বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা আছে - এটি একটি রহস্য গল্প, কিংবা অদ্ভুত এক প্রেমের গল্প। অাদৌতে, রহস্য বা প্রেমকে ছাপিয়ে গল্পটি এগিয়ে গেছে আরও কয়েক ধাপ। সিরিজ আকারে অভ্র'র ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট ভালো হয়েছে। আবুল ফাতাহ'র আগের লেখাগুলো অতিরিক্ত রকম হুমায়ূন আহমেদীয় প্রভাবযুক্ত ছিল। লেখক এবার সেসব কাটিয়ে উঠে একটি স্বতন্ত্র লেখনী উপহার দিতে পেরেছেন। একবারের জন্যও অভ্রকে হিমুর কপি বলে মনে হয়নি। তাছাড়া পুরো বইতে অপ্রয়োজনীয় চর্বি প্রায় নেই বললেই চলে। পড়ে আনন্দ পেয়েছি। শুধু বইয়ের এই নামকরণের কারণটা ধরতে পারি নাই। কাহিনীর সাথে অভ্র'র নিরুদ্দেশ হওয়ার কোন সম্পর্ক আছে বলে মনে হয়নি।
ছোট সাইজের বই। টিপিক্যাল অভ্র। হিউমারসম্পন্ন, কখনও তা ভালো লাগে, কখনও তা বিরক্তি ধরায়। অভ্র হিমুর আদলেই গড়া, তা বইতেও দুই একজায়গায় লেখা হয়েছে। হিউমারের আড়ালে অভ্রের একটা মানবিক মন আছে, যা তাকে কাছের মানুষদের সাহায্য করবার জন্য উতলা করে তোলে। ঠিক এমনই এক চরিত্রের নাম শওকত। শওকতের হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা খুঁজতে অভ্র আর আফরিনের এবার গন্তব্য রাঙামাটি। রাঙামাটির বিভিন্ন লোকেশনের বর্ণনা টুকটাক ভালোই উঠে এসেছে, তবে তা চোখে দৃশ্য দেখিয়ে দেবার মতো যথেষ্ট কিছু না। শওকতের মধ্যে যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়েছে, তা এই গল্পের হিরো হতে পারতো। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। এই কনসেপ্টে খুব চমৎকার একটা উপন্যাস লেখা যায়। প্রতিবারের মতো সস্তা হিউমারের আড়ালে তা হারিয়ে গেলো। শেষটা একটু তাড়াহুড়ো করেই লেখা হয়েছে বলে মনে হলো। চন্দ্রিমার কাছ থেকে অভ্র যে সাহায্যটুকু পেলো, তা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতোই মনে হয়েছে। এই নিয়ে বিস্তারিত আরও বিশ-পঁচিশ পাতা লিখে বইয়ের কলেবরটা আরেকটু বড় হলে ভালো লাগতো। তবুও, ওয়ান টাইম রিডের জন্য অভ্র নিরুদ্দেশ খারাপ না। প্রচ্ছদের কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। খুবই পছন্দ হয়েছে প্রচ্ছদটা। লেখক এবই একইসাথে বইয়ের প্রচ্ছদকারক আবুল ফাতাহ প্রচ্ছদের জন্য একটা ধন্যবাদ পাবেন।
‘অভ্র’ শুধু অভ্র-ই। তাকে আসলে কোনো ছাঁচে ফেলা যায় না। আসলে কথাটায় ভুল আছে কিছু। পাঠকরা তাকে যে ছাঁচে ফেলবেন অভ্র আসলে সেটাই। তবে বর্তমান বইটিতে অভ্রকে আগের মতন তেমন ভাবে পাইনি তাই রেটিং চার হলো, নাহলে পাঁচই থাকতো। সুন্দর একটি সময় কাটলো অভ্রের সাথে।
অভ্র সিরিজের ৬ষ্ঠ বই এটা। অভ্রকে নিয়ে আরো আরো বই চাই৷ আমার মনে হয় বইতে অভ্রের মায়ার জগতে আরেকটু যদি বেশি বিচরণ করতে পারতাম, তবে পাঠক হিসেবে আরো ভালো লাগতো।
অভ্র হিমুর আদলে তৈরি করা একটি চরিত্র। তবে হিমুর সাথে তার বেশ কিছু পার্থক্যও আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে – হিমু তার চারপাশে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে রাখে, আর অভ্র ধোঁয়াশাগুলো পরিষ্কার করতে চায়। তেমনই এক ধোঁয়াশা পরিষ্কার করে একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজতে সে এবার পাড়ি জমায় রাঙামাটি। সঙ্গী আফরিন। তার এককালের ছাত্রী, বর্তমানের অর্ধ-প্রেমিকা। ঘটনার শুরু আরও আগে। পুলিশের হাতে গাঁজাসমেত ধরা খেয়ে অভ্র তখন শাহবাগ থানায়। সদ্য চড় খেয়েছে ওসি সাহেবের হাতে। তার কোর্টে চালান হয়ে যাওয়া ঠেকানো যখন প্রায় অসম্ভব, তখনই dues ex machina’র মতো উদয় হয় শওকত। শওকত আগে ছিল মিলিটারিতে। তরুণ বয়সেই অবসর নিয়ে এখন এক ধনী লোকের দেহরক্ষী সমতুল্য। সেই ধনী লোকটি আবার আফরিনের বাবা। সেটা অন্য প্রসঙ্গ। আসল প্রসঙ্গ হচ্ছে শওকত একজনকে খুঁজছে। তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা। হারিয়ে ফেলেছে বছর বিশেক আগে। নিজের দোষেই। যাতনাইও ভুগেছে, পুড়েছে বিবেকের দংশনেও। সব ছাপিয়ে এখন হয়ে উঠেছে ভয়াবহ নিঃসঙ্গ। চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে। মন খারাপ তার দু’গালে চিক চিক করছে। থানা থেকে মুক্তি পেয়ে অভ্র শওকতের এই হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে খুঁজে বের করতে চাইলো। কিছুটা হয়তো ছিল কৃতজ্ঞতার কারণে, বাকিটা তার খামখেয়ালও বলা যেতে পারে। শুরু করতে হবে সেখান থেকে, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল, ভাবলো সে। যেই ভাবা, সেই কাজ। রাঙামাটির পথ ধরলো। যেখানে শওকতের প্রেমিকা থাকুক না থাকুক, তার জন্য অপেক্ষা করে আছে আরও অনেক কিছু। ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি অভ্র এবারের রহস্য তাকে কতটা ভোগাবে! আরও কত পেছনে যেতে হবে! কত জানতে হবে শওকতের অতীত সম্পর্কে! সুখপাঠ্য বই। সস্তা রসিকতা দিয়ে শুরু হলেও, কাহিনী গিয়ে শেষমেশ ঠেকেছে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে। প্রেম হয়তো এ বইয়ের মূল উপজীব্য, তবে রহস্য, অনুসন্ধান ও চমকটাও নেহাত কম না। অতিরিক্ত মেদহীন বই। চর্বি বেশি থাকা অবশ্যই বিরক্তির কারণ হতে পারে, তবে সব চর্বি একেবারে ঝরিয়ে দিতে যাওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও। গল্পে অসম্পূর্ণতা দেখা যায়। শওকতের ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিটেইলিংয়ের প্রয়োজন ছিলো। বইয়ের শেষ অংশে 'চন্দ্রিমার সাহায্য' ঠিকঠাক খোলসা করা হয়নি। মোটের উপর বইটা হয়তো আরও ২০-২৫টা পৃষ্ঠা বেশি ডিজার্ভ করে। স্পষ্ট বোঝা গেছে, লেখক বেশ তাড়াহুড়ো করে লেখাটি শেষ করেছেন। শেষটায় আরেকটু সময় দিলে ভালো হতো। আবুল ফাতাহ’র লেখা সব সময়ই ভালো; একেবারে শুরু থেকে এ পর্যন্ত। তবে অতিরিক্ত হুমায়ূন আহমেদীয় প্রভাব থাকায়, সে লেখাই স্বকীয়তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো। অভ্র সিরিজের এর আগের বই ‘বখতিয়ারের জ্বিনে'ই লেখক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি লেখায় নিজের একটা স্বকীয় ধারা আনতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছিলেন, কিছু ক্ষেত্রে হতে পারেননি। ‘অভ্র নিরুদ্দেশে’ এসে তিনি অনেকটাই পেরেছেন। তার লেখার ধার আরও শাণিত হয়েছে, কেটেছে হুমায়ূনীয় প্রভাব। গতিশীল কাহিনী, ভালো প্লট আর দুর্দান্ত লেখনী - একটা কমপ্লিট এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ হয়ে গেছে 'অভ্র নিরুদ্দেশ'।
৬.৫/১০ অভ্র আমার বেশ পছন্দের একটা চরিত্র৷ হিমুর আদলে অভ্রের সৃষ্টি৷ আমি হিমু ফ্যান না। হিমুকে আমার উদ্ধত লাগে। কিন্তু অভ্রকে বেশ ভালোই লাগে। বলা যায় অভ্র হিমুর 'পলিশড্' ভার্সন! অন্তত আমার কাছে। হিমুর যেটুকু আমার ভালো লাগে, সেটুকু অভ্রের আছে। আবার হিমুর যা পছন্দ না অভ্রের তার বিপরীতটা আছে। এজন্যই ভালো লাগে। অভ্র সিরিজ পুরোটাই পড়া হয়েছে তাই। বাসে বসে অভ্রের দ্বিতীয় বই পড়তে গিয়ে এতটাই ঘোরে চলে গেছিলাম, নিজের স্টপেজ পার হয়ে কখন আরো দুটো বেশি স্টপেজ চলে এসেছি বুঝতেও পারিনি! সেই তুলনায় এই বইটা একটু সাদামাটা লেগেছে। একটু নিস্প্রভ। আরেকটু বেশি এক্সপেক্টেশন ছিল।
আমার অনুভূতিঃবইটা আমার কাছে আন্ডারেটেড মনে হয়েছে।এক বসায় সুন্দর করে শেষ করার মতো একটি বই।অভ্র সিরিজের প্রথম পড়া বই এটা আমার।গল্পের মধ্যে রসিকতা,সুন্দর রোমান্স,হালকা পাতলা স্পাই স্পাই ভা আছে।অতিরিক্ত ফালতু কোনো কিছুই চোখে পড়ে নি।প্রথম প্রথমে নরমালি পড়তে পড়তে এক সময় গল্পের গভীরতা বুঝবেন আপনি।আমার কাছে সাধারণ এর মধ্যে অনেক ভালো লেগেছে।স্পেশালি যে পরিবেশ এর বর্ননা গুলি দিয়েছে লেখক তা চোখের সামনে ভাসে।কিন্তু ২-১ টা ব্যাপার একটু ডিটেলড হলে ভালো হতো।এছাড়া সব ঠিক আছে।বইটা আমার জমেছে। কারো যদি হিমু ভাইব ভালো লাগে বা সিম্পল স্টোরি পছন্দ তাহলে তার জন্য এই বইটি রিকমেন্ডেশন এ থাকবে।
অভ্র নিরুদ্দেশ এটি অভ্র সিরিজের ৬ষ্ঠ বই, অভ্রর শুরু হয়েছিলো জনপ্রিয় চরিত্র হিমু এর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে। তবে এটিতে সতন্ত্রতা বিদ্যমান।
গল্প মূলত অভ্রর রাঙ্গামাটিতে গিয়ে একজনকে খুঁজে বের করা নিয়ে, কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা কোন রহস্য সন্ধান পায়....
গল্পটা আহামরি লাগে নি, মোটামুটি মানের বলা যায়, রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় যা ভালো লাগছে আর বইয়ের প্রচ্ছদটা অনেক সুন্দর হয়েছে। বইটার ছবি নিতে আমি সাথে করে পাহাড়ে নিয়ে গেছিলাম😄