"হায় ইচ্ছা করে,
ছাড়িয়া কনকলঙ্কা, নিবিড় কাননে
পশি, এ মনের জ্বালা জুড়াই বিরলে!
কুসুমদাম-সজ্জিত, দীপাবলী-তেজে
উজ্জ্বলিত নাট্যশালা সম রে আছিল
এ মোর সুন্দরী পুরী! কিন্তু একে একে
শুখাইছে ফুল এবে, নিবিছে দেউটি;
নীরব রবাব, বীণা, মুরজ, মুরলী;
তবে কেন আর আমি থাকি রে এখানে?
কার রে বাসনা বাস করিতে আঁধারে?” " - মেঘনাদবধ কাব্য
মধু কবি বীরগণের মৃত্যুতে এই ছত্রগুলো লিখেছিলেন। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের " একে একে " উপন্যাসের বীরবাহুর পতন হয়নি। হয়েছে সংসার নক্ষত্র থেকে এক একটি তারকার পতন। এই পতনের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে সত্তুর বছর বয়সী বুড়ো বিলু মুখুজ্যে। সেই কবেকার কথা ছবির মতো ভাসছে মরণের প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া বিলুর। তখন বাড়িতে আনন্দের হাটবাজার বসতো। তাতে বিকি-কিনি চলতো হরদম। মা ছিল, জেঠিমা ছিল, ছিল জেঠা। হঠাৎ জনে জনে হারিয়ে যেতে লাগলো। সংসারের আনন্দের হাটে বিষাদের বেসাতি বসলো। বাবা রইলেন নিজের মতো করে। বিলুর কুষ্ঠি করেছিল নারাণদা। বলেছিল এ ছেলে বখা হবে, যাবে নষ্ট-ভ্রষ্টদের দলে। এত বছর পর সেই হিসেব করতে বসে জীবনপাতার ছেঁড়া-খোঁড়া অধ্যায়গুলো ঠিক সামনে চলে এল। তাতে পথভ্রষ্ট হওয়ার গল্পের পাশাপাশি পথ ভুলো পথিকের শঙ্কিত চোখ-মুখের অবয়ব আছে বৈ কি!
নতুন কিছু নেই। টিপিক্যাল সঞ্জীব। কাহিনি বিন্যাসে "লোটাকম্বল"-এর সাথে সাযুজ্য লক্ষণীয়। হাতে সময় থাকলে তবেই পড়ুন। উচ্চাশা নিয়ে পড়বেন না। সাদাসিধা উপন্যাস ছাড়া আর কিছু নয়।