চিকিৎসাবিজ্ঞান আমাদের কাছে এক রহস্যময় বস্তু। যেহেতু তার অধীত বিষয় আমাদের শরীর ও মন, আমরা তার অনেককিছুই সহজবোধ্য বলে মনে করি। সেইজন্যই ডাক্তারের ফিজ থেকে শুরু করে নার্সিং হোমের ভিড়— এগুলো অপছন্দ হলে আমরা দারুণ রেগে যাই। আবার দেহযন্ত্র যখন কোনো মন্ত্রেই সাড়া দিতে চায় না, তখন আমরা এই পেশার মানুষদের শরণাগত হই, ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করি তাদের। তাই, একজন চিকিৎসক যখন নানা কেস-হিস্ট্রি আর উপলব্ধি জুড়ে আমাদের সামনে সাজিয়ে তোলেন কোনো আখ্যানমালা, সেটা পড়ার জন্য মনটাকে একেবারে খোলা রাখতে হয়। মেনে নিতেই হয়, এই জগতের যে নিজস্ব যুক্তিক্রম, তাতে 'দুয়ে দুয়ে চার' নাও হতে পারে। কী আছে এই বইয়ে? 'হায়রোগ্লিফের দেশে' ও 'স্ক্যালপেল'-এর মতো জনপ্রিয় বইয়ের লেখক ডক্টর অনির্বাণ ঘোষের ভূমিকার পর এখানে স্থান পেয়েছে: ১. নীল মানুষ ২. পেটে নয়, বুকে ৩. মহীনবাবুর রোগ ৪. হাত বেহাত ৫. সাপ আর লাঠি ৬. স্টেথোস্কোপ ৭. বিড়ি বারণ ৮. নাসিকা বিভ্রাট ৯. আমার চোখে আমি ১০. খগেনের ওষুধ ১১. সমুদ্রে আতঙ্ক ১২. এ কেমন কান্না ১৩. আলোর থেকে দূরে ১৪. খাই খাই ১৫. এরকমও হয় ১৬. ভুতুড়ে হাত ১৭. নিজের চোখে দেখা ১৮. মেয়ে ডাক্তার ১৯. নিয়তি ২০. পাথরেও ফোটে ফুল এই লেখাগুলোকে মোটামুটি চারটে অংশে ভাগ করা যায়, যথা~ ক) চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস খ) বিরক্তিকর রোগীদের সামলানোর অভিজ্ঞতা গ) বিরল ও দুরারোগ্য ব্যাধি তথা তার শিকারদের চিকিৎসার চেষ্টা ঘ) ভেতরে-ভেতরে মানুষকে ক্ষইয়ে ফেলা ভয়ের নানারূপ। এদের মধ্যে সবগুলোই কি একইরকম সুখপাঠ্য বা তথ্য ও তত্ত্বের প্রসাদগুণে সমৃদ্ধ? আজ্ঞে না। এদের মধ্যে সবগুলোই কি কোনো না কোনোভাবে আমাদের চেনা মানুষ বা তাঁদের অভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যায়? আজ্ঞে হ্যাঁ। তাই এই বই আমাদের পড়া দরকার। চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত মানুষদের কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা করতে হয়— সেটা বুঝতে সুবিধা হবে আমাদের। তাছাড়া, এই কেসহিস্ট্রি আর বিভিন্ন রোগীর আচরণ ও পরিণতি সম্বন্ধে জানলে হয়তো আমরা নিজেদেরও একটু ভালোভাবে চিনতে পারব। বইটা পেলে অবশ্যই পড়ুন।