প্রহর-শেষের আলোয় রাঙা চৈত্রমাসগুলি চিরকাল নিয়ে আসে সর্বনাশের বার্তা। সেই সর্বনাশের আশায় বসে-থাকা, কিংবা সর্বনাশের স্রোতে ভেসে-যাওয়া মানব-মানবীদের আখ্যান লিখে রেখেছেন একালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাকার সৌরভ মুখোপাধ্যায়। মননে দীপ্ত অথচ আবেগে স্পন্দিত তাঁর লেখনী, তা থেকে জন্ম-নেওয়া কুড়িটি অসামান্য প্রেমের গল্প নিয়ে এই সংকলন। রসের বৈচিত্র্যে, বিষয়ের নতুনত্বে, ভাষার দ্যুতিতে আর শৈলীর বহুমুখিনতায়--- এই গল্পগ্রন্থ হয়ে উঠেছে এক অপরূপ বর্ণাঢ্য চালচিত্র।
'প্রেমের গল্প'— মাত্র দুটি শব্দ শোনামাত্র পাঠকের মনে একটা অন্যরকমের প্রত্যাশা তৈরি হয়। হয়তো তাঁর শ্বাস আরও একটু ঘন হয়। হয়তো শুকনো ঠোঁটজোড়াকে আলগোছে চেটে নেয় জিভ। হয়তো তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, এই গল্পে কি নিজেকে খুঁজে পাবেন তিনি— নিজের যাবতীয় চাওয়া আর না-পাওয়া নিয়েও? এই সময়ের শ্রেষ্ঠতম সাহিত্যিকদের একজন যখন প্রেমের গল্প লেখেন, তখন সেই প্রত্যাশার পারদ আরেকটু ঊর্ধ্বমুখী হয়। নিপুণ ভাষা ও বাস্তবানুগ চরিত্রচিত্রণের সঙ্গে তখন একটু ভয়ও জাগে মনে। প্রেম মানে তো শুধুই বাসস্টপে কেষ্টঠাকুর হয়ে অপেক্ষা আর মলিন মুখে প্রেমিকাকে অন্যের পাশে পিঁড়িতে বসতে দেখা নয়। তাতে তো আছে আরও অনেক সূক্ষ্ম ভাব, ভাবনা, রূপটান। লেখক কি পারবেন সেই বিস্তীর্ণ বেনীআসহকলা-র সব রং ফুটিয়ে তুলতে? উত্তরটা, এই বইয়ের কুড়িটি গল্পের ভিত্তিতে, আপনাকেই বুঝে নিতে হবে, হে পাঠক। একটি দীর্ঘ 'জবানবন্দি'-র পর লেখক একে-একে পেশ করেছেন~ ১. বিনির্মাণ-বিষয়ক; ২. মধুরেণ; ৩. না-গল্পের খোঁজে; ৪. শোধ; ৫. রক্তগোলাপ; ৬. সুজাতার গল্প; ৭. অযান্ত্রিক; ৮. সেনসর; ৯. সাঁকো; ১০. যৌতুক; ১১. এক্স; ১২. অতিক্রম; ১৩. ফিরে এসো, ঊর্মি; ১৪. স্মাইলি; ১৫. শিকল; ১৬. আলোয় ঢাকা অন্ধকার; ১৭. শ্রাবণধারা; ১৮. মোড়; ১৯. ভাঙা চাঁদ; ২০. প্রথম যেদিন। এদের মধ্যে বহু গল্পই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুলভাবে চর্চিত হয়েছে নানা সময়ে। কখনও তারা নন্দিত হয়েছে, আবার কখনও হয়েছে নিন্দিত। সেগুলো নতুন করে পড়তে গিয়ে আবারও মনে হল, গল্পগুলোর কনটেন্ট যতই বিষাদবিলাস এবং একাকিত্বে অতিজারিত হোক না কেন, বাচনভঙ্গি ও চরিত্রচিত্রণের দিক দিয়ে তাদের একটিকেও উপেক্ষা করা চলে না। হ্যাঁ, এই গল্পের নানা চরিত্রের মধ্যে আমি, আপনি, আরও অনেকে মিশে আছি কোনো না কোনোভাবে। তাই কোনো গল্পের শেষে চরিত্রদের মুখে লেগে থাকা ওই একচিলতে হাসির মালিকানা আমাদেরই হয়। আবার কোনো গল্পের শেষে একটা অন্তহীন বিকেল বা ঘনায়মান সন্ধ্যায় বরাবরের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাও আমরাই হই। এখানেই লেখকের সার্থকতা। এভাবেই তাঁর লেখা গল্পগুলো আমাদের সবার প্রেমের গল্প হয়ে ওঠে— সে বাস্তবে হোক বা কল্পনায়। চমৎকার প্রচ্ছদ বইটির ভাবনার সঙ্গে মানানসই হয়েছে। কিন্তু এমন "বসে আঁকো" স্ট্যান্ডার্ডের অলংকরণ এত উচ্চ মানের বইয়ে দেখতে হবে, এমনটা ভাবিনি। প্রকাশক যদি পরবর্তী সংস্করণে অলংকরণ শিল্পীকে বদলিয়ে ছবিগুলো নতুন করে আঁকান, তাহলে যথাযথ হয়। জানি না আপনি প্রেমের (বা অপ্রেমের) গল্প পড়তে ভালোবাসেন কি না। তবে গল্প— লেখকের ভাষায় আদি-মধ্য-অন্ত-সম্পন্ন গোল গল্প— পড়তে আগ্রহী হলে এই বইটি অবশ্যই পড়তে অনুরোধ করব। শুধু বইয়ের তাকে নয়, এ এক মনে রেখে দেওয়ার মতো বইও বটে।
বইটার নাম শুনেই প্রথম পড়ার ইচ্ছেটা হয়। আসলে আমিও সেই পাঠক পাঠিকাদেরই একজন যারা কিনা গল্পের নাম পছন্দ হলে তবেই পড়ে। এই বই দিয়েই লেখক এবং তাঁর লেখার সাথে আমার পরিচয়। বইয়ের শুরুতেই লেখক যে ভূমিকা দিয়েছেন সব গল্পগুলো পাড়ার পর আমি তাঁর সাথে মোটেই একমত হতে পারছি না। উনি যে সব গল্প নিছক অন্য আঙ্গিকে লিখেছেন বলে দাবি করেছেন, সেগুলো এত নিপুণ ভাবে প্রেমের গল্প হয় কেমন করে! এবার আসি গল্পগুলোর কথায়, অনেক গুলো গল্প আছে তাই সবকটা গল্প যেমন সমান ratings পাবে না তেমন কোনো গল্পই তথাকথিত "below the grade" নয়। আবার এগুলোর মধ্যে কয়েকটা গল্প অদ্ভুত ভাবে আমাকে নাড়া দিয়েছে। প্রথমেই আসি ‘না গল্পের খোঁজে’, এটার ব্যাপারে বলার আগে একটা অন্য ব্যাপার বলতে চাই, এই বইতে বেশ কিছু গল্পে আমার জীবনের খুব কাছের একজন মানুষের নাম (ভালো অথবা ডাকনাম) লেখক নিজের অজান্তেই ব্যবহার করেছেন। আবার যেখানে যেখানে নামগুলো ব্যবহার করেছেন সেই চরিত্রের সাথে আমার জীবনের ওই মানুষটির টুকরো টুকরো চরিত্র অদ্ভুত ভাবেই মিলে গেছে। যেন মনে হচ্ছিল লেখক বাস্তবিক কোনো চরিত্রের সঙ্গে গল্পের হুবহু মিল রাখবেন না বলেই এমন একটা মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট তারই ভিন্ন নামে ভিন্ন গল্পে রেখেছেন! যে কথা বলছিলাম, এইটি গল্পটি এমনভাবে হৃদয় স্পর্শ করেছে, বিশেষত শেষের কিছু কথোপকথন; যে পড়া শেষ করে কিছুক্ষণ বসে কেঁদেছি। এরপরে আসি পুরো বইতে সবথেকে বেশি প্রভাবিত করেছে যে গল্পটি তার কথায়, বলতে পারি আমার চিন্তা-ভাবনা বদলে দিয়েছে সেটা হল ‘সেন্সর’। আমার বয়স খুবই কম, বিচার বিবেচনা বোধ সবই খুব সামান্য তাও, আমার যতটুকু ক্ষমতা তা দিয়ে বুঝেছি এই গল্পটি প্রত্যেক বাবা-মায়ের পড়া উচিৎ। এই গল্পটা নিয়ে আমার যা উপলব্ধি তা হয়তো কথায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই। ‘যৌতুক’ গল্পেও লেখক যেভাবে, প্রতিদিন আমাদের চারিপাশে ঘটে যাওয়া খুব সাধারণ এরম একটা ঘটনাকে এতো অসাধারণ করে তুলে ধরেছেন, তা সত্যি অতুলনীয়। ‘এক্স’ গল্পটি পড়তে পড়তে মন চাইছিল একটা নিখুঁত সমাপ্তি যেন পাই এই গল্পের, যদিও সেই ‘নিখুঁত শেষ’টা যে ঠিক কেমন সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু লেখক আমার চাওয়ার থেকেও নিখুঁত ভাবে গল্পটি শেষ করেছেন। তাই এটা পড়ার পর অভাবনীয় একটি তৃপ্তি এসেছিল। লোকে বলে ভালোবাসার মানেটা আপেক্ষিক, আবার কেউ কেউ তো সারাজীবনেও ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না যে ‘ভালোবাসা’ আসলে কেমন! ‘স্মাইলি’ পড়ার পরে তো আমার ভ্যাবাচ্যাকা অবস্থা, কাকে বলে ভালোবাসা? সেটা ঠিক কেমন করে হয়? প্রেমের গল্প বা নিখাদ ভালোবাসার গল্প আজকে প্রায় বাদের খাতাতেই যেতে বসেছে, তাই প্রেমের গল্প না হয় নাই বা পড়লেন, এরকম কিছু ‘সর্বনাশের গল্প’ পড়েই দেখুন না…
....প্রহর-শেষের আলােয় রাঙা চৈত্রমাসগুলি চিরকাল নিয়ে আসে সর্বনাশের বার্তা। সেই সর্বনাশের আশায় বসে-থাকা, কিংবা সর্বনাশের স্রোতে ভেসে-যাওয়া মানব-মানবীদের আখ্যান লিখে রেখেছেন একালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাকার সৌরভ মুখােপাধ্যায়। মননে দীপ্ত অথচ আবেগে স্পন্দিত তাঁর লেখনী, তা থেকে জন্ম-নেওয়া কুড়িটি অসামান্য প্রেমের গল্প নিয়ে এই সংকলন। রসের বৈচিত্র্যে, বিষয়ের নতুনত্বে, ভাষার দ্যুতিতে আর শৈলীর বহুমুখিনতায়– এই গল্পগ্রন্থ হয়ে উঠেছে এক অপরূপ বর্ণাঢ্য চালচিত্র ।
🔹 সংকলনের ভূমিকায় লেখক স্বয়ং বলেছেন - “এক-কুড়ি গল্প আমি লিখেছি সব মিলিয়ে, যাদের মূল আবেগ কারও প্রকট কারও প্রচ্ছন্ন, কারও প্রাথমিক কারও অন্তিম স্তরে ফুটে ওঠা — কিন্তু ওই মূল অনুভবটি, অভ্রান্তভাবে, প্রেমেরই । এবং, সত্যের খাতিরে মানতেই হয়, তাদের রেঞ্জও বেশ বিস্তৃত । অজ পাড়াগাঁয়ের নিরক্ষর ঘরামি-পরিবার থেকে চূড়ান্ত শহুরে অভিজাত যুগল, রাস্তার ধারের বেশ্যা থেকে নরমসরম ভূগােল-দিদিমণি, হাল আমলের খােলামেলা ইউনিভার্সিটি-রােমান্স থেকে সেই কবেকার রবীন্দ্র-যুগের ভীরু সসংকোচ হৃদয়বেদনা। মােবাইল-স্ক্রিন উপচে-ওঠা শূন্য দশকের ভারচুয়াল প্রেমও লিখেছি, আবার মানুষের উৎপত্তি-আখ্যানের আদিম লগ্নেও ঘুরে এসেছি পৃথিবীর প্রথম প্রেমটি জন্ম নিচ্ছে সবে যখন ! ত্রিকোণ, চতুর্কোণ, পরকীয়া এমনকী, সমলৈঙ্গিক প্রেমকেও বাদ দিইনি । অনেক গল্পেই ডার্ক উপাদান তীব্র হয়ে উঠেছে, মধুর পাশাপাশি বিষও সরবরাহ করেছি দরকারমতাে । শিল্প হিসেবে, বা নিছক বিনােদন হিসেবেই - কতটা সার্থক হয়েছে, সে তাে আপেক্ষিক বিচারের বিষয়। কিন্তু কন্টেন্টের বা লেয়ারের বৈচিত্র্য যে তৈরি হয়েছে, এটা অস্বীকার করার মতাে অতি-বিনয় দেখানাের মানে হয় না।”
🔹 “এই বই তাদের জন্য, যাঁরা কখনও - কোনাে এক বা একাধিক চৈত্রমাসে - প্রত্যক্ষ করেছেন সর্বনাশের স্বরূপ । বিদ্ধ হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, নষ্ট হয়েছেন' বা, সেই তাঁরা - যাঁদের জন্য অপেক্ষা করে আছে কোনাে অনাগত ‘সর্বনাশা চৈত্র’... এ বই তাঁদের জন্যও ।” প্রেমকে মূল ধারা রেখেও সংকলনের গল্পগুলি বিষয়ভাবনা ও নির্বাচনে স্বতন্ত্র । গল্পগুলি গড়পড়তা 'হ্যাপি-এন্ডিং’ গোছের রােমান্টিক গল্প নয়, বরং... জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক । এই গল্প সংকলন প্রকৃত অর্থেই ভিন্নধর্মী । সব গল্পই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রেম ও ভালােবাসাকে আধার করে আবর্তিত হলেও অধিকাংশ গল্প অপরিপূর্ণতার কথা বলে, মানব-মানবীর অতৃপ্ত প্রেমের কথা বলে ।
বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখা গল্প সংকলন পড়া হলেও প্রেমের গল্প সংকলন আলাদা করে কখনো পড়া হয়ে ওঠেনি। লেখক শ্রী সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের লেখা গল্প সংকলন 'গোল গল্প ও চৌকো গল্প' পড়ে বেশ ভালই লেগেছিল। কুড়িটি প্রেমের গল্প সংকলন 'চৈত্র মাস আর সর্বনাশের গল্প' বই এর নামটি বেশ অভিনব লাগলো। গল্পগুলির মূল আবেগ প্রেম হলেও প্রতিটি গল্পে তার প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন রূপে। সৃষ্টির আদিম লগ্ন থেকে আধুনিককালের প্রেম আবার সেখান থেকে কল্পবিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রেম পাড়ি দিয়েছে ভবিষ্যতের সময়ে। শুধু সময়কালের পরিবর্তন নয় গল্পগুলির মধ্যে বৈচিত্র্য এসেছে ভীরু প্রেম, অসমবয়স্কের অপরিনত প্রেম, ত্রিকোণ, পরকীয়া এমনকি সমলৈঙ্গিক প্রেমের মাধ্যমে। সেই সাথে ফুটে উঠেছে জীবনের বাস্তবতা, নিজের অনুভূতি কে প্রকাশ না করতে পারার যন্ত্রনা। সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ বা জটিলতা।এই সমস্ত বিষয় বৈচিত্র্য যখন লেখক গল্পগুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন তখন প্রতিটি গল্প হয়ে উঠেছে জীবন্ত, যা আমাদের মতো পাঠকদের আনন্দ দেয়।গল্পের সাথে একাত্ম হয়ে অজান্তেই আমাদের চোখে জল এসে যায়। আর এখানেই এই সংকলনের সার্থকতা বলেই মনে হয় আমার। আলাদা করে প্রতিটি গল্পে সম্পর্কে লেখা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। তবু ব্যক্তিগতভাবে 'বিনির্মাণ বিষয়ক', 'অযান্ত্রিক','যৌতুক','এক্স' , 'সেন্সর' 'ফিরে এসো ঊর্মি,'আলোয় ঢাকা অন্ধকার' ও 'অতিক্রম' খুব ভালো লেগেছে। গল্পের খোঁজে ও শ্রাবনধারা আমার এই সংকলনের সেরা মনে হয়েছে। সন্দেহ নেই এই অনুভূতি বহুদিন থেকে যাবে আমার মনে এই সংকলনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ লেখকের জবানবন্দি।এককথায় অপূর্ব লেখা। বিস্তারিতভাবে লেখক বুঝিয়েছেন কিভাবে প্রেম-ভালবাসার গল্প বা উপন্যাস সময়ের সাথে সাথে পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক বদলেছে।আর ঠিক কি কি কারনে এই পরিবর্তন তার যুক্তিনির্ভর ব্যাখা করেছেন এই ভূমিকার মাধ্যমে যা গল্পের মতোই সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে। প্রচ্ছদ সুন্দর লেগেছে তবে গল্পের অলংকরণগুলি খুব একটা ভালো লাগেনি। প্রোডাকশন কাফে টেবিলের অন্যান্য বই এর মতোই ভালো হয়েছে। সবশেষে এটাই বলব বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখা প্রেমের গল্প সংকলন আমার বেশ ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ জানাই লেখককে। আপনার কলম এভাবেই চলতে থাকুক
কোন মেয়ে কাব্যিক ভঙ্গিমায় ছেলেটির কাছে নিয়ে আসে বিনির্মাণের বার্তা, আরেকটি মেয়ে হয়ত নিজের ব্যর্থ প্রেমের গল্প লিখতে গিয়ে তাতে বেরিয়ে আসে আরেকটি মধুর প্রেমের সার্থকতা।
যে যুগলটি এতদিন হাত ধরে ঘুরে বেড়িয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, আজ সেই ছেলেটি লুকিয়ে সরে যায় মেয়েটি থেকে, নিষ্ঠুর পরিস্থিতির চাপে।
যে মেয়েটি ছিল বাপ মায়ের গর্বের জায়গা, মার্জিত শিল্প সংস্কৃতির ছোঁয়া যে বাড়ির রন্ধ্রে রন্ধ্রে, হঠাত আজ সেই মেয়েটি প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠছে যুগ যুগ ধরে প্রেম, ভালোবাসার প্রকাশকে দাবিয়ে রাখার 'সহবতের' বিরুদ্ধে।
প্রত্যাখ্যাত হয়ে তাকে না পেয়েও কেউ গুছিয়ে দেয় সেই মানুষটির জীবন, কারো প্রেমে চির বিচ্ছেদ নিয়ে এসেছিল কবির প্রয়ান দিবস ২২শে শ্রাবণ।
প্রহর-শেষের আলোয় রাঙা চৈত্রমাসগুলি চিরকাল নিয়ে আসে সর্বনাশের বার্তা। সেই সর্বনাশের আশায় বসে-থাকা, কিংবা সর্বনাশের স্রোতে ভেসে-যাওয়া- লেখক সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের এই ছোটগল্প সংকলনের মূল বিষয় প্রেম, প্রত্যেকটি গল্প অনন্য। কোন মুখে ফোটায় হাসি, কখনও ভারাক্রান্ত করে তোলে পাঠকের মন। পাঠক যেন নিজের ছায়া দেখতে পান গল্পের ভেতর।
যারা ছোটগল্প ভালোবাসেন, যারা নতুন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চান অথবা যারা অনেক উপন্যাস পড়তে পড়তে থমকে গিয়ে একটু ছোটগল্প খোঁজেন- তাঁদের জন্য আদর্শ বই 'চৈত্রমাস আর সর্বনাশের গল্প'।
অসাধারণ ভাষা শৈলী। সত্যি এক সুখপাঠ্য বই। সব গল্প ভালো লেগেছে বলব না। মধুরেন, শোধ গল্পের প্লট মোটামুটি ভালো লেগেছে। আবার সেন্সর, ফিরে এসো ঊর্মি, রক্তগলাপ দারুন লেগেছে।