এক অপরাজেয় দম্পতির চিকিৎসা বিদ্যার নিরাশাকে জয় করে অনাগত এক শিশুকে দুনিয়ার আলো দেখানোর একক এক যুদ্ধ ছিল এটি। দুনিয়ার সব ডাক্তাররা যখন 'না' করে দিচ্ছেন,তখন এ দম্পতি সে না বলাকে উড়িয়ে দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন উত্তর কিংবা দক্ষিণ মেরুর সব হাসপাতাল।তাঁরা তাঁদের অনাগত শিশুকে এ অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবীতে আনবেনই।সে বাবার কাঁধে মাথা রেখে অবাক হয়ে জোসনা দেখবে,বৃষ্টি দেখবে।মায়ের বুকে নাক ডুবিয়ে সে যাবে নিশ্চিন্ত ঘুম। এ শিশুটিকে মায়ের দু'পায়ে রেখে দোল খাওয়াতেই হবে। বাবার কাঁধে চড়ে তাকে অপূর্ব বিকেল দেখাতেই হবে।দম্পতিটিকে বাবা কিংবা মা ডাক শুনতেই হবে। তাই তাঁরা যুদ্ধ ঘোষণা করলেন চিকিৎসকদের হতাশার বিরুদ্ধে। এটি ছিল তাঁদের একার যুদ্ধ। সন্তান লাভের যুদ্ধ-------
'জন্মজয়' বইটা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্র! প্রথমতঃ এত ছোট, এত পাতলা বই বড় হবার পর পড়িনি বলা যায়। লেখক বাদল সৈয়দ এর বেশ নাম শুনে আর একদমই ছোট বই দেখে এটা দিয়েই শুরু করা। বইটা লেখকের ব্যক্তিগত জীবন থেকে সরাসরি উঠে আসা। ১১ বছর ধরে একটা সন্তানের জন্য তারা স্বামী স্ত্রী পৃথিবীর এমাথা হতে ওই মাথা পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। দেশে দেশে ডাক্তার দেখিয়েছেন, বিশাল যন্ত্রণার এক্সপেরিমেন্ট এর মধ্য দিয়েও গেছেন। তবু হাল ছাড়েন নি। ১১ বছরের কষ্টের ফসল, থাইল্যান্ডের চিকিৎসা শাস্ত্রে মিরাকল ঘটিয়ে পৃথিবীর মুখ দেখে তাঁদের কন্যাসন্তান, রোজাবেল। লেখক তাঁর কন্যাকে প্রচন্ড ভালোবাসেন যার প্রমাণ মেয়েকে কেন্দ্র করে তাঁর আরও একটি বই 'রোজাবেল মা, তোকে বলছি'। বইতে লেখক চরিত্র গুলোর নাম হয়তো বদলে তৃতীয় পুরুষ হিসেবে গল্প বলে গেছেন, কিন্তু গল্পটা একান্তই তাঁর নিজের। প্রচন্ড আবেগ নিয়ে যে লিখেছেন সেটা প্রতিটা বাক্য পড়লেই বোঝা যায়। নিজের জীবনের আবেগতাড়িত ঘটনা নিয়ে লেখা বইটি অবশ্যই লেখকের খুব প্রিয় আমার বিশ্বাস, তাই এই ব্যাপারে কোনো রিভিউ ধোপে টিকবেনা আসলে। তবে অতিরিক্ত আবেগতাড়িত আর ভালোবাসা নিংড়ানো স্তুতি বাক্য পুরোটা সময় জুড়ে পড়তে ভালো লাগেনি। থাকেনা, গানের সুর ওঠানামা না করলে, সরল রেখার মতো গেয়েই গেলে গান শ্রুতিমধুর লাগেনা। ওরকম আর কি ব্যাপারটা। আর কিছু স্পেসিফিক শব্দ আর বাক্যের প্যাটার্নের অতিরিক্ত প্রয়োগ যেমন 'স্তব্ধ হয়ে'/'অবাক হয়ে' তাকিয়ে থাকলাম... এগুলো খুবই দৃষ্টিকটু আর বিরক্তির উদ্রেক করে।
যাহোক, লেখকের ব্যক্তিজীবনের জন্য শুভকামনা। খুব শীঘ্রই অন্য আরেকটা বই হাতে নিচ্ছি ওনার। আশা করি ভালো লাগবে সামনে।