লেখক ভূমিকাতেই বলে দিয়েছেন- “ব্যক্তিগতভাবে সারা ভারতের সিনেমায় যেভাবে দেশভাগ এসেছে তাকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছি নিজের মতো করে। হতেই পারে এ বিশ্লেষণ অন্যজনের ভাবনায় অন্যরকম হবে। ... আশা রাখছি, যে কাঁচা রাস্তা তৈরি করলাম আমি, আগামী দিনে কোনও সার্থক লেখক-গবেষক তাকে কংক্রিট করবেন”। ভূমিকার এই নিবেদনটুকু থেকেই বোঝা যায়, লেখকের এই কাজটি সম্বন্ধে পাঠক যদি উচ্চাশা করেন, তবে ভুল হবে। সত্যিকার অর্থেই দেশভাগের ছবি নিয়ে কাঁচা রাস্তাই নির্মাণ করেছেন গবেষক চণ্ডী মুখোপাধ্যায়। দেশভাগ আমাদের সিনেমাতে কীভাবে এসেছে, তার তেমন উল্লেখযোগ্য বই যে নেই, এর সঙ্গে আমি একমত নই; তবে এটা স্বীকার করতেই হবে- কেবল দেশভাগ ও সিনেমা নিয়ে বই নেই। যা আছে, সেখানে সাহিত্যের পাশাপাশি সিনেমা এসেছে। দেশভাগের সাহিত্য নিয়ে যে ধরনের কাজ হয়েছে, দেশভাগের সিনেমা নিয়ে তেমন কাজ কই? কিছু আন্তর্জাতিক জার্নাল পাওয়া যায় বটে কিন্তু সেগুলোতেও সাহিত্য আলোচনার সম্পূরক হিশেবে সিনেমার আলোচনা এসেছে।
এর কারণও পাওয়া যাবে বইটিতে। দেশভাগ বাঙলা-হিন্দি ও উর্দূ সাহিত্যে যেভাবে এসেছে, সিনেমাতে তার কানাকড়িও আসেনি। সুতরাং সমালোচনা বা গবেষণাও হয়নি। কেনো হয়নি, এটা অবশ্য আলোচনার বিষয় এবং সেই বিষয়ের খানিকটা ইঙ্গিত চণ্ডী মুখোপাধ্যায় তাঁর বইটিতে রেখেছেন।
দিনশেষে, এটি দেশভাগের সিনেমা সংক্রান্ত চূড়ান্ত বা পরিপূর্ণ বই নয়; তবে যে কোনো পরিপূর্ণ কাজ করার সূচনা হতে পারে।