অতিচেনা রোমান হরফেই লেখা সবকিছু, অথচ পড়ার চেষ্টায় দাঁত ভেঙে যায়, ভ্রম হয় অচেনা অজানা কোন ভাষা বলে। অন্তর্জালে মুরাদ টাকলা নামের এই ভাষায় বেশ কয়েক বছর ধরে নাজেহাল হচ্ছেন বাংলার আপামর জনগণ। এই ভোগান্তি থেকে জাতিকে বাঁচাতে এলো–মুরাদ টাকলা অভিধান।
বাজারে হাজারটা অভিধানের ভিড়ে মুরাদ টাকলা অভিধান কেন অনন্য? কারণ অভিধানের মতো এমন গুরুগম্ভীর একটা জিনিস পড়ে যে হাসতে হাসতে খুন হওয়ার অভিজ্ঞতাও হতে পারে, সেটা এই অভিধান না পড়লে কখনো জানতে পারবেন না। অমূল্য এই বইটি কিনতে পারেন, মেরে দিতে পারেন, ধার নিয়ে পড়তে পারেন, কিংবা শুধু নেড়েচেড়ে দেখতে পারেন। তবে বইটি আগে যারা শুধু নেড়েচেড়ে দেখেও কেনেননি তাদের অনেকেই এখন কারওয়ানবাজারে সবজি বেচেন।
এই চমৎকার, ছোট্ট অথচ রীতিমতো আঁকায়-লেখায় ভরা বইটি গতক'দিন ধরে, অল্প-অল্প করে পড়া শেষ করলাম। বইটি ক্লাসিক— এ-কথা অনস্বীকার্য। বাংলায় হিমানীশ গোস্বামী'র 'অভিধানাই-পানাই'-এর পর এই প্রথম কোনো অভিধান পড়ে এতভাবে (হেঃ-হেঃ, হাঃ-হাঃ, সুকুমারী ভষায় 'বিকট হাস্য' ইথ্যাদি) হেসেছি। তবে অন্য পাঠকদের উদ্দেশে প্রাসঙ্গিক নিবেদন, এটিকে কম ডোজে গ্রহণ করাই বিধেয়। না হলে একঘেয়ে লাগতে বাধ্য। দুই সংকলকের উদ্দেশে আভূমি সেলাম। হাই চান্স যে কাজটি করতে গিয়ে তাঁদের মাতৃভাষার জ্ঞানই বিপন্ন হয়ে উঠেছিল। একবার ভেবেছিলাম, এমন বইয়ের রিভিউ মুরাদ টাকলা-তেই লিখলে কেমন হবে? কিন্তু ব্যাপারটা ভেবেই, যাকে বলে, হাড় হিম হয়ে গেল। তাই নিজের দুর্বল ভাষাতেই এইসব লিখলাম। জয়ন্ত কুমারের অনুগামীরা ফেসবুকে এখনও দলে ভারী। ঠিক এতটা বিকট করে না লিখলেও গ্রুপে-গ্রুপে অধিকাংশ সদস্য এখনও বাংলিশই লিখে চলেছেন। সেইসব বীরদের উদ্দেশে প্রণাম জানিয়ে রিভিউ শেষ করছি।