ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র অলক ঘোষের ব্যাপারে জানাশোনা একদমই ছিল না। মির্চি বাংলার পুরো ক্রেডিট, অসম্বভব দারুণ এক কিশোর উপন্যাসের সাথে পরিচয় হলো।
লেখক ও সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ রাহার ছদ্মনাম অলোক ঘোষ। এই নামেই তিনি 'দস্তার আংটি' রচনা করেন। বইটি নতুন করে প্রকাশ করেছে কলকাতার 'বুক ফার্ম'। পঞ্চাশের দশকের পটভূমিতে লেখা টানটান উত্তেজনায় ভরা কাহিনি 'দস্তার আংটি'।
লেখক অলোক ঘোষ গল্প ফেঁদেছেন বেশ ভালো। সেখানে পরতে পরতে টুইস্ট। দ্রুত একের পর এক ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে একটু বেশিই উর্বর মগজের পরিচয় দিয়ে ফেলেছেন। যেমন: হেলিকপ্টার নিয়ে বাড়াবাড়ি না করলেই চলতো। গল্প পড়লে মনে হবে পঞ্চাশের দশকে ভারতের পুলিশের জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা ছেলের হাতে মোয়া ছিল!
যাহোক, বিশেষ মাথা খাটিয়ে না পড়ে শুধু উপভোগের জন্য পড়তে আনন্দ পাবেন এবং শেষের চমকে হবেন রোমাঞ্চিত।
অলোক ঘোষ ওরফে সুধীন্দ্রনাথ রাহা ষাটের দশকে লিখেছিলেন এই দস্তার আংটি। এতো পুরানো লেখা, এখনো কি দারুণ প্রাণবন্ত লাগলো। পুরো বইটা ছোটই। চারটে লেখা। দস্তার আংটিটাই বেস্ট।
ঘটনা শুরু হয় এক খরখরে গরমের দুপুরে। পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই আবিষ্কার হলো খোদ পুলিশের লাশ! কত বছর ধরে এই লাশ এখানে আছে, কিভাবে হলো এসব এই বের করতে করতে বেরিয়ে আসলো বিরাট কেলেঙ্কারি।
পুরাতন গল্পটাকে অতটা সিরিয়াসলি নেইনি বলেই শেষে একটা টুইস্ট খেয়ে গেছি। আমি বলতে পারছিনা খুব অসাধারণ গোয়েন্দা গল্প। কিন্তু নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য একটা ইন্টারেস্টিং থ্রিলার। বাকিগুলো অত ভালো লাগেনি। এটাই মনে ধরেছে। পুরানা থ্রিলার, গোয়েন্দা গল্প অনেকেই পছন্দ করেন। পড়ে না থাকলে পড়ে ফেলুন।
এত আগের গল্প, তবুও কতটা দারুন! কেবল মাত্র টাকার পরিমাণটা আর টেলিফোনের ব্যাপারটুকু আধুনিকায়ন করা গেলে গল্পটা অনায়াসে আজকের গল্প বলে চালিয়ে দেওয়া যেত। তবে এটুকুও তৎকালীন পরিস্থিতির ছাপ তুলে ধরে বৈকি! ভাল লাগল সত্যিই। অলোক ঘোষ, অর্থাৎ সুধিন্দ্রনাথ রাহা যথেষ্ট গতিময় একটি গল্প উপহার দিয়েছেন। তৎকালীন পাঠকরা আসলেই ভাগ্যবান ছিল। এক এক জন অসাধারন লেখক তাদের দিয়েছেন অনাবিল আনন্দের উপলক্ষ। দারুন।
তুখোড় গল্প।সাধারণ লাশ খুঁজে পাওয়া দিয়ে গল্প শুরু হলেও পর পর গল্পে টুইস্ট আসে।খুনীর যা বুদ্ধি বাব্বাঃ।আমার তো দারুন লাগলো। একটু বলতে পারি সবার ভালো লাগবে গল্পটা।
গ্রামের নাম কেষ্টপুর। মুচিরাম নামে এক চাষী চাষের জন্য মাটি কাটতে কাটতে একটা আস্ত কঙ্কাল খুঁজে পায়। তদন্তে নামে পুলিশ। এই কঙ্কালের সাথে তিনটে জিনিস পাওয়া যায়, তার মধ্যে একটা দস্তার আংটি। পুলিশের সন্দেহ হয় ৮ বছর আগে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া পুলিশ মতি হাজরার। এরপর গল্পে আসতে থাকে চমক। গল্প অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করে। কার কঙ্কাল সেটা ? সত্যিই কি মতি হাজরার? আর কি কি রহস্যের মোড়ক খুলতে থাকে ??
গ্রামের নাম কেষ্টপুর। শুষ্ক মৌসুমে জমিতে পানি দেয়ার জন্য নালা কাটতে গিয়ে নদীর গর্ভ থেকে উঠে এলো এক কঙ্কাল | কঙ্কালের সাথে পাওয়া গেল পুলিশের ইউনিফর্মের বেল্টের ব্রকলেস| যেখানে লিখা WBP | যার অর্থ দাড়ায় ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ | স্থানীয় পুলিশ ইনস্পেকটর খোঁজখবর নিলে জানা যায়, আট বছর আগে এই থানার তখনকার ইন্সপেক্টর ও আরো দুই দারোগা নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন থানার কিছু টাকা নিয়ে |
এখন এটা যদি তাদের একজনের লাশ হয়ে থাকে তাহলে বাকী দু'জন তাহলে কোথায়| অনেকটা ক্লু-লেস কেইসের তদন্ত করতে গিয়ে একে একে খুন হয় আরো তিনজন | সামনে আসতে থাকে চোরাচালান জাল-টাকার মতোন অপরাধ | পুলিশ কি পেরেছে শেষ পর্যন্ত রহস্যে জট ভাঙাতে? সত্যিকারের খুনি কে জানতে পড়তে হবে শেষ পাতা পর্যন্ত |
টানটান উত্তেজনা ও রোমাঞ্চকর কাহিনী গল্পের পরতে পরতে টুইস্টে ভরপুর | আমার পড়া অন্যতম সেরা থ্রিলার ||
এতো আগের একটা গল্পে লেখক যেভাবে থ্রিল ধরে রেখেছেন তা অবশ্য ই প্রশংসার দাবিদার। আমি অনেক দিন পর এরকম একটা গোয়েন্দা টাইপ গল্প উপভোগ করলাম।আমার ভাষায় 'সেই হইছে' গল্পটা।
ধন্যবাদ মিরচি কে এমন একটা গল্প শোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। অনেক অনেক ভালোবাসা🖤
খুব ভালো একটা থ্রিলারধর্মী কাহিনী পড়লাম। তবে আরো একটু বিস্তৃত লিখলে বোধয় আরো ভালো লাগতো। গল্পটা যেন খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, তবুও এত সুন্দর কিশোর কাহিনী অনেকদিন পড়িনি।