অভীক সরকারের গল্প মানেই তন্ত্র, বিভিন্ন তান্ত্রিক উপাচার, হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবী, দশ মহাবিদ্যা সব মিলিয়ে এক গা ছমছমে ব্যাপার। এই গল্প গোয়েন্দা বিষয়ক হলেও প্রেক্ষাপটে রয়েছে এক প্রাচীন পুঁথি । দার্জিলিং নিবাসী নারান জ্যাঠার হাতে আসে এক দুর্মূল্য পুঁথি যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। চর্যাপদ আর শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মধ্যবর্তী সময়ের মিসিং লিংক সহজিয়া বাংলায় লেখা বৌদ্ধ দেবতা চক্রসম্বরের উপাসনার পুঁথি। এদিকে কে বা কারা নারান জ্যাঠাকে হুমকি চিঠি দিয়েছে। তাই জ্যাঠা ডেকে পাঠালেন তার ভাইপো তাপস আর তার বন্ধু সুবোধকে যারা পুঁথির একটা ব্যবস্থা করবে। দার্জিলিংয়ে এসে তাদের সাথে আলাপ হল সরকারি রিটায়ার্ড আমলা দত্তবাবু, ইন্সপেক্টর গুরুং আর কিউরিও মালিক দেবাশীষ বণিকের সাথে। কদিন পরেই ঘটল এক খুন আর তারপরে কেউ জ্যাঠাকে কিডন্যাপ করল। তাপস আর সুবোধ জট ছাড়িয়ে কিভাবে রহস্যের সমাধান করবে সেটা জানার জন্য আপনাকে পড়তে হবে।
অভীক সরকারের জন্ম পয়লা জুন, উনিশশো উনআশি সালে। বেড়ে ওঠা প্রাচীন শহর হাওড়ার অলিগলিতে। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, মা স্কুল শিক্ষিকা। রয়েছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পেশায় সেলসম্যান, কর্মসূত্রে ঘুরেছেন পূর্ব-ভারতের প্রায় সব শহর ও গ্রাম। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাসা বেঁধেছেন হায়দ্রাবাদ, পাটনা, মুম্বাই ইত্যাদি বিভিন্ন শহরে। শখের বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশক। লেখালেখির শুরু আন্তর্জালে ও বিভিন্ন ব্লগে। প্রকাশিত বইগুলো হল মার্কেট ভিজিট, তিতিরপাখি ও প্রিন্সেস (সহলেখক অনুষ্টুপ শেঠ), এবং ইনকুইজিশন, খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ, চক্রসম্বরের পুঁথি, ইত্যাদি। বিবাহিত। কন্যা সন্তানের পিতা। ভালোবাসেন ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল, ইয়ারবন্ধু এবং ইতিহাস।
এটি একটি ছিমছাম, কিশোরপাঠ্য অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি। গল্পের মধ্যে ইনফো-ডাম্পিঙের মাত্রা কম রেখে রহস্যের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে যথাসম্ভব। দার্জিলিঙের পটভূমি সত্যজিতীয় লেখাজোখা মনে করিয়ে দেয়। তবে শেষের ধুমধাড়াক্কা ক্লাইম্যাক্সটা বড়োই ইয়ে টাইপের লাগল। মুদ্রণ ও অলংকরণ চমৎকার।
"#bookish_subhajit #পাঠক_প্রতিক্রিয়া #শুভর_আলোচনায় বই- চক্রসম্বরের পুঁথি লেখক- অভীক সরকার প্রকাশনা- মায়াকানন প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ- ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য দাম- ১৩০/- পাতা- ৯৬ টি পেপার ব্যাক
জানিনা এই বইটার রিভিউ করা যায় কিনা? কারন এই বই হলো একরাশ মুগ্ধতার বই। তাই আমি এই বইটি পড়ার অনুভূতি টুকু বলবো আপনাদের। 🎁 বিষয়বস্তু- এই বই মূলত একটি রহস্য উপন্যাস। এখানে আছে তাপস এর সত্য খুঁজে বের করার কথা। আর তারই সাথে আছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এর সাথে যুক্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দামী একটি পুঁথি যার নাম চক্রসম্বরের পুঁথি এর অনুসন্ধান এর রহস্য। আর তারসাথে অনেক অনেক অজানা তথ্য জানতে পারার আনন্দ। এই উপন্যাস এর শুরু দিকে আমরা দেখতে পাই আমাদের গল্পের কথক এবং তার সাথে তাপস এর পরিচয় হওয়ার কথা। আর তারপর তাদের দার্জিলিং এ যাওয়ার কথা। তার সাথে সেখানে একজন মানুষ নারান জেঠু এর কথা। এই নারান জেঠু ছিলেন হিষ্ট্রি এর টিচার। আর তিনি এমন কিছু একটা জিনিস হাতে পান যা বর্তমানে দিনে অমূল্য। আর তারপর তিনি পান হুমকির চিঠি।আর সেখানেই রহস্য আরও বেশি জট পাকাতে থাকে। আর সেই হুমকির চিঠি পাওয়ার জন্য ই নারান জেঠু ডেকে পাঠান তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় তাপস কে। আর ঘটনাচক্রে তাপস এর সাথে আমাদের গল্পের কথক ও জড়িয়ে পরে এই রহস্যে। আর তারপর ? এই তারপর কি হলো এটা জানতে গেলেই পারতে হবে অভীক দা এর লেখা টানটান রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস "চক্রসাম্বরের পুঁথি"। কেন হুমকি চিঠি পেলেন নারান জেঠু? কী এমন জিনিষ তিনি পেয়েছেন? আর এই চক্রসম্বরই বা কী? আর এই পুঁথির ই বা গুরুত্ব কোথায়? কে এই প্রফেসর যাদব? এখানে গুরুং এর ভূমিকায় বা কী? কেন কিডন্যাপ হলেন নারান জেঠু? দত্ত বাবুর সাথে নারান জেঠু সম্পর্ক ই বা কী? প্রশ্ন অনেক উত্তর একটাই । আর উত্তরটা হলো এই বই। "মঞ্জুশ্রীর শক্তি পীঠে সোনার তরী গাঁথা চাইলে পেতে, হে সন্ধানী ক্ষণেক ছোঁয়াও মাথা" আরে না না মশাই আমি পাগল হয়ে যায়নি। আর এই ছড়ার মধ্যে ই তো আছে সব রহস্যের জট। কী ভাবছেন এটা কী ভাবে সম্ভব? আরে ধূর মশাই আমিই যদি সব বলে দেবো তাহলে আপনি আর কী পড়বেন? চটপট পড়ে ফেলুন।
🎁 নিজস্ব অনুভূতি- এই বই এর সবথেকে আকর্ষনীয় ব্যাপার টি হলো তাপসের চরিত্র। এককথায় আমাকে মুগ্ধ করেছে ওই একজন ই। অসম্ভব ক্ষুরধার বুদ্ধি তার সাথে অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্ন একজন হলো এই তাপস। যে একজন বড় মাপের গোয়েন্দা কেও টক্কর দিতে পারে তার অবজারভেশন ক্ষমতার মাধ্যমে। তার সাথে তার সাহসীকতার ও একটা চরম নিদর্শন হলো এই বই। কারণ বাঘের খাঁচার মধ্যে প্রবেশ করে বাঘের সাথে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার জন্য যে কতটা সাহসের প্রয়োজন পরে তা কারোরই অজানা নয়। আর তাপস এখানে সেটাই করেছে। জানিনা লেখকের এই তাপস সিরিজ এর আর কোনো বই আছে কিনা। বা লেখক এর পরবর্তী তে তাপস সিরিজ এর কোন বই আনবেন কি না। তবে আমি তো পরবর্তী বই এর অপেক্ষায়। কারণ এত সুন্দর একটি একটি চরিত্র কে বাংলা সাহিত্যের পাঠকরা পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে এ আর অবাক করা কী? লেখকের কাছে একটাই অনুরোধ তাপস আবার আসুক।🙏
🎁 প্রচ্ছদ এবং অলঙ্করণ এই বই এর অসাধারণ। শিল্পী ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য বাবুর কাজ আমি আগেও অনেক দেখেছি। আর প্রতিবারই ভালো লেগেছে ওনার কাজ। এই কাজও তার ব্যাতিক্রম নয়। অসম্ভব সুন্দর কাজ করেছেন উনি।
🎁 মায়াকানন প্রকাশনা এর কোন বই এর আগে আমার পড়ার সুযোগ বা সৌভাগ্য কোনটাই হয়নি। এমনকী আমি ওনাদের শারদীয়া সংখ্যাও পড়িনি। তা অবশ্য আর্থিক কারণের জন্য। কিন্তু এই বই ছোট হলেও ওনাদের কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছে। অসম্ভব সুন্দর এবং মজবুত বাঁধন আর তার সাথে পাতার মানও অত্যন্ত উন্নত। এর জন্য অবশ্যই অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ প্রকাশক অর্ক পৈতুন্ডী দাদাকে এবং মায়াকানন এর পুরো টিমকে।
🎁 বইটি সমস্ত বয়সের পাঠকরাই পড়তে পারেন। আর অবশ্যই যারা রহস্য রোমাঞ্চ ভালো বাসেনা এবং এমন একটা বই পড়তে চান যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা টানটান উত্তেজনা আছে তাহলে এই বই আপনার জন্য ই।
🎁 ভালো লাগার দিক এই বই সবটাই। এই বই সবথেকে বড় দিক হলো লেখক এই ছোট্ট পরিসরে তার লেখার যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। মানে অত্যন্ত উন্নত ভাবনাচিন্তার ফল এই উপন্যাস।
🎁 খারাপ লাগার দিক কিছুই নেই। দুটি মাইনর প্রিন্টিং মিসটেক আছে শুধুমাত্র। ২৫ পাতায় একটি আছে, "বুড়" বানান টা "বড়ু" করা আছে। আর শেষ এর দিকে একটি জায়গায় "মানে" বানান টা "মায়ে" হয়ে গেছে।
❤️❤️ অভার অল বই এর রেটিং - (১০/১০) ❤️❤️❤️❤️❤️ ধন্যবাদ 🙏 সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন 🙏 বই এ থাকুন 🙏
( আমার জীবনের অনেক বড় একটি পাওয়া হলো , অন্যতম প্রিয় লেখক এবং অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ অভীক সরকার এর সান্নিধ্য পাওয়া )"
The style remained the same for the writer related to the buddhism, buddihst god, buddisht manuscript. The racket showed as strong and leonine but didnt even manage one historian! The book is overpriced for 85 pages otherwise enjoyable.
এই গল্পটি উনি ভালই লিখেছেন, আর ওনার অন্যান্য গল্পের থকে আলাদা এবং এতে কোনও অশ্লীলতাও গুজে দেন নি। এ গলেপ অনেকটা সুনীল গঙ্গোপাধায়ের কাকাবাবু র ধাঁচ পরিলক্ষীত হয়...
তন্ত্রমন্ত্রের মিশেলে অভীক সরকারের লেখা হরর গল্পগুলো আমার বেশ প্রিয়। তার লেখা ' এবং ইনকুইজিশন ' বইটা আমার দারুন লেগেছিল। সেই কারনে তার লেখা কিশোর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ' চক্রসম্বরের পুথি ' পড়ে শেষ করলাম। মোটামুটি ভালোই লাগল উপন্যাসটা। চর্যাপদ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্যও জানতে পারলাম বইটা পড়ে। তবে দার্জিলিংয়ের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাসের প্লটটা ভালো হলেও,এক্সিকিউশন কিছুটা দুর্বল মনে হলো। বিশেষ করে শেষটায় তাড়াহুড়ায় ছাপ স্পষ্ট। ক্লাইম্যাক্সের টুইস্টগুলোর বেশিরভাগই প্রেডিক্টেবল, কাহিনীর শুরুতেই অনুমান করে ফেলা যায়। তবে ফাইনাল টুইস্টটা যে ভালো ছিল সেটা মানতেই হবে। তাছাড়া শুরুর দিকে রহস্য যেভাবে ঘনীভূত হচ্ছিল তা আরেকটু সময় নিয়ে যদি লেখক খোলাসা করতেন তাহলে হয়তো উপভোগের মাত্রাটা বেড়ে যেত।
সব মিলিয়ে,কিশোর অ্যাডভে��্চার উপন্যাস হিসেবে ' চক্রসম্বরের পুথি ' মোটামুটি। সময় কাটানোর জন্য একবার পড়াই যায়।
বইটি একটি উপন্যাসিকা বলা যেতে পারে, অন্য নিছক গোয়েন্দা বা থ্রিলার গল্প এর মত বলা যায়, মোটামুটি গল্পের প্লট আহামরি নয়, তবে চর্যাপদ, বজ্রযোগীনি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে ও জানা যাবে বেশ কিছু তথ্য।