রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ শিবনাথ শাস্ত্রী নিউ এজ পাবলিশার্স মম: ১৫০/-
উনিশ শতকের সুবিশাল বাংলা ইতিহাস। সেই সময়ের যেসব উল্লেখযোগ্য ঘটনা দেখা যায়, এই বইটি তার প্রামাণ্য দলিল।
এই বইটির সূচনাকাল হিসেবে বলা যায় ডেভিড হেয়ার এবং ডি রোজারিও (ডিরোজিও) সময়কাল থেকে ঊনবিংশ শতকের শেষ অবধি।
নব্যবঙ্গের সূচনা, ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় যুগের নব্যবঙ্গ সদস্যদের পরিচয় এবং দীর্ঘ আলোচনা। বিবিধ মনীষীর জীবন, আচার-আচরণ সম্পর্কিত কথা রয়েছে। নব্যবঙ্গ এবং ব্রাহ্মসমাজ নিয়ে আলোচনা বেশি রয়েছে। রয়েছে সেইসময়ের বহু পত্র-পত্রিকার, নাটক, বই এর উল্লেখ আর সমাজে তার প্রভাব, বিস্তার।
রামতনু লাহিড়ীর কথা বলতে গিয়ে কৃষ্ণনগরের রাজা-জমিদার দেব-পরিবারের কথা উঠে আসে। তাদের দেয়ানদের বংশজাত, মায়ের দিক দিয়ে রামতনু লাহিড়ীর সম্পর্ক। মাঝে রামতনু লাহিড়ীর ব্যাপারে ছোট বিবরণ দিয়ে শাস্ত্রীবাবু সেই সময়ের বাংলার সমাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি আর কেন্দ্রস্থল নব্যবঙ্গ, ব্রাহ্মসমাজ আর সমসাময়িক বিখ্যাত মনীষীদের নিয়ে, যাদের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই দুই গোষ্ঠী যুক্ত।
এই বইটি পড়তে আমার প্রায় দেড় মাস লেগেছে। যদিও এখনো সম্পূর্ণ পড়া শেষ হয়নি। সম্পাদীয় টিকা-টিপ্পনি অংশটি বাকি। বইটির প্রতিটি পরিচ্ছেদ তথ্যবহুল। তাই অনেক ধীরে, সময় নিয়ে পড়তে হয়েছে। এমনও হয়েছে কোনো অংশ পড়তে গিয়ে সেই সম্পর্কে লেখক আগে বর্ণনা দিয়েছেন বলে সেই অংশটি বুঝতে আবার পাতা ওল্টাতে হয়েছে। যা পড়েছি তার বেশিরভাগই মনে থাকবে না, বা নেই। কিন্তু বইটি পড়ার সময় প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি আর সেই সময়ের একটা ছবি মনে বারবার এসেছে। নন-ফিক্শন genre এ কেউ ঊনবিংশ শতকের বাংলা ইতিহাস ব্যাপারে আগ্রহী হলে এই বইটি পড়তে রেকমেন্ড করবো। অনেক না জানা ব্যাপার পড়তে গিয়ে বিস্মিত হয়েছি- সেই সময়ে সমাজের বিপক্ষে গিয়ে নিজের বিধবা বিমাতার বিয়ে দেওয়া; কেশবচন্দ্র সেন, দ্বিতীয় যুগের ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণের বন্দনা করেন; রামতনু লাহিড়ীর মেয়ে ইন্দুমতীর করুন পরিণতি, তার পরিবারের একেক দুর্ঘটনা। এই বইতে ইংরেজদের প্রতি চরমপন্থী মনোভাব দেখলাম না। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা বাদে ইংরেজদের নিয়ে কোনো কটূক্তি শাস্ত্রীবাবু করেননি।
এই বইটির প্রতিটি line, Sentence, "ভারী" শব্দ, তথ্য পরিবেশন করবে। গল্পের ছলে বইটি নয়। আমি বলবো পড়তে হলে নির্দিষ্ট পাতা বা একটা পরিচ্ছেদ target করে পড়া উচিত।