সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তর্ধানের পর আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিপুল সোনা-দানা কোথায় গেল? নানাসাহেব পেশোয়াদের ধন-সম্পদ নিয়ে কোথায় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন? হিটলার কিংবা সাদ্দাম হোসেনের খাজনা কোথায় হারিয়ে গেল যার হদিশ আজও মেলেনি। আলেক্সান্ডারের সোনায় মোড়া সমাধি কোথায় আছে? আলেক্সান্ড্রিয়ার গ্রন্থাগারে আগুন লেগেছিল কেন? জলদস্যুরা কিভাবে লুকিয়ে রাখতেন তাঁদের লুঠ করা সম্পদ? রবিনসন ক্রুসোর দ্বীপে কি সত্যিই আছে গুপ্তধন? উপপকথার অ্যাটলান্টিস কিংবা ইনকাদের বিপুল সম্পদের শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল? ওক কিংবা কোকাস দ্বীপে আজও গুপ্তধনের খোঁজে কেন চলে অনুসন্ধান? 'দেশ বিদেশের গুপ্তধন' বইয়ের পাতায়-পাতায় মিলবে এরকমই একের পর এক অজানা গল্প। এক-একটি গল্প এক-একটি খোঁজ, এক-একটি রহস্য।
ভূমিকা বাদ দিয়ে এটি ১১৯ পাতার বই। তাতেই ৬৫টি গুপ্তধন-সংক্রান্ত মিথ বা লেজেন্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে! ফলে এক কি দুই, বড়োজোর তিন পাতায় আলোচিত হয়েছে এল ডোরাডো থেকে নেতাজি, আলেকজান্ডার থেকে কনিষ্কের মুন্ডু! ফলে বইখানা পড়লে বেশ একটা পকেট এনসাইক্লোপিডিয়া সঙ্গে রাখার অনুভূতি হয়। কিন্তু... এটা গবেষণামূলক বই নয়, বরং একে উইকিপিডিয়া সংকলন বললেই যথাযথ হয়। তবে লেখকের পরিবেশনের ভঙ্গিটি বেশ আড্ডাসুলভ। তাই আপনার হাতে যদি স্মার্টফোন না থাকে, অথচ লোককে নানা বিষয়ে 'ফান্ডা' দেওয়ার ইচ্ছে হয়, তাহলে এই বইটা পড়তে পারেন। লেখক চারটি গুপ্তধন বেছে নিয়ে তাদের ওপর মনোনিবেশ করলে বরং আমরা সুখপাঠ্য অথচ ঠাসবুনট একটা বই পেতাম। সেই বইয়ে থাকতে পারত নানা সম্ভাবনার বিশ্লেষণ, পপ-কালচারে তার প্রয়োগ, এমনকি আজকের গুপ্তধন-সন্ধানীর জন্য পথনির্দেশ। উইকিপিডিয়া তো সবাই দেখতে পারে।
স্বল্প প্রস্থের বইতে এতো গুলো গুপ্তধনের বিষয়ে বলা হয়েছে যে পাঠক যদি কোনও বিশেষ কিছু গুপ্তধনের বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভের আশায় এই বই হাতে তুলে নেন তাহলে তাকে হতাশ হতে হবে । বইটির ভালো দিক এই যে বেশ কিছু নাম না জানা গুপ্তধন সম্মন্ধে গোষ্পদের ন্যায় জ্ঞান লাভ করা গেল । কোনও বিষয়েই গভীর ভাবে আলোচিত হয়নি এই বইয়ে। প্রকাশক মহাশয় কিন্তু এক্কেবারে ঠিক বলেছিলেন যে এই বইয়ের প্রত্যেকটি গল্প নিয়ে একটি আস্ত উপন্যাস বা বড়ো প্রবন্ধ হতে পারে । সেই আশাতেই থাকলুম । কিশোর পাঠ্য বই হিসেবে মন্দ নয়।