“It is a mistake to fancy that horror is associated inextricably with darkness, silence, and solitude.” - H.P. Lovecraft
ভয় কি শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার কিংবা কবরের মতো নীরবতার হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে এক ধাপ এগিয়ে ভেবেছেন লভক্রাফট। অজানার প্রতি ভয় — এই বিষয়টিকে উপজীব্য করে নিজের স্বকীয়তায় গড়ে তুলেছেন লভক্রাফটিয়ান হরর জনরা। হতাশা আর নৈরাশ্যবাদের এক চমৎকার মেলবন্ধন এই জনরা।
অদ্ভুত আঁধার এক:
'অদ্ভুত আঁধার এক' বইটি লভক্রাফটিয়ান মোলিক গল্পের সংকলন। বইটিতে রয়েছে তিনজন লেখকের মোট ছয়টি গল্প।
চুম্মা — আসিফ রুডলফায
আগমন — লুৎফুল কায়সার
যোগসাজশ — জাকিউল অন্তু
অ্যাপোক্যালিপ্স — লুৎফুল কায়সার
আঁধার আর ঈশ্বর — লুৎফুল কায়সার
খুম — আসিফ রুডলফায
পাঠ পর্যালোচনা:
প্রথমেই বলি, চমৎকার এক ভূমিকা লিখেছেন আসিফ রুডলফায। লভক্রাফটিয়ান হরর আর কসমিক হরর নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই জনরার বৈশিষ্ট্য আলোকপাত করেছেন। লভক্রাফটিয়ান হরর জনরাকে বুঝতে বেশ সাহায্য করবে লেখাটা।
গল্প সংকলনে সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্পের দেখা পাওয়া যায়। এই সংকলনে সেই সুযোগ নেই, তবে রয়েছে তিনজন ভিন্ন লেখকের লেখনশৈলী, শব্দচয়ন, ভিন্ন গল্প বলার ধরন।
ছয়টি গল্পের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে জাকিউল অন্তুর যোগসাজশ গল্পটি। দারুণ ভ্রমণের বর্ণনা, রেমাক্রিকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। মনে হচ্ছিল যেন রেমাক্রি ট্রেক করছি পড়ার সাথে সাথে। কিছুদিন আগে পড়া অ্যালজারনন ব্ল্যাকউডের দ্য উইলোস বইটির প্রথম দিককার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। যুগ যুগ ধরে করা মানুষের জ্ঞানপাপ, অপচয়, হত্যা — এসব উঠে এসেছে গল্পে।
ছত্রাককে যদি আপনি নির্দিষ্ট একটা জায়গায় যত্নসহকারে জমানো শুরু করেন তাহলে একসময় দেখবেন এরা প্রচুর জায়গা দখল করে নিচ্ছে। ঠিক তেমনি জ্ঞানকে যখন অবহেলা করা হয় তখন তা অদৃশ্য এক প্রাঙ্গণে জমা হয়।
কাহিনীর ঘনঘটা, শেষে ছোট টুইস্ট, সমাপ্তি সব মিলিয়ে দারুণ লেগেছে। অং লাক মারমা, রাহিক — চরিত্র গঠনেও ভালো নিপুণতা দেখিয়েছেন। তবে এটাও বলছি, এই গল্পে লভক্রাফটিয়ান ইলিমেন্ট বেশ কম। তবে গল্পটা ভালো লেগেছে আমার।
আসিফ রুডলফাযের দুটো গল্পই ভালো লেগেছে। গল্প বলার ধরন চমৎকার। খুম ভালো লেগেছে বেশি। এটাতেও ভ্রমণের বর্ণনা আছে, উঠে এসেছে জলদেবতা লিশের কথা। পাশাপাশি শেষের টুইস্টটা দারুণ। চুম্মা গল্পটা একটু অন্যরকম লেগেছে। শুরুর দিকে সাধারণ থ্রিলার গল্পের মতো প্লট, ঠিক লভক্রাফটিয়ান ধাঁচের মনে হচ্ছিল না। তবে সময় যেতে যেতে গল্পের সবকিছুই বদলে গেছে। বর্ণনা সুন্দর, পড়তে আরাম লাগার মতো। আর শেষটাও ভালো লেগেছে।
লুৎফুল কায়সারের তিনটি গল্পের মধ্যে অ্যাপোক্যালিপ্স মোটামুটি ভালো লেগেছে। ফারহান আর ইশরাতের সম্পর্কের টানাপোড়েন, একটা খুনের কেস — ধীরে ধীরে কাহিনী এগিয়েছে। সমাপ্তি ভালো লেগেছে। তবে লেখকের অন্য দুইটি গল্প তেমন ভালো লাগেনি। অতটা চমৎকৃত হতে পারিনি। লভক্রাফটিয়ান ইলিমেন্ট ছিল, তবে এই দুটি গল্প সাদামাটা লেগেছে অন্য গল্পগুলোর তুলনায়। সাথে গড়পড়তা লেখনশৈলী।
যেদিন চরম পাপাচারের শিকার কোনো সৃষ্টি নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে ঈশ্বরকে ডাকবে, সেদিনই তিনি আসবেন, আসবেন অন্ধকার নিয়ে… আমাদের শেষ করে দেয়ার জন্য!
এই সংকলনের ব্যাপারে একটাই আপত্তি আছে। আগমন এবং আঁধার আর ঈশ্বর — গল্প দুইটার লেখার ধরন, প্লট, থিম, সমাপ্তি মোটামুটি একই ধরনের। একই রকম দুইটা গল্প একই সংকলনে না আনলে ভালো হতো বলে মনে হয়েছে আমার। হয়তো আরেকটা ভিন্ন স্বাদের গল্প পেতে পারতাম।
প্রচ্ছদ:
প্রচ্ছদ নিয়েও আলাদা ভাবে বলতে হয়। দারুণ এই প্রচ্ছদটা করেছেন সজল চৌধুরী। প্রশংসার দাবিদার সে অবশ্যই।
.
লভক্রাফটিয়ান হরর যাদের ভালো লাগে, তারা বইটি পড়তে পারেন। মাস্টরিড না হলেও বেশ ভালো। যারা এই জনরার সাথে বিশেষ পরিচিত নন, তারাও পড়তে পারেন। ভালো যদি নাও লাগে, অন্তত ভিন্ন স্বাদ পাবেন নিঃসন্দেহে।