মিশর মানেই পিরামিড। মিশর মানেই রহস্য আর ইতিহাসের ককটেল। প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মিশরের সম্রাট স্নেফরুর বংশে যেদিন জন্ম নিল এক ফুটফুটে পুত্রসন্তান, কে জানত সেদিন পৃথিবীর বুকে রচিত হযে গেল সপ্তম-আশ্চর্যের ভিত্তিপ্রস্তর। এই রাজকুমার খুফু পরে নির্মাণ করবেন এক জগৎ বিখ্যাত পিরামিড। আর যুগে যুগে তা রয়ে যাবে সপ্তম আশ্চর্যের মুকুট হয়ে। এমনই আশ্চর্য নানা তথ্য,গল্প এবং দুষ্প্রাপ্য ছবিতে ঠাসা অয়ন রাহার 'আশ্চর্য সাত',- বাংলার প্রকাশনা জগতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
বইটা গত বছর কিনে রেখে দিয়েছিলাম, পরে পড়ব ভেবে। এরপর আর খেয়াল ছিল না... কিছুদিন আগে পুরনো বই ঝাড়তে গিয়ে চোখে পড়ল। ব্যস, কিছুক্ষণের মধ্যে হারিয়ে গেলাম হাজার বছর আগের প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাসে...
এই বইয়ের মুখ্য বিষয় সপ্তাশ্চর্য। যদিও মোট ২১টা আশ্চর্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে এখানে : ৭টা প্রাচীন আশ্চর্য, ৭টা নবীন আশ্চর্য, আর ৭টা আশ্চর্য লেখকের নিজের বাছাই করা। খুফুর পিরামিড, ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান, জিউসের মূর্তি, রোডসের কলোসাস, আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর, চীনের মহাপ্রাচীর, পেট্রা নগরী, মাচু পিচু, তাজমহল, ইস্টার দ্বীপের মোয়াই, স্টোনহেঞ্জ... রোমাঞ্চের শেষ নেই এ বইতে। তবে সাল-তারিখে ভরা ইতিহাস সবার জন্যই বিরক্তিকর। লেখক সেটা ভেবেই বইটা সাজিয়েছেন গল্পের ঢঙে। ইতিহাসের তথ্যের ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে আশ্চর্যগুলো ঘিরে তৈরি হওয়া নানান মিথ আর ফ্যান্টাসির গল্প। আর পাতা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য চিত্তাকর্ষক ছবি। অত্যন্ত স্বাদু একখান বই।