What do you think?


ভাগফল ৭১ মেয়েদের কথা
296 pages, Unknown Binding
Published March 1, 2017
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 1 of 1 review
February 3, 2020
১৯৬৪'র দাঙ্গা আর ১৯৭১ এর যুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব বাংলার নারীদের উপর হওয়া ব্যাভিচার নিয়ে লেখার সংকলন এ বইটি। লেখিকাদের কেউ সেসব দিনগুলোর সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী, কেউবা সংগ্রাহক, কেউ কেউ নিজেরাই পাশবিকতার শিকার..যারা এখনও বেঁচে আছেন। কেউ ভারতে, কেউবা বাংলাদেশে। ১৭ জন লেখিকার মধ্যে ১৫ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। আর ১৭টা লেখার প্রায় প্রত্যেকটিতেই একই চিত্র, হিন্দুদের হঠাও, মারো কাটো, এপার থেকে বিতাড়িত করো। হিন্দুদের আলাদা নামও দেয়া হয়েছিলো, 'উদ্বাস্তু'।
গুটিকয়েক মুসলমানরা পাকবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে শান্তিকমিটি গঠনের নামে গোটা বাঙালী জাতির সাথে হঠকারিতায় লিপ্ত হয়। অগণিত মুসলমান যারা গোপনে এই নির্যাতিত মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসে, তাদেরকেও কুফরীর নামে শাস্তি হিসেবে জ্যান্ত জবাই করা হয়। দেশ স্বাধীনের লক্ষ্যের সাথে তখন জড়িয়ে ছিল হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, বেঁচে থাকা লক্ষ লক্ষ অত্যাচারিত আর বিতাড়িত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভারত থেকে এদেশে ফিরিয়ে আনা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশনায়ক মুজিবের সাথে নতুন দেশের স্তম্ভ তৈরী করা।
তাও হয় না। দেশ স্বাধীনের পর দেশে হিন্দু-মুসলমান মিলে নিজেদের ভিটেয় ফিরে আসে, ঘরের চালা পর্যন্ত লুঠ হয়ে যাওয়া শূন্য ভিটেমাটি থেকে নতুন সূচনা করে। পরে মুজিব হত্যাকান্ডের পর রাজাকারেরা মিলে আবার হিন্দু নিধন শুরু করলে মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে আবার ভারতে পাড়ি দেয়।
এক লেখিকার লেখার শেষাংশ ছিল অনেকটা এরকম, "মুজিব তো সেই রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কি ভেবে যে করেছিলেন, জানি না। না করলেই বোধকরি ভালো করতেন। নিজেও দেশকে এতটা অসহায় অবস্থায় রেখে প্রাণ হারাতেন না। তবে আজও কি সেই হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে? বাংলাদেশকে তো আমরা বাঙালীপ্রধান দেশ হিসেবেই দেখতে চেয়েছিলাম, এত মানুষ প্রাণ দিলো..ঐ একটা কারণেই তো। তাও আজ এদেশ মুসলিমপ্রধান কেন হলো? কেন আজও হিন্দুদের মন্দির ভাঙা হয়? মূর্তি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়! জানি না।"
গুটিকয়েক মুসলমানরা পাকবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে শান্তিকমিটি গঠনের নামে গোটা বাঙালী জাতির সাথে হঠকারিতায় লিপ্ত হয়। অগণিত মুসলমান যারা গোপনে এই নির্যাতিত মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসে, তাদেরকেও কুফরীর নামে শাস্তি হিসেবে জ্যান্ত জবাই করা হয়। দেশ স্বাধীনের লক্ষ্যের সাথে তখন জড়িয়ে ছিল হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, বেঁচে থাকা লক্ষ লক্ষ অত্যাচারিত আর বিতাড়িত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভারত থেকে এদেশে ফিরিয়ে আনা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশনায়ক মুজিবের সাথে নতুন দেশের স্তম্ভ তৈরী করা।
তাও হয় না। দেশ স্বাধীনের পর দেশে হিন্দু-মুসলমান মিলে নিজেদের ভিটেয় ফিরে আসে, ঘরের চালা পর্যন্ত লুঠ হয়ে যাওয়া শূন্য ভিটেমাটি থেকে নতুন সূচনা করে। পরে মুজিব হত্যাকান্ডের পর রাজাকারেরা মিলে আবার হিন্দু নিধন শুরু করলে মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে আবার ভারতে পাড়ি দেয়।
এক লেখিকার লেখার শেষাংশ ছিল অনেকটা এরকম, "মুজিব তো সেই রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কি ভেবে যে করেছিলেন, জানি না। না করলেই বোধকরি ভালো করতেন। নিজেও দেশকে এতটা অসহায় অবস্থায় রেখে প্রাণ হারাতেন না। তবে আজও কি সেই হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে? বাংলাদেশকে তো আমরা বাঙালীপ্রধান দেশ হিসেবেই দেখতে চেয়েছিলাম, এত মানুষ প্রাণ দিলো..ঐ একটা কারণেই তো। তাও আজ এদেশ মুসলিমপ্রধান কেন হলো? কেন আজও হিন্দুদের মন্দির ভাঙা হয়? মূর্তি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়! জানি না।"
Displaying 1 - 1 of 1 review

