Shawkat Ali (Bangla: শওকত আলী) is a major contemporary writer of Bangladesh, and has been contributing to Bangla fiction for the last four decades. Both in novels and short stories he has established his place with much glory. His fiction touches every sphere of life of mass people of Bangladesh. He prefers to deal with history, specially the liberation war in 1971. He was honored with Bangla Academy Award in 1968 and Ekushey Padak in 1990.
কেন্দ্রীয় চরিত্র আলী আকবরের বয়ানে উপন্যাসের কাহিনীর ব্যাপ্তি ‘৭১ থেকে ‘৮১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে আলী আকবর ভার্সিটির শেষবর্ষের পরীক্ষা দিয়ে জীবনে কী করবে ভাবতে শুরু করে। চাকরির অপেক্ষা করে, টিউশন পাবার চেষ্টা করে কিন্তু পায় না। দেশে বামরাজনীতির ভাঙাগড়া চলছে, সেখানে আলী আকবরের বন্ধুরা জড়িয়ে পড়ে। ভার্সিটি পরবর্তী জীবনে সহপাঠী বন্ধু-বান্ধবীদের, মেসমেটের সম্পর্কে ভাঙা-গড়া দেখে অবাক হতে থাকে আলী আকবর। তাদের এতদিনের সম্পর্ক, এত অপেক্ষার পরিণতি আলী আকবরের মনোজগতে তীব্রভাবে নাড়া দেয়।ফ্ল্যাশব্যাকে ‘৭১ সালের যুদ্ধে কিশোর আকবর আলী তার পরিবারে কাছে ফেরার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু যুদ্ধের পর যশোরে ফিরে সে আদৌ কাউকে পাবে? কার অপেক্ষায় ফিরবে আকবর আলী?
আলী আকবর দেখে তাদের চেষ্টায় তৈরী একটি পত্রিকার সম্পাদক কীভাবে তরুণদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে। যুদ্ধে নিহত নিজ পরিবারের বিচার পেতে ব্যর্থ আলী আকবর ভাবতে থাকে, "এই কি জীবনের ভেতরকার রূপ? যাপন করলেই কি জীবন জীবন হয়? ভেসে রইলাম শুধু, কোথাও যুক্ত হলাম না, শিকড় ছড়ালাম না। নিজেকে আলোর দিকে বাতাসের দিকে বৃহতের দিকে নিয়ে যেতে পারলাম না-এ জীবন কি জীবন? স্কুলে পড়ার সময় ছেলেবেলায় ভাবত, বড় হই, তখন আমি দেখে নেব খুনিদের। যখন বয়স হলো, তখন ভাবত, লেখাপড়া শেষ হোক, তখন দেখব। লেখাপড়াও তো শেষ হলো, এখন চিন্তা করলে ভয়ানক ছোট মনে হয় নিজেকে। মনে হয়, যে কাজগুলো সে করছে সেগুলো তার নিজের নয়-অন্যের কাজ সে করে দিচ্ছে। তাহলে কি জীবনভরই অন্যের কাজ করে যাবে সে?"
অন্যদের দেখে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য নিয়েও আকবর আলী ভাবতে থাকে। তার জীবনেও প্রেম আসে। তারপর সেই অপেক্ষা!.....’অপেক্ষা’ উপন্যাসটি ‘৭১ পরবর্তী সময়ের তরুণ সমাজের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি; একই সাথে সুবিধাবাদী মহল ও রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের কাহিনি। (জুলাই বিপ্লবের মতো) তৎকালীন তরুণ সমাজ সদ্য জন্ম নেয়া বাংলার বুকে সব অপচেষ্টা রুখে দিয়ে নতুন দিনের অপেক্ষায় থাকে। আকবর আলীর স্মৃতি তীব্র প্রত্যাশা নিয়ে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে, জ্বলতেই থাকে। এই অপেক্ষার শেষ হবে কোনদিন?
আলী আকবর ইউনিভার্সিটি জীবনের শেষ পরীক্ষাটা দিয়ে বিশ্রি একটা শূন্যতার মধ্যে পড়ে গেলো । একেবারে যে বেকার সে, তা নয় । দুটো টিউশানি আছে তার তবে তাতে তো আর পুরো জীবন চলতে পারে না। তাছাড়া টিউশানিই বা কতদিন থাকবে ! দুটো টিউশানি করে সারাদিন কাটানো যায় না । যেতে পারে না । সকালবেলা মেসের সবাই যার যার নিজের কাজে বেরিয়ে যায় । সেও পুরোনো অভ্যাস মতো খাওয়া-দাওয়া সেরে জামা-কাপড় পড়ে তৈরি হয় । কিন্তু তারপর আর বেরুনো হয় না । কোথায় যাবে সে ? তার যাওয়ার তো কোন জায়গা নেই । আলী আকবর রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটে ... হাঁটে আর নিজেকে প্রশ্ন করে - ''কি আকবর এখন কি করবে ঠিক করলে ? এতোদিন তো ভার্সিটির পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছিলে। এবার ? এবার কিসের জন্য অপেক্ষা করবে বলো তো ''