Mir Mosharraf Hossain (Bangla: মীর মশাররফ হোসেন) was a Bengali language novelist, playwright and essayist in 19th century Bengal. He is principally known for his famous novel Bishad Sindhu. He is considered as the first novelist to emerge from the Muslim society of Bengal.
কুষ্টিয়া, শালঘর মধুয়ার নীল কুঠী। মালিক মিঃ কেনি। এই ইংরেজ যখন জাহাজ থেকে বাংলার মাটিতে পা রাখেন তখন তার কিছুই ছিলো না। কুষ্টিয়ার মাটিতে প্রথমে কোম্পানির পক্ষ থেকে জমিদারী পত্তন করে শুরু করেন নীল চাষ। নিজ জমিদারীর প্রত্যেক প্রজাকে বাধ্য করেন নীল চাষে। যারা নীল চাষ করতে রাজি হননি তাদের প্রত্যেকের উপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতনের ষ্টীম রোলার। বন্দী করে রাখা হয় কুঠীর কারাগারে, জালিয়ে দেয়া হয় ঘরবাড়ি, উচ্ছেদ করা হয় বসত ভিটা থেকে, লিখে পড়ে নেয়া হয় তাদের সম্পত্তি। হিন্দু মুসলিম, ধনীর গরীব তালুকদার সবার একই অবস্থা করা হয়। এরপরে কেনী তার পাশের জমিদারদের দিকে নজর দেন। ভুলটা হলো এখানেই। পাশের জমিদার প্যারীসুন্দরী ছিলেন স্বাধীন চেতা আর প্রজাবৎসল। কেনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে ফুসে ওঠেন এই মহিয়সী নারী। ঘোষণা করেন যে ব্যাক্তি কেনীর মাথা এনে দিতে পারবে তাকে দেয়া হবে হাজার টাকা পুরস্কার। শুরু হয় দুপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনীর মুখোমুখি রক্তাক্ত লড়াই। লাঠি সরকি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে একে অপরের উপর। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। কিন্তু কেনীর বিলেতি বুদ্ধির কাছে হেরে যান প্যারীসুন্দরী। সব হারিয়ে পথের ফকিরে পরিনত হন তিনি। এরপরে কেনী নজর দেয় আরেক জমিদার ভৈরব বাবুর দিকে। কিন্তু বুদ্ধির চালে তিনি ভৈরব বাবুর কাছে হেরে যান। হিন্দু জমিদারদের সাথে যার এমন শত্রুতা প্রতিবেশী মুসলিম জমিদার মীর সাহেবের সাথে ছিলো কেনীর গভীর বন্ধুত্ব। বিপদ আপদ সবতেই একে অপরকে সর্বদা সাহায্য করেছে সবসময়। মীর সাহেব স্ত্রী পুত্র হারিয়ে একমাত্র সম্বল ভাস্তী। ভাস্তীকে বিয়ে দিয়েছেন সাগোলামের সাথে। কূটবুদ্ধি সম্পন্ন সাগোলাম ষড়যন্ত্র করে মীর সাহেবকে উচ্ছেদ করেন তার ভিটেমাটি থেকে। পাশের এলাকায় বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেন মীর সাহেব। কিন্তু কেনীর সাথে একটা যোগাযোগ থেকেই যায় মীর সাহেবের। এদিকে কোম্পানি শাসন বিলুপ্ত হয়ে ভারত বর্ষের বুকে রাজার শাসন চালু হয়। ঘোষণা করা হয় কোন কৃষক যদি নীল চাষ করতে রাজি না হয় তাহলে তাকে জোর করা যাবেনা। শুরু হয় বাংলার বুকে নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রথম সংঘবদ্ধ আন্দোলন নীল বিদ্রোহ। কিন্তু কেনীও থেমে থাকার পাত্র নয়। সে যেভাবেই হোক নীল চাষ করবেই। এই যুদ্ধে মীর সাহেব যেমন কেনীর পক্ষে তেমনি তার ভাস্তী জামাই সাগোলাম থাকে কৃষকদের পক্ষে। এদিকে কৃষকেরা পাকা নীল কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। ক্ষেপে যায় কেনী, বরকন্দাজদের হুকুম দেয় জ্বালিয়ে দাও গ্রাম, পুড়িয়ে দাও ঘরবাড়ি, ধরে আনো হারামজাদা বাঙ্গালদের। লাঠিয়ালরা গ্রামে প্রবেশ করতেই ঝাপিয়ে পড়ে গ্রামবাসী। ল্যাংটা হয়ে বন জঙ্গল ডিঙিয়ে কোনমতে জান নিয়ে পালিয়ে যায় লাঠিয়াল বাহিনী। কি করবে কেনী? নীল বিদ্রোহের এই যুদ্ধে কারা জিতেছিল তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু নীলকর ইংরেজ কেনীর শেষ পরিনতি কি হয়েছিলো? বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মোশাররফ হোসেন এর আত্মজৈবনিক উপন্যাস - উদাসীন পথিকের মনের কথা। বইতে লেখক কুষ্টিয়া কেন্দ্রিক নীল চাষ ও নীল বিদ্রোহের কথা তুলে ধরেছেন নিখুঁত চিত্রে। জাস্ট অসাম একটা বই। রেটিং ৫/৫ Free PDF In Seiboi App