Kaushik Roy is Reader in History at Jadavpur University, India and Global Fellow of the Peace Research Institute Oslo, Norway. He is the author of many articles and books, including Military Manpower, Armies and Warfare in South Asia (2013), The Army in British India (2012) and The Oxford Companion to Modern Warfare in India (2009). He is also the co-author of Armed Forces and Insurgents in Modern Asia (2016; with Sourish Saha) and the co-editor, along with Scott Gates, of War and State-Building in Afghanistan (2015).
প্রখর রুদ্র বলে কি কেউ ছিলেন, বা আছেন? জটায়ুর লেখায় যাঁর দেখা পাওয়া যায়, রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজের সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক হয়তো ছিলেন স্রষ্টা লালমোহন গাঙ্গুলী'র কল্পনাতেই। কিন্তু প্রখর রুদ্র বলে কেউ ছিলেন— বুদ্ধিমান, সাহসী, দক্ষ। তাঁর অতীত রহস্যময়। এক জায়গা থেকে অন্যত্র ঘুরে বেড়ানো আর নানা কাজের রোমহষর্ক অভিজ্ঞতা ছাড়া সেই নিয়ে সেভাবে তিনি কিছু বলেননি। তাঁর ভাই শেখর উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার। যমজ দুই ভাইঝির মধ্যে একজন, অর্থাৎ শিবানী ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের অফিসার। তাঁরা জানেন না, ঠিক কে ছিলেন প্রখর রুদ্র। তাঁরা না জানলেও একজন কিন্তু চেনে, জানে তাঁকে। আজ স্নেহময় জেঠুর ভূমিকায় প্রখর রুদ্র নিজের ভাই ও ভাইঝিকে জটিল ব্যাপারে পরামর্শ দেন। কখনও বা তিনি আরেক ভাইঝি ইন্দ্রাণীকে ফিল্ড এজেন্ট বানিয়ে 'কনসাল্টিং ডিটেকটিভের' ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই শহরে উদয় হয়েছে 'ডার্ক হর্স' নামের আড়ালে এক কনসাল্টিং ক্রিমিনালের। কী চায় সে? কাকে চায় সে?
"গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার; তাকিয়ে দেখলাম পাণ্ডুর চাঁদ বৈতরণীর থেকে তার অর্ধেক ছায়া গুটিয়ে নিয়েছে যেন কীর্তিনাশার দিকে।" এই বইও নিঃসীম, নির্মম এক অন্ধকারের কথা বলে। কখনও তা আলোকিত হয় সত্যের দ্যুতিতে। কখনও বা ভাঙা চাঁদ আশ্বাস দেয় ন্যায় আর বিচারের। তারপরেই আমরা আবার ডুবে যাই মৃত্যু, শঠতা আর প্রতারণার অন্ধকারে। লাল আর কালো সুতোয় বাঁধা যে কাহিনিরা এই বইয়ে স্থান পেয়েছে তারা হল~ ১. ডিসেরগড়ে দিশেহারা ২. বৃন্দাবনে বিভীষণ ৩. চিন্তাই-বাজ ছিনতাইবাজ ৪. ছিন্নভিন্ন ছিন্নমস্তা ৫. যন্ত্র মন্ত্র তন্ত্র ৬. বিষবৃক্ষ ৭. অতি চালাকের গলায় দড়ি ৮. কালো ঘোড়া, লাল রক্ত ৯. 'জলে না যাইয়ো' ১০. প্রতীক-ই পরাজয় ১১. উড়ন্ত মৃত্যু ১২. নষ্ট ভ্রূণ ১৩. নামে কী আসে যায় ১৪. যারা পেল না আলো ১৫. চক্রব্যূহে চৈতন্য এই পনেরোটি কাহিনি একইসঙ্গে ক্ষুরধার পোলিস প্রসিডিওরাল, অপরাধী ও আইনরক্ষকের বুদ্ধির লড়াই, আমার-আপনার মতো প্রত্যেকের চেতনার প্রদীপের কম্পমান শিখার নীচে জমে থাকা অন্ধকার। সবচেয়ে বড়ো কথা, এই সূত্রবদ্ধ কাহিনিরা প্রথম থেকেই আমাদের বলে, অনিবার্য এক রাইখেনবাখ ফলের দিকে ধাপে-ধাপে এগিয়ে চলেছি আমরা। খুব গোদা ভাষায় লিখি, সিরিয়াল আর মিমসর্বস্ব চেতনার পাঠকদের জন্য এই বই নয়। তাহলে কাদের জন্য এই বই? যাঁরা তদন্তের ফরেনসিক আর মনস্তাত্ত্বিক দিকটি নিয়ে পড়তে ও বুঝতে চান, তাঁরা এই বইটিকে কেস-স্টাডির সংকলন হিসেবে পড়তে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও মগজাস্ত্রের প্রয়োগ কীভাবে সত্যকে সামনে তুলে আনতে পারে— তার অসামান্য কিছু নিদর্শন পাবেন এই কাহিনিমালায়। যাঁরা জানতে চান, হোমসের পাশাপাশি মরিয়ার্টিকেও একলব্যের মতো গুরু মেনে কেউ এগোয় কি না, তাঁরা স্পষ্ট উত্তর পেয়ে যাবেন যাবতীয় অনুচ্চারিত প্রশ্নের। যাঁরা সবসময় আলোর জয় খোঁজেন, তাঁরা বুঝবেন, আলোকবাহক আর শয়তান— দু'রকম মানেই বোঝানো যায় 'লুসিফার' শব্দ দিয়ে।
এই বইয়ের খারাপ জিনিস কী-কী? ১) বানানের সাড়ে সর্বনাশ হয়েছে গোটা বই জুড়ে। প্রকাশক পরবর্তী মুদ্রণের আগে একবার প্রুফটা আদ্যোপান্ত দেখিয়ে নিন প্লিজ। ২) একটাই বইয়ে ফরেনসিক আর মনস্তাত্ত্বিক এত খুঁটিনাটি পাঠককে বিভ্রান্ত করতে বাধ্য। ইনফরমেশন ওভারলোড হয়ে কখন যে পাঠক খেই হারিয়ে ফেলবেন, লেখক 'ধরতে পারবেন না!' এই বইয়ের একটি সিকুয়েল আসবে— এমনটা ধরেই নেওয়া যায়। সেটিতে এই তথ্য ও তত্ত্বের প্লাবনকে স্রেফ বেগবতী নদীর আকার দেওয়া যাবে কি না— এটা লেখক এখনই ভাবুন। ৩) লেখনী ভীষণরকম 'শুষ্কং কাষ্ঠং'— ফলে পড়তে গেলে মাঝেমধ্যেই মনে হয়, ইন্টারোগেশন চেম্বারে মাথার ওপর হলদে আলো জ্বালিয়ে কাঠের চেয়ারে বসে আছি। এই অনুভূতির হাত থেকে পাঠকদের রেহাই দিতে গেলে লেখকের জন্য আমার প্রেসক্রিপশন হল: একডোজ স্মরণজিৎ (ক্রিসক্রস) এবং একডোজ মনীন্দ্র গুপ্ত (অক্ষয় মালবেরি)। এরপর লেখক সিকুয়েল নিয়ে বসলে আশ্বস্ত হব। ইতিমধ্যে বইটা অতি-অতি অবশ্যই পড়ুন।
গত তিনদিনের মধ্যেই আমাদের ২১, রজনী সেন রোডের বাড়িতে আজ দ্বিতীয়বার জটায়ুর আগমন ঘটলো। ভদ্রলোক এখন লেখালেখির পাঠ চুকিয়ে দিয়েছেন। জিজ্ঞেস করলে বলেন, “এদ্দিন তো শুধু লিখেই গেলুম তপেশ, বাকি জীবনটা না হয় পড়েই কাটাই!” ভদ্রলোক এটা বলতেন বটে, তবে সত্যিটা যে আসলে সেটা নয়, গত তরশু সেটা ক্লিয়ার হয়। ফেলুদা সম্প্রতি আমেরিকা থেকে একটা তদন্ত করে ফিরে অস্থায়ী অবসর যাপন করছিল ঘরে বসে। হঠাৎ একদিন সকালে সবুজ রংয়ের পরিচিত এম্বাসাডরটার এ পাড়ায় আগমন ঘটতে দেখে ফেলুদা বিড়বিড় করেছিল, “খুব জরুরি কিছু ব্যাপার মনে হচ্ছে, নইলে জটায়ু এত সকালে!” জরুরি ব্যাপারটা যে আসলে কী, সেটা একটু পরেই বোঝা যায়। লালমোহন বাবুর মতো লোকের পক্ষে এত বড় কথা এতদিন গোপন করে রাখা যে আদৌ সম্ভব, সত্যি বলতে কী সেটাই প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি। পরে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, ফিকশন রাইটারদের গল্পের সূত্র কখনও নাকি প্রকাশ করতে নেই। ভদ্রলোকের বক্তব্য অনুযায়ী ওঁর সৃষ্ট প্রখর রুদ্র চরিত্রটি নাকি মোটেই কোনও কাল্পনিক চরিত্র নয়। তিনি বাস্তবেই ছিলেন, এবং সত্যিই দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন। বিভিন্ন রহস্যময় বিচিত্র অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতেন আর সেসব পোস্টকার্ডে লিখে জানাতেন লালমোহন বাবুকে। আর লালমোহন বাবুও সেই সব কাহিনী রং টং চড়িয়ে লিখে ফেলতেন গল্পের আকারে। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রখর রুদ্রের পোস্ট কার্ড আসা বন্ধ হয়ে যায়। এমনিতেই তিনি ভবঘুরে কেয়ারলেস টাইপের মানুষ ছিলেন। লালমোহন বাবুর ধারণা হয়েছিল তিনি নিশ্চয় মারাই গেছেন। এদিকে তাঁর চিঠি আসা বন্ধ হতে জটায়ুর পক্ষে মুশকিল হয়। প্লটের আমদানি না হওয়ায় ভদ্রলোক শেষ পর্যন্ত লেখাই ছেড়ে দেন। এইটুকু শোনার পর ফেলুদা একটা চারমিনার ধরিয়ে বলেছিল, “তো আপনার সমস্যাটা কী? প্রখর রুদ্র কি এতদিন পরে আবার পোস্টকার্ড পাঠিয়েছেন? নাকি তাঁকে ভাঙিয়ে দু পয়সা কামিয়েছেন বলে এখন ভাগ তাগ কিছু চাইছেন?” জটায়ু কাচুমাচু মুখে জবাব দিয়েছিলেন, “সে হলেও তো বুঝতুম। কিন্তু স্বয়ং প্রখর রুদ্রই তো কিডন্যাপ হয়ে গেছেন?” “হোয়াট?” “ইয়েস স্যার। ঘটনাটা তাহলে খুলেই বলি আপনাদের। আপনি তো জানেনই আমি এখন পুরোপুরি লেখক থেকে পাঠক হয়ে গেছি। এবারের বইমেলায় বিভা পাব্লিকেশনের স্টলে গিয়ে বগলদাবা করি রহস্য ত্রিবেণীর তিন খানা বই। চারদিকে বেশ প্রচার দেখে ভাবলুম পড়েই দেখি, আজকালকার ইয়াং রাইটাররা কেমন কী লিখছে। তো তার মধ্যে একটা বইয়ের নাম, ‘চক্রব্যূহে প্রখর রুদ্র’, দাম – ১৯৯ টাকা। নামটা দেখে বুঝতেই পারছেন, আমার একটু ইয়ে টাইপের হয়। আর তারপর বাড়ি এসে বইটার পিছনের কভারটা দেখেই….” লালমোহন বাবু তাঁর ব্যাগ থেকে একটা ছোট সাইজের পেপারব্যাক বই এগিয়ে দেন ফেলুদা’কে। ফেলুদা পিছনের কভারটা ভালো করে চোখ বুলিয়ে গম্ভীর স্বরে মন্তব্য করে, “আই সি।” তারপর বইটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, “তার মানে মিস্টার রুদ্র এক সময় দেশে ফিরে আসেন। আর তাই আপনাকে পোস্ট কার্ড পাঠানোও বন্ধ হয়। কিন্তু এখনও বুড়ো হাড়ে তিনি ভেলকি দেখিয়ে যাচ���ছেন এই কলকাতায়। আর সেই কাহিনী বলছেন নতুন প্রজন্মের লেখক শ্রীমান কৌশিক রায়, তাই তো?” লালমোহন বাবু উপরে নিচে মাথা নাড়েন, তারপর নাক মুখ কুঁচকে জোরদার একখানা হাঁচি দিয়ে বলেন, “বুঝতেই পারছেন, প্রখর রুদ্রের ব্যাটন অন্য কারো হাতে গেছে, এটা আমার প্রথমে ঠিক হজম হয়নি। তাই ওই পাবলিশার্স এর থেকে নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করি লেখকের সঙ্গে। ইচ্ছা ছিল বেশ দু’কথা শুনিয়ে দেব তাঁকে।” “সর্বনাশ! তারপর?”, বলে ফেলেন শ্রীমান তপেশ রঞ্জন মিত্র। লালমোহন বাবু আমার দিকে ফিরে ঠোঁট উল্টে জবাব দেন , “তবে কী জানো তপেশ, যে উদ্দেশ্যে ফোন করলুম, সেটা আদৌ পূরণ হলো না।” আমি রহস্যের গন্ধ পেয়ে বলে উঠি, “কেন? আদৌ কৌশিক রায় নামের কারো অস্তিত্বই নেই নাকি?” “আরে দূর, তা থাকবে না কেন? ভদ্রলোক আছেন, বহাল তবিয়তেই আছেন। তবে কড়া করে যেসব বলব ভেবেছিলুম, সেটা আর বলে উঠতে পারলুম না। ভদ্রলোক বড় অমায়িক। এত ভদ্র ভালো..” লালমোহন বাবুর এই এক সমস্যা। একই অর্থের বিশেষণ বেশ কয়েকটা একসাথে প্রয়োগ না করে তাঁর শান্তি নেই। ফেলুদা মুচকি হেসে বলে, “বুঝতে পারছি, নব্য লেখক পুরানো দিনের লেখককে শ্রদ্ধা ট্রদ্ধা বেশ ভালোই দেখিয়েছেন। তা বেশ ভালো কথা, কিন্তু বইটা নিয়ে এই সাতসকালে আমার কাছে চলে এলেন কেন?” “আজ্ঞে , পড়াতে।” ফেলুদা আজকাল ননফিকশন ছাড়া অন্য কিছু পড়ে না। রহস্য রোমাঞ্চ গল্প পড়ার প্রস্তাব শুনেই বিরক্ত হয়ে সোফা থেকে উঠে পড়ার উপক্রম করে। লালমোহন বাবু সেটা দেখেই আরেকবার শেষ চেষ্টা চালান। “আসলে ফেলুবাবু ওই কৌশিক বাবু আপনার কীর্তিকাহিনী বিলক্ষণ জানেন। আপনার কল্যাণেই যে আমার বইগুলোয় ভুল ভ্রান্তি শেষের দিকে কমে এসেছিল সেটার খোঁজও রাখেন। তাই তিনি তাঁর বই সম্পর্কে আপনার মতামতটাও জানতে চান। প্রয়োজনে আপনার থেকে তিনি নির্মম সমালোচনা আশা করেন। আমি আসলে সেজন্যেই…” শ্রীনাথ এমন সময় চা জলখাবার নিয়ে ঢোকে। ফেলুদা বইটা একবার উল্টেপাল্টে দেখে স্পেশাল দার্জিলিং চায়ের কাপটি হাতে তুলে মন্তব্য করে, “হুম, তার মানে তরুণ কৌশিক রায়ের হয়ে প্রস্তাবটা নিয়ে এসেছেন আপনি। তবে এসব চটকা থ্রিলার আজকাল আর আমার পোষায় না, সেটা তো আপনি ভালো মতোই জানেন, তবু বইটা আমি রাখছি। অন্তত রহস্য রোমাঞ্চের বেস্ট সেলার লেখক জটায়ুকে রাত জেগে একটা বই শেষ করতে হলো কেন, চেষ্টা করেও সে বইয়ের টান উপেক্ষা করা গেল না কেন, সেটা জানতেই বইটা আপনার ভাষায় কালটিভেট করতে হচ্ছেই।” লালমোহন বাবুর মুখের হাঁ-টা আর বন্ধ হচ্ছে না দেখে ফেলুদা তার মার্কা মারা একপেশে হাসিটা দিয়ে বলে, “চোখ লাল, ঢুলু ঢুলু ভাব। রোজ আট ঘণ্টা ঘুমাতে অভ্যস্ত, যে কোনো রকম নেশা থেকে শত হস্ত দূরে থাকা জটায়ুর সাতসকালে এই অবস্থা দেখে রাতে জেগে থাকার ব্যাপারটা আপনার প্রখর রুদ্রও বুঝে ফেলবে। আর যতদিন বুক মার্ক ইউজ না করে পৃষ্ঠা ভাঁজ করার বদভ্যাসটা ছাড়তে না পারেন, ততদিন কোনও বই পড়েছেন কিনা সেটা জানতে ফরেন্সিক সায়েন্সের প্রয়োজন হবে না।”
এই ঘটনার ঠিক দুদিনের মধ্যেই লালমোহন বাবু আজ আবার সন্ধ্যের একটু আগেই হাজির হলেন। তাঁর গড়পারের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে একটা নাকি নতুন মোমোর দোকান হয়েছে। অল্প দিনেই দোকানটার বেশ নাম ডাক হয়েছে। আজ তিনি সেখান থেকে মোমো কিনে এনেছেন। বললেন, “বয়স হচ্ছে মশাই। নিজের স্বাদগ্রন্থির উপর আর ভরসা রাখতে পারছি না। আপনারা খেয়ে দেখে ভালো না বললে ঠিক সিওর হতে পারছি না।”
মোমো দিয়ে সান্ধ্য জলযোগ সারতে সারতে আসল কথায় চলে এলেন লালমোহন বাবু। “কী বুঝলেন মশাই? এযুগের রায় সাহেব কি রুদ্র চরিত লিখে সাড়া ফেলতে পারবে?” ফেলুদার খাওয়ার পর্ব শেষ হয়ে গেছিল। হাত মুখ ধুয়ে এসে আয়েশ করে সোফায় বসে একটা সিগারেট ধরাল। তারপর বাম পায়ের উপর ডান পা-টা তুলে দিয়ে বলল, “তা আপনার মতটা আগে বলুন, তারপর না হয়…” “আমার তো একেবারে যাকে বলে এক্সট্রাসেলেন্ট লেগেছে।” বুঝতে পারলাম এক্সট্রা অর্ডিনারি আর এক্সেলেন্ট শব্দ দুটোকে ভদ্রলোক একসাথে মিশিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু সেটা আর শুধরে দেবার সুযোগ হলো না। কারণ এর মধ্যেই ফেলুদা বলতে শুরু করেছে, “কিছু মনে করবেন না লালমোহন বাবু, আপনি লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে ভালোই করেছেন। এত খাটনি আপনার পোষাত না।” লালমোহন বাবু যথারীতি ব্যাপারটা ধরতে পারলেন না। ফেলুদা এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলল, “আরে মশাই, এই কৌশিক রায় মারাত্মক রকম পড়াশোনা করে এ বই লিখেছেন। আপনার মত উটের পাকস্থলীতে জল জমাতে দেননি। ব্রিলিয়ান্ট। এমন ডেডিকেশন, রিসার্চ ওয়ার্ক নন ফিকশনেও আজকাল খুব বেশি চোখে পড়ে না। কোনো সন্দেহ নেই, প্রখর রুদ্র অন্তত ঠিকঠাক লোকের হাতেই পড়েছে।আপনি লেখককে বলে দেবেন, তাঁর ভবিষ্যৎ ভীষণ রকম উজ্বল।” ফেলুদা সচরাচর এত প্রশংসা কারোর সম্বন্ধেই করে না। কিন্তু বেশ বুঝতে পারছি এটা এক্সসেপশনাল কেস। ফেলুদার পড়ার পরে আমিও বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। শেষ না করে উঠতে পারিনি। অপরাধ বিজ্ঞান গুলে না খেলে এ জিনিস লিখতে পারা কোনোমতে সম্ভব নয়। লালমোহন বাবু এবার আরেকবার ফেলুদাকে ঠোক্কর দিলেন, “এ বই তাহলে একেবারে নিখুঁত বলছেন?” এবার ফেলুদাকে একটু গম্ভীর দেখালো। সোফা ছেড়ে উঠে জানালার কাছে গিয়ে সিগারেটের ফিল্টারটা ক্যারামের স্ট্রাইকারের মত ছুড়ে দিয়ে বলল, “লালমোহন বাবু, আমার স্রষ্টা স্বয়ং রায় সাহেবের লেখারও আজকাল খুঁত দেখতে পান অনেক অভিজ্ঞ সমালোচক। সে জায়গায় এই নবীন রায় বাবু তো কোন ছার!” এপর্যন্ত বলে ফেলুদা মুখ ফেরাল, তারপর মাস্টার মশাইয়ের ঢঙে বলতে শুরু করল, “কোনো সন্দেহ নেই ভদ্রলোক দারুণ রিসার্চ ওয়ার্ক করেই গপ্পগুলো লিখেছেন। কিন্তু মুশকিলটা হলো পাঠকদের এমন ভাবে এই জ্ঞানগুলো খাওয়াতে হয় যাতে তাদের মনে না হয় যে লেখক রহস্য রোমাঞ্চের গল্প বলতে গিয়ে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি পড়িয়ে ফেলছেন। এই জ্ঞানগুলো অতি সাবধানে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ঢোকাতে হয়, যাতে পাঠকগণ বিনা দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন কিন্তু পড়ার পর ভাবেন, বাহ, লেখকের তো দারুণ জ্ঞান এ বিষয়ে! কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এ বইয়ে লেখকের ‘দেখুন আমি কত গবেষণা করে লিখেছি’ মার্কা ব্যাপারটা মাঝে মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমন ধরুন - ” এই পর্যন্ত বলেই ফেলুদা আমাকে আদেশ দেয়, “তোপসে, বইয়ের ৬১ পৃষ্ঠার প্রথম প্যারাগ্রাফটা পড় তো।” আমি যথারীতি পড়ে গেলাম। এবার ফেলুদা আমাকে পরীক্ষা করে বলল, “বল তো কী অসঙ্গতি টের পেলি?” আমি মাথা চুলকে উত্তর দিলাম, “হ্যাঁ, মানে শেখর বাবু হুট করে অত রেগে গিয়ে আমি কি জানি না, ম্যাগনেটিক ডাস্ট টাস্ট নিয়ে অমুক তমুক বলার কোনো কারণই ছিল না…” ফেলুদা আমার পিঠে চাপড় দিয়ে বলল, “ব্র্যাভো তোপসে, তার মানে এটা তোর মত অসতর্ক রিডারেরও চোখে পড়ছে। এখানে শেখর বাবুর মুখে লেখক ওই কথাটা এজন্যেই বসিয়েছেন, যাতে করে লেখক এরপর ফিঙ্গারপ্রিন্টের বিভিন্ন প্রকারভেদের ব্যাপারটা গল্পের মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে আলোচনার ক্ষেত্রটা আরেকটু গ্রহণযোগ্য করে তোলাটা অবশ্যই উচিত ছিল। আবার ধর, ৪৩ পৃষ্ঠার প্রথম অনুচ্ছেদ, যেখানে একজন জিরো আইকিউ’র পাঠকও ইন্দ্রানীর কথা শুনে অপরাধী কে, সেটা পরিষ্কার বুঝতে পারবে, অথচ স্বয়ং ইন্দ্রানী, যে কিনা প্রখর রুদ্রের বেস্ট আই, সে কিছু বুঝতে পারছে না। গুলির গতিপথ থেকে অলরেডি জানা গেছে যে খুন করেছে তার উচ্চতা কত। ইন্দ্রানী এটা জানার পর তার জ্যেঠুমনির কাছে বলছে ‘ছেলেমেয়ে দুটোকে দেখে আমার খুব মায়া লাগছিল। মেয়েটা তো কথা বলতে বলতে আমায় জড়িয়ে ধরছিল। একরত্তি মেয়ে, আমার কোমর সমান। ছেলেটা আমার কাঁধের কাছাকাছি’। লক্ষ কর, ছেলেটার উচ্চতা আমার কাঁধ সমান এটা প্রায় জোর করে ইন্দ্রানীর মুখে বসানো হচ্ছে, তবু উচ্চতার ব্যাপারটা তার মাথায় স্ট্রাইক করতে দেওয়া হচ্ছে না। উল্টে এরপরে সে আবার বলছে, ‘আমার মন বলছে এটা মহিলার প্রাক্তন বা বর্তমান স্বামীই করেছে’, এই জায়গাটা অন্তত আমার ভীষণ রকম ইরিটেটিং লেগেছে।” “তারপর ধর”, আরেকটা চারমিনার ধরিয়ে ফেলুদা আবার বলতে শুরু করল, “যন্ত্র মন্ত্র তন্ত্র গল্পটায় পায়ের মাপ দেখে যেভাবে মানুষের উচ্চতা নির্ণয়ের চেষ্টা হয়েছে, সেটাও খুব একটা বিজ্ঞানসম্মত লাগেনি। আমাদের উপমহাদেশে অনেক বেঁটে বা মাঝারি উচ্চতার মানুষেরও দীর্�� পায়ের পাতা হামেশাই দেখা যায়। বরং ডান ও বাম পায়ের ছাপের মধ্যে দূরত্ব দেখে আততায়ীর উচ্চতা আন্দাজ করার চেষ্টা করা বেশি লজিক্যাল হতো। আফটার অল বেঁটে মানুষ ছোট পদক্ষেপে এবং লম্বা মানুষ বড় পদক্ষেপে হাঁটা চলা করবেন এটাই বেশি স্বাভাবিক। এছাড়া চাইলে বাকি গল্পগুলোরও ভুল ভ্রান্তি বের করা যায়। সিরিজের চতুর্থ গল্পটায় খুন করার পর দেহ খন্ড পাওয়া হচ্ছে ফিবোনিচি সিরিজে। সেক্ষেত্রে প্রথম দেহ খণ্ডের সংখ্যা এক, দ্বিতীয়টি দুই, তৃতীয় তিন, চতুর্থ দেহ পাঁচ খন্ড উদ্ধার হওয়া স্বাভাবিক ছিল, অথচ বাস্তবে চার নম্বরে পাওয়া গেল চার খণ্ডের মৃতদেহ। আর মুদ্রণ প্রমাদের কথা আর কী বলব, বিশেষ করে ‘কূপমন্ডুপ’ দেখে তো চমকে গেছিলাম। ব্যাঙ যদি ‘মণ্ডূক’ না হয়ে ‘মন্ডুপ’ হয়ে যায়, সেটা হজম করা বেশ কঠিন।” এতটা শোনার পর আমি বলে উঠলাম, “কিন্তু ফেলুদা, লেখক একেবারেই নতুন। আশা করা যায়…” আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে ফেলুদা বলল, “এক্সাক্টলি তোপসে, কিন্তু এটাও ভেবে দেখ, লালমোহন বাবু আজ নতুন যে দোকানটা থেকে মোমো কিনে আনলেন, সেটা তুই এখনও চেটে যাচ্ছিস। কিন্তু এর কোয়ালিটি যদি ডাউন হতো ও জিনিস কি উনি এ বাড়িতে আর কখনও নিয়ে আসতেন? নতুন লেখক বলেই তাঁর লেখার প্রতি আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। বারবার পড়া উচিৎ। লালমোহন বাবু, আপনি নিজে এত উদ্ভট তথ্য দিয়েও বেস্ট সেলার লেখক ছিলেন কেন সেটা জানেন তো? আসলে আপনি স্বাদু গদ্য লিখতে পারতেন। এই ব্যাপারটা রপ্ত করতে হবে লেখককে। আর আরো একটা কথা, শেষের আগের গল্পে যে সামান্য কোর্টরুম ড্রামা দেখানো হয়েছে, সেটাও যথেষ্ট রিয়ালিস্টিক না হয়ে বাংলা সিরিয়ালিস্টিক হয়ে গেছে। অন্তত পাবলিক প্রসিকিউটর কোর্টের মধ্যে ডিফেন্স কাউন্সিলরকে পার্সোনালি বিদ্রুপ করছেন, এ জাতীয় জিনিস না দেখালেই পারতেন। স্ট্যানলি গার্ডনার বা সান্যাল মশাইয়ের কাঁটা সিরিজ ভালো করে পড়লে ভবিষ্যতে আরো ভালো কোর্টরুম মিস্ট্রি কৌশিক বাবু উপহার দেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। তবে সব শেষে এটুকু না বললেই নয়, ভদ্রলোক আপনার প্রখর রুদ্রকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। ভবিষ্যতে রুদ্র ভার্সেস ডক্টর হাজরা দ্বৈরথ দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। লালমোহন বাবু, অন্তত এটা দেখে বেশ ভালো লাগছে, নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়ে গেছে। তারা বুঝিয়ে দিতে পারছে, লম্বা রেসের ঘোড়া হবার ক্ষমতা তাদের মধ্যেও আছে। কালের নিয়মে মগজাস্ত্র নির্ভর গোয়েন্দা কাহিনীতে না ঝুঁকে তারা যে নতুন কিছু করতে চাইছে, এটাই বেশি করে আমায় আনন্দ দিচ্ছে। আর হ্যাঁ, রহস্য ত্রিবেণীর বাকি দুটো বই, যেগুলো আপনার শান্তিনিকেতনী ঝোলা থেকে উঁকি মারছে, সে দুটোও দিয়ে যান। আশা করি সে দুটোও আমায় হতাশ করবেন না।” লালমোহন বাবু বিনা বাক্য ব্যয়ে বই দুটো ফেলুদার হাতে দিয়ে বললেন, “আপনাদের এথিনিয়াম ইনস্টিটিউশনের বৈকুণ্ঠ মল্লিককে মনে আছে তো? তিনি এ প্রসঙ্গে একটি চমৎকার টু লাইনার লিখেছিলেন। অক্ষরবৃত্তের কম্বিনেশনটা লক্ষ করো তপেশ - ” এই বলে উঠে দাঁড়িয়ে উদাত্ত কণ্ঠে আবৃত্তি করে উঠলেন, ‘কতজন আসে, কতজন যায়, কিছুজন শুধু রাখে ছাপ। কালজয়ী বাছে ভাবী মহাকাল উন্নাসিকতাই মহা পাপ।”’
(ফেলুদা অনুকরণের এই অক্ষম চেষ্টার জন্য আমি একান্ত ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। পাঠ প্রতিক্রিয়া'কে একটু আকর্ষণীয় ভাবে তুলে ধরাই ছিল আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।🙏)
মোটামুটি। উচ্ছ্বসিত হওয়ার মত কিছু না। টক্সিকোলজি নিয়ে বেশ কিছুটা আলোচনা আছে। একটা গল্প শরদিন্দু'র 'পথের কাঁটা' (যেটা সম্ভবত আবার ক্রিস্টির একটা গল্পের অনুকরণ) থেকে প্রায় হুবহু নিয়ে নেয়া হয়েছে। মরিয়ার্টির মত একটা চরিত্র সৃষ্টির প্রয়াস ছিল। এইতো।
ধরুন আপনি ‘ডিটেকটিভ গল্পের পোকা’, দেশ-বিদেশের সেরা সব গোয়েন্দা গল্প আপনার নখদর্পণে... এবার মনে করে বলুন তো, আপনি শেষ কবে এমন একটি ডিটেকটিভ গল্পের বই পড়েছেন যার মধ্যে ‘পুলিশের ইনভেস্টিগেশন প্রসেস’, ‘ফরেন্সিক সায়েন্স’ আর ‘নিখুঁত ডিডাকশন্ ক্ষমতা’ - এই সবকটি বিষয় সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে ?
আচ্ছা, শুধু কি গোয়েন্দাদেরই মগজাস্ত্র থাকে ? নাকি অপরাধকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতেও লাগে সমান গ্রে-ম্যাটার ?
📝 এই বইটি পরিবেশিত হয়েছে ১৫টি গল্পের একটি ‘গল্প-সংকলন’ হিসেবে... কিন্তু আমার মতে বইটি একটি আদ্যোপান্ত ডিটেকটিভ উপন্যাস, আর এক-একটি গল্প যেন উপন্যাসের এক-একটি অধ্যায় । কেন বলছি ??
▪️কারণ, বইটির প্রতিটি গল্পই প্লটের দিক থেকে ভীষনভাবে স্বতন্ত্র হয়েও একটি-অপরটির সাথে সুনিপুণভাবে যোগসূত্র স্থাপন করেছে । গল্পের পর গল্প এগিয়েছে... কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বারবার ফিরে এসেছে কিছু বিশেষ ‘চরিত্র’, আর পাঠক পড়তে পড়তেই অনুভব করতে পারবেন লেখক একটি চক্রব্যুহ তৈরি করে চলেছেন গল্পের আড়ালে । লেখককে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই কাহিনীর এইরকম অভিনবত্বের জন্য ।
📜 ‘প্রখর রুদ্র’ চরিত্রটি অসাধারণ... অল্পবয়সে অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ঘর ছেড়েছিলেন তিনি, এখন তিনি ‘কনসালট্যান্ট ডিটেকটিভ’, থাকেন তার ভাইয়ের সংসারে । তার ভাই ‘শেখর রুদ্র’ পুলিশের ডি.আই.জি । তার দুই যমজ ভাইঝির মধ্যে বড়টি (শিবানী) সম্প্রতি ক্রাইম ব্রাঞ্চে ইনস্পেক্টর হিসেবে জয়েন করেছে, ছোট ভাইঝি (ইন্দ্রানী) কিন্তু একদম জ্যেঠুর মতোই... এই চরিত্রটি ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রিয় চরিত্র । ‘প্রখর রুদ্র’র ভাইয়ের স্ত্রী ‘কুন্তলা রুদ্র’ একজন রিটায়ার্ড ক্রিমিনাল লইয়ার ।
▪️এই বইটিতে আমার অন্যতম ভালোলাগার বিষয়টি হলো গল্পের চরিত্রায়ন । বইয়ের নাম দেখে হয়তো ভাবতেই পারেন গল্পের মূল চরিত্র ‘প্রখর রুদ্র’... কিন্তু না, গল্পের মূল চরিত্র ঐ পরিবারের সবকটি সদস্যই... এক-একটি গল্পে এক-একজন নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন, পরের গল্পে আবার তাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন পরিবারের অন্য এক সদস্য । এই পরিবারে কেউ যে কারোর থেকে কোনো বিষয়ে কম যান না, সেটি লেখক ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন গোটা বই জুড়ে । চরিত্র গঠনে লেখক যে অসাধারণ মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন তা স্বীকার করতেই হয় ।
📝 বইটির একটি গল্পে ‘প্রখর রুদ্র’ বলেছেন - “দিন বদলাচ্ছে, সাথে ক্রাইমের ধরনও । তাই শুধু মগজাস্ত্রে ভর করে কেস সলভ্ করা ওই গল্পেই ভালো লাগে । বাস্তবে দরকার সঠিক ডেটা কালেকশন, তারপর অপরাধীকে শনাক্ত করা । তার জন্য বিজ্ঞানের অসাধারণ সব আবিষ্কার এসে গেছে, কিন্তু আমরা খরব রাখছি না ।”
📜 নির্দ্বিধায় বলতে পারি, সাম্প্রতিক কালে আপনি এইরকম ডিটেকটিভ বই পড়েননি । উপরে যে বিষয়গুলির কথা আলোচনা করেছি সেগুলি ছাড়াও আছে - অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং অপরাধ বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক সব তথ্য । পড়তে পড়তে বুঝবেন লেখক কি পরিমাণ পড়াশোনা করেছেন টক্সিকোলজি, হিউম্যান অ্যানটামি এবং ফরেন্সিক সায়েন্স নিয়ে ।
▪️এই বইটি আধুনিক ডিটেকটিভ গল্পের নিরিখে একটি অন্যতম সেরা বই, আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো ‘অবশ্যই পড়ুন’ ।
প্রখর রুদ্রকে তো চেনেন? ফেলুদা ভক্তরা অন্তত না চেনার কথা না। লালমোহন গাঙ্গুলী ওরফে জটায়ুর রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজের অতিমানবীয় নায়ক প্রখর রুদ্রের নাম ফেলুদার পাঠকরা তো জানেনই। তাকে নিয়ে সাহারায় শিহরণ, ভ্যাংকুভারে ভ্যাম্পায়ার কিংবা হন্ডুরাসে হাহাকার লিখে বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন লালমোহনবাবু। অবশ্য সেগুলোতে অতিকল্পনা ছিল আর লেখার নানা ভুল ত্রুটি নিয়মিত সংশোধন করে সেগুলোকে পাঠকের পাতে দেবার যোগ্য করে তুলতেন প্রদোষ মিত্তির। বইও বিক্রি হতো ভালোই, অনেকগুলো এডিশন তো বেরুতোই তা ছাড়া বেশ দু পয়সা কামাই করে লালমোহন বাবু তো একটা গাড়ি অব্দি কিনে ফেলেছিলেন।
যাই হোক লালমোহন বাবুর সেই সুপার হিরো প্রখর রুদ্রকে নিয়েই সিরিজ লিখে ফেলেছেন কৌশিক রায়। এই সিরিজের প্রখর রুদ্র অর্থাৎ লেখকের কল্পনায় সত্যিকারের একজন ব্যক্তি। ভবঘুরে আর উড়নচন্ডী প্রখর রুদ্র যৌবনে নানা জায়গায় নানা ধরণের কাজ করে বিস্তর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। সেগুলোই তিনি পোস্ট কার্ডে লিখে পাঠাতেন বন্ধু লালমোহন গাঙ্গুলীকে। সেগুলোর উপর আবার বিস্তর রঙ চড়িয়ে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতেন লালমোহন গাঙ্গুলী। সেই প্রখর রুদ্র প্রৌঢ় বয়সে কলকাতায় ফিরে এসেছেন। থাকছেন ছোট ভাই শেখর রুদ্রের বাসায়। নিজে অকৃতদার হলেও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কুন্তলা দেবী আর দুই যমজ মেয়ে শিবানী আর রুদ্রাণী রয়েছে বাসায়। শেখর রুদ্র কলকাতা পুলিশের ডিআইজি, কুন্তলা দেবী সাবেক ক্রিমিনাল লইয়ার হলেও এখন গৃহিণী। আর যমজ দুই বোনের মধ্যে বড় শিবানী লালবাজারেই পুলিশ অফিসার। ছোট ইন্দ্রাণীও কম যায় না অপরাধ অনুসন্ধানে আর এ বিষয়ে নিত্যনতুন কৌশল আর তথ্য সেও ভালো জানে মাঝেমধ্যে শখ করে অপরাধ তদন্তও করে।
প্রখর রুদ্র নিজে বাসা থেকে বেশি বের না হলেও কনসালটেন্ট ডিটেকটিভ হিসেবে ঘরেই আছেন দুজন ক্লায়েন্ট দুই পুলিশ শেখর রুদ্র আর শিবানী রুদ্র, নিজেরা কোথাও আটকে গেলে তাদের শেষ ভরসা ঐ প্রখর রুদ্রই। মজুরী হিসেবে অবশ্য প্রিয় ডার্ক চকোলেট পেলেই প্রখর রুদ্র খুশী। তাছাড়া অপরাধ সমাধানের সেই পুরোনো অভ্যাস যাবেটা কোথায়। যোগ্য সহকারী হিসেবে শিবানীর চেয়েও মেধাবী ইন্দ্রাণী তো আছেই হাতের কাছে।
এই বইয়ের ১৫টি গল্প, তবু বলতে গেলে যোগসূত্র আছে গল্পগুলোর মধ্যেও। পুরোটা নিয়েই যেন একটা ধারাবাহিক উপন্যাস। এতে জড়িয়ে আছে ক্ষুরধার মস্তিষ্কের ক্রাইম কনসালটেন্ট ডার্ক হর্স আর ডক্টর হাজরাও। প্রখর রুদ্রের উপর রয়েছে ডার্ক হর্সের পুরোনো রাগ, যার সাথে জড়িয়ে আছে প্রখর রুদ্রের বাবা মিনিস্ট্রি অফ হোম এফ্যায়ার্স এর আন্ডার সেক্রেটারি মৃণাল রুদ্র এমনকি হয়তো ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা রহস্যও। এই বইয়ের অপরাধীরাও গোয়েন্দাদের মতো সমান কৌশলী, সমান দক্ষ। যেন শার্লক হোমসের প্রফেসর মরিয়ার্টি। অপরাধীরাও হয়তো তাদের নিজেদের গল্পে নায়ক যেখানে গোয়েন্দা নিজেই খলনায়ক, শুধু দেখার প্রেক্ষিতটা আলাদা। অসংখ্য রাসায়নিক অস্ত্র, আধুনিক নানা অপরাধ শনাক্তের পরীক্ষার উল্লেখ আমার মতো স্বল্পজ্ঞানী পাঠকদের মাথার উপর দিয়েও যেতে পারে, তবে সেটা ধর্তব্য নয় বরং নতুন কিছু জানার একটা সুযোগ। তাছাড়া গল্পের গোয়েন্দাদের চিরায়ত ক্রাইম ডিটেকশন এবং অভ্রান্ত প্রমাণ নির্ভর অনুমান এখানেও আছে। তবে এই বইয়ে তো প্রখর রুদ্র চক্রব্যুহে পড়লেন, সেখান থেকে কিভাবে বের হলেন বা আদৌ বের হলেন কিনা সেটা এই বইয়ে নেই। সেই সিকুয়েল বের হয়েছে কিনা জানিনা তবে পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি হবেই এই বই পড়লে। সব মিলিয়ে একটানা পড়ে যাবার মতো একটি ক্রাইম থ্রিলার। পড়ের বই পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
প্রখর রুদ্র, ফেলুদার টিমমেট জটায়ুর অমর চরিত্র। প্রখর রুদ্রের প্রখরতার কথা ফেলুদার অভিযানের মাঝে অনেক শুনলেও তার পরিপূর্ণ অভিযান নিয়ে কিছুই জানি না আমরা। লেখক কৌশিক রায় এবার প্রখর রুদ্রের সেই অপূর্ণতা পূর্ন করতে এগিয়ে এলেন।
জটায়ুর প্রখর জেমস বন্ড টাইপ হলেও লেখকের প্রখর অবসরপ্রাপ্ত। ভাই এর পরিবারের সাথেই অবসর পালন করছেন এখন। আর মাঝে সাঝে পুলিসের ডিআইজি ভাই শেখর রুদ্র আর তার বড় কন্যা শিবানি, যিনি কিনা লালবাজারের গোয়েন্দা, তাদের কন্সালটেনসি করেন। বইটিতে প্রায় ১৫টি গল্প আছে। এগুলাকে গল্প না বলে আসলে অধ্যায় বলা যায়। প্রতিটা অধ্যায়ে একটা করে রহস্যের সমাধান হয়েছে। আর এসব অধ্যায়েই আবার একটু একটু করে প্লট তৈরী করে বড় একটা গ্যাঞ্জামের দিকে গল্প এগিয়ে গিয়েছে। এ বইয়ের প্রখর রুদ্রের সাথে শার্লক হোমসেরই বেশী মিল। পুলিসকে কন্সালটেন্সি করেই প্রখর রুদ্রের সময় কাটে।
গল্পগুলা সব ভালই লাগল। লেখকের টক্সিকোলজি নিয়ে ব্যাপক পড়াশুনা। আর অপরাধ বিজ্ঞানের টুকিটাকি নিয়েও ভালই পড়াশুনা আছে। সুতরাং প্রতিটা গল্পেই এসবের ভালই প্রতিফলন এসেছে। কাঠামো অনুযায়ী গল্পগুলা ভালভাবেই গঠন করা হয়েছে। পড়তে কষ্ট কম হলেও মাথা না ঘামিয়ে পড়তে পারবেন না। এত কিছু সত্ত্বেও কেন জানি আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে বলা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে একমাত্র বলতে পারি গল্পগুলা খুব ক্যাজুয়ালী লেখা। ভাষা সাহিত্যের বড় একটা অস্ত্র। প্লট ভাল না হলেও অনেক সময় লেখার গুণে অনেক গল্পই উৎরে যায়। এ বইয়ে সেটা পাইনি।
অসংখ্য বানান ভুল আর কিছু ক্রাইম থ্রিলার ওয়েবসিরিজের মিশেল। লেখনী খুব কেজো। ঘটনা পরম্পরা কে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে বিবৃত না করে দ্রুত গতিতে কথোপকথনের মাধ্যমে তার অবসান। ফরেন্সিক সাইন্স এর দিকগুলো ভালোভাবে রিসার্চ করা এবং সেগুলোর জন্যেই পড়া যায়। Plot যতই ভালো হোক, প্রেজেন্টেশন মনে লাগলো না। এত কিসের তাড়া লেখকের বুঝলাম না। যেকোন সাধারণ প্লট কে অসাধারন করা যায় লিখনশৈলি দিয়ে। সেখানে কোনো গল্পেই সেপথে হাঁটলেন না। অতৃপ্তি থেকে গেলো। বানানের সাথে বাক্য গঠনেও ভুল। আশাকরি পরবর্তী বইতে এগুলো শুধরে নেবেন।
বেশ ভালো লাগলো, খুব ই উপভোগ্য, গল্পের মধ্যে অনেক গল্পের কিংবা ওয়েব সিরিজের র ও ছায়া দেখতে পেয়েছি, সব মিলিয়ে দারুন লেগেছে। গল্পো গুলো বেশ ওয়েব সিরিজের এক একটা এপিসোড , আগু পিছু করা যাবে না।
প্লট বেশ ভালো, রহস্যভেদ প্রক্রিয়া ও। কিন্তু ভয়ানক রকমের মুদ্রণ প্রমাদ বড়ই খোঁচা দিল। আর তার সাথে অবাঙালি এক্সেন্টগুলি বড়ই শ্রুতিকটু। পঠন উপভোগ্য,কিন্তু সুখপাঠ্য হইলো না।
🍂📖বইয়ের নাম - চক্রব্যূহে প্রখর রুদ্র📖🍂 ✍️লেখক - কৌশিক রায় 📇প্রকাশক - বিভা 📑পৃষ্ঠা সংখ্যা -২৮৮
🎟️রহস্য ত্রিবেণী (১৫ টি গল্পের সংকলন)🎟️
🎀🍂দেশ দেখার নেশায় কম বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন প্রখর রুদ্র । বিচিত্র সেসব অভিজ্ঞতা । একই পাড়ার লালামোহন গাঙ্গুলির সাথে তাঁর ছিল গভীর সখ্যতা । তাই তো প্রখর রুদ্র তাঁর বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা পোস্টকার্ডে নিয়মিত লিখে জানাতেন লালমোহনবাবুকে । একা মানুষ লালমোহনবাবু সেসব অভিজ্ঞতায় নিজের কল্পনার রঙ মিশিয়ে ছোটদের জন্য লিখেছিলেন বেস্টসেলার রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ । বয়সকালে প্রখর রুদ্র ফিরে আসেন কলকাতায় , ভাইয়ের সংসারে । কিন্তু ফেলা আসা অতীত যে পিছু পিছু তাঁর জন্য কলকাতায় এসে ফাঁদ পেতেছে , তা কি তিনি জানতেন ! সব কবিতায় অন্ত্যমিল হয় না , আর সব নায়করা বাস্তবের মাটিতে জিতেও যায় না । তাই ছন্দে বাঁধুক ধন্দ মাকড়শার জালের মতই সুনিপুণ ফাঁদ , পেতে রাখে পুরানো আঘাত । ছিন্ন ভিন্ন ছিন্নমস্তায় কারা করেছে পাপ ? কালো ঘোড়া বুকে নিয়ে বাঁচে প্রতিশোধের উত্তাপ । চক্রব্যূহে চৈতন্য হয়ে যাবে খুন , প্রখর রুদ্রের বুড়ো হাড়ে ধরেছে কি ঘুণ ? কে বলল শুধু গোয়েন্দাদেরই মগজাস্ত্র থাকে ? অপরাধকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতেও লাগে সমান গ্রে ম্যাটার । অপরাধকে শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সিদ্ধহস্ত ‘ ডার্ক হস ’ – এক কনসালটেন্ট ক্রিমিনাল । - অপরাধ যখন গর্ববোধ ও যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যম হয়ে ওঠে তখন ... রচিত হচ্ছে রহস্যের এক চক্রব্যূহ .... এ - গল্প সাদাদের নয় ... এ - জম্মু কালোদের নয় ... এ - গল্প ধূসরদের ।🍂🎀
🍂🌼অনেক দিন আগে এই বই এর দুটি গল্প আমি Sunday suspense এ শুনে ছিলাম । তারপর থেকেই ইচ্ছে ছিলো বই টি পড়ার , অবশেষে পড়তে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। এক্ষেত্রে বলা ভালো প্রতি টি গল্প আমার দারুন লেগেছে, এবং প্রতিটি গল্পের মধ্যেই টানটান উত্তেজনা অনুভব করেছি। প্রতিটি গল্পের ক্ষেত্রেই থ্রিলটা সুন্দর ভাবে বজায় থাকার কারণে আমর খুব ভালো লেগেছে বইটি। লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি বই উপহার দেওয়ার জন্য।🌼🍂
📑ডিসেরগড়ে দিশেহারা 📑বৃন্দাবনে বিভীষণ 📑চিন্তাই - বাজ ছিনতাইবাজ 📑ছিন্নভিন্ন ছিন্নমস্তা 📑যন্ত্র মন্ত্র তন্ত্র 📑বিষবৃক্ষ 📑অতি চালাকের গলায় দড়ি 📑কালো ঘোড়া , লাল রক্ত 📑 ‘ জলে না যাইয়ো ' 📑প্রতীক - ই পরাজয় 📑উড়ন্ত মৃত্যু 📑নষ্ট ভ্রূণ 📑নামে কী আসে যায় 📑যারা পেল না আলো 📑চক্রব্যূহে চৈতন্য
নাম: চক্রব্যূহে প্রখর রুদ্র লেখক: কৌশিক রায় প্রকাশন: বিভা পাবলিকেশন
মানুষের জীবনে এমন একিছু মুহূর্ত আসে যখন তাদের কিছু ফেলে আসা অন্ধকার অতীত তাদের বর্তমান কে এক কালো চাদোরে ঢাকা দিয়ে যায়| কৌশিক রায় এর লেখা চক্রব্যূহে প্রখর রুদ্র তেও আমরা এরূপ একটি ঘটনার উল্লেখ পাই বা ইটাও বলা যে বইটির মূল অংশ টা এটিকে ঘিরে| আমরা জটায়ু বাবুর লেখাতেও অনেক সময় প্রখর রুদ্রর উল্লেখ পেয়েছি| সে যাই হোক এই বইটি তে ফেরা যাক| রুদ্র পরিবার কে ঘিরে লেখা হয়েছে বইটা| শেখার রুদ্র এবং শিবানী রুদ্র লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত| সেখারবাবুর স্ত্রী কুন্তলা দেবী একসময় পেশায় উকিল ছিলেন কিন্তু র দোস্ত গৃহস্তির মতো ওনার যমজ মেয়ে জন্মের পর উনিও তাদের বোরো করাতেই নিজের যোবন কাটিয়েছেন| ওনার দুই মেয়ের নাম শিবানী রুদ্র এবং ইন্দ্রানী রুদ্র| বাড়ির সবচে বোরো হচ্ছেন প্রখর রুদ্র, যিনি শেখার বাবুর দাদা| একসময় নানান জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, এরোমো সোনা যে ওনার কোনো এক বন্ধু ওনার বিভিন্ন ঘোড়ার অভিজ্ঞতটা কে পুথিবন্দক করে বেশ নাম কামিয়েছে| এখানে বলে রাখা ভালো প্রখর রুদ্রর একটি অতীত আছে| এ বিষয়ে ওনার বাড়ির কারুর কোনো ধারণা নেই কিন্তু একজন আছে যে সব জানে র অদৃশ্য ভাবে তাদের ওপর নজর রেখে যাচ্ছে| প্রখর বাবু সারাদিন তাই প্রায় বাড়িতে কাটান আর মাঝে মাঝে ওনার প্রিয় ভাইজিদের পুলিশ তদন্তে সাহায্য করে থাকে| বিভিন্ন তদন্ত করতে করতে "ডার্ক হর্স" নামক এক ব্যক্তির সন্ধান পায়ে যে অন্য লোকেদের পারফেক্ট ক্রাইম করার পদ্ধতি বলে দিচ্ছে, এক কোথায় উনি হচ্ছে কনসালটেন্ট ক্রিমিনাল| একদিন পুলিশ তদন্ত করতে করতে তাকে পুলিশ ধরে আর তখন শুরু হয়ে তার এক মর্মান্তিক খেলা| অবশেষে সে ইন্দ্রানী কে একটা রহস্যে মাতিয়ে রেখে বিদায় নেয় যাতে লুকিয়ে আছে প্রখর বাবুর অতীত| ইন্দ্রানী কি খুঁজে পাবে প্রখর বাবুর অতীত? কি হবে প্রখর বাবুর ভবিষ্যৎ?
খুব সুন্দর করে সাজিয়ে লেখা হয়েছে গল্প গুলো কে|প্রত্যেক টা চরিত্র কে লেখক খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে| র সবচে বেশি যেই জিনিস টা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সেটা হচ্ছে ভিবিন্ন রকমের ফরেনসিক টেস্টিং র ইন্সট্রুমেন্টস এর ব্যাখ্যা| একটা জিনিস যেটা খারাপ লেগেছে সেটা হচ্ছে পড়তে পড়তে অনেকবারই ভুল বানান চোখে পড়েছে| তবে সেই জিনিস তাকে যদি আমরা আড়ালে রাখতে পারি তবে বই টা আমার বিশন ভালো লেগেছে|
🤔 আপনি কি ডিটেক্টিভ গল্প সব গুলে খেয়ে ফেলেছেন? আপনি কি গল্প শেষ হওয়ার আগেই "বাঁহাতি লোক ডানহাতে রিভলবার নিয়ে সুইসাইড করতে পারে না, মানে অন্য কেউ খুন করেছে 🤔" ধরে ফেলেন? তাহলে আনন্দ সংবাদ এই বই আপনাকে খিল্লি করে লেখা। 🤣🤣 🌀 এই বই একদম আসল ফরেন্সিক science আর ডিটেক্টিভ work কে কেন্দ্র করে। এমন এমন সব ফরেন্সিক টার্ম ব্যবহার করেছেন যে আপনাকে বাধ্য হতে হবে এটা ভাবার জন্য যে এতদিন ধরে কি পড়ছিলাম? মানে জলে ধুয়ে দিলেও গ্লাসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে যায়, আর তা উদ্ধার করার প্রসেসও মার্কেটে এসে গেছে? বলে কি এরা? 🌀 Body language read করা, toxicology, human anatomy এই সেই কি নেই এই বইতে!!
🌇 একটা পরিবার তাতে সবাই বুদ্ধিমান, বাবা D.I.G এক মেয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের police. জ্যেঠু প্রখর রুদ্র, consultant detective, আর ছোট মেয়েটিও সেই ধাতের। এক একটা গল্প এক একজনকে কেন্দ্র করে। এটায় ছোট মেয়ে hero তো অন্যটায় বড় মেয়ে। শেষে মা'ও বাদ যায়নি। তিনিও নেমে পড়েছেন ডিটেক্টিভ work এ এবং নিজের মেধা প্রমাণ করেছেন রীতিমত। আর এতসব গল্পের আড়ালেই রচনা হতে থেকেছে আরও বড় এক চক্রব্যুহ রচনা। বিশাল সেই রহস্য।
🌀 যদিও এই বইয়ে সেই চক্রব্যুহে ঢোকা টুকু আছে, তবু সব কটা গল্পই ভয়ানক জমাটি। কেউ কোন উৎপটাং conjecture টানে না, একদম analytically এগোয়। শেষ অব্দি না পড়ে কিস্যু guess করতে পারবেন না। এখন অব্দি পড়া সেরা detective বই আমার এটা (Sherlock Holmes included)। মোট 15টা গল্প আছে, শেষ করতে দুদিনের বেশি লাগার কথা নয়। অবশ্যই পড়ুন (আমি জোর করছি পড়ার জন্য।)
চক্রব্যূহ থেকে প্রখর রুদ্রকে কিভাবে বের করা হবে বা তিনি নিজে বেরোবেন সেটা দেখার জন্য পরের পার্ট পড়তে হবে। 😅
রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ ও নতুন গোয়েন্দা চরিত্রের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কল্পনায় ভেসে থাকা এক গোয়েন্দা চরিত্রের অভিযান ও সমাধান রহস্য হঠাৎ করে হাতের নাগালে চলে এলে এক বাড়তি উৎসাহ তৈরী হয় বৈকি। এই একগুচ্ছ গোয়েন্দাকাহিনীকে হঠাৎ করে পাঠকের সামনে নিয়ে আসার মত অসম্ভব ও দুঃসাহসিক কাজটি করে দেখিয়েছেন লেখক কৌশিক রায় তাঁর এই 'প্রখর রুদ্র সিরিজ'-এর প্রথম বই 'চক্রবূহ্যে প্রখর রুদ্র'-তে। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট চরিত্র লালমোহন গাঙ্গুলী এবং সেই লালমোহন গাঙ্গুলীর সৃষ্ট চরিত্র হল এই প্রখর রুদ্র। সেই প্রখর রুদ্র-রই মোট ১৫টি গোয়েন্দাকাহিনী নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এই 'চক্রবূহ্যে প্রখর রুদ্র'। তবে আলাদা ১৫টি গোয়েন্দাকাহিনী হলেও প্রত্যেকটির মধ্যে একটি করে যোগসূত্র আছে, যা পাঠকের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। তবে আর পাঁচটা গোয়েন্দার থেক��� যে কারণে আলাদা হয়ে থাকবেন প্রখর রুদ্র, তা হল বয়স এবং ঘটনাস্থলে না গিয়েও তদন্ত করে ফেলার এক আশ্চর্য ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতাই যেন আরও বেশি করে শক্তিশালী করে তুলেছে এই 'প্রখর রুদ্র' চরিত্রটিকে। তবে এই সবকিছুর সাথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে লেখক কিন্তু নজর দিতে ভোলেননি, তা হল গল্পের পটভূমিকা। বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যেমন নজর দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্যের দিকে, তেমনই সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন রহস্য সমাধানের পদ্ধতি। সবমিলিয়ে লেখক কৌশিক রায়-এর 'প্রখর রুদ্র সিরিজ' একনিঃশ্বাসে শেষ না করে উঠতে পারবে না বাংলার রহস্যপ্রেমী পাঠকগণ।
বইটি সহজ ভাষায় লেখা। অনেক গুলি ছোট গল্পের সংকলন, তবে গল্প গুলি একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই লেখাগুলি সম্ভবত আগে ফেসবুকে লেখা হয়েছিলো। কোনও গল্পই মনে রাখার মতো নয় তবে লেখার টানে একবার পড়ে নেওয়া যায়।