সর্বশেষে বলব, রিভিউ বড় করে দিতে ইচ্ছে করছে না কারণ গল্পটা পড়ার জন্য এক্সসাইটেড ছিলাম, সেই জায়গায় হতাশ হয়েছি। আমার পছন্দ হয়নি তার মানে এমন না যে আপনারও হবে না।
"নিজের বুক পকেটে রাখব বলে নিজেই তোমার আঁচলে বাঁধা পড়ে গিয়েছি। বিশ্বাস করো ঝুম! আমি আমি তোমাকে ব্যবহার করি নি। তোমার সাথে জীবনে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমার আঁচলে বাঁধা পড়ে নয়। বরং বুক পকেটে রাখব ভেবেছিলাম। কিন্তু তুমি কি করলে জানো? তুমি আমার বুকপকেট দখল করেও ক্ষান্ত হলে না। আমার হৃদয়ে রাজ করতে শুরু করলে। আমাকে তোমার আঁচলে বেঁধে তোমার উপর নির্ভরশীল করে ফেললে।"- সেদিন, লামাইয়া চৌধুরী।
★সারসংক্ষেপঃ ------------------------ আমাদের সমাজে একটা ধারণা আছে। স্ট্রাগল করা মধ্যবিত্ত ছেলের সাথে মেয়ে কখনও সুখে থাকবে না। সারাজীবন কষ্ট করে যাবে। টাকা-পয়সা,বাড়ি,গাড়ি ছাড়া দুটা মানুষ সুখী হতে পারে না। সেই ধারণা থেকে বহু বহু সুবিধাবাদী মা মেয়ের জন্ম হয় কোনো মধ্যবিত্ত ছেলেকে ছোট করার জন্য। সে সাথে এমন অনেক মেয়ে থাকে যারা জিদের বশে অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। সেই সাথে পারে ঐ মধ্যবিত্ত মানুষটার জীবন যাপন কে আপন করে নিতে। "সেদিন" উপন্যাসটি অনেকটা এই ধাচের উপন্যাস।
উপন্যাস টি আছে ধূসর নামে একজন ঝাকড়া চুলের ডাক্তার আছে। যার বই পড়লে ঘুম একদম উড়ে যায়। আছে ঝুম নামের একটি লাজুক, কনফিউজড, সাথে আবার বদমেজাজি মেয়ে। সে আবার বই দেখলে ঘুমিয়ে পড়ে। তাদের পরিচয় হয় ঝুমের কাজিন স্বতীর বিয়ের অনুষ্ঠানে। যেখানে ধূসর এক বুক ভালোবাসা নিয়ে স্বতীকে নিতে গিয়েছিল। কিন্তু কিছু সমসময়ের মধ্যেই ধূসর ঝুমের দুনিয়া সম্পূর্ণ ওলট পালট হয়ে যায়,কিছু মানুষের ভুল বোঝাবুঝি,কপটতা আর চালাকির কারণে। তাহলে কিভাবে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি মানুষ এক হলো? কিভাবে তারা দূর দেশে পাড়ি দেয়? আর কিভাবে তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলো? তা জানার জন্য অবশ্যই বইটি পড়তে হবে।
★পাঠকপ্রতিক্রিয়াঃ ------------------------------ অপরিপক্ক হাতে অনেক সুন্দর করে ধুসর আর ঝুম এর চরিত্র দুটি সাজানো হয়েছে। এতো ছোট হয়ে ও যথেষ্ট ভালো ভাবেই লেখক অনুভূতিগুলো দেখানোর চেষ্টা করেছে। আমার ধূসর এর বিবরণী অনেক ভালো লেগেছে। আর ঝুম চরিত্র টাকে অনেক চেনা চেনা লাগে। উপন্যাসে বিভিন্ন জায়গায় কাহিনির কম বেশি বিবরণী হলে ও, প্রথম উপন্যাস হিসেবে যথেষ্ট ভালো হয়েছে। ঘোরের মধ্যে এতো সুন্দর করে উপন্যাস লিখা যায় জানা ছিল না। পরবর্তী উপন্যাসের অপেক্ষায় রইলাম।। শুভ কামনা।
★পছন্দের কিছু লাইনঃ ------------------------------------ ★আরে স্বাতী,গাড়ি বাড়ি দিয়ে কি সুখ পাওয়া যায়? তবুও বলছি তুমি পাশে থেকো,আমি তোমার জন্য সব করব।সব! দিনরাত এক করে তোমাকে সুখ কুড়িয়ে এনে দিব। আই প্রমিজ দ্যাট। এমনতো নয় যে আমি অশিক্ষিত, অকর্মণ্য কিংবা বেকার। তুমি আমার পাশে থেকো শুধু। তুমি পাশে থাকলে ভাগ্য ঠিকই আমার সহায় হবে। ★নিয়তি ভয়ানক জিনিসরে ঝুম। তবে,মনে রাখবি অন্ধকারেই নক্ষত্ররা সবচেয়ে বেশি জ্বলজ্বল করে। রোদ ঝলমলে আকাশের চেয়ে মেঘে ঢাকা মন খারাপের আকাশ অনেক অনেক বেশি সুন্দর। ★তবে কি শুধু দূরে থাকলেই যোগাযোগ করতে হয়? ★পৃথিবীতে এমনও হয়, কখনও কখনও খুব দূরের কোনো মানুষের জন্যও মন কাঁদে। যাকে চেনা নেই, জানা নেই তাও তার গল্পটা টুপটুপ করে চোখের জলে ভিজে যায়। অথচ নিজেই তখন ডুবন্ত! আচ্ছা, শুভ বৃষ্টি কি আসলেই? এখনও হৃদয়ে ধ্বংসময়ী ঝড়? ★পড়ন্ত বিকেলের নীল আকাশে উড়ে যাওয়া পাখিগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো সময় আসলেই উড়ে চলে। সময় কাকে,কখন,কোথায় তার ডানায় ভর করে নিয়ে যায় তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন। ★ধূসরের ভাবনাগুলো ধূসর মেঘে ঢাকা আকাশের মতোই যা ঝুম বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীতে নামলে একরাশ নীল আকাশ সবার চোখে পড়ে।কিন্তু চোখে পড়ে না ধূসরের গহীনে তলিয়ে যাওয়া। ★মানুষ যখন রেগে থাকে তখন দেখা যায় কিন্তু অভিমানটা অনুভব করতে হয়। ★লজ্জা খুব মজার একটা বিষয়। কেউ সত্যি লজ্জা পায়,কেউ আবার লজ্জা পাওয়ার ঢং করে। এই ঢংটা আবার বিরক্তকর। কেউ এই ঢঙে সত্যি বিরক্ত হয়। কেউবা বিরক্ত হওয়ার ঢং করে। আমি বিরক্ত হবার ঢং করি। ★ওয়াইফ তো সবাই হয় কিন্তু দুঃখ কষ্টগুলোকে ওয়াইপারের মতোন মুছে দেওয়া দায়িত্ব ক'জন নিতে পারে?