সিদ্ধার্থ ঘোষের একগুচ্ছ কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস ও গল্পের সংকলন। রয়েছে সিদ্ধার্থ ঘোষের প্রথম উপন্যাস “গ্যাবনে বিস্ফোরণ” এবং আনন্দমেলায় প্রকাশিত কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস “ইটি রহস্য”। সঙ্গে আরও ২০টি কল্পবিজ্ঞানের গল্প। রয়েছে ঝন্টুমামা থেকে শুরু করে যুধিষ্ঠির, রোবট গোয়েন্দা নরোত্তম থেকে শুরু করে রোবীন, বড়দের কল্পবিজ্ঞান গল্প “অভয়ারণ্য মধুমিডা”।
আসল নাম অমিতাভ ঘোষ। কিন্তু পাঠকের কাছে তাঁর প্রসিদ্ধি সিদ্ধার্থ ঘোষ নামেই। জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায়। ছোটবেলা থেকেই লেখালিখির শুরু হলেও ১৯৭১ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পাশ করার পরেই তা পূর্ণ মাত্রা পায়। কল্পবিজ্ঞান ও রহস্য গল্প-উপন্যাস লিখে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর সৃজনশীলতা বহুধাবিস্তৃত। ছবি তোলা, সঙ্গীত ও তার রেকর্ডিং, মুদ্রণ শিল্প, পুরোনো কলকাতা, কারিগরি বিদ্যার ইতিহাস, ডিটেকটিভ ও বিজ্ঞান আর কল্পবিজ্ঞান গল্পের ক্রমবিকাশ, সিনেমার আদি যুগ ইত্যাদি বহু বিষয়ে তাঁর অসামান্য কাজ রয়েছে। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ না হলে তিনি অবশ্যই তাঁর কাজের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেতেন।
একটি সার্থক কল্পবিজ্ঞান রচনায় কী-কী থাকা উচিত? অবশ্যই থাকবে বিজ্ঞান। হয়তো অ্যাডভেঞ্চার, বা রহস্য, বা যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে রচিত হবে সেই লেখাটা। কিন্তু সবার উপরে, সবচেয়ে বেশি করে যে থাকবে, সে হল মানুষ। সিদ্ধার্থ ঘোষের স্মার্ট লেখনী, ক্ষুরধার চিন্তন, বিপুল প্রজ্ঞা— এ-সব ছাপিয়ে তাঁর লেখায় ঝলসে উঠত রঙ-বেরঙের অজস্র মানুষ। তাদের নিছক 'চরিত্র' বলতে দ্বিধা হয়। রচনার তিরিশ বছর পরেও তাদের দুর্বলতা, ভয়, মোহ, আশা— এদের মধ্যে আমি-আপনিই আছি, সে সমকালে হোক বা ভবিষ্যতে, কলকাতায় হোক বা ভিনগ্রহে। আর এইজন্যই 'গ্যাবনে বিস্ফোরণ' হয়ে ওঠে এক অসামান্য উত্তর-ঔপনিবেশিক বিশ্লেষণ, 'ই.টি রহস্য' হয়ে ওঠে মনস্তত্ত্ব ও তৃতীয় রিপুর খেলা। সিদ্ধার্থের এই মানুষকেন্দ্রিকতার জন্যই 'রোবীন' পড়লে চোখ ভিজে ওঠে, আবার 'টাইম মেশিনের টোপ' বা ঝন্টুমামার বিবিধ কার্যকলাপ পড়ে মুখে ফোটে হাসি। ক্ষণজন্মা মানুষটির এই রচনাদের প্রাসঙ্গিক তথ্যের সঙ্গে পুনরুদ্ধার করে প্রকাশকেরা আমাদের সবার ধন্যবাদার্হ হলেন। ইতোমধ্যে, সার্থক বাংলা কল্পবিজ্ঞানের অনুরাগী হলে কোনোমতেই এই বইটিকে (ও তার পূর্বসূরিকে) উপেক্ষা করবেন না।