দুই হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা জেরুজালেমের ঐতিহ্যবাহী সেকেন্ড টেম্পলের প্রেতাত্মারা জেগে উঠেছে অবশেষে। প্রফেসর স্যামুয়েল জনসন। একজন শান্তশিষ্ট নিপাট ভদ্রলোক। আশির দশকের এক সাধারণ সন্ধ্যায় হঠাৎই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল তার জীবনে। একদিন সকালে বাংলাদেশের ধানমণ্ডি লেকে পাওয়া গেল বস্তায় ভরে ফেলে রাখা নৃশংসভাবে খুন করা একটা মৃতদেহ। পুলিশের ধারণা লাশটা সদ্য নিখোঁজ হওয়া ডাক্তার জামান সারওয়ারের। আসলেই কি তাই? পাঠক, এ গল্প প্রফেসর স্যামুয়েল জনসনের। এ গল্প ডাক্তার জামান সারওয়ারের। আবার এ গল্প ইফতেখারের। উত্তাল সমুদ্র পার হয়ে এসে যে একটা শান্ত দীঘির মতো জীবন চেয়েছিল। কিন্তু না, ভাগ্যদেবী অন্যকিছু লিখে রেখেছিল তার জন্য। ব্রিগেডিয়ার আকরাম খান কি সত্যিই হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন? কোথায় লুকিয়ে আছে কেয়ারটেকার লোকমান? কে এই রহস্যময় পিটার বুন? পাঠক, শুরু হয়ে গেছে স্বার্থ, প্রেম আর সংঘাতের দাবা খেলা। অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে আপনাকে। শুরুতেই অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন আপনি। কিন্তু তাতে কী? এখনো তো ঘোড়ার চাল দেওয়াই হয়নি।
অনেকগুলো রহস্যের অবতারণা ঘটানো হয়েছে কিন্তু একটারও সমাধান করা হয়নি। দ্বিতীয় পর্বে করা হবে বলে রেখে দেয়া হয়েছে। লেখনী ভালো। সবথেকে স্ট্রং দিক হল প্রোটাগোনিস্ট ক্যারেক্টারটার ডেভেলপমেন্ট। তার জীবনের খুঁটিনাটি, সব মিশনের গল্প উঠে এসেছে। তবে টেরি হেইসের বিখ্যাত আই অ্যাম পিলগ্রীম বইটার ভাইব পেয়েছি কিছুটা। বেশ কয়েক জায়গায় ভালোই পেজ টার্নার হয়ে উঠেছিল। সবমিলিয়ে ভালো লাগার কথা পাঠকদের।
বইয়ের নাম : এখনো ঘোড়ার চাল বাকি ( প্রথম খন্ড) লেখক : রিফাত হাসান প্রকাশনা : ভূমি প্রকাশনী। জনরা : এসপিওনাজ থ্রিলার প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারী ২০২০ প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী পৃষ্টা সংখ্যা :২০৫ মুদ্রিত মূল্য :২৯০ টাকা।
কাহিনী সংক্ষেপ ::
আজকালকার লুডু স্টার খেলার পোলাপানরা কি জানে আগের যুগে রাজা-মহারাজারা কেনো দাবা পাশা খেলতো। আর সেই ঐতিহ্য ধরে কেন আজও আমরা ঘরোয়া বিনোদনে দাবার আসর বসানো হয়? দাবা এমন এক খেলা যে খেলা শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না কি হবে? কার চাল কে খাবে? এমনও হয় এক ঘোড়ার বেঁচে আছে আর ঐ এক ঘোড়ার চালে প্রতিক্ষের রাজাকে খেয়ে দেয়া যায়। এসব খেলার আলোচনা বাদ দিয়ে চলুন শুরু করি রিফাত হাসানের এসপিওনাজ জনরার থ্রিলার "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি"।
আর্মি থেকে অবসর প্রাপ্ত এক মেজর, ইফতেখার আহমেদ জয়েন করলেন প্রাইভেট ইনভেষ্টিগেশন এজেন্সি 'দ্য সিক্রেটস'। জয়েনিং এর পরই তার হাতে এসে লাগলো অদ্ভুদ এক কেস, হাতিরঝিলে পাওয়া গেছে একটি লাশ। সেই খুনের তদন্য করতে গিয়ে যেন কেঁচো খুঁড়ে সাপ এর উত্থান। তার সহ কর্মী শোভনকে নিয়ে এগিয়ে চলছে ইফতেখার। গল্পটা ডাবল টাইমলাইনের। তাই আজ থেকে কয়েকবছর আগে ক্যাপ্টেন ইফতেখার যখন বাংলাদেশ আর্মিতে জয়েন করলো তখন একের পর এক সাফল্য যেন তার আকাশচুম্বী। তারপর তাকে পাঠানো হলো মিশর সেখান থেকে লিবিয়ায়। কিন্তু লিবিয়াতে তার জন্য অপেক্ষা করছিলো এক বিশাল ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক আর্মস মাফিয়া ডন পিটার বুন ব্ল্যাকমেলের শিকার ইফতেখার। একের পর এক অবৈধ্য কাজ করিয়ে নেয় পিটার।।
ধানমন্ডি লেকের ধারে খন্ডবিখন্ড অবস্থায় পাওয়া যায় একটি লাশ। ধারনা করা হয় লাশটি নিঁখোজ হওয়া ডাক্তার জামান সারওয়ারের লাশ। এই কেসের তদন্তে নামে ধানমন্ডি থানার ওসি কিবরিয়া আহমেদ।
এদিকে আবার নিজ ফ্ল্যাটে লাশ পাওয়া যায় ইফতেখারের সাবেক বস ব্রিগেডিয়ার আকরাম খানের। ধারনা করা হয় হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু থেকেই যায়।
আফ্রিকায় দারিদ্র্য একটি দেশ মালি। সেখানের এক মুদি দোকানদার মাসদিও হায়দার এর দুই ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। পাগোলের মতো নিজের ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে দেখে বিশাল অজগর এর মাথা কি সে গল্প?
আর শুরুটা ছিলো দু হাজার বছর আগের জেরুজালেমে সেকেন্ড টেম্পলে রোমানরা যখন চালিয়েছিলো নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু এর সাথে কাহিনীর কি সম্পর্ক?
আপতদৃষ্টিতে এই হলো কাহিনী সংক্ষেপ। এগুলোর ভিরে কোথায় চাল দিতে হবে তা খুঁজতে হবে পাঠককেই।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :: বর্তমান যুগে থ্রিলার সাহিত্য এর জয়কার চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও লিখা হচ্ছে অসাধারন কিছু থ্রিলার। আর বাংলাদেশে অন্য জনরার চেয়ে থ্রিলার জনরায় জোয়ার এনে দিয়েছে তরুণ লেখকরা।
ভূমি প্রকাশন থেকে ২০২০ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তরুণ লেখক রিফাত হাসানের এসপিওনাজ জনরায় এই থ্রিলার উপন্যাসটি।।
তো এই উপন্যাসটির পাঠ প্রতিক্রিয়া আমার কাছে ভিন্নতর। কেননা এই বইটি প্রকাশের আগেই পাঠক জেনেছে এটার দ্বিতীয় খন্ড আসবে এবং দ্বিতীয় খন্ডে আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবো। মজার বেপার হলো এই খন্ডটি এমন একজায়গায় শেষ হয়েছে যে অবাক করারই মতো। বিষয়টা এমন ছিলো যে " কাটাপ্পা বাহুবালী কো কিউ মারা"। মানে এমন কেন হলো? তাই আগেই দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষা।
এই খন্ডের পাঠপ্রতিক্রিয়ার বলবো এতো গল্প এতো শাখা প্রশাখা লেখক ছড়িয়ে দিয়েছেন তা সত্যি বিষ্ময়কর। ভালো লেগেছে। লেখকের গল্প বলার ফ্লর আছে। মোটামুটি ভালো লেগেছে। দীর্ঘ দিন পর আবার এসপিওনাজ থ্রিলার পড়া। সেই সাথে অভিজ্ঞতা ভালো। যাই হোক ভালো।
আগেই যেহেতু বলছেন দ্বিতীয় খন্ড আসবে বলে লেখক এই খন্ড অসমাপ্ত রেখেছেন। এই জিনিশটা না করলেও পারতেন, একসাথে চারশ পেজের বই করলেও হতো। আর একটা জিনিশ গল্পটা যে ডাবল টাইম লাইন ছিলো মানে ইফতেখার এর আর্মি জীবন আর সিক্রেট এজেন্সির জীবন তা উল্লেখ্য করা দরকার ছিলো, অন্তত সময় এর বিষয়টা। আমি প্রথমে ধরতে পারিনি। যাই হোক অভার অল ভালো। দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষায়।
ভূমি প্রকাশনীর বই কাবিলে তারিফ। পেজ, বাঁধাই সব ভালো। প্রচ্ছদ অলঙ্কনে ছিলেন সজল চৌধুরী।
এসপিওনাজ থ্রিলার প্রেমিদের জন্য দারুণ একটি সিরিজ। আগ্রহীরা ট্রাই করবেন আশাকরি।
ভাইরে ভাই কি একটা বই এইটা। লেখক রিফাতের যে এইটা প্রথম বই সেটা কেউ বুঝতে পারবে না। বইটার ২য় পার্ট বের হবে, প্রথম পার্টে রহস্য আর রহস্য, কি ভাবে যে শেষ হবে সেগুলা বলা মুস্কিল। বইয়ের শেষ লাইন পরে আমি ১০ মিনিট তব্দা খেয়ে বসে ছিলাম এইটা কি হইল। ৪-৫ জায়গাতে প্রিন্টিং ভুল ছিল।
এসপিওনাজ থ্রিলার বলতে যদি দুর্দান্ত একজন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা চরিত্রের সাথে উত্তেজনায় ভরা পেইজ-টার্নার আশা করেন, তাহলে 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি' হাতে নেওয়া ভুল হবে। প্রোলগ পড়ে ধারণা করেছিলাম বইটা হিস্টরিকাল ফিকশন, পড়ে দেখলাম সেই ধারণাও ভুল, জেরুজালেমের প্রেক্ষাপট প্রথম বইয়ে আসেনি। নন-লিনিয়ার প্যাটার্নে তিনটা টাইমলাইনে গল্প বলেছেন লেখক। তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু টাইমলাইনগুলো যখন একে অন্যকে সাপোর্ট করে না এবং প্রত্যেকে কি মোটিভের পেছনে ছুটছে তারও হদিস রাখতে খাতা খুলে বসতে হয়, পড়ার আনন্দ হারায় ওখানেই। মূল টাইমলাইন, যেখানে কথকের ভূমিকায় 'ইফতেখার' চরিত্রটার ডেভেলপমেন্ট করেছেন লেখক, সেখানেই একটা মোটিভ পাওয়া যায় এবং বইয়ের শেষেও জানা যায়, আদতে কাহিনী তারও গভীরে এবং অন্য টাইমলাইনগুলো কি নিয়ে ব্যস্ত, তার আন্দাজ আসছে সামনে। এভাবেই, পুরো নিষ্পত্তি এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটাকে দুশো পেইজের বইয়ের শেষে লেখক রেখে দিয়েছেন দ্বিতীয় বইয়ের জন্য।
অতিরিক্ত বর্ণনা এবং 'মনের কথায়' জর্জরিত মূল টাইমলাইনে লেখক 'ইফতেখার' চরিত্র অর্থাৎ প্রটাগনিস্টের চরিত্র উন্নয়ন করেছেন সবিস্তারে। ডেভেলপমেন্টটা দরকারি ছিল, এবং তা পছন্দও করেছেন পাঠক। বর্ণনার পাশাপাশি নামকরণেও কিছু বাহ��ল্য পরিহার করতে পারতেন লেখক। সর্বোপরি, দ্বিতীয় খন্ড পড়তে অনুপ্রেরণা দিতে পারেনি 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি' প্রথম খন্ড।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ধানমন্ডি লেকের ধারে এক সকালে পাওয়া গেলো বস্তাবন্দি একটা লাশ। খণ্ডবিখণ্ড করে লাশটাকে বস্তায় ভরে কে বা কারা ফেলে রেখেছে লেকের ধারে৷ ধানমন্ডি থানার ওসি কিবরিয়া সাহেব তদন্ত শুরু করলেন। ধারণা করা হলো লাশটা নিখোঁজ হওয়া ডাক্তার জামান সারওয়ারের। যদি তাই হয়, কেন খুন করা হলো ডাক্তার সাহেবকে? পুরোনো শত্রুতা, নাকি অন্য কিছু?
আর্মি থেকে অবসর নিয়ে মেজর ইফতেখার আহমেদ যোগ দিলো বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি দ্য সিক্রেটস-এ। উদ্দেশ্য, ফেলে আসা অতীতটাকে ভুলে নির্ঝঞ্ঝাট একটা জীবন পার করা। দ্য সিক্রেটস-এ যোগ দিয়েই অদ্ভুত এক কেসের সম্মুখীন হলো ইফতেখার। হাতিরঝিলে পাওয়া একটা লাশের খুনের তদন্ত করতে গিয়ে বিশাল এক ড্রাগ কার্টেলের জড়িত থাকার আলামত পেলো সে। জুনিয়র ইনভেস্টিগেটর শোভনকে নিয়ে সে চালিয়ে গেলো তদন্ত। কিন্তু একটা সময় এই তদন্তের ব্যাপারে অনেকটাই আগ্রহ হারিয়ে ফেললো ইফতেখার। কেন?
বেশ কয়েক বছর আগে ক্যাপ্টেন (তখনো সে মেজর হয়নি) ইফতেখার যখন বাংলাদেশ আর্মি ইন্টেলিজেন্সে ছিলো, একটা মিশন নিয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে যেতে হয়েছিলো তাকে। সেখানে নিজের অজান্তেই মারাত্মক এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয় সে। আন্তর্জাতিক আর্মস মাফিয়ার অন্যতম একজন শক্তিশালী ডন পিটার বুন রীতিমতো ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে তাকে। ভয়াবহ একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় ক্যাপ্টেন ইফতেখারকে। যার ফলশ্রুতিতে নিজের গুড উইল ও দেশপ্রেমকেও বাজি রাখার মতো পরিস্থিতি চলে আসে। রহস্যময় পিটার বুন আসলে কি চেয়েছিলো?
ইফতেখার আহমেদের সাবেক বস ব্রিগেডিয়ার আকরাম খানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর ফ্ল্যাটে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে হার্ট অ্যাটাক। আসলেই? খোরশেদ সাহেবের বাসার পুরোনো কেয়ারটেকার লোকমান হঠাৎ-ই নিখোঁজ হলো। কেন? দুই ছেলেকে হারিয়ে আফ্রিকার মালি'র সাধারণ মুদি দোকানি মাসাদিও হায়দারা ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠলো। এর শেষ কোথায়? দুই হাজার বছর আগে জেরুজালেমের সেকেন্ড টেম্পলে রোমানরা চালিয়েছিলো নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। আজকের এসব ঘটনার সাথে সেটারই বা সম্পর্ক কি?
জানা যাবে সবটাই। এখনো যে ঘোড়ার চাল বাকি আছে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ তরুণ লেখক রিফাত হাসানের প্রথম উপন্যাস 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি'। দুটো পর্বে এই উপন্যাসটা শেষ করার পরিকল্পনা আছে লেখকের৷ তার মধ্যে প্রথম পর্ব পড়ে ফেললাম। দ্বিতীয় পর্বও খুব শীঘ্রই আসছে ভূমিপ্রকাশ থেকে।
এসপিওনাজ থ্রিলার ধাঁচের 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি' (প্রথম পর্ব)-এর কাহিনি শুরু হয়েছে জেরুজালেমের সেকেন্ড টেম্পলে রোমানদের চালানো হত্যাযজ্ঞের ঘটনার মধ্য দিয়ে। এরপর আরো কিছু সাম্প্রতিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তারপর শুরু হয়েছে মূল ঘটনা, যেখানে প্রধান চরিত্র ইফতেখার আহমেদ। প্রধান দুটো প্রেক্ষাপট, একটা হলো ইফতেখারের আর্মিতে থাকাকালীন সময় আর অন্যটা আর্মি ছাড়ার পরের সময়। এই দুটো সময়কালকে কেন্দ্র করেই মূলত এগিয়ে গেছে বইটার কাহিনি।
এসপিওনাজ থ্রিলারের স্বাদ তো পাওয়া গেছেই এই বইয়ে, পাশাপাশি পাওয়া গেছে মিস্ট্রি'র স্বাদও। ধানমন্ডি লেকের পাশে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ব্যাপারটা সৃষ্টি করেছে মার্ডার মিস্ট্রি আবহ। এরপর এলো হাতিরঝিলে লাশ পাওয়া যাওয়ার ঘটনা। 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি' (প্রথম পর্ব)-তে অনেকগুলো প্রশ্নের উদয় হয়েছে। বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরই পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় পর্বে বইটা পুরোপুরি শেষ হবে। সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। তবে প্রথম পর্বের শেষ অধ্যায়ে এমন একটা ঘটনা ঘটিয়ে রেখেছেন লেখক যে মাথায় একটা কথাই এসেছে "এটা কি হলো!" এটার জন্য আমার কোন মানসিক প্রস্তুতি ছিলো না। এখন দ্বিতীয় পর্ব পড়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিফাত হাসান এর আগে ছোটগল্প লিখেছেন বেশ কিছু। কিন্তু এটাই তাঁর প্রথম উপন্যাস। তাঁর লেখার স্টাইল বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় দীর্ঘ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা খেয়াল করেছি৷ ছোটখাটো কিছু টাইপিং মিসটেকও চোখে পড়েছে। 'মা-বাবা' কথাটাকে তিনি সব জায়গাতেই 'মাবাবা' লিখেছেন। ধীরে ধীরে এই ছোটখাটো ভুল গুলো শুধরে নেবেন তিনি, এটাই আশা করি। 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি' (দ্বিতীয় পর্ব)-এর জন্য অপেক্ষায় আছি।
সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদ বরাবরের মতোই চমৎকার ছিলো৷ বাঁধাই আর কাগজের মান নিয়েও আমি সন্তুষ্ট।
Before you embark on a journey of revenge, dig two graves. - Confucius - এখনো ঘোড়ার চাল বাকি - ইফতেখার, "দ্য সিক্রেটস" নামক দেশের এক প্রথম সারির প্রাইভেট গোয়েন্দা সংস্থায় সদ্য জয়েন করা সদস্য। ইফতেখার সেখানে তার ভয়াবহ এক ধূসর অতীত পেছনে রেখে আবার নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার চিন্তা ভাবনা করে। সে জয়েন করেই একটি কেসের লিংক খুজে পায় যার সাথে তার অতীত জীবনের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। সে আর তার সহকারী শোভন শুরু করে তার তদন্ত। - পিটার বুন, রহস্যময় এক অস্ত্র চোরাচালানকারি। এক সময় তার নজর পড়ে বাংলাদেশের দিকে। খুজঁতে থাকে এমন একজন লোককে যে তার কাজ নির্বিঘ্নে করতে থাকবে। - এক কাকডাকা সকালে ধানমন্ডি লেকের ধারে পাওয়া যায় এক মৃতদেহ। এদিকে কাছেই থাকা ডা. সারোয়ারও নিখোঁজ। ধানমন্ডি থানার ওসি কিবরিয়া আর তার সহকারী সাদেক শুরু করে কেস দুইটির তদন্ত। - ২০০০ বছর আগে জেরুজালেমে রোমান সৈন্যরা তুলকালাম কান্ড চালায়। সেখানের ঐতিহ্যবাহী দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস হয় এতে। এর ভিতরেই বিশেষ এক তথ্যের ব্যপারে খোঁজ লাগায় আগুন্তক। - এখন ইফতেখারের সেই ধূসর অতীতে আসলে কি ঘটেছিল? পিটার বুনের বাংলাদেশী সাগরেদ কে? ধানমন্ডি লেকের ধারে পড়ে থাকা লাশটি কার? এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর সংযোগ বিন্দু আসলে কোথায়? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক রিফাত হাসানের এসপিওনাজ ধারার থ্রিলার "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি।" - "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" মুলত এসপিওনাজ ধারার থ্রিলার। তবে কাহিনীতে নানা ধরনের এসপিওনাজ অপারেশনের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর মানবিক টানাপোড়েনও ফুটে উঠেছে। কখনো কখনো সে ব্যপারগুলো গল্পের গতি বেশ ধীরও করে দিচ্ছিল, যা একদম শেষ পাতা পর্যন্ত বজায় থাকে। - "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" গল্পটি নন লিনিয়ার ভংগিতে লেখা, আবার একেকটি টাইমলাইনের বিভিন্ন ঘটনা ব্যাক এন্ড ফোর্থ স্টাইলে বলা, তাই কয়েক জায়গায় খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম যে কোন টাইমলাই��ের কোন সময়ের কথা বলা হচ্ছে। প্রতি অধ্যয়ে একটি টাইমটেবিল থাকলে মনে হয় আরেকটু সুবিধা হতো এ ব্যপারগুলো ধরতে। - "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" এর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট এর ক্যারেক্টারাইজেশন। লেখক পুরো ইফতেখারের পরিবার এবং ইফতেখারের ব্যাকস্টোরি খুবই দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। গল্প অনুসারে বাকি চরিত্রগুলোও ঠিকঠাক। তবে নামকরনে আরো ইউনিক কিছু দেখতে পারলে আরো বেটার হতো, যেমন এক অধ্যয়ে সিরাজুল ইসলাম এবং সিরাজুল আলম দুজন চরিত্রকেই আনায় বেশ কনফিউশনের সৃষ্টি হয়েছিল। লেখক গল্পে অনেক ব্যপারেই সুতো ছিড়েছেন, কিন্তু বেশ কিছু ব্যপারে গুটিয়ে আনেননি। যেহেতু এর দ্বিতীয় খন্ড আসবে, আশা করি সেখানে ধোঁয়াশা ব্যপারগুলো ক্লিয়ার হবে। - "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" এর কারিগরি দিক থেকে বইয়ের বাধাই, কাগজের মান বেশ ভালো।তবে সম্পাদনা আরো বেটার করা যেত, বেশ কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে। বইয়ের প্রচ্ছদটিও চমৎকার, তবে বইয়ের ব্যাককভারে " ভূমি অনুবাদ" লেখা হয়েছে, সেটি সম্ভবত "ভূমি মৌলিক" হবে। আশা করি প্রকাশনীটি পরবর্তী সংস্করনে এ ব্যপারগুলো ঠিক করে নিবে। - এক কথায়, এসপিওনাজ থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোমানের একটি বই "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি"। প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখক বেশ কিছু জায়গায় আমাকে অবাক করে দিয়েছেন তা বলতেই হয়। যাদের গুপ্তচরভিত্তিক রিয়েলিস্টিক উপন্যাস পড়তে পছন্দ তারা বইটি পড়তে পারেন।"এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" এর পরের খন্ডটি পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকলাম।
জাহাজে হঠাত একটা পানিশমেন্ট পাইলাম, সারাদিন গ্যাংওয়েতে দাড়ায় থাকা লাগবে। তখন ভাবলাম, আজাইরা না দাড়ায়া, একটা বই পড়ি। স্টুয়ার্ডকে বললাম, একটা বই নিয়ে আসো আমার কেবিন থেকে। সে এত্তগুলা বইয়ের মাঝ থেকে এই একটা নিয়ে আসল। পানিশমেন্ট শেষ হলেও বই শেষ না হওয়ায় আরো কিছুক্ষন দাড়ায় ছিলাম, শেষ করেই গেলাম রুমে। একবসায়(পড়ুন - খারায়া) শেষ করা যাকে বলে। প্যারালাল কয়েকটা কাহিনী একসাথে টানছেন ভাই। বইটা পড়ে একবারও মনে হয় নাই, এইটা উনার প্রথম বই। কাহিনী ডেভেলপমেন্টটা ভাল্লাগছে। যদিও নাজিম উদ্দিন বা সেরকম প্রতিষ্ঠিত লেখকের সাথে তুলনা করা ঠিক হবে না, তাও ভাইয়ের মধ্যে ভালো পটেনশিয়াল আছে আরো সুন্দর লেখার। উনার লেখা পড়ে যা বুঝলাম, লেখার এলিমেন্ট আমরা আশেপাশে থেকেই নিতে পারি। ভাই ক্যাডেট কলেজের হওয়ায় আর্মি রিলেটেড জিনিস গুলা ভালো মত সাজায়-গুছায় লেখতে পারছেন। আর ইনফরমেশন গুলাও প্রায় সবই ঠিকঠাক। এন্ডিং তা মারাত্মক সাসপেন্স দিয়ে গেছে, কালকে দেখি শেষ ভাগ ধরব......... সুন্দর একটা থ্রিলার
পুরো বইয়ে নিকোটিনের নেশা নিয়ে যেমন নাড়াচাড়া করা হয়েছে তার সিকিভাগও যদি গল্প নিয়ে হত,তবে একটা জমজমাট প্লটের এহেন অপমৃত্যু দেখতুম না। সবচেয়ে বিরক্ত হয়েছি মেডিকেল সংক্রান্ত ভুল ভাল তথ্য দেখে।বইয়ের নেশা যতোই থাকুক, পেশার ভূত দেখছি ভুলের অসঙ্গতিতে ঠিক ফোড়ন কাটবেই ।
দুই হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা জেরুজালেমের ঐতিহ্যবাহী সেকেন্ড টেম্পলের প্রেতাত্মারা জেগে উঠেছে অবশেষে। বিগ্রেডিয়ার আকরাম খানের প্রস্তাবে সামরিক চাকরী ছেড়ে মেজর ইফতেখার আহমেদ প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর হিসেবে "দ্য সিক্রেটস" এ জয়েন করেন।
পৃথিবীর অপরপ্রান্ত আমেরিকাতে তখন খুব ভোর,তার উপর ছুটির দিন।কিন্তু এতো ভোরে ছুটির দিনে ইউ এস ডেনভারের একটা সনামধন্য স্কুলের হেড কে কল করে জানানো হলো স্কুলের হাউজ থেকে একজন ছাত্র নিখোঁজ। ভারজিনিয়া শহরের ট্রাফিক সিগন্যালে বসে আছে তখন এফবি আই এর হেড জেফরি আর্চার।ইচ্ছা তার স্ত্রীকে নিয়ে মুভি দেখতে যাবেন।কিন্তু এমন সময় একটা নোটে পড়া কাগজ পড়ে সব কিছু বাদ দিয়ে ছুটলেন লংব্রিজ পার্কের দিকে।
তখনো সকালের আলো ফুটে উঠেনি।তবে স্বাস্থ্যসচেতন অনেক মানুষের ভীর জমতে শুরু করেছে ধানমন্ডি লেকে।সেই লেকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দারোয়ান কুদ্দুস লেকের পানিতে একটি বস্তা দেখতে পায়।আগ্রহ নিয়ে দেখতে গিয়ে দেখে গলা কাটা এক বিভৎস লাশ বস্তার ভিতরে। এরই মাঝে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হোন ডাঃ জামান সারোয়ার।একি শুধুই হারিয়ে যাওয়া নাকি খুন!
পাঠক, অনেক রহস্য জমাট বাধতে শুরু করেছে। এরই মাঝে ভিতরের ইনভেস্টিগেশনের সময় হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ব্রিগেডিয়ার আকরাম খান।নিপাট মৃত্যু নাকি খুন?
প্রশ্ন অনেক, একুশ শতাব্দীর একটি গল্পে সত্তর দশকের জেরুজামেলের কি সম্পর্ক? মেজর ইফতেখার কি কারনে তার সামরিক জীবনের ইস্তফা দিলেন? কিভাবে নিখোঁজ হলো নামকড়া স্কুলের হাউজ থেকে এক ছাত্র? এফবিআই এজেন্ট জেফরি কি এমন পেয়েছেন যার জন্য তিনি ছুটে চলেছেন?
ধানমন্ডি লেকের লাশটা কার? ডাঃ সারোয়ার জামানের নয়ত? জমাট বাধতে শুরু করেছে রহস্য।সব রহস্যের কারন খুঁজে পাওয়া যাবে শুধুমাত্র "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" কোন ঘোড়াটা তা খোজার মাধ্যমে।থ্রিলার প্রেমীরা বইটি পড়তে পারেন।
ব্যাক্তিগত মতামতঃ লেখকের পড়া প্রথম বই এটি আমার। প্রথম দিকে বইটি যেভাবে টেনেছে হুট করেই যেনো সেই আগ্রহটা হারিয়ে ফেলি।কারন সাধারন,লেখক এখানে অনেকগুলা রহস্য তুলে ধরেছেন।একটা রহস্য নিয়ে পড়ার পর আরেকটা পড়তে গেলে ভুলে যাই প্রায়ই আগে কি ঘটেছিলো।অনেকগুলা রহস্য জট পাকানোর ফলে এমনটা হয়েছে।এজন্য প্রায় বিব্রত বোধ করেছি। তাই অন্য পাঠকদের বলব বইটা নিঃসন্দেহে সুন্দর,কিন্তু পড়ার সময় ধৈর্য্য ধরে রাখতে হবে।আপনার ধৈয্যের কঠিন পরীক্ষা ও দিতে হবে বইটি পড়তে গেলে। আরেকটি তথ্য প্রথম পর্বে প্রফেসর স্যামুয়েল জনসন কে নিয়ে কিছু লিখা না হলেও ফ্ল্যাপে লিখা হয়েছে।কেন জানিনা।কিন্তু এমন টা আশা করিনি। সব মিলিয়ে বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালো লেগেছে।বাংলাদেশী লেখক হিসেবে এতো গভীর ভাবে থ্রিলার লেখার সাহস দেখানোর জন্য লেখককে বাহবা দিতে হয়।যদিও ঘটনাগুলো কেন জানি প্যাচ লেগে জট পাকিয়ে যাচ্ছিলো।তবুও একেবারে না হবার থেকে শুরু ত করা হলো। এই বইয়ের সিক্যুয়েল পড়ে গল্পের বাকি কথা জানানো যাবে। ততোখন ঘোড়ার চাল লেখক কোন দিকে চালিয়েছেন জানার জন্য পাঠক বইটি পড়তে পারেন।
অবশেষে দারুণ একটা বই পড়ে শেষ করলাম। সত্যি বলতে একটা অন্যরকম স্বাদ পেয়েছি এবারে। একজন নবীন লেখক হিসেবে রিফাত হাসান এরকম দুর্দান্ত বই লিখেছেন তা সত্যিই অসাধারণ।
শুরুর দিকে যেভাবে একেকটা ঘটনার সূচনা হয়েছে যার সাথে একে অপরের মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিছুটা একঘেঁয়েমি লেগেছিল। গল্পের প্রধান চরিত্র সামরিক অফিসার ইফতেখার কে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা সেভাবে একটা অবস্থানে ফেলা যায়নি। কখনও খুব কঠিন ধাঁচের মানুষ আবার কখনও মনে হয়েছে পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল একজন মানুষ কিংবা একজন আবেগতাড়িত ব্যাক্তি। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে তার আসল পরিচয়টা কি তা হয়তো এর দ্বিতীয় খণ্ডে বোঝা যাবে।
গল্পের শুরুটা হয়েছে প্রাচীন জেরুজ��লেম শহরের রক্তাক্ত একটি ইতিহাস নিয়ে যা গল্পের পরবর্তী ঘটনাগুলোর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হয়তো এর উত্তরটা পরবর্তী খণ্ডে বোঝা যাবে।
তবে বইটির আসল টুইস্ট ছিলো একেবারে শেষে যেখানে লেখক একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে দিয়েছেন পাঠকদের কাছে। হয়তো দাবা খেলার শেষ চালটি ঘোড়া দিয়ে দিতে চলেছেন দ্বিতীয় আর শেষ খণ্ডে। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে খুব শিগগিরই শুরু করবো এর পরবর্তী খণ্ডটি।
বইয়ের প্রথম ৪০ পাতা পড়ার পর একদম শেষে চলে গেলাম। লেখকের সম্পর্কে জানার জন্য। আবিষ্কার করলাম লেখক আমার ৫ বছরের ছোট। এবং এটা তার শুরুর দিকের উপন্যাসগুলোর একটা।
থ্রিলার হলেও এই বইয়ে রিফাত হাসান যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে আমি মুগ্ধ। শুধু থ্রিলারের উপাদান ছাড়াও প্রতিটা লাইন অলঙ্কারসমৃদ্ধ। পড়তে যেমন আরাম, তেমনি পড়তে পড়তে তৃপ্তিদায়ক ও মনরোচক। তাও এই বইয়ের এভারেজ রেটিং কেন ৩.৭৬, অদ্ভুত।
আরেকটু বেটার কিছু এক্সপেক্ট করেছিলাম৷ লেখক তিনটা লাইনে গল্প বলে গেছেন, কিন্তু কোনোভাবেই কানেক্টেড হতে পারলাম না। প্রায় দুইশ পেইজ পড়ার পর জানা গেল মূল উত্তর শেষ পর্বে পাওয়া যাবে। লেখকের লেখা ভালো, তবে বেশ কয়েক জায়গায় মনে হয়েছে লেখায় রিডানডেনসি চলে আসছে৷ চাইলেই হয়তো আরো ছোট করা যেত৷
অনেক দিন ধরেই বইটা হাতের কাছে ছিল। কিন্তু সময় করে পড়া হয়ে উঠছিলো না। কাল শুরু করার পর না শেষ করে উঠতে পারিনি। দারুণ একটা বই। আসা করি শেষ খন্ডে সবগুলো অমিমাংসিত রহস্য উন্মোচন হবে।
লেখক নিজেই বইয়ের শেষে একগাদা প্রশ্ন দিয়ে বলে গেছে এসবের উত্তর পরের খণ্ডে। মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হোক আর বইয়ের বিক্রির উদ্দেশ্যেই হোক, এমনটা না করেও কাজটা করা যেতো। প্রশ্ন সংখ্যা একটু বেশিই! মূল ঘটনা যে কী, এখনো সেটা অধরা। অনেকগুলো খুন, অনেক ঘটনা, তার সাথে ততোধিক মানুষ! আবার বলা চলে থ্রিলার হলেও অনেকগুলো জনরাতেই উঁকি দিয়ে গেছে। এমনিতেই ইদানিং নন লিনিয়ার প্যারালাল বইগুলো খুব একটা আকর্ষণ করে না, তার ওপরে এ তো বহুমাত্রিক! চরিত্র হারিয়ে ফেলি আমি পড়তে গেলে, এখানেও অজস্র চরিত্র আসছে টের পেয়ে ট্র্যাক রাখার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু প্রফেসর স্যামুয়েল জনসনকে পেয়েছি বলে মনে পরছে না। কী কারণে কিছু কিছু অসঙ্গত জিনিস মাত্র একটি করে অধ্যায়তেই এসেছে সেটিও বোঝা যাচ্ছে না। পড়ে দেখি পরের খণ্ড কী দাঁড়ায় কাহিনী। যদিও কাহিনী অনেক, কিন্তু লেখক তো বলেই দিয়েছে সব একসুতোয় গাঁথা। লেখা খারাপ না, চলে। কথাবার্তায় আমরা যেমন বেশি সিরিয়াস হয়ে গেলে ইংরেজিতে বলি, তাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু মুখে তা মানালেও বইয়ের পাতায় কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে চোখে ঠেকেছে। তবে অন্তত আমার ক্ষেত্রে, ২টা খণ্ড একসাথে কেনা না থাকলে কাহিনীর অন্তিম জানার জন্য পরের বইটা কিনতাম কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
"ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে" এর আপডেটেড ভার্সন বলা যায় "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি।" ময়দানে সব বিসর্জন দিয়ে হেরে যেতে নিয়েও হঠাৎ করে ঘোড়ার আড়াই চালেই কিস্তিমাত। দাবার গুটির মধ্যে ঘোড়ার চাল অস্বাভাবিক। এটি এমন স্কয়ারে চলে যায় যা দুই বর্গক্ষেত্র অনুভূমিকভাবে এবং এক বর্গক্ষেত্র উল্লম্বভাবে, বা দুটি বর্গক্ষেত্র উল্লম্বভাবে এবং একটি বর্গক্ষেত্র অনুভূমিকভাবে। সম্পূর্ণ চালটি "এল" বর্ণের মতো দেখায়। অন্যান্য সমস্ত স্ট্যান্ডার্ড দাবা গুটি থেকে আলাদা, ঘোড়া তার গন্তব্য স্কয়ারে অন্য সমস্ত গুটি "লাফিয়ে" যেতে পারে। এটি তার স্কয়ারে প্রতিস্থাপন করে শত্রু গুটি দখল করে। রাজা ও নৌকা সহ ঘোড়ার চাল যে কোনও দাবা গুটির প্রাচীনতম চাল, এটির চাল ভারতে ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে চতুরঙ্গ আবিষ্কারের পর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। থ্রিলার জনরা দিনকে দিন আমাদের দেশে পাঠকপ্রিয়তা পেয়ে আসছে। লেখকেরাও তাদের থ্রিলার লেখায় পাঠকদের একদম চুম্বকের মতো আকর্ষণ করছেন। থ্রিলার বইতে প্রতি শব্দে কী হয় কী হয় একটা ভাব থাকবেই। কিন্তু সাথে যদি প্রেম, জীবনের টানাপোড়ন, সৈনিক জীবনের চিত্র, হারানো জীবনের গল্প, আবার শ্বাস আটকে যাওয়া ঘটনা থাকে তাহলে তো কথাই নেই। আবার মাঝে মাঝে যদি সেই আদিম যুগে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা এসে হাজির হয় তাহলে তো বলা যায় মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির আগমন। বলছিলাম 'রিফাত হাসান' এর লেখা বই "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" এর কথা। থ্রিলার এর সাথে এই বিষয়গুলোর উপস্থিতি একদম খাপে খাপ মিলে গেছে বইতে। রিভিউতে আমি "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" এর দুইটা ভাগই তুলে ধরব আমার মতো করে। উপন্যাসের শুরুতেই ইহুদিদের পবিত্র নগরী 'জেরুজালেম' এ রোমান সৈন্যদের অত্যাচারের ছোট একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। এরপর উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে যায় কয়েকটি মৃত্যু, তাদের পরিবার, পুলিশের তদন্ত আর অবসরপ্রাপ্ত আর্মি কর্মকর্তা ইফতেখার আহমদ এর অতীত ও বর্তমানের ঘটনা নিয়ে। জীবন যুদ্ধের অলিগলি পার করে সে যোগ দিয়েছে দেশের প্রথম সারির প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি "দ্য সিক্রেটস"-এ। পাওয়া যায় মোখলেশ মিয়া নামক এক দিনমজুরের লাশ আর ধানমন্ডি লেকের পাশে বস্তাবন্দী মাথাবিহীন লাশ যার শরীর টুকরো করে কাঁটা। নিখোঁজ হন ডা. জামান সারওয়ার, যার নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট করে যান তার স্ত্রী আদ্রিতা জামী। খুনের সঠিক তদন্ত, নিখোঁজ ডাক্তারের সন্ধান করা সব নিয়ে বেশ চাপেই যাচ্ছিল কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার দিন। সাথে ইফতেখারও তার সহযোগী শোভনকে নিয়ে মেলানোর চেষ্টা করছিলেন পাজলের প্রতিটি অংশ। সাথে অতীতে ইফতেখারের জীবনে ঘটে যাওয়া কালো অধ্যায়ের বর্ণনাও এগিয়ে যাচ্ছিল। তার সৈনিক জীবন, পরিবার আর মনের গহীনে স্থান পাওয়া এক নারী "প্রেরণা" এর ঘটনা চলছিল আপন গতিতে। জীবনে বিশ্বাসঘাতকতা, হুমকির স্বীকার এক সৈনিক কিভাবে জীবনের কাছে পরাজিত হতে নিয়েও উঠে দাঁড়াতে চায় তার দৃশ্য দেখা যায়। উপন্যাসের কাহিনি শুধু স্বদেশেই নয় চলে গেছিল বিদেশের মাটিতেও। নানা রকমের চরিত্র, নানা রকম তাদের জীবন কাহিনি। তদন্ত করতে করতে দেখা যায় ঐ একই! খুন বা নিখোঁজের ঘটনাগুলো যেন আয়নার সামনে দাঁড়ানো প্রতিবিম্ব। একটার শেষ খুজঁতে গিয়ে মিলেছে আরেকটির উৎস। এর মাঝে ঘটে গেছে দেশের বাইরে আরো কিছু ঘটনা। উপন্যাসের একদম শেষে এসে যখন দেখবেন হৃদয়ের মাঝে লুকিয়ে রাখা প্রেমিকার হৃদয় ছুঁতে ব্যবহার হবে বুলেট তখন আপনি অস্থির হয়ে যাবেন। কেন এমন হলো? মাথায় ঘুরবে সিনেমার লাইন "কাটাপ্পা নে বাহুবলীকো কিউ মারা?" তখন পরের পৃষ্ঠা পড়বেন। দেখবেন লেখকের ভাব এমন "রুখো যারা, সাবার কারো!" কারণ ঘোড়ার চাল তো এখনো বাকি। না পাওয়া উত্তর খুঁজতে পড়তে "এখনো ঘোড়ার চাল বাকি" শেষ ভাগ। এত এত চরিত্র, এত এত কাহিনি বিন্যাস দেখে ভেবেছিলাম সবাইকে কি এক সারিতে সাজাতে পারবেন লেখক? কিন্তু, আমার শঙ্কা শঙ্কাই রয়ে গেছিল। লেখক পেরেছেন। শতভাগ না হলেও সিংহভাগই পেরেছেন। যদিও কিছু খামতি ছিল। "জেরুজালেম" শহরে রোমান সৈন্য কতৃক ইহুদিদের ওপরে চলা নির্মম হত্যাকান্ড আর অত্যাচারের ভয়াবহ রূপ দেখিয়েছেন। জট খুলছিল খুনগুলো। শেষ ভাগে এসে যোগ হয়েছিল এফবিআই, পিবিআই এর সংশ্লিষ্টতা যা উপন্যাসের কাহিনীতে এনে দিয়েছিল এক নতুন মাত্রা। এসেছিল আইভরি কোস্টে কোকো চাষের জন্য নির্যাতিত শিশুদের ঘটনা। জেরুজালেমের ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া কিছু রহস্য যার জট খুলেছে শেষ ভাগে এসে। জীবন যুদ্ধে কয়েকবার পরাজিত সৈনিক ইফতেখার কি পেরেছিল ঘোড়ার আড়াই চাল দিয়ে কিস্তিমাত করে দিতে? কেনই বা সে গুলি করেছিল তার প্রিয়তমা প্রেরণা কে? প্রেরণা কি বেঁচে গেছিল নাকি হারিয়ে গেছিল ইহকাল থেকে? সব ষড়যন্ত্র, মৃত্যু পেরিয়ে কি ভালোবাসা আর সত্যের জয় হয়েছিল? পুরোটা জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। বইতে মানব-মানবীর প্রেমকে এত নির্মল ভাবে দেখিয়েছে যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইফতেখার-প্রেরণার শেষ কী হলো সেটা বের করতে যেমন বেগ পেতে হয়েছে। তেমনি কষ্ট লেগেছে আদ্রিতা-জামানের পরিণতিতে। ইফতেখার চরিত্রটা আমার বেশ মনে ধরেছে। আশা করি লেখক তার অন্য লেখায়ও ইফতেখারকে রাখবেন। বইয়ের প্রিয় কিছু উক্তি: ১) হয়তো সবথেকে কঠিন মুহুর্তেই বের হয়ে আসে মানুষের মনের সবথেকে কোমল দিক। ২) নিজেকে মনে হয় সীমাহীন মহাকালের সবচেয়ে অভিশপ্ত মানুষ। ৩) একজন মানুষ যখন প্রতিশোধ নিতে চায় তখন তার জন্য দুটো কবর খোঁড়া হয়। ৪) যে কবিতা পড়তে পারেনা সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। ৫) নারী মাংস। সমস্ত পৃথিবীর সব সুস্বাদু খাবারের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় সে জিনিস। ৬) সত্যমিশ্রিত মিথ্যা সম্পূর্ণ মিথ্যার থেকেও ভয়ংকর। #বি_দ্র : বইটা পড়ে আমার যেমন খুব ভালো লেগেছে তেমন বইয়ের কিছু অসংগতিও আমার চোখ এড়ায়নি। আশা করি পরবর্তিতে লেখক এসব দিকে মনোযোগ দিবেন। প্রথম পর্বের পৃষ্ঠা ১৮৯ তে লেখক অনন্যার পোশাকের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে "অনন্যা পরে এসেছে একটা ডিপ খয়েরী কালারের সালোয়ার, সাথে একই কালারের একটা প্যালাজ্জো।" আমি লাইনটা কয়েকবার পড়েছি। দেখি না আসলেই তাই লেখা। আমার জানামতে সালোয়ার আর প্যালাজ্জো দুইটাই পায়জামা বা প্যান্ট জাতীয় পোশাক। কামিজ, কুর্তি, ফতুয়া, টপ ধরনের কিছুইনা। মানে অনন্যা সালোয়ার আর প্যালাজ্জো পরে শোভনের সাথে দেখা করতে গেছে! শেষ পর্বের পৃষ্ঠা ১৩৪ এ লিখেছেন "ডিপ ব্লু জিন্স আর কমলা রঙের লং কুর্তার মতো একটা সালোয়ার পড়ে আছে।" এই লাইনটা পড়েও আমি কিছুক্ষণ ভেবেছি। একই ভুল। জিন্স আর কুর্তা সালোয়ার! আমার জানা মতে এটাও প্যান্ট বা পায়জামা ধরনেরই পোশাক। লেখক হয়ত কামিজ, কুর্তি কে সালোয়ারের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। আশা করছি পরবর্তীতে তিনি এই বিষয়গুলোর দিক নজর দিবেন। এই কথাগুলো আমি লেখককে ছোট করতে বা হাস্যরস করতে বলিনি। একজন ক্ষুদ্র পাঠিকা হিসেবে নিতান্তই আমার কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছে বলে বলেছি। লেখককে আঘাত করে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বস্তাভর্তি এক লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সব কেটে আলাদা করা। কিন্তু শরীরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাথা- সেটাই নেই। মাথা না থাকার কারণে পুলিশও কোনো কুল কিনারা করতে পারছে না। লাশের মাথা না থাকার কারণে তাদের মাথাব্যথা তো আর কমে যাচ্ছে না।
বাপ-মা ছাড়া এতিম ছেলে ইফতেখার। ছোটবেলা থেকেই চাচা-চাচির কাছেই মানুষ। বাপ-মা বলতে তাদেরই বোঝে। পড়ালেখা শেষ করে আর্মিতে ঢোকে। সেখান থেকে ইন্টেলিজেন্স। শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়।
বান্দরবানের দুর্গম জায়গা থেকে বেশ কিছু সন্ত্রাসী ধরা হয়। ওদের থেকে পাওয়া তথ্যে পিলে চমকে ওঠার মত অবস্থা। দেশে বিপুল পরিমান অস্ত্রের চালানের পিছনে যার হাত সে ইন্টারন্যাশনাল মাফিয়া!
হাতিরঝিলের একটা বেঞ্চে পাওয়া যায় আরেকটা মৃতদেহ, ভিন্ন কোনো সময়ে। পুলিশ সাধারণভাবে তদন্ত করে কেস ক্লোজ করে দেয়। তাছাড় বস্তির একটা লোকের লাশ নিয়ে অভিযোগ জানাবারও কেউ নেই, পুলিশে চাপ দেবারও কেউ নেই। তদন্ত দায়সারা হলেই বা কে কী বলবে। হাই প্রোফাইল মার্ডার না হওয়ায় মিডিয়ারও মাথাব্যথা নেই এই খুন নিয়ে। তবে কেউ একজন এই মামুলি খুনের পেছনে অনেক বড় কোনো ঘটনার যোগসূত্র আছে বলে মনে করে। তদন্ত শুরু হয় নতুন করে। যেহেতু পুলিশ না, তাই পুলিশি কায়দা বাদ দিয়ে তদন্ত চালানো হয় একদম ভিন্ন আঙ্গিকে।
আর এইদিকে জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক যখন হাল ছেড়ে দিচ্ছিলো, তখনই মনে পড়ে, এখনো ঘোড়ার চাল দেয়া বাকি।
কাহিনী সংক্ষেপ ঠিকভাবে লিখতে পারলাম না। এ পর্যন্ত অনেক বইয়েরই রিভিউ লিখেছি, কোনোটার কাহিনী সংক্ষেপ লেখা নিয়ে এতো ভাবতে হয়নি। বইয়ের গল্পটাই এমন। তবে বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কাহিনী সংক্ষেপ পড়ে বইটা শুরু করলে হতাশ হবেন। বিস্তারিত আলোচনায় আগ্রহ থাকলে নিচে স্ক্রল করুন, নতুবা বইটা পড়া শুরু করে দিন। থ্রিলার পছন্দ করলে, বইটা কোনোভাবেই পড়তে খারাপ লাগবে না।
যা বলছিলাম, বইটার পেছনে লেখা কাহিনী সংক্ষেপের আশিভাগ ঘটনা বইয়ে নেই। এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে কিছুটা স্পয়লার হয়ে যাবে তাই আপাতত বাদ দিলাম। তবে, আমার কাছে মনে হয়েছে, দুই খন্ডে সমাপ্য কোনো বইয়ের একটা খন্ডের কাহিনী সংক্ষেপ এমনভাবে লেখা উচিত, যা শুধুমাত্র সেই খন্ডের কাহিনীর উপরই আলোকপাত করে। এমনকিছু লেখা উচিত না, যা এই বইয়ে এখনো আসেইনি, কিংবা আসলেও শুধুমাত্র পূর্বাভাস।
বইটা সন্ধ্যার পর ধরে এক বসায় পড়ে শেষ করে ফেলেছি। সেজন্যে বইটাকে সুখপাঠ্য বলাই যায়। লেখকের লেখায় এমন কিছু আছে যা আপনাকে চুম্বকের মত ধরে রাখবে। কিছু লেখক আছে না, যা লিখে তাই পড়তে ভালো লাগে? আলোচ্য লেখককে সেই কাতারেই ফেলা যায়। বাংলাদেশের থ্রিলার লেখকদের তালিকা করলে, আমার তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবে রিফাত হাসানের নাম।
তবে বইয়ে কিছু জিনিস আছে যা আমার একদমই ভালো লাগেনি। আমার মনে হয়, দুই খন্ডে প্রকাশিতব্য বই কিভাবে লিখতে হয় সেটা নিয়ে লেখকের নতুন করে ভাবা উচিত। দুই খন্ড একসাথে একটা সিঙ্গেল বই হিশেবে পড়লে হয়তো এই কথাগুলো ওঠার চান্স পেতো না। কিন্তু যেহেতু আলাদা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়েছে তাই কথাগুলো উঠছেই। বইয়ে এমন কিছু চরিত্র বা ঘটনা আছে যার শুরু আছে কিন্তু পরে তাদের কথা ভুলে যাওয়া হয়েছে। আবার বইয়ের একদম শেষের দিকে আচানক নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে, যাকে নিয়েও বিস্তারিত কিছু নেই। সব ঘটনার যবনিকাপাত যদি পরের বইয়েই হবে, তাহলে দুই খন্ডে এটাকে প্রকাশ করা উচিত হয়নি বলে আমি মনে করি।
আগেই বলেছি, লেখকের লেখার হাত চমৎকার। তাই, যা লিখে তাই পড়তে ভাল্লাগে। এমনকি তথ্যগত ভুল থাকলেও সেটা চোখ এড়িয়ে যেতে চায়। সাধারণ পাঠকের চোখ এড়িয়ে গেলেও লেখকের এদিকে মনযোগ দেয়া উচিত।
আর কী বলব, দেখি দ্বিতীয় খন্ড কোথাও পাই কি না। ভালো কথা আপনারা হাতের কাছে দ্বিতীয় খন্ড না রেখে প্রথমটা শুরু করবেন না। অন্তত রাতের বেলায় না। হ্যাপি রিডিং।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ধানমন্ডি লেকের ধারে এক স���ালে পাওয়া গেলো বস্তাবন্দি একটা লাশ। খণ্ডবিখণ্ড করে লাশটাকে বস্তায় ভরে কে বা কারা ফেলে রেখেছে লেকের ধারে৷ ধানমন্ডি থানার ওসি কিবরিয়া সাহেব তদন্ত শুরু করলেন। ধারণা করা হলো লাশটা নিখোঁজ হওয়া ডাক্তার জামান সারওয়ারের। যদি তাই হয়, কেন খুন করা হলো ডাক্তার সাহেবকে? পুরোনো শত্রুতা, নাকি অন্য কিছু?
আর্মি থেকে অবসর নিয়ে মেজর ইফতেখার আহমেদ যোগ দিলো বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি দ্য সিক্রেটস-এ। উদ্দেশ্য, ফেলে আসা অতীতটাকে ভুলে নির্ঝঞ্ঝাট একটা জীবন পার করা। দ্য সিক্রেটস-এ যোগ দিয়েই অদ্ভুত এক কেসের সম্মুখীন হলো ইফতেখার। হাতিরঝিলে পাওয়া একটা লাশের খুনের তদন্ত করতে গিয়ে বিশাল এক ড্রাগ কার্টেলের জড়িত থাকার আলামত পেলো সে। জুনিয়র ইনভেস্টিগেটর শোভনকে নিয়ে সে চালিয়ে গেলো তদন্ত। কিন্তু একটা সময় এই তদন্তের ব্যাপারে অনেকটাই আগ্রহ হারিয়ে ফেললো ইফতেখার। কেন?
বেশ কয়েক বছর আগে ক্যাপ্টেন (তখনো সে মেজর হয়নি) ইফতেখার যখন বাংলাদেশ আর্মি ইন্টেলিজেন্সে ছিলো, একটা মিশন নিয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে যেতে হয়েছিলো তাকে। সেখানে নিজের অজান্তেই মারাত্মক এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয় সে। আন্তর্জাতিক আর্মস মাফিয়ার অন্যতম একজন শক্তিশালী ডন পিটার বুন রীতিমতো ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে তাকে। ভয়াবহ একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় ক্যাপ্টেন ইফতেখারকে। যার ফলশ্রুতিতে নিজের গুড উইল ও দেশপ্রেমকেও বাজি রাখার মতো পরিস্থিতি চলে আসে। রহস্যময় পিটার বুন আসলে কি চেয়েছিলো?
ইফতেখার আহমেদের সাবেক বস ব্রিগেডিয়ার আকরাম খানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর ফ্ল্যাটে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে হার্ট অ্যাটাক। আসলেই? খোরশেদ সাহেবের বাসার পুরোনো কেয়ারটেকার লোকমান হঠাৎ-ই নিখোঁজ হলো। কেন? দুই ছেলেকে হারিয়ে আফ্রিকার মালি'র সাধারণ মুদি দোকানি মাসাদিও হায়দারা ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠলো। এর শেষ কোথায়? দুই হাজার বছর আগে জেরুজালেমের সেকেন্ড টেম্পলে রোমানরা চালিয়েছিলো নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। আজকের এসব ঘটনার সাথে সেটারই বা সম্পর্ক কি?
জানা যাবে সবটাই। এখনো যে ঘোড়ার চাল বাকি আছে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ রিফাত হাসান এর প্রথম উপন্যাস এটা। কিন্তু পড়ার সময় তা একবারো মনে হয়নি। স্পাই থ্রিলার এর সাথে যোগ হয়েছে মার্ডার মিস্ট্রি। দুটোই আমার পছন্দের জনরা। একদিকে একশ্যান-অ্যাডভেঞ্জার অন্য দিকে "কে হত্যা করলো?" "কেন করলো?" দুটোর সংমিশ্রণ ভালো লেগেছে। যদিও উপন্যাসে অনেকগুলো প্রশ্নেরই জবাব পাওয়া যায়নি। কারণ লেখক ২য় খন্ডে শেষ করার পরিকল্পনা করে লিখেছেন। প্রথমের কয়েকটা অধ্যায়ে বিচ্ছিন্ন কয়েকটা ঘটনা এক সাথে ঘটায় প্রথমের দিকে একটু সমস্যা হলেও পরে আর তা একদমই হয়নি।
এদিকে আমি ১ম পর্বেই প্রশ্নের জবাব খুজতেই বইটি জলদি জলদি শেষ করা। কিন্তু উত্তর না পেয়ে আমি হতাশ নই। বরং আমি আমি অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে আছি ২য় খন্ডের জন্য। বিশেষত শেষের ২ পৃষ্ঠাতে যে অপ্রতাশিত টুইস্টের অবতারণা হয়েছে, তা হজম করতে আমাকে বেগ পেতে হয়েছে। "কেন! কেন!! এমন হলো!!!" যেজন্য ২য় পর্ব পড়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সজল চৌধুরী এর প্রচ্ছদ ভালো করেছেন। আর ভূমি প্রকাশের প্রডাকশন বরাবরের মতোই ভালো ছিল। অভারঅল আমি সন্তুষ্ট। দেখাযাক ২য় পর্বে লেখক কোথায় নিয়ে যায় আমাদের।
"একজন পরাজিত সৈনিকের কারো জন্য ভালবাসা থাকতে নেই।"
• দুই হাজার বছর পুরনো জেরুজালেমের ঐতিহ্যবাহী সেকেন্ড টেম্পলের রহস্য কি? স্যামুয়েল জনসন নিখোঁজ হয়েছিলেন কীভাবে? ধানমণ্ডির লেকের ধারে পাওয়া লাশটা কি ডাক্তার জামান সারওয়ারের? এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে মেজর ইফতেখারকে।
ইফতেকার একজন সৈনিক, একজন দুর্ধর্ষ স্পাই। তাকে নিয়েই কাহিনী এগিয়েছে 'এখনো ঘোড়ার চাল বাকি' বইটার। উপন্যাসের শুরুর কিছু অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ভিন্ন কিছু চরিত্রের পরিচয় ঘটানো হয়েছে, তবে তাদের সাথে কীভাবে ইফতেখারের জীবন জড়িয়ে যাবে তার উত্তর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে উপন্যাসে।
• শুরুতে পরিচয় পাওয়া স্যামুয়েল জনসন কিংবা এতবছর আগের জেরুজালেমের সেই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডকে রহস্যের আড়ালে রেখে, উপন্যাস এগিয়ে গেছে ইফতেখারের জীবনের আদি থেকে বর্তমান সময়ের বর্ণনা দিয়ে, কখনো সে বর্ণনা পাওয়া গেছে ইফতেখারের দৃষ্টিকোণ থেকে, কখনো পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে। উভই চলেছে সমান্তরালে। তবে অবাক হওয়ার বিষয় হলো, দুই ক্ষেত্রে ইফতেখার কাজ করছে দুইটা ভিন্ন কেস নিয়ে। তাহলে কেসগুলোর মাঝে সম্পর্ক কোথায়? সে উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই আমরা সমাপ্তিতে এসে পৌঁছে যাবো। এখানে লেখকের লেখার ভঙ্গি বলে দেয় তিনি পাঠককে যথেষ্ট বুদ্ধিমান মনে করেই লিখেছেন, তাই দুইটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে একই চরিত্রকে নিয়ে দুইটি ভিন্ন কাহিনী বর্ণনা করতেও তিনি সফল হয়েছেন।
• সাধারণত একাধিক খণ্ডের বইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম খণ্ডের সমাপ্তিতে পাঠককে তুষ্ট করতে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একটা সাময়িক বিরতি রাখা হয়। তবে এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বরং প্রথম ভাগের সমাপ্তি ঘটেছে আরও কিছু প্রশ্ন জুড়ে দিয়ে, যার উত্তর পাওয়া যাবে বইটির শেষ খণ্ডে, অর্থাৎ সিরিজের দ্বিতীয় বইটিতে। তা সত্ত্বেও বইটা যথেষ্ট সাসপেন্স ও থ্রিল দিতে সক্ষম হয়েছে। ইফতেখারের জীবনের এ জার্নিতে একাকীত্ব, প্রেম, রহস্য, সাহসিকতা সবটাই লেখক বেশ শক্তপুক্তভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে লেখার পরিপক্বতা ও শব্দ নির্বাচন। কোনোভাবেই মনে হয়নি এটা লেখকের দ্বিতীয় বই ও প্রথম মৌলিক উপন্যাস। এদিক থেকে লেখক বাহবা পাবে নিশ্চিত।
তাই, সব মিলিয়ে বইটার প্রথম ভাগ আমার জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল।
এসপিওনাজ থ্রিলার বলতে সাধারণত যে গতিশীলতা আশা করি, সেখান থেকে বইয়ের প্রথম ভাগ একটু ভিন্ন। মূলত প্রোটাগনিস্ট চরিত্র ডেভেলপমেন্টের জন্য কাহিনী একটু স্লো হয়েছে, তবে কেন জানি এই চরিত্র ডেভেলপমেন্টের অংশটা মাখনের মতো লেগেছে আমার কাছে। ভাষার ব্যবহার, সবকিছু মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল। গল্প বলার ধরন বেশ ভালো লেগেছে। মূল চরিত্রের সাথে একটা জার্নি জার্নি ফিল হচ্ছিল দেশ-বিদেশ জুড়ে। কাহিনীতে টুইস্ট ছিল মোটামুটি। অন্তত শেষের টুইস্টটা আশাতীত ছিল। বইটাতে বেশকিছু খাপছাড়া ভাব এসেছে মূলত বইটিকে দুই ভাগে ভাগ করার জন্য। সাবপ্লটগুলোর মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি তাই, দূরত্ব বেড়েছে। মনে হয়েছে প্লটের পুনর্বিন্যাস ব্যাহত হয়েছে। অনেকগুলো রহস্য তৈরি হয়েছে, কিন্তু সমাধান মেলেনি। দ্বিতীয় ভাগে সেসবের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই। বরঞ্চ এমন এক জায়গায় এসে কাহিনী শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় বই হাতে তুলে নিতে বাধ্যতা চলেই আসবে। কিছু কিছু জায়গায় লেখকের ভুল চোখে পড়েছে। সেসব নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছি না, সচেতন পাঠক মাত্রই চোখে পড়বে। তবে একটা ভুল খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। হতাশ হয়ে ভাবছিলাম এমন সুন্দর একটা বইতে এরকম 'সিলি মিস্টেক' লেখক করল কীভাবে!
পড়ে ফেললাম সবথেকে প্রিয় এসপিওনাজ জনরার আরো একটি বই। রিফাতের হাসানের গল্প বলার ধরণ ভালো লেগেছে। আর্মি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ইফতেখারের বর্তমান এবং অতীত জীবন, ইফতেখারের পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা, অনুসন্ধান করার দক্ষতাকে লেখক এতসুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন যা মুগ্ধ করার মতো ছিলো। কিছু বিষয় ব্যক্তিগতভাবে খারাপ লেগেছে, যেটা একান্ত আমার খারাপ লাগা। এই বইয়ের যেহেতু দ্বিতীয় পার্ট আসবে সেহেতু সকল অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা তখনই হওয়ার কথা। তাই বলে সবগুলো তদন্ত গলায় আটকে রাখা আমার কাছে বিরক্ত লেগেছে। আর একটা বিষয় হচ্ছে এত সিগারেট খাওয়ার বর্ণনা! বাপরে। লেখক যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইসাথে দুটো সময়ের গল্প বলছেন এটা ধরতে আমার সময় লেগেছে। লেখক চাইলে টাইমলাইনটা চ্যাপ্টারের শুরুতে দিতে পারতেন।
তারপরও সবশেষে প্রেরণার বিষয়টা এনে পাক্কা থ্রিলারের অনুভূতিটা লেখক নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুললেন তার জন্য এই বইটা পড়ে দেখা উচিত।
কখনো শরীফুল হাসান, কখনো হুমায়ূন আহমেদের লিখার ধরন বাদে আর কিছু নাই। সহজপাচ্য এই যা! থ্রিলার একটানে পড়ার যে আমেজ একদমই ছিল না। ধীরে ধীরে পড়লাম আশা নিয়ে যে শেষ ভালো হবে। হুজুগে এক অধ্যায় জেরুজালেম থেকে টেনে আনার অর্থ কি যদি বাকি সব কিছুই দ্বিতীয় ভাগে থাকে? লেখকের চেয়ে যারা প্রুফরিড করে ভুল শুধরে দেন নাই বিরক্ত টা তাদের উপর বেশি। ব্লাডস্টোন পড়ে এটা শুরু করেছিলাম আশা নিয়ে যে ভালো হবে, প্রচন্ড হতাশ হলাম। প্রচন্ড! এক ও দিতে ইচ্ছা করতেসে না।
এমন ভয়াবহ জায়গায় এসে শেষ হলো? না জানা পর্যন্ত তো ঘুম আসবে না। এতদিন কেন এই বই চোখে পরলো না তাই ভাবছি।
এই বই নিয়ে তো আলোচনা হওয়া উচিত। তবে যেভাবে কাহিনীর গতি এগিয়ে গিয়েছে তাতে রীতিমতোন লেখকের ঘাড়ে পাঠকের এক্সপেকটেশনের পারদ চড়েছে। এখন কতটা তার মান রাখবে সেটাই দেখার জন্য ২য় খন্ড হাতে তুলে নেবো আজ।
লেখকের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বইটা পড়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত কাহিনীর প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনার বিস্তৃতি ও গভীরতা এতই কম যে খুব কষ্ট করে বইটা শেষ করতে হল। পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার মত আকর্ষণ খুঁজে পেতে আমি ব্যর্থ হয়েছি।
স্পাই থ্রিলার হিসেবে শুরুটা দুর্দান্ত। ইফতেখার চরিত্রটার চরিত্রায়নটাও খুব ভালো হয়েছে। গল্পটা ভালো লেগেছে দেখেই কিছু ছোট ছোট জায়গায় নিটপিকিং করা যায়। দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া ইফতেখারের গতি এক সময়ে ব্যহত হয়। সব মিলিয়ে স্পাই থ্রিলারের প্রথম কিস্তি হিসেবে সন্তোষজনক।
নিয়তি যে জীবন কে দিয়ে কি কি করিয়ে নিতে পারে তার ই এক সুনিপুন প্রদর্শনী এই বইটি। সাসপেন্স থ্রিল, কিছু কিছু জায়গায় জীবনের গভীর দর্শন, আর মাপা রোমান্সের যোগাত্মক-বিয়োগান্তক কিছু দিক, ঠিক যেমনটা আমার পছন্দের, দারুন একটি বই ! প্রথম ভাগের পর প্রশ্ন থেকে যাবে ঘোড়ার চাল কি এখনো বাকি?