বর্তমানের জেট গতির জীবনে সবচেয়ে দ্রুত অদৃশ্য হতে থাকা বস্তুটি কি বলতে পারেন?হাসি।এবং তার চেয়েও বিরলতম বস্তুটি হচ্ছে -হাসির গল্প।কিন্তু বাঙালির জীবনে হাসির গল্প এবং গল্পকারদের কি অভাব ছিল কখনো? সুকুমার রায়ের পাগলা দাশুর কীর্তি বা শিব্রাম চক্রবর্তীর অনন্য সৃষ্টি হর্ষবর্ধন গোবর্ধন বাঙালীকে ৩২ পাটির সফল প্রদর্শন করিয়ে ছেড়েছে। কিন্তু আজকাল? সত্যিই ভাবতে হয়।রহস্য আছে,প্রেম আছে,থ্রিলার আছে,হাসি কই?
এমনই হাস্যকৌতুক দুর্ভিক্ষের সময় চোখ পড়ল একটি বই এর উপর। 'চন্দ্রহাসের ষোলকলা' লেখকের নাম রসিক উপাধ্যায়। নামটা সত্যি বলতে বেশ উপাদেয় লাগল।কিন্তু কিন্তু করে দু চার পাতা উলটে বুঝলাম- এ মিত্র ক্যাফের ছানার পুডিং এর মতোই দুর্লভ এবং দেবভোগ্য।অতএব বসে পরলুম বই নিয়ে।পাতায় পাতায় কিম্ভুত ঘটনার কিমাকার বিবরণ, তার সাথে এমন সাহিত্যগুন,সত্যিই খুব তৃপ্তি করে পড়ছিলাম। এর পর যখন লেখক মশাইএর স্বহস্তে চিত্রিত কার্টুন গুলি দেখলাম, বুঝলাম 'cherry on the top' বোধহয় একেই বলে।
যাই হোক বই এর এত গুনগান যখন করছি, তার কিঞ্চিৎ পরিচয় দেওয়াও আবশ্যক মনে করি।
বই এর নাম চন্দ্রহাসের ষোলকলা হলেও এটি খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক কিছু নয় এটা আগেই বলে রাখি। যদিও লেখকের খাদ্যপ্রীতির পরিচয় লেখার ছত্রে ছত্রেই পাওয়া যায়। যাকগে গল্পে ফিরি।চন্দ্রহাস ভট্টশালী লেখক রসিক উপাধ্যায়ের প্রতিবেশী ও বন্ধু।এই চন্দ্রহাস ভট্টশালী এক অদ্ভুত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এবং তার ব্যক্তিত্বের আকর্ষন এমনই যে শনিগ্রহ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে সর্বক্ষণ তার পদানুসরণ করে।ফলত তিনি কখনও ষাঁড়ের গুঁতো খান,কখনও বউয়ের গুঁতো খান, কখনও বা তান্ত্রিকের গুঁতো খান।এবং এক যাত্রায় পৃথক ফল যেহেতু শাস্ত্রে মানা সেহেতু লেখক মশাইও তার আট আনা অংশীদার হন।এবং তারপর...নাহ্! আর বলা ঠিক হবে না।বাকিটা আপনারাই পড়ে নিন।
ওহো! বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।বইটিতে লেখকের রচিত কিছু কবিতাও আছে, যা সত্যিই গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
অতএব বাঙালী বিশ্বায়নের তালে পা মেলালেও শিকড় কে ভুলে যাবেন না। Stand up comedy তে অভ্যস্ত হয়ে হাসির গল্পকে ভুলে যাবেন না। আর হাসির গল্পকে মনে রাখতে হলে সংগ্রহের তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে -চন্দ্রহাসের ষোলকলা।