ফ্ল্যাপে লেখা কথা - 'অতল তল কালো জল' এক অনাথের জীবন সংগ্রামের গল্প। হাসতে হাসতে দুর্ভাগ্যের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া এক ক্ষেপার কাহিনী। হার না মানা এক লড়াকুর উপন্যাস। বিরল এক ত্রিভুজ প্রেমের চলচ্চিত্র 'অতল তল কালো জল'; যার চরিত্ররা আমাদের মতোই মৃত্যুকে অমোঘ জেনেও অমরত্বের স্বাদ পেতে চায়; বিধিলিপি বদলাতে জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করে। দগ্ধ হৃদয়েও গায় ভালোবাসার গান। নেমেসিসের রোষানলে পড়ে তারা সবাই এখন এক ধূসর জগতের বাসিন্দা। পৃথিবীতে কোনোভাবে বেচে থাকার জন্য তাদের একটু রঙ দরকার। সামান্য হলেই চলবে; কিন্ত বসন্তের উৎসব হতে কে তাদের এনে দেবে একটুখানি জীবনের রঙ? মলাট উল্টালেই তারা আপনার কানে কানে প্রশ্ন করবে, মানুষ কি কলের পুতুল? সুখের সংজ্ঞা কি? কে বেশি দামি? মানুষ? জীবন? নাকি মানুষের জীবনের সময়? ভালোবাসার ঋন বড় না দায় বড়? ওদের সাথে একবার সখ্যতা করেই দেখুন; হয়তো আপনাকেও তারা চুপি চুপি জানাবে তাদের নিয়তিবদ্ধ দিনরাত্রির চালচিত্র। 'অতল তল কালো জল' এর মোটিফ মূলত রোমান্টিক; কিন্ত গল্পের ভাজে ভাজে এমন কিছু বাক রয়েছে যেখানে পৌছে পাঠক হয়তো নস্টালজিক হয়ে বারবার নিজের গহীনে ফিরবেন; আবার অতলে হারাবেন।
প্রত্যাশিত সমাপ্তি না পাওয়ার কারনেই বোধহয় কিছুটা ক্ষোভ কাজ করছে চরিত্র গুলোর প্রতি। বিশেষত জামীর ওপর। নীহার আছে জানা সত্ত্বেও কেন সোহানা কে এতটা সময় দিলো? কিছুটা ভুল বোধ হয় নীহারের ও ছিলো। যান্ত্রিক জীবনে পাশে তো ছিলো জামীর কখনো বন্ধু হয়ে, কখনো সেভিয়র হয়ে। কখনো একবারের জন্য প্রেমিকা হয়ে ওঠেনি ও জামীর জন্য। এই যা... এটুকু সোহানা পূরণ করেছে। যে জিনিস যেভাবে চাইতে হয়, পেয়ে গেলে যেভাবে ধরে রাখতে হয় ঠিক সেভাবেই চাওয়া উচিত আর ধরে রাখা উচিত। আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা সম্পর্কের জন্যই আমাদের মনে আলাদা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। সম্পর্কগুলোকে আমাদের সঠিক আচরণ দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে হয় শুধু। এদিক থেকে জামী আর নীহার কে আমার কাছে ব্যর্থ ই মনে হয়েছে। যদিও তারা তাদের নিজের জীবন গঠন আর স্বপ্ন পূরনে সফল। আর সোহানা, সে জামীকে যেভাবে পেতে চেয়েছে সেভাবেই পেয়েছে। সফলতাই বটে। একটা ব্যাপার শিক্ষনীয় আছে এখানে, তিনজনের বেলাতেই। যখন প্রশ্ন স্বপ্ন পূরনের, তখন সেই স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকতেই হয়। সময় দিতে হয়, পরিচর্যা করতে হয়। তবেই তা বাস্তবে ধরা দেয়।