পুরুষ প্রধান প্রাচীন মিশরীয় রাজনীতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নারী। তাঁরাও ছিলেন ফারাও পদের অধিকারী, প্রাচীন মিশর শাসন করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের রহস্যে ঘেরা জীবন ছিল নানান বিতর্কে জর্জরিত। ইতিহাস থেকে তাঁদের মুছে প্রচেষ্টাও কম হয়নি। কিন্তু ইতিহাস তার ছাপ রেখেই যায়।
সেই সমস্ত রহস্যজনক বিতর্কের কিনারা পৌঁছে আধুনিক মিশরে। বিভিন্ন আর্কিওলজিক্যাল সাইট ঘুরে যোগাড় করব প্রমাণ। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে মিশরের রানীরা বলবে নিজেদের কথা। ইতিহাসকে উল্টে পাল্টে দেখা হবে। রানীরাও সমস্ত বিতর্কের উত্তর দিয়ে, সমস্ত রহস্য ভেদ করে পাবে তাঁদের যোগ্য সম্মান।
মিশরের কথা শুনলেই আমাদের রক্ত চলাচল দ্রুততর হয়ে ওঠে। আসলে মমি, পিরামিড, বালি আর নীলনদ মানেই আমাদের কাছে রোমান্স আর রোমাঞ্চের যুগলবন্দি। আসলে এত বই, এত সিনেমা আর গল্পের পরেও মিশরের ইতিহাসের অনেকটাই আমাদের কাছে রহস্যাবৃত। তার মধ্যে একটা বড়ো জায়গা নিয়ে আছে তার ইতিহাসে থেকে যাওয়া কিছু ফাঁকফোকর। পড়তে গেলে মনে হয়, দেওয়ালের ওই জায়গাগুলোতে কিছু লেখা ছিল— যাদের পরে মুছে ফেলা হয়েছে। বইয়ের মাঝখান থেকে ছিঁড়ে নেওয়া কিছু পাতা যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ঠিক সেই জায়গাতেই আলোকপাত করেছে এই বই। লেখক তাঁর নিবিড় পাঠের সাহায্যে মিশরের ইতিহাসের ক'টি ছিন্নপত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন এই বইয়ে। কী আছে এই বইয়ে? এতে মিশরের রানিদের কথা বলা হয়েছে। আক্ষরিক অর্থে ঐতিহাসিক নানা কীর্তি স্থাপন করেও ইতিহাসে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তার জন্য দায়ী ঈর্ষাকাতর উত্তরাধিকারী এবং পুরুষতন্ত্রের ষড়যন্ত্র। লেখক সযত্নে, সসম্ভ্রমে এই বইয়ে লিখেছেন তেমনই ক'জন রানির কথা। তাঁরা হলেন~ ১. হেতাফেরিস; ২. হাতসেপসুট; ৩. নেফারতিতি; ৪. ক্লিওপেট্রা (অ্যাসটেরিক্সের কমিক্সে চরিত্রটির নাক বা লিজ টেইলরের বক্ষ-বিভাজিকা দেখেই আমরা মজে যাই। আদত ইতিহাসে সে-সবের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মানুষটি); ৫. মেরনিথ
এই লেখার ভালো দিক কী-কী? প্রথমত, প্রত্নতত্ত্ব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কীভাবে নীরব ইতিহাসকে বাঙ্ময় করে তোলা যায়— সেটি অত্যন্ত ভালোভাবে বুঝিয়েছেন লেখক। দ্বিতীয়ত, আমরা এমন কিছু মানুষের জীবন ও কীর্তি বিষয়ে জানতে পেরেছি, যাঁদের সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ বা বিশেষ বিষয়ের পাঠক না হলে কেউ কিছু জানতে পারে না। তৃতীয়ত, লেখক কোথাও জ্ঞান দেননি। বরং 'আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো সখা'-কে বেদবাক্য হিসেবে গ্রহণ করে তিনি আমাদের মিশর ভ্রমণ করিয়েছেন পোক্ত গাইড হয়ে।
বইয়ের কোন-কোন জিনিস আমার পোষাল না? ১) লেখক সাসপেন্স তৈরি করার জন্যই বারবার 'রহস্য', 'ষড়যন্ত্র', ইত্যাদি শব্দ বলে এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি করে লেখাটাকে শ্লথ করে দিয়েছেন। আমার মনে হয়েছে, এটা একটা আলাদা হার্ডকভার হওয়ার মতো লেখা ছিল না। বরং একটা বড়ো প্রবন্ধ হিসেবে এটা মিশর বিষয়ক কোনো বৃহত্তর বইয়ে সংযোজিত হলে চমৎকার হত। ২) বানান নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। রানি বানানটাই তো আদ্যোপান্ত ভুল ছাপা হয়েছে! ক্রিয়াপদের অন্তে 'ও' কার-ও রয়ে গেছে বহু জায়গায়।
তবে, এ-সব সত্বেও এই বই স্পেশাল। 'হায়রোগ্লিফের দেশে'-র পর এই আরেকটি বই আমরা পেলাম যা তথ্যনিষ্ঠ হয়েও আমাদের মতো সাধারণ পাঠকের জন্য লেখা হয়েছে। আর ওই যে বললাম! লেখক একটিবারের জন্যও জ্ঞান দেননি। বিশ্বাস করুন, কোনো বইয়ের সবচেয়ে বড়ো অভিজ্ঞান বোধহয় ওটাই। হ্যাঁ, সব মিলিয়ে আমি বইটাকে 'বেশ ভালো'-ই বলব। তবে আশা করি পরবর্তী সংস্করণ প্রকাশের সময় বানানের ব্যাপারটা শুধরে নেওয়া হবে। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।
বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা দেখে ঘাবড়ে গেলেন তো? ভাবছেন এত পাতলা বইয়ে মিশরের রানির গল্প এটে গেল? আসলে “মিশর”, এই কথাটা শুনলেই আমাদের রোমাঞ্চ কয়েকগুন বেড়ে যায় তাই না!? যেন কোন গল্প, কোন সিনেমা, কোন তথ্যচিত্রই সেই পিপাশা মেটাতে পারে না আমাদের। তবে লেখক চেষ্টা করেছেন খুব সুন্দর, এই বইতে স্থান পেয়েছে মিশরের কিছু বিস্মৃতপ্রায় মহারানীর আখ্যান, তাঁরা কখনও স্ত্রী রুপে পাশে দাঁড়িয়েছেন ফারাও স্বামীর, কখনও জননী রুপে নাবালক সন্তানের হয়ে চালিয়েছেন রাজ্যপাট আবার কখনও ক্ষমতার লোভে গুপ্তহত্যা করিয়েছেন ষড়যন্ত্রকারীদের এমনকি হাতে এসে লাগে নিজের বোনের রক্তও!
সেইসব গল্প আজ নীল নদের স্রোতে ভেসে কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে, লেখক সেখান থেকেই তুলে এনেছেন কিছু তথ্যভিত্তিক আলোচনা। এই বইতে স্থান পেয়েছেন মিশরের এই সকল একদা ক্ষমতাশালী ও রহস্যে ঘেরা নারী চরিত্ররা, যাদের হাতেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লেখা হয়েছিল মিশরের ইতিহাস, তাঁদের একটা তালিকা এখানে দেওয়া হল, তাঁরা হলেন
1. হেতাফেরিস 2. হাতসেপসুট 3. নেফারতিতি 4. ক্লিওপেত্রা 5. মেরনিথ এই পাঁচ রানী, তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবন তাদের শাসনকাল তাঁদের ক্ষমতা, তাঁদের তীক্ষ্ণ কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র এমনকি তাঁদের মৃত্যুর রহস্যে দিয়েই তৈরি এই বই, যদিও বই না বলে অনু-বই বলা ভালো, লেখক অনেক তথ্য জোগাড় করে সেগুলিকে একটা জিগসউ পাজলের মতো সাজিয়েছেন, ওনার এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়, অনেকেই বলতে পারেন মিশর নিয়ে জানার জন্যে ভালো কোন চ্যনেলের তথ্যচিত্র দেখে নিলেই হয়, আবার বই কিনে পড়ার কি আছে? তাঁদের জন্যে বলি বাংলায় কিন্তু মিশর নিয়ে মৌলিক গবেষণাভিত্তিক বা গবেষণাপত্র থেকে সারাংশ তুলে এনে তাকে সহজ সরল ভাষায় লেখা বই এর সংখ্যা হাতে গোনা, এবং নিঃসন্দেহে এই বই তাঁদের মাঝেও নিজের জায়গা করে নিতে পারবে, সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত “হায়ারোগ্লিফের দেশে” র সাথেও এর তুলনা চলতে পারে, লেখার ধরন ও কাহিনী বিন্যাসের বিচারে দ্বিতীয় বইটিকেই আমি এগিয়ে রাখবো কিন্তু এই বইও তার নিজের জায়গা থেকে স্বতন্ত্র, লেখকের তথ্য সাজানো এবং একটা অধ্যায় থেকে পরের অধ্যায় যাওয়ার ধরন বেশ সহজ সরল হয়েও বেশ মনকাড়া, কখন যে এক নিঃশ্বাসে পৃষ্ঠা উল্টে বইটাই শেষ করে ফেলবেন নিজেও বুঝতে পারবেন না।
এই বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে ইতিহাস, নীল নদের দেশের বহু ঘটনার দলিল এই বইটা অজানা অনেক গল্প বলে, গল্প বলে রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রের, উঠে আসে প্রাচীন লোকগাঁথা, কিভাবে ইতিহাসবিদরা খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া এক শহর, কি লেখা ছিল সেইসব হায়ারোগ্লিফে? কোন অজানার সন্ধান দিয়েছিল সেই লিপি? এখানে পাবেন সেই গল্পও! এরচেয়ে বেশী বললে এই বইয়ের “রহস্য” আর রহস্য থাকবে না। এবার প্রশ্ন আসতে পারে এই বই কাদের জন্যে?
তাইলে বলতে হয় মিশর নিয়ে বাজারে ভালো মানের তথ্যভিত্তিক বই খুব কম, যা আছে বেশীরভাগ বিদেশী লেখক ও প্রকাশনীর, তাদের দামও আকাশছোঁয়া, সেক্ষেত্রে এই বই “শুরুর শুরু”র জন্যে সবচেয়ে ভালো, যারা প্রথমবার মিশর নিয়ে পড়তে চায় তাঁদের জন্যে এই বই একদম উপযুক্ত, এমনকি স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া কেউ যে বই পড়তে ভালবাসে এই বইটা দেওয়াই যায় উপহার হিসাবে (যদি না উপহার হিসাবে বই দেওয়ার পাট চুকে গিয়ে না থাকে বা “আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না” টাইপ হয় সেক্ষেত্রে আলাদা), বিশ্বাস করুন যাকে উপহার দেবেন তারও ভালো লাগতে বাধ্য!
এবার আসি বইয়ের বাহ্যিক রুপ নিয়ে, বইটি শক্ত বোর্ড দিয়ে সুন্দর করে বাঁধানো, পৃষ্ঠার মান ও ফন্টও বেশ সুন্দর, চোখ টানবে প্রচ্ছদটিও, প্রুফ রিডিং এর কাজটাও ���ন দিয়েই করা হয়েছে বেশ ভালো ভাবেই, বইটি মাপেও বেশ মাপসই, খুব সহজেই আপনার অফিসের ব্যাগে এমনকি জিন্সের পকেটেও নিয়েও ঘুরতে পারেন আর অফিস যাওয়ার সময় টুক করে পড়তে পড়তে যেতেই পারেন, এত সুন্দর একটা বই আমাদের দেওয়ার জন্যে লেখকের সাথে সাথে অরন্যমনেরও ধন্যবাদ প্রাপ্য, এভাবেই এগিয়ে চলো আরও ভালো মানের বইয়ের আশায় আছি।
লেখক ও প্রকাশকের সুস্থতা কামনা করি, ভালো থাকবেন। বই পড়ুন, বই উপহার দিন। ধন্যবাদ..
নীলনদের দান মিশর নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহলই আমাকে আবার টেনে আনলো লেখক বিশ্বজিৎ সাহা-এর মিশর কেন্দ্রিক আরও একটি বইতে। কিছুদিন আগে লেখকের লেখা 'সূর্যের রং কালো' বই থেকে জেনেছিলাম মিশরের কালো ফারাওদের সম্পর্কে। যারা আমাদের পরিচিত ফারাওদের মতোই ছিল শক্তিশালী এবং সুযোগ্য শাসক। কিন্তু প্রাচীন মিশরের সর্বত্রই শুধু পুরুষ ফারাওদের কথাই বলা হয়েছে। কোনো নারীর উল্লেখ কোথাও নেই। অথচ প্রাচীন মিশরে নারীরাও পুরুষদের সমান অধিকার ভোগ করতো। তাহলে প্রশ্ন হলো মিশরের ইতিহাসে নারীদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা জানা যায় না কেন? আসলে কালো ফারাওদের মতো নারীদের ভূমিকাকেও প্রাচীন মিশরের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস তার ছাপ রেখেই যায়। লেখক এই বইতে সেরকম উল্লেখযোগ্য পাঁচজন শক্তিশালী নারীর কথা বলেছেন যারা একসময় ছিলেন প্রাচীন মিশরের সর্বেসর্বা।
🍂 ১) হেতাফিরিস~ মহান ফারাও খুফুর মা যাকে 'ডটার অফ গড' বলা হয়েছে, তিনিই হলেন হেতাফিরিস, যিনি একসময় ছিলেন প্রাচীন মিশরের সর্বেসর্বা। এতো ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ইতিহাস কেন হেতাফিরিসকে তার যোগ্য সম্মান দিল না? কেন সে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল?
🍂 ২) হাতশেপসুট~ রানী হিসেবে প্রাচীন মিশরের প্রথম ফারাও ছিলেন হাতশেপসুট। দীর্ঘ ২১ বছর তিনি আপার এবং লোয়ার ইজিপ্টে একচ্ছত্র শাসন করেছিলেন। কঠিন হাতে দমন করেছিলেন যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে। তাহলে প্রশ্ন হলো এরকম এক নারীকে কেন ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল? এরকম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা করতে গিয়ে নিশ্চয়ই ততোধিক বড়ো ষড়যন্ত্র করতে হয়েছিল?
🍂 ৩) নেফারতিতি~ প্রাচীন মিশরের সৌন্দর্যের প্রতীক তথা সর্বকালের চর্চিত ফারাও তুতানখামেনের মা ছিলেন নেফারতিতি। ফারাও আঁকেনামুনের সাথে বিবাহের পর তিনিই হয়ে উঠেছিলেন মিশরের সর্বেসর্বা। এরকম এক নারী কিভাবে হারিয়ে গিয়েছিল ইতিহাস থেকে?
🍂 ৪) ক্লিওপেট্রা~ মিশরের সর্বাধিক চর্চিত রহস্যময়ী নারী ক্লিওপেট্রা, যার সৌন্দর্যের জালে বশ হয়েছিলেন সেই সময়কার শক্তিশালী পুরুষ তথা রোমান সাম্রাজ্যের অধীশ্বর জুলিয়াস সিজার এবং মার্ক অ্যান্টনি। যার লাস্যময়ী রূপ সারা পৃথিবীকে তার পায়ের কাছে ঝুকিয়ে দিতে পারতো, কেন মিশর তাকে ভূলে গিয়েছিল?
🍂 ৫) মেরনিথ~ ফারাও ডেন-এর মা ছিলেন মেরনিথ। ২৯৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ মিশরের গণবিদ্রোহ চলাকালীন ফারাও পদ শূন্য থাকায় পুত্র ডেন কে তিনি ফারাও পদে বসান, কিন্তু ডেন এর বয়স কম থাকায় তিনি সকল ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তিনিও হারিয়ে গিয়েছিলেন মিশরের ইতিহাস থেকে।
ইতিহাস ঠিক তার ছাপ রেখেই যায়। কালের নিয়মে যেমন অনেক কিছু ইতিহাস হয়ে যায়, ঠিক তেমনই কালের নিয়মে আবার সেই ইতিহাস সকলের সামনে প্রস্ফুটিতও হয়। উল্লিখিত এই পাঁচজন ক্ষমতাশালী নারী কোন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন ইতিহাস থেকে এবং কী করেই বা ইতিহাস তাদের আবার লোকচক্ষুর সামনে ফিরিয়ে আনলো সেটাই এখানে লেখকের ভাষায় ফুটে উঠেছে।
লেখকের লেখা 'সূর্যের রং কালো' পড়ে এতোটাই ভালো লেগেছিল যে চোখ বন্ধ করে এই বইটি কিনে নিই। না, কিনে কোনো ভুল করিনি। মিশর নিয়ে আমার যে কৌতূহলের খোরাক তা অনেকটাই মিটেছে। লেখকের লেখার যে দিকটা আমার সবথেকে বেশি ভালো লাগে তা হলো তিনি শুধু তথ্য দিয়েই ছেড়ে দেন না। তথ্যের সাথে তিনি বিভিন্ন আর্কিওলজিক্যাল স্থান ঘুরে তার সাক্ষ্যপ্রমাণও তুলে দেখান। স্বল্প পরিসরের বই হওয়ার পরেও ১৫ টি অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে তিনি যে দক্ষতার সাথে সমস্ত বিষয় উল্লেখ করেছেন, তার জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানাই।
আমার বইটি খুব ভালো লেগেছে। মিশর নিয়ে আগ্রহী পাঠকরা একবার বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।
মিশরের ফারাওদের কথা অহরহ শোনা যায়।কিন্তু বরাবরই সেখানে পুরুষদের কথা উঠে এসেছিল।নারীদের অবদান খুব কমই সামনে এসেছে।এই বই পড়েই জানতে পারি যে,একসময় ফারাওদের আসনে নারীরা'ও বসেছিল।প্রাচীন মিশরের অন্যতম নারী ‘ক্লিওপেট্রা’র নাম আগে জানলেও;এই বইয়েই প্রথম জানতে পারি ‘নেফারতিতি',‘হাতসেপসুট','হেতাফেরিস' প্রমুখের নাম!
বইটি ছোট হলেও উপস্থাপনা অসাধারণ!প্রথমে গল্পাকারে প্রাচীন মিশরের বর্ণনা দিয়ে এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেখিয়েছেন লেখক।