সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতি ইরান-আফগান সীমানা থেকে সিমলা পর্যন্ত এবং জম্মু থেকে ন্যূনতম মহারাষ্ট্র পর্যন্ত। পাঁচ হাজার বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই অঞ্চলে প্রথমে মাটির ঘর, তারপর গ্রাম এবং শেষ পর্যন্ত মহেঞ্জোদড়োর মতন নগর গড়ে তুলল। এই ধারাবাহিক সভ্যতার বিবর্তনের কাহিনী, তাঁদের কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য - সব কিছু নিয়ে যেমন রয়েছে সুললিত আলোচনা, তেমনি এই গ্রন্থে রয়েছে সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের নানা আশ্চর্য কাহিনী।
বাঙালির ইতিহাসপাঠ শুরু হয় যে অধ্যায়টি দিয়ে, তার নাম সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতা। তার আগে, এই উপমহাদেশের নানা প্রান্তে যে প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতি বা কালচারগুলো ছিল, তাদের সম্বন্ধে আমরা বিশেষ কিছু জানতে পারি না। ওই সভ্যতাটি 'আবিষ্কৃত' হওয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ পড়েই আমরা ঢুকে পড়ি কোথায় কী পাওয়া গেছিল, শস্যাগার আর স্নানাগার, সুষম জলনিকাশি ব্যবস্থা আর ইটের মাপ- এইসব মুখস্থ করায়। আমরা বোর হয়ে পাতা ওল্টাই আর ভাবি, হঠাৎ কীভাবে এল এই বৈশিষ্ট্যগুলো! তারপরেই দুম করে অধ্যায়টি শেষ হয়ে যায়। আসর জমান পশ্চিম থেকে আসা একদল পশুপালক ঘোড়সওয়ার। মনে হয়, যেন সতেরোজন ঘোড়সওয়ারের আক্রমণে সেনবংশের পতনের মতোই সেই দীর্ঘনাসা ককেশীয় আগন্তুকদের সামনে ম্যাজিকের মতো মুছে যায় উক্ত সভ্যতার সব চিহ্ন। উপমহাদেশে জাঁকিয়ে বসেন 'আর্য' নামের সেই বহিরাগতরা। উইথ ডিউ রেসপেক্ট, এগুলো সব ভুলভাল তত্ত্ব। সত্যিটা অনেক বেশি জটিল, আর একইসঙ্গে অনেক বেশি চমকপ্রদ। সেটার পরিচয় পেতে চাইলে ওই বইটি পড়া বাধ্যতামূলক। বাংলায় ভারতের প্রাগিতিহাস নিয়ে বই অবশ্যই আছে। তবে কীভাবে সিন্ধুসভ্যতা আমাদের শরীর, মন, এমনকি আজকের জীবনকেও ধাত্রীর মতো করে পালন করে চলেছে তা বুঝতে চাইলে এই বইয়ের কোনো বিকল্প সত্যিই নেই। একটি তারা খসালাম স্রেফ আলোচনাটা ট্রিলজি (হ্যাঁ, এই বইয়ের একটি পূর্বসূরি ও একটি উত্তরসূরি আছে) না হয়ে একটিই বইয়ে হওয়া কাঙ্ক্ষিত ছিল বলে।