পয়লা বৈশাখের এক কাকডাকা ভোরে জন্ম নিয়েই দেখে, বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ফুলছড়ি, বাহাদুরাবাদ ঘাটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনির অবস্থানের ওপর যখন ইন্ডিয়ান মিগ থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সঙ্গে বাঙ্কারে বসে শিশুটি বলছিল, 'আল্লাহ্, রক্ষা কর'—গল্পটি শিবলীর মায়ের কাছে শোনা। তখন যুদ্ধ না বুঝলেও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের ভেতর দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। ইন্টারমিডিয়েটে পড়াকালেই স্বৈরশাসকের জেল জুলুম আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে চলে আসেন নাটোর থেকে ঢাকায় । অভিনয়ের উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স শেষে গ্রুপথিয়েটার নাট্যচক্রের সঙ্গে মঞ্চনাটকে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকেন শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে।অভিভাবকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একদল গানপাগল তরুণ ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে বাংলা গানের ধারায় যে-পরিবর্তন এনেছে, শিবলী তাদেরই অন্যতম। যুগযন্ত্রণার ক্ষ্যাপামো মজ্জাগত বলেই প্রথা ভাঙার যুদ্ধে শিবলী হয়ে ওঠেন আপাদমস্তক 'রক'। আধুনিক জীবনযন্ত্রণাগ্রস্ত তারুণ্যের ভাষাকে শিবলী উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত সহজসরল 'রক' এর ভাষায়। তাঁর সাফল্য এখানেই । তাই অল্প সময়ের মধ্যেই শিবলী পরিণত হয়েছেন এদেশের ব্যান্ড সংগীতজগতের কিংবদন্তি গীতিকবিতে । শিবলীর লেখা (প্রায় ৩০০) জনপ্রিয় গানের মধ্যে কয়েকটি: জেল থেকে বলছি | কথা-সুর: শিবলী, ফিলিংস /নগরবাউল তুমি আমার প্রথম সকাল | তপন চৌধুরী-শাকিলা জাফর কষ্ট পেতে ভালবাসি | আইয়ুব বাচ্চু (এলআরবি) হাসতে দেখো, গাইতে দেখো | আইয়ুব বাচ্চু কত কষ্টে আছি | জেমস পালাবে কোথায় | জেমস একজন বিবাগি | জেমস রাজকুমারী | আইয়ুব বাচ্চু হাজার বর্ষা রাত । সোলস পলাশী প্রান্তর। মাইলস কী ভাবে কাঁদাবে তুমি (যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে) | খালিদ (চাইম) আরও অনেক অনেক গান......... 'কমপ্লিট ম্যান' খ্যাত ঝুঁটিবাঁধা সেঞ্চুরি ফেব্রিকসের দুর্দান্ত সেই মডেল শিবলী ছিলেন তাঁর সময়ের ফ্যাশন-আইকন।তিনি একজন সফল নাট্যকার। বিটিভির যুগে তাঁর লেখা প্রথম সাড়া জাগানো নাটক 'তোমার চোখে দেখি'(১৯৯৫)। আরও লিখেছেন- রাজকুমারী, হাইওয়ে টু হেভেন, গুড সিটিজেন, নুরু মিয়া দ্যা পেইন্টার, যত দূরে থাকো, বৃষ্টি আমার মা,রান বেইবি রান,আন্ডারগ্রাউণ্ড,শহরের ভিতরে শহরসেকেন্ড চান্স,স্পন্দন,মিলিয়ন ডলার বেইবি,দ্যা ব্রিফকেস।নিজের লেখা নাটক 'রাজকুমারী'তে(১৯৯৭) মির্জা গালিব চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় এখনও অনেকের মনে থাকার কথা।শিবলীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো 'ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি তোমার অভিমান' (১৯৯৫), 'তুমি আমার কষ্টগুলো সবুজ করে দাও না'(২০১০), মাথার উপরে যে শূন্যতা তার নাম আকাশ, বুকের ভেতরে যে শূন্যতা তার নাম দীর্ঘশ্বাস'(২০১৪)।বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে তাঁর 'বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন'(১৯৯৭) নামে ব্যান্ড সংগীতের ওপর লিখিত প্রথম এবং একমাত্র গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ।শিবলী'র কাহিনী সংলাপ এবং চিত্রনাট্যে ও গীতিকবিতায় প্রথম পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্র 'পদ্ম পাতার জল'(২০১৫)।শিবলী'র প্রথম এবং বেস্টসেলার উপন্যাস- দারবিশ (২০১৭)।স্বভাবজাত বোহেমিয়ান, ঘুরেছেন ইউরোপে সহ পৃথিবীর পথে পথে।।
জমিদারগিন্নী পূর্বা দেবী মৃত স্বামীর সাথে সহমরণ লাভ করে সতী হয়ে স্বর্গে যাবে, এ নিয়ে যখন সকলে আনন্দিত ও গর্বিত ঠিক তখনই অন্দরমহল থেকে পূর্বা দেবী যেন শূন্যে উধাও হয়ে গেলেন। ধর্মের অন্ধবিশ্বাসে বুঁদ হয়ে থাকা সমাজের একজন তরুনী পূর্বা দেবীর সতীদাহের চিতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কাহিনী এটি। পালিয়ে গিয়েও কি পূর্বা দেবী আসলেই বাঁচতে পেরেছিলেন জমিদারির উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য ঘোষাল বাড়ির ছোট কর্তার সতীদাহ প্রথার আড়ালে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের হাত থেকে?
এটি তখনকার গল্প, যখন ব্রিটিশ ভারতে সতীদাহ প্রথা উঠে যায় যায় অবস্থা! রামমোহন রায়ের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গসমাজে নব্য হিন্দুত্ব বা ব্রাহ্মসমাজের যে আবির্ভাব ঘটে, তার ও অনেকখানি বর্ননা রয়েছে এতে৷
চিতার আগুন থেকে পালিয়ে যাওয়া পূর্বা দেবীর সাক্ষাৎ হয়েছিলো এক মুসলিম রাখালের সাথে। যার কাছে একত্ববাদ এর কথা শুনে নিজেকে যেন হঠাৎ সাহসী লাগতে শুরু করে তার। এই একত্ববাদ এর কথা অনেকখানি ব্রাহ্মসমাজ ও বলে। অন্যদিকে আদি হিন্দুধর্মের নামে গোঁড়ামি নিয়ে পরে থাকা লোকদের ধর্মসভা পূর্বা দেবীকে আবারো খুঁজে নিয়ে চিতায় চড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপর কি হয়েছিলো? কার জয় হয়েছিলো শেষে? সতীদাহের নামে একদল খুনির নাকি ব্রাহ্মসমাজের বেদের সঠিক ব্যাখার?
লতিফুল ইসলাম শিবলী-কে কেবল একজন খুব সুপরিচিত গীতিকার হিসেবেই জানতাম। কিন্তু তার লেখনীও মুগ্ধ করার মতো৷ "রাখাল" তার অন্যতম উদাহরণ। এই উপন্যাসে বেদ এর অনেক শ্লোক ব্যবহৃত হয়েছে সঠিক ব্যাখা এবং যুক্তির জন্য।
রাখাল বইটা আসলে খিচুড়ি থ্রিলার! একটুখানি ইতিহাস আছে– তাতে আপনি এক টুকরো ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন, ফরায়েজী আন্দোলন, রাজা রামমোহন, মাধবচন্দ্র এমনকি ঠগীও পাবেন। আবার একটুখানি বিচ্ছিরি সমাজের আবর্জনার ছিটা-ও পাবেন, যেখানে আছে ধর্মের নামে অধর্ম – অর্থের নামে অনর্থ করার নমুনা। পাবেন একটুখানি প্রেম প্রেম ভাব- প্রেমের অভাব। আর পুরোটা জুড়ে থ্রিল – সেই থ্রিল হয়তো শ্বাসরুদ্ধকর নয়। কিন্তু পূর্বা দেবী আর তাকে লুকিয়ে রাখা রাখাল ধরা পড়ে গেলে কী হবে সেই চিন্তায় আমি কাতর ছিলাম পুরোটা সময়ে।
আমার আসলে মনে হয়েছে যত উপকরণ গল্পে এসেছে টুকরো টুকরো হয়ে, লেখক চাইলেই আরো বড় কলেবরে লিখতে পারতেন… মনে হয়েছে, পূর্বা দেবী আর রাখালের মধ্যের কেমিস্ট্রি আরেকটু ক্ষুরধার হতে পারতো… মনে হয়েছে মাধবের গল্প আরেকটু শোনার দরকার ছিল। কিন্তু লেখক হয়তো ঐতিহাসিক থ্রিলার লিখতেই চান নি? লেখক আসলে পূর্বা-রাখালের প্রেমকাহিনীও লিখতে চাননি হয়তো? যদি আমি যেমনটা ভাবছি, আসলেই লেখকের উদ্দেশ্যটা হয় তেমনই- পূর্বা-রাখালের রূপকাশ্রয়ে আবহমান কাল ধরে চলে আসা আমাদের পার্থিব আকাঙ্ক্ষা আর মহাসত্যের সংঘাতের গল্পটা বলা- তবে লেখক অচেনা এই পাঠকমন ক্ষণিকের জন্য হলেও ছুঁতে পেরেছেন।
মূল বক্তব্য শেষ। এবার অতিরিক্ত পৃষ্ঠার লেখাঃ
বইয়ের বর্ণনায় রাখালের বাহ্যিক বেশ আকর্ষনীয় হবার কথা। এখন প্রচ্ছদের রাখাল সুডৌল পেশীবহুল হলেও চেহারাটা আরেকটু খোলতাই হলে মন্দ হতো না। অবশ্য সৌন্দর্য ব্যাপারটা আপেক্ষিক। ওদিকে প্রচ্ছদের ফোকাস রাখাল হলেও কোন এক বিচিত্র কারণে আমার চোখ শুধু রাখালের ডান পাশে দাঁড়ানো, রাশভারী মহিষটার দিকে চলে যায় কেন জানি!
নালন্দা প্রকাশনী কবে বইয়ের ডাস্ট কভার সেঁটে দেয়া বন্ধ করবে? – জানতে বড় ইচ্ছে হয়। এছাড়া বই নিয়ে আর অভিযোগ নেই। নালন্দা-র বইয়ে আমি বানানও ভুল পাই না যেটা বেশ সুখকর একটা ব্যাপার।
বইটা পড়তে আমি সময় নিয়েছি মোটামুটি তিন ঘণ্টা- বয়স হয়ে গিয়েছে দেখে পড়ার গতিও এখন কম। নাহলে বইটার পৃষ্ঠাসংখ্যা বেশি না, মোটে ১৪১।
সারকথা, টান টান উত্তেজনা বা চমৎকার টুইস্টের আশা নিয়ে “রাখাল” পড়বেন না। ধর্ম-দর্শন এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না থাকলে কিংবা এসব নিয়ে কাবঝাব ভালো না লাগলে বইটা আপনার সাদামাটা মনে হতেই পারে।
২০২০ এর ১২তম বই শেষ করলাম। এইটা আসলে শুধু গল্পের বই ছিল না, এইটা এক টুকরো ইতিহাস ছিল, ছিল হিন্দু ধর্মের খারাপ প্রথার ইতিহাস আর সেই প্রথা বন্ধ হবার ইতিহাস। Latiful Islam Shibli ভাই এই বইটা লিখতে অনেক পড়াশুনা করেছেন বুঝা যায়, অনেক শ্লোক ছিল যেগুলা পড়াশুনা না করে লেখা খুব খুব কঠিন একটা কাজ। লেখ এমন ভাবে শুরু হয়েছে যে এক বসাতে শেষ করার মত একটা বই। শব্দ চয়ন একজন গীতিকারের থেকে ভালো আর কে করতে পারে 😎। পড়ার মাঝে খুব করে পূর্বা দেবী কে দেখার ইচ্ছা হচ্ছিল, কারনটা বই পড়লে বুঝবেন। আমার সব থেকে ভালো লেগেছে বইয়ের শেষটা, মনে মনে আশা ছিল এইভাবে যদি শেষ হয় তাহলে ভালো। সবাইকে একবার পড়ার অনুরোধ থাকবে।
বই : রাখাল লেখক : লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রকাশনী : নালন্দা প্রকাশনী প্রকাশকাল : অমর একুশে বইমেলা ২০২০
প্রায় ২০০ বছর আগের আমাদের এই অঞ্চলের ভয়ঙ্কর সতীদাহ প্রথা নিয়ে ধর্মীয় গোঁড়ামির কথা এবং তার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন সংক্রান্ত নানান সত্য ঘটনা গুলোকে শিবলী ভাই ওনার লেখনীর প্রবল শক্তি দিয়ে চমৎকারভাবে উপন্যাসের রূপ দিয়েছেন।
রাখাল উপন্যাসে আমরা পাই ধর্মান্ধতা মানুষকে কতটা নৃশংস করে তুলতে পারে। ধর্মীয় কুসংস্কার বা গোঁড়ামি যেটাই বলি না কেন, সেটার মূলে থাকে মানুষের শিক্ষার অভাব অথবা সেই শিক্ষার যথাযথ প্রয়োগের অভাব। ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাস আর সম্পত্তির লোভ মানুষকে এতটাই নিষ্ঠুর করে তোলে, যে অতি আপনজনের জীবন বিপন্ন করতে মানুষের বিবেক একটা বারের জন্যও কেঁপে ওঠে না। তারা একটি বারের জন্যও ভাবে না কিংবা যাচাই করতে চায় না, এই জীবননাশী প্রথা আসলেই তাদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থে আছে কিনা। ধর্মের দোহাই নিজের মা, বোন কিংবা মেয়ে কাউকেই তারা ছাড় দিতে চান না।
উপন্যাসের শুরুর দিকেই পাই বৃদ্ধ রামদেব ঘোষালের মৃত্যুর পড়ে সতীদাহের চিতা থেকে পালিয়ে যান তাঁর যুবতী স্ত্রী পূর্বা দেবী। তাকে সাহায্য করেন তার কাছাকাছি বয়সের দাসী কুন্তি। পূর্বা দেবী এবং কুন্তির মধ্যে বন্ধুত্বের একটা সম্পর্ক দেখা যায়, যেটা আমাদের অবাক করে। চিতা থেকে পালানো নারীকে বলা হত চিতা ভ্রষ্টা এবং এই পালানোকে খুব অন্যায় ভাবা হত।
উপন্যাসে শিক্ষিত সমাজের চিত্র দেখতে পাই যেখানে ঐতিহাসিক চরিত্র রামমোহন রায় আছেন, যিনি ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং মুক্ত চিন্তার অধিকারী। তার অনুগত হিসেবে একটি চরিত্র পাই মাধব চন্দ্র। একই গ্রামে মাধব চন্দ্রের মত মুক্ত চিন্তার মানুষ এবং বাসুদেব, অনিল ভট্টের মতো ভিন্ন মানসিকতার মানুষ।
উপন্যাসের মাঝের এক পর্যায়ে পূর্বা দেবীর সাথে পরিচয় হয় মুসলিম যুবক রাখালের। যে কিনা বনে জঙ্গলে ঈগল পাখির বাসায় থাকে এবং নির্বিঘ্নে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়।
বইটি মূলত সতীদাহপ্রথার শেষ দিককার ঘটনা নিয়ে রচিত। বইটির কিছু চরিত্র কাল্পনিক, এছাড়া সম্পূর্ণ লেখাটি সত্যি। বইটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এই বইয়ে কত সুন্দরকরে জীবনবোধকে উপস্থাপন করা হয়েছে। কত চমৎকার চমৎকার লাইন ছিল৷ পড়তে পড়তে আমি হাইলাইটার দিয়ে লেখাগুলো হাইলাইট করে রাখছিলাম। সতীদাহ নিয়ে বেশকিছু জিনিস আমার জানা ছিলোনা, যেগুলো এই বইটি পড়ে জানতে পারি। এই বইয়ে সতীদাহপ্রথার পাশাপাশি ঠগীদের সম্পর্কেও সাধারণ ধারণা পাওয়া যাবে। জানা যাবে প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে একজন চমৎকার মানুষ হওয়া যায়। এই বইটি পড়লে নিজের জীবনের সাথেও একবার পরিচিত হয়ে নেওয়া যাবে। বইটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠককে মুগ্ধ করে রাখবে। বইটা শেষ করার পর আমার মাথায় শুধু একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, পূর্বা দেবী কি শেষ পর্যন্ত রাখালের খোঁজ নিয়েছিল?! উত্তরটা পাবো নাকি জানিনা, তবে চমৎকার একটা বই পড়েছি সেটাও মন্দ না! (লেখকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হইছিল, লেখক রহস্য রাখতে চায়) আমার মনে হয়না বইটা কলেজে উঠার আগে কারো পড়া উচিৎ। এর আগে পড়লে হয়তো অনেকগুলো কথার গভীরতা খুঁজে পাবেনা!
I wanted to give it a 3 star……but…… I didn't like it enough cuz it had a lot of informations about hindu religion. But don't stop giving it a try because of my review. Not everyone has the same taste buds for the same book.
সতীদাহ প্রথা নিয়ে চমৎকার একটি ফিকশন। বইটি এতোদিন ধরে বুকশেলফের এককণায় ছিল, কি মনে করে যেন পড়া শুরু করেছিলাম। এখন লেখকের বাকি বইগুলো পড়তে ইচ্ছে করছে!
নাহ...সেই দারবিশের লেখনীর মতো লেখা পেলাম না। সতীদাহ প্রথাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্লট। সাথে আছে ঠগীদের সামান্য ফ্লেভার। রাখাল চরিত্রটা আরও জোরদার হলে ভালো হতো।
বইমেলা 2020 এর বই. রাখাl লতিফুল ইসলাম শিবলীর আগের একটি বই পড়েছিলাম দারবিশ। সেটা পড়ে বেশ ভালো লেগেছিল। তাই এটা কিনেছি এই বইটিও বেশ ভালই লিখেছেন। প্রথমে যখন বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন যে কাহিনীটা সত্য তখন অবাক হয়েছিলাম যে আসলে রাখাল, সেসময় জঙ্গল তার মধ্যে আবার সতীদাহ, সেটা কি সত্যি হয়। কিন্তু পুরো গল্পটি পড়ে মনে হয়েছে না আসলেই সত্যি। কিন্তু হয়তোবা কিছু কিছু চরিত্র লেখক কাহিনীর ছদ্মবেশ এর জন্য বলেছেন। নতুন কিছু জানার জন্য বলেছেন। রামদেব ঘোষাল আর তার স্ত্রী দুর্গা দেবী আর আমাদের উপন্যাসের নামকরণ যে চরিত্রকে ঘিরে হয়েছে সেটি হচ্ছে রাখাল। আর ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয় চলে এসেছেন মাধব চন্দ্র আর পিটারসেন। বইটি পড়তে পড়তে অনেক অজানা কিছু জানতে পেরেছি দ্য লাস্ট ভিক্টিম অফ সতী। এই জিনিসটি অজানা ছিল সেই সময় আসলেই যে রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বিলোপের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় বেশ যুক্তি নিয়ে যে কথা হয়েছিল। সেটার মধ্যে মাধবচন্দ্র আছে এটিও ঐতিহাসিক চরিত্র। রাখাল চরিত্র, একটু মনে হয় ইসলামিক ভাব আনার জন্য কিনা, একটু কল্পনা নিশ্চিত করার জন্য বলেছেন।সতীদাহ প্রথা নিয়ে আসলেই কী অবস্থায় ছিল, আর এদেরকে কিভাবে তার মধ্যে পুড়িয়ে মারা হতো সেটা আসলে কল্পনা করাই মুশকিল। তা সে যতই ভালো সিনেমা হোক -তারপরও আমরা কিছুটা অনুভব করতে পেরেছি. লেখক এই হিসেবে দআমি সফল বলতে পারি উত্তেজনা ছিল, দ্রুতই গিয়েছে ফলে এক রাতের মধ্যে করতে সক্ষম হয়েছে ধন্যবাদ লেখককে. দিন দিন ইতিহাসের চাহিদা বাড়ছে বৈকি। লিখতে হলে পড়তে হবে। বুঝেছ মৃন্ময়ী।
রেটিং: ৩.৫/৫ (সংশোধিত) প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফ নিতে গিয়ে তার লেখার ভক্ত এক পাঠিকা তাকে বলছিলেন প্রচ্ছদ তার পছন্দ হয়নি। তখন লেখক অমায়িকভাবে উত্তর দিয়েছিলেন বই পড়া শেষ হলে আপনার সত্যিই মনে হবে প্রচ্ছদ নির্বাচন যথাযথ হয়েছে। সেই কথার রেশ ধরে পড়া শুরু করি বইটি। একজন সম্পূর্ণ দুই মেরুর মতো ভিন্ন পরিবেশ ও ভিন্ন সামাজিক অবস্থাসম্পন্ন দুইটা চরিত্রকে লেখক 'সতীদাহ' প্রথাকে কেন্দ্র করে এক করেন। নানা ঘটনা প্রবাহে শেষ পর্যন্ত পুনরায় দুই চরিত্রকে আলাদা করে ফেলেন লেখক। যাই যেই সতীকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস বা গল্প, তার শেষটা অনেকটা সাধারণভাবেই শেষ হয়েছে, যা কিছুটা সাদামাটাই মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে রাখাল হিসেবে যেই চরিত্র, তার দ্বারা যদি লেখক জীবন থেকে প্রতি মূহুর্তে শিক্ষা গ্রহনের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে চেয়ে থাকেন তবে বলব তিনি সার্থক হয়েছেন। এছাড়া লেখকের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা নানা দার্শনিক উক্তিগুলো সত্যি চিন্তার খোরাক জোগায়।
❝কি নির্মম! হত্যাকারীরা প্রিয়জনকে এভাবে হত্যা করাকে মর্যাদা বলে গৌরব করবে। ❞ জি, আজকের যে উপন্যাস টি নিয়ে পাঠ পরবর্তী ভাবনা লিখবো তার বিষয়বস্তু যদিও ভয়াবহ অনেক, তারপরও তাকে উপরের দুটি লাইন দিয়ে চিত্রায়ন করা যায়।
বলছিলাম লতিফুল ইসলাম শিবলী'র লেখা 'রাখাল' উপন্যাসটি নিয়ে। সকাল বেলা অবসর সময় হওয়ায় সিথানের পাশে রাখা এই উপন্যাসটি পড়তে শুরু করি। সময়টা ভালো-মন্দ সব মিলিয়ে কেটেছে। বইটা উপভোগ্য ছিলো। এবার আসি মুল কথায়!
উপন্যাসের শুরুতে মৃত্যু পথযাত্রী ��কজন জমিদারের অবস্থা বর্ণনা করা হয়। বিশাল বড় জমিদারী রেখে যিনি যমের ভয়ে ভীত হয়ে আছেন। তাছাড়া মরার পর 'স্বর্গ' না 'নরক' সে ভাবনা তো আছেই। সহায়ক হিসেবে এগিয়ে আসেন এই বইয়ের অন্যতম খল চরিত্র 'বাসুদেব'।
দাদাকে অভয় দিয়ে বলেন- 'বৌদি থাকতে আপনার চিন্তা কি, তিনি আপনার সাথে সতী হলেই আপনার স্বর্গ লাভ যে নিশ্চিত। আশা করি বংশে সন্তান না দিতে পারলেও এ গৌরব থেকে তিনি আমাদের বঞ্চিত করবেন না!'
এখান থেকেই মুলত আমি উপন্যাসটির গতিপথ জানতে পারি। যেহেতু আগে এর ফ্ল্যাপের ক্ষুদ্র অংশটি পড়িনি। কাহিনি এগোতে থাকে তার গতিতে। একজন নারীকে কিভাবে তার ইচ্ছে হোক বা অনিচ্ছায় হত্যা করা হয়, তাও আবার মহাযজ্ঞ আয়োজন করে, পুণ্য মনে করে তা আপনি এ বইয়ে দেখতে পারবেন।
আজনবি কেউ যদি এসব হত্যাকান্ড ঘটাতো তবে এক টা বিষয় ছিলো। কিন্তু সুস্থ মস্তিষ্কে, ঠান্ডা মাথায় একজন নারী- সে হোক তার বোন,মা,স্ত্রী,মাসি বা পিসি ইত্যাদি কে হত্যার মহা উৎসবের আয়োজন করা হয় তা জানলে আপনার গা কাটা দিয়ে উঠবে। ঠিক যেমন আমার উঠেছিলো।
নিজের আপনজনেরা নিজেদের পূণ্যের আশায় আপনাকে সে জমানায় নারী হয়ে জন্ম নিলে বলি দিয়ে দিতো তার সুস্পষ্ট একটা চিত্র দেখতে পাবেন এখানে।
বইয়ের মেটাফোরিক দিক থেকে এর নাম 'রাখাল' রাখা সঙ্গত লেগেছে আমার। 'রাখাল' চরিত্র টি গল্পের অন্যতম মুল চরিত্র 'পূর্বা' কে যেভাবে পথঘাট দেখিয়েছেন (চড়িয়েছেন) তা দিয়ে মুলত একটা অন্ধকার সমাজকে চোখ মেলে দেখবার গাইডলাইনের কথা উঠে এসেছে প্রচ্ছন্ন ভাবে।
মানুষ নিজের পাপের বাটখারা মাপে যেমন কম তেমনি ভাবে ১৯ শতকের সে হিন্দু গোড়া সমাজও মাপতো। তারা ভাবতো, বর মারা যাওয়ার পর স্ত্রী সতী হওয়াটা শাস্ত্রে লেখা আছে। তাই এ ঘৃণ্য কাজটি অত্যন্ত আনন্দের সাথে করে চলেছিলো যুগের পর যুগ।
অবশেষে তাদের নিজেদের ভেতর থেকে আলাদা এক জাগরণের সুত্রপাত হয়। এই জাগরণের মুল পথিকৃৎ ছিলেন 'রাজা রামমোহন রায়'। যার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা হয় 'ব্রাক্ষ্মসমাজ'। যারা 'সতীদাহপ্রথা' র বিরুদ্ধে ছিলেন। আর তাদের বিরুদ্ধে ছিলে 'বাপ-দাদার' ঐতিহ্য, প্রথা মেনে এ নিষ্ঠুরতম কাজ করা 'ধর্মসভা'।
পরবর্তীতে ব্রিটিশদের বড় লাট 'উইলিয়াম বেন্টিং' এর সহায়তায় লন্ডন থেকে পাশ হয়ে আসে এ 'প্রথা' বিরুদ্ধ আইন। আইন ঘোষণার পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপটের ঝলক দেখা যায় উপন্যাসে।
সাথে আবার পাশ্ববর্তী কাহিনি হিসেবে ক্ষুদ্র ভাবে উঠে আসে পৃথিবীর ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম খুনি সংগঠন 'ঠগী' দের কথা। কিভাবে তারা মানুষ হত্যা করতে তার হালকা করে ঝলক দেখানো হয়। উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তখন ভারতবর্ষে তাদের শেষ সময়কাল। লেখক এ অংশটিকে কাহিনির সাথে সুন্দরভাবে মিলিয়েছেন। এটা প্রশংসার যোগ্য।
কাহিনিতে দেখা যায়, জমিদারের স্ত্রী তার পিসির জলন্ত অগ্নিতে নিষ্ঠুরতম প্রাণ বিসর্জন দেখে ও পরবর্তী একে ভেবে সতী হওয়া থেকে পালান রাখালের সহায়তায়। রাখাল তাকে লুকিয়ে রাখলেও একসময় ধরা পড়ে যান তিনি। পরবর্তী তে কি হয় তার সাথে? আর 'ব্রাক্ষ্মসমাজ' ই বা কি পদক্ষেপ নেন? আর ইংরেজ সরকারও বা কি করতে পারে? জানতে হলে পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি সময় খারাপ কাটবে না।
(পরবর্তী ২ প্যারা আমার একান্ত মত, আমার নিজের আকিদা ও ধর্মবিশ্বাসের আলোকে। তাই নিজ দায়িত্বে পড়ার অনুরোধ)
তবে হ্যা, একজন মুসলিম হিসেবে রাখালের চরিত্রায়নে আমার বেশ কিছু অভিযোগ আছে। মুলত আকিদার দিক থেকে, ৫৫ পৃষ্ঠায় বলা রাখালের কথা অনুযায়ী- 'এই দোআ পড়ার সময় আমরা পার্থক্য করি না মৃত ব্যক্তি হিন্দু না মুসলিম'। একজন মুসলিম কি আদৌ কোনো বিধর্মীর জন্য দোআ করতে পারে? আমার মতে- না পারেনা। তাছাড়া এখানের ঘাপলা অনুযায়ী, সে কি এমন দুআ করবে? সাধারণত আমরা তো মৃতের জান্নাত বা স্বর্গ কামনায় দুআ করি। কিন্তু একজন প্রকৃত মুসলিম তা পারেনা আসলে।
এবার আসি দ্বিতীয় টি, আমার মনে হয়েছে এখানে 'ইন্টারফেইথ' বিষয়টি প্রকট হয়ে উঠেছে। মুসলিমদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী ১০০ পৃষ্ঠার কথাগুলো কোনোভাবেই যায় না। আল্লাহ কে অন্য কাউকে শিরক করা হয়ে যায় মনে হয়। কারণ, পূর্বা দেবীর বলার পরও আল্লাহর একত্ববাদ কে স্বীকার করে লেখক রাখালের মুখ দিয়ে একটা কথাও বলাননি। অথচ দু'জনের ধর্মই ভিন্ন।
এই দুটি বিষয় ছাড়া আর তেমন কোনো ফল্ট আমি দেখিনি। তবে সম্প্রীতি দেখাতে গিয়ে যদি এমন হাল হাকিকত হয় আকিদা র তবে সে না দেখানোই ভালো। ঈমান নিয়ে টানাটানি পড়ার আশঙ্কা রাখি। আল্লাহ হেফাজত করুন, আমিন।
আর লেখকের কাছে আমার এতসব আশা করাটাও বোকামি হয়েছে বটে। সামনে শুধু উনার দারবিশ টা পড়ার ইচ্ছে আছে আর। আসমান পড়ে যে মোহময়ী টানে আটকালাম সে ভাঙলো আজ চূড়ান্ত ভাবে।
সমালোচনার নজর থেকে বের হয়ে এসে বলি, কাহিনির টানটান ছিলো। বেশকিছু জিনিস জানা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদের ধারণা বা উত্থান, ঠগী, সতীদাহপ্রথা বিরুদ্ধ আইন ইত্যাদি। রাখালের জীবন দর্শন ভালো লেগেছে, তবে তার মুল কারণ সে প্রকৃতিতে বেড়ে উঠেছে সেজন্য । চিরসবুজ প্রকৃতির প্রতি তার এ দর্শন উপভোগ করার মতো।
বই : রাখাল লেখক : লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রকাশনী : নালন্দা মুদ্রিত মূল্য : ৩০০
৪ ডিসেম্বর, ১৮২৯ সাল; ২০ অগ্রহায়ণ, ১২৩৬ বঙ্গাব্দ ; ৬ জামাদি উসসানি, ১২৪৫ হিজরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অধীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং কর্তৃক এবং স্বাক্ষরিত রেগুলেশন নং ১৭ এর মাধ্যমে আইন জারি করা হলো যে-
"সতী বানানো অভ্যাস অথবা হিন্দু বিধবাদের জীবন্ত দাহ করা অথবা কবর দেওয়া ফৌজদারি বিচারালয় দ্বারা ঘোষিত বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।"
এর আগে দুর্বিষহ এক জীবন পার করেছে উপমহাদেশের হিন্দু বিধবারা। সতী হওয়ার আশায় কেউ হয়তো সেচ্ছায় চিতায় উঠে শেষ মুহুর্তে তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে বাঁচার চেষ্টায় শেষ চিৎকার দিয়েছে কিংবা কাউকে জোর করে উঠানো হতো চিতায়। তবে একবার উঠলে তার আর বেচে ফেরার রাস্তা থাকতো না। তবে কখনো কি আমাদের জানতে ইচ্ছে হয়েছে কেমন ছিল সেই বিধবার জীবন যাকে এই সতীদাহ প্রথা রহিত আগে শেষ বারের মতো চিতায় উঠানো হয়েছিল? গল্পটি ভারতবর্ষের শেষ সতীর জীবন কাহিনী অবলম্বনে লেখা।
শেষ সজ্জায় বৃদ্ধ জমিদার নিজ বিদায়ের প্রহর গুনছে আর সাথে আছে তরুণী কম বয়সী স্ত্রী। পুরো দমে তার সতী হয়ে বংশের নাম উজ্জ্বল করার আয়োজন চলছে। সমাজের এক প্রান্তে সতী হওয়া যেমন গর্বের বিষয় ছিল তেমন এর বিপরীত হাওয়াও তখন সমাজের অপর প্রান্তে বইছিল ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামমোহন রায় ও ইয়াং বেঙ্গলের কিছু তরুণদের হাত ধরে। আর তাদের সাথে ছিল কয়েক ব্রিটিশ অফিসার। উপন্যাস কাল্পনিক হলেও এর সাথে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও সমাজ পরিবর্তনকারী কিছু চরিত্র। ঐতিহাসিক সত্যতা ও চরিত্রের সাথে কাল্পনিক কিছু চরিত্র মিশে একাকার হয়ে মিশে গেছে। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি কোনো গল্প পড়ছি।
ব্রাহ্ম সমাজের মানুষেরা একেশ্বরবাদী ছিলেন। তারা যেমন মূর্তি পুজা বিশ্বাস করতো না তেমনি সতীদাহ প্রথারও তারা ঘোর বিরোধী ছিল। তাদের সাথে ছিল ডিরোজিওর ইয়াং বেঙ্গল। যার অন্যতম সদস্য মাধব চন্দ্রের চরিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। তাদের মতে বেদে একেশ্বরের কথা বলা হয়েছে আর যেসব শ্লোক বলে সতীদাহকে জাস্টিফাই করা হতো সেগুলো ভুল ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছু ছিল না। যেমন এক ��ন্ডিতকে সতীদাহের প্রমান ধর্ম গ্রন্থ থেকে দিতে বললে তিনি বেদের রেফারেন্স দেন। পন্ডিতের মতে, ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের আঠারো নং সুক্তের সপ্তম শ্লোকে লেখা আছে-
"এই সকল নারী বিধবা হওয়ার দুঃখ অনুভব না করে ঘৃত ও অঞ্জন অনুলিপ্ত পতি প্রাপ্ত হয়ে উত্তম রত্ন অলংকার পরিধান করে আগুনের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করুক।"
পন্ডিতের এই ব্যাখ্যার জবাবে মাধবের বিশ্লেষণ ছিল ঠিক এমন,
"আরো হন্ত জনয়ঃ যোনিং অগ্রে"
শেষ শব্দটা লক্ষ করুন। শেষ শব্দটার পরিবর্তন একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। 'অগ্রে' শব্দের পরিবর্তন করে 'গেঃ' শব্দটা লাগানো হয়েছে, ফলে আধুনিক পণ্ডিতগণ সতীদাহকে বেদ অনুমোদন দিয়েছে বলে বিবেচনা করেছিলেন। এই ভুল ধরা পড়ার পর এখন আর সতীদাহ করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং ঋগ্বেদের এই শ্লোকের মূল অর্থ হলো-
"এই সকল নারী বিধবা হওয়ার দুঃখ অনুভব না করে ঘৃত ও অঞ্জনের সহিত মনের মতো পতি লাভ করে উত্তম রত্ন অলংকার পরিধান করে গৃহে আগমন করুক।"
দেখুন ঠিক তার পরের শ্লোকে কী বলা হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে যখন শ্মশানে দাহ করা হচ্ছে, তখন মৃত ব্যক্তির বিধবার প্রতি শ্মশানেই শোনানো হচ্ছে সান্ত্বনার বাণী। বেদেই বলা হয়েছে শ্মশান থেকে ঘরে ফিরে যেতে। দেখুন অষ্টম শ্লোক-
"হে নারী, সংসারের দিকে ফিরে চলো, উঠে দাঁড়াও, তুমি যার নিকট শয়ন করতে যাচ্ছ, সে মারা গেছে। চলে এসো। যিনি তোমার পাণি গ্রহণ করে তোমাকে গর্ভদান করেছিলেন, সেই পতির স্ত্রী হয়ে তোমার যা কিছু কর্তব্য ছিল, সবকিছুই তুমি সুসম্পর্ক করেছো।"
এই ঋকেই প্রমাণ হয়ে গেছে যে সতীদাহ আদিতে প্রচলিত ছিল না। এটা শাস্ত্রসম্মত বিধান নয়। এটা নারী হত্যা।'
এসব তর্ক বির্তকের মাঝে সতীদাহের চিতা থেকে পালিয়ে যাওয়া জমিদার স্ত্রী পূর্বা দেবীকে বাঁচাতে দূত হয়ে আগমন হয় এক মুসলিম রাখালের। রাখাল, যে বাঁচে সত্যের জন্য। যাকে দেখে পূর্বার মনে হয়েছিল এ রাখাল নশ, রাখালের ছদ্মবেশে স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ। আর এই দুই বিশ্বাসের প্রেমানুভূতি মিলেছে মহান ঐশী অধ্যাত্নবাদে।
পুরোটা সময় থ্রিলারের অনুভূতি পেয়েছি। রাখাল কতদিন পূর্বাকে লুকিয়ে রাখতে পারবে বা তাদের খুঁজে পেলে তাদের পরিণতি কী ই বা হবে। তবে শেষটা যেমন আশা করেছিলাম তেমন হয় নাই। হয়তো অন্যরকম হলেও হতে পারতো। তবে সেটা হলে হয়তো এখন যেমন ভাবছি এতো ভাবতাম না। লেখক হয়তো এটাই চেয়েছিলেন পাঠককে ভাবাতে। রাখালের চরিত্রটা নিয়ে হয়তো আরও কিছু কাজ করা যেত। আসমান পড়ে যেমন পূর্ণতা পেয়েছি তেমনি এটা পড়ে শেষে একটা অতৃপ্তি রয়ে গেল। অন্যরকম অনুভূতি।
সময়টা তখন সতীদাহপ্রথা বন্ধের কিছু আগে। উত্তাল ভারতবর্ষ। সতীদাহপ্রথার পক্ষে-বিপক্ষে মানুষের চিন্তাভাবনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। . তরাই পরগনার জমিদার রামদেব ঘোষাল তখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। বহুত কষ্টে দিনযাপন করার পর হঠাৎ একসময় উনার মৃত্যু ঘটে। তার ভ্রাতা বাসুদেবের ছিল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রবল লোভ। পথের কাটা হিশেবে ছিল রামদেব ঘোষালের স্ত্রী পূর্বা দেবী। তাকে সতীদাহ করার করার সব কাজ ঠিক হয়। কিন্তু পূর্বা দেবীর এই কাজে ইচ্ছে ছিল না। তাকে জোর করা হচ্ছিল বারবার। দাসী কুন্তীর সাহায্যে সে পালিয়ে যায় গহীন অরণ্যে। . রাখাল নামক যুবক অরণ্যে পশু পালন করতো, তার ব্যক্তিত্ব ছিল প্রশংসনীয়, ধর্মে মুসলিম, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও পিতার নানান নসিহত পালনে দৃঢ়প্রত্যয়ী। প্রত্যেকদিন ঘোষালমহলে এসে দুধ দিয়ে যেতো। কুন্তী সাহায্য চাওয়ায় একসময় রাজি হয় পূর্বা দেবীকে লুকিয়ে রাখতে। . বাসুদেবের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল ঠগীদের সাথে। সে তার এলাকায় তাদের পরিচয় লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করছিলে। পূর্বা দেবীর খোঁজে বের হয় ঠগীদের দল।পুরো তরাই পরগনা খুঁজে শেষ করা হয় বাকি ছিল গহীন অরণ্য যেখানে মানুষের আনাগোনা ছিল না একদমই। হঠাৎ একসময় পূর্বা দেবীর সন্ধান পেয়ে যায় ঠগীদের সরদার। . পূর্বা দেবীকে ঈগলের বাসায় রেখে দেয় রাখাল এবং খাবার দিয়ে যায় সময় করে । রাখালের কথা বলা, তার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন পূর্বা দেবী। একসময় রাখাল টের পায় তাকে কেউ অনুসরণ করে এটা সে পূর্বা দেবীকে জানিয়ে রাখে এবং এখান থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করে। . ছদ্মবেশে ঠগীদের সরদার রাখালকে ধরে ফেলে এবং নির্যাতন করে পূর্বা দেবীর সন্ধান জানতে চায় কিন্তু রাখাল মুখ খুলে না। একসময় রাখালের না আসায় পাহাড় থেকে নেমে আসে পূর্বা। গাছের ডাল দিয়ে ঠগী সরদারকে আঘাত করে। একসময় তাদের সাথে পেরে ওঠে না পূর্বা দেবী। তাকে ধরিয়ে নিয়ে যায় ঘোষালমহলে,সতী হওয়ার ইচ্ছায় চিতায় উঠাতে... . রাখাল অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। তাকে কবর দেওয়ার জন্যে রেখে গিয়েছিল দুজন ঠগী সদস্য। কিন্তু এক বাঘের আগমনে সে রক্ষা পায়। . পূর্বা দেবীকে চিতায় তোলা হয়। সময়টা তখন ৬ ডিসেম্বর ১৮২৯ সাল। কোম্পানি সরকারের নতুন আইন সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাকে রক্ষার জন্য সৈন্যসমেত ঘোড়া ছুটান সেই এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট পিটারসন এবং সেখানে গিয়ে পূর্বা দেবীকে রক্ষা করতে সক্ষম হন।
সতীদাহপ্রথার শেষসময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা 'রাখাল' উপন্যাসটি। লতিফুল ইসলাম শিবলী সাহেব সুন্দর করে কাল্পনিক-তথ্যজুড়ে উপন্যাসটাকে দারুণ ফুটিয়ে তুলেছেন। উপন্যাসটা আমার কাছে বেশ ভালোই লেগেছে। ঠগীদের সম্পর্কে টুকটাক জানতাম কিন্তু বইয়ে ইন্টারেস্টিং কিছু তথ্য পেলাম। হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির কিছু কুসংস্কারও জানতে পারলাম। আগ্রহীরা পরে দেখতে পারেন।
বই ~ রাখাল লেখক ~ লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রকাশনী ~ নালন্দা পৃষ্ঠা ~ ১৪১ মূল্য ~ ৩০০/-
এ নিয়ে লেখকের ৩টা উপন্যাস পড়া হয়ে গেল! কোন বই-ই এখনো পর্যন্ত হতাশ করেন নি।
'রাখাল' উপন্যাসের মূল চরিত্রে ছিল 'পূর্বা দেবী' হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে এক প্রথা(ভুল ব্যাখ্যা) ছিল যার নাম 'সহমরণ কিংবা সতীদাহ'। অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যু হলে, নরক হতে মুক্তি এবং স্বর্গ লাভ নিশ্চিত করার জন্য, চিতায় স্বামীর মৃতদেহ কোলে নিয়ে জীবিত স্ত্রী আগুনে দাহ হতো। স্বামী রামদেবের মৃত্যুর পর আত্মীয় স্বজনরা, পূর্বা দেবীকে সতীদাহের জন্য বাধ্য করলে, সেখান হতে পালিয়ে গিয়ে এক মুসলিম রাখালের সাথে জঙ্গলে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং বাঁচানোর জন্য লড়াই করে চলতে থাকে। অন্যদিকে ৮-ই ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে, রামমোহন রায়ের সাথে একাত্মতা গ্রহণ করে ইংরেজ সরকার উইলিয়াম বেন্টিংক সতীদাহপ্রথার বিরুদ্ধে আইন পাশ করেন। পুরো হিন্দু সমাজ তখন দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, সতীদাহপ্রথা পক্ষে এবং বিপক্ষে।
মোট ১৪১ পৃষ্ঠার প্রতিটা লাইনেই ছিল থ্রিলিং এ পরিপূর্ণ। পরবর্তী লাইনে কি হতে চলছে, সেটা জানার জন্য আপনার মনের মধ্যে একটা ভয়ংকর আকুতি সৃষ্টি করতে বাধ্য করবে। আর লেখকের শব্দ চয়নের প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন। জাস্ট রিড ইট🌺
‘সতী’ নামটা এসেছিল দেবী সতীর থেকে। তিনি ছিলেন রাজা দক্ষের কন্যা, একইসাথে দেবাদিদেব শিবের স্ত্রী। দক্ষ মেনে নিতে পারেননি তার মেয়ে কোনো শ্মশানবাসী ভবঘুরেকে বিয়ে করবে। একদিন সতীর সামনেই শিবকে কঠোর ভাষায় দক্ষ তিরস্কার করলে স্বামীর অপমান সহ্য না করতে পেরে সতী আত্মহনন করেন। মৃত স্বামীর সাথে চিতায় ওঠার এই প্রথার নাম সতী লিখেছিলেন এংলো-ইন্ডিয়ান লেখকরা। আসলে একে বলা হত ‘সহগমন’, ‘সহমরণ’ বা ‘সতীদাহ’। ‘সতীব্রত’ বলে এক প্রথা চালু ছিল, যেখানে নারী তার স্বামীকে কথা দিত, স্বামী যদি আগে গত হয়, তবে সেও সহমরণে যাবে। সতীপ্রথা পালন করা হলে নারীকে বলা হত ‘সতীমাতা’। কালক্রমে তাই একসময় হয়ে উঠলো 'সতীদাহ প্রথা'। পরের জন্মে সম্মান অথবা সমাজে দর্প করে বেড়ানোর আশায় ১৫০০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত কয়েক হাজার নারীকে জীবিত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে স্বামীর চিতায়। সতীদাহের কোনো আদেশ বেদে নেই বলে জানা যায়, বরং মরণোত্তর স্ত্রীকে স্বাভাবিক জীবন পার করতেও বলা হয়েছে। সময়টা উনিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশক। সতীদাহ প্রথার ভয়াল শিকার হতে হতে বেঁচে যান রামদেব ঘোষালের বিধবা স্ত্রী পূর্বা দেবী। লোভী দেবর বাসুদেব ভাইয়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির লোভে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাইয়ের পুণ্য লাভের নাম করে সতী করতে চায় পূর্বাকে। তবে ঘোষাল মহলের দাসী কুন্তি এবং এক আশ্চর্য ব্যক্তির সহযোগিতায় পালাতে সক্ষম হয় পূর্বা দেবী। পালিয়ে আশ্রয় নেয় এক সুউচ্চ পাহাড়ের খাঁজে। সাথে সেই আশ্চর্য ব্যক্তি মুসলিম 'রাখাল'। পূর্বা দেবী রাখালকে যতো দেখেন ততোই অবাক হন। মহলের স্বার্থপর, লোভী, পিপাসু পুরুষের চাহনীতেই অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। সেখানেই রাখাল একদমই বিপরীত। পাহাড়ের খাঁজে জীবনকে নতুনভাবে খুঁজে পায় পূর্বা দেবী। পূর্বা দেবীর পলায়ন নিয়ে তোলপাড় লেগে যায় মহল সহ পুরো গ্রামে। বাসুদেব মরিয়া হয়ে ওঠে পূর্বাকে খুঁজতে। রামদেবের লাশ পঁচে গন্ধ ছড়াতে থাকে। পূর্বাকে খুঁজতে ঠগিদের পর্যন্ত কাজে লাগিয়ে দেয়। ভারতবর্ষ তখন নানা রকম আন্দোলনের মাঝে দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা নিয়ে, আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তি মহর্ষি রাজা রামমোহন রায়, মাধব চন্দ্র। বেদের শ্লোকের বিপরীত মানে বের করেই কালে কালে এই কু-প্রথার বলি হয়ে আসছে নারী জাতি। একেশ্বরবাদী রামমোহন আর তার অন্যতম শিষ্য এই বাণীই প্রচারে লেগে আছেন। ইংরেজ অফিসারের সহায়তা নিয়ে সতী বন্ধের আইন পাশ করানো নিয়ে তোড়জোর করে যাচ্ছেন। জীবনকে নতুনভাবে দেখা, গহীন জঙ্গলের মাঝে দিন পার, রাখালের জন্য অপেক্ষা আর ধরা পড়ে যাবার আশংকা নিয়ে দিনাতিপাত করে যাচ্ছে পূর্বা। রাখাল তাকে জঙ্গলে টিকে থাকার জন্য আরো উপযোগি করে তুলেছে। এদিকে রাখালও পূর্বাকে নিয়ে শংকায় থাকে। কাজ শেষে একেকদিন একেক পথে ফেরে যেন কেউ পিছু নিতে না পারে। সঙ্গে দুইজনের উপযোগি খাবার নিয়ে নেয়। কিন্তু কয়দিন ধরে একটু খটকা লাগছে। ইন্দ্রিয় তাকে সতর্ক করছে কেউ হয়ত পিছু নিয়েছে। তাই সে আরো সতর্ক থাকার চেষ্টা করছে। ধর্মের নামে অধর্মের বলি কি সে হতে দিতে পারে? কিন্তু শেষরক্ষা কি হবে? পথের ধারে এই সন্ন্যাসী কে? সাল ১৮২৯ এর ৪ঠা ডিসেম্বর। এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ মুহুর্ত। বন্ধ হলো ধর্মের নামে, পূণ্য লাভের মিছে বুলি দিয়ে নিষ্পাপ নারীদের জীবন নিয়ে খেলার 'সতীদাহ' প্রথা'। আইন পাশ হলো। হাজারো বিরোধিতার মুখে কিছু আলোকযাত্রীর চেষ্টায় ভারতবর্ষ মুক্তি পেল সতীদাহ থেকে। কিন্তু আসলেই কি তাই? ওদিকে যে পূর্বাকে চিতায় ওঠানোর জন্য চন্দন কাঠ, ঘি আর হরিবলের রোল পড়ে গেছে। মাধব, ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট পিটারসন কি পারবে পূর্বাকে রক্ষা করতে?
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: রাখালকে হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার বলা যায়। ইতিহাসের ছোটো ছোটো টুকরা ভেসে এসেছে রাখালে। অস্থির একটা সময়, যেখানে ধর্মের নামে কিছু আবর্জনা পরিবেশ বিষিয়ে তুলছিল। তাদের রুখতে উপন্যাসে আগমন ঘটে ইতিহাসের সেইসব উজ্জ্বল ব্যক্তির। সতীদাহ রুখতে রামমোহন, মাধব চন্দ্র, উইলিয়াম বেন্টিংকের মতো মানুষের সহায়তা কে না জানে! উপন্যাসের এই অংশগুলো বেশ ভালো লেগেছে। কাহিনির বর্ণনায় ঠগিদেরও এনেছেন। লেখক বেদ থেকে কিছু শ্লোকের অবতারণা করেছেন। পূর্বাকে বাঁচাতে জীবিনের ঝুঁকি নেয়া রাখালের চরিত্রটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। পূর্বার অসহায়ত্ব থেকে পরবর্তীতে ঘোষাল পরিবারের সর্বেসর্বা হওয়া পর্যন্ত তার যাত্রা বেশ কঠিন ছিল। তবে ইতিহাসের অবতারণা যেভাবে লেখক করেছেন সে হিসেবে বইটা আরেকটু বড়ো হতে পারতো। আমার মনে হয়েছে বইটা হুট করেই শেষ হয়ে গেল। এত এত ইতিহাস একসাথে এসে যেন আর মিলতে পারেনি। খুব বেশি থ্রিল ছিল না, তবে রাখাল পূর্বাকে নিয়ে ধরা পড়ে যাবে না-কি, ধরা পড়লে রাখালের কী দশা হবে এই ভেবেই ছটফট করছিলাম। পিটারসন যখন মাধবকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন 'লেটস রেসকিউ দ্যা লাস্ট ভিক্টিম অব সতী' তখন উৎকন্ঠা লাগছিল কী হবে, কী হবে ভেবে। সতীর চিতার বর্ণনাগুলো পড়ে কষ্ট লাগছিল কী অসহায়তার মধ্যে দিয়ে পার করতে হয়েছিল সেই সময়কার হিন্দু বিধবা নারীদের! রাখালের মাধ্যমে লেখক কিছু ভারী অথচ অর্থবহ কথা বলেছেন। রাখাল-পূর্বার প্রেমকাহিনি হতে পারে এমন ধারণায় ছিলাম। যদিও ইতি টেনেছেন ভিন্ন। রাখালের উপস্থিতি আরেকটু দীর্ঘ হলে বেশি ভালো লাগতো। ইতিহাসের বর্ণনাগুলোর সাথে কাহিনি একটু দীর্ঘ হলে শেষ পাতায় এসে আরেকটু তৃপ্তি পেতাম। #লেখক_প্রসঙ্গে: এবছর বইমেলায় ফ্রন্টলাইন দিয়ে লেখক লতিফুল ইসলাম শিবলীর লেখার সাথে পরিচয়। এরপর দখল, দারবিশ পড়েছি। আমার সবথেকে প্রিয় দারবিশ। দারবিশ পড়ে লেখকের লেখার অন্যরকম ভক্ত হয়ে গিয়েছি। আমার কাছে লেখকের বইয়ের একটা বিষয় খুব ভালো লাগে উনার প্রতিটা বইয়ের একটা করে মোটো বা হেডলাইন জাতীয় একটা লাইন থাকে। যেমন: রাখালে ছিলো 'সত্যের জন্য বাঁচো সত্যের জন্য মরো', ফ্রন্টলাইনে ছিলো 'শান্তির জন্য যুদ্ধ', আসমানে 'যে গল্প জীবনের চেয়েও বড়', দখলে 'শহরের ভিতরে এক গোপন দখলের লড়াই'। #প্রোডাকশন: নালন্দার বইয়ের প্রোডাকশন ভালোই লাগে। বিশেষ করে তাদের বানান ভুলের পরিমান নেই বললেই চলে।