ভূমিকা আমাদের চারপাশের চেনা জগৎ এবং চারপাশের বাইরে অচেনা জগৎ নিয়ে আমার নিজের কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। মাঝে মাঝে আমার অনিদ্রা রোগ হয়। বাসার সবাই ঘুমিয়ে থাকে আমি বারান্দায় বসে সিগারেটের পর সিগারেট টেনে হার্ট, ফুসফুসের যত রকম ক্ষতি করা সম্ভব ক্ষতি করতে থাকি। আর তখন অদ্ভুত সব চিন্তা-ভাবনা আসতে থাকে। মনে হতে থাকে- আমাদের এই শরীরের ভেতর আছে আরেকটি শরীর, আমাদের এই জগতের ভেতরে আছে আরেকটি জগৎ। সেই জগৎ সম্পর্কে লিখলে কেমন হয়? শূন্য নামের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার এই হল ‘শানে নজুল।’ শূন্য বইটিতে যুক্তির চেয়ে কল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার সময় লেখককে সচেতনভাবে কল্পনা পরিহার করে যুক্তিতে থাকার চেষ্টা করতে হয়। আমি কখনো তা পারি না। আমি শ্রদ্ধা করি- যুক্তি, কিন্তু ভালবাসি-কল্পনা। আর এটা তো জাগতিক সত্য ভালবাসার এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ভালবাসাই জয়ী হয়। আমার এই কল্পকাহিনী যদি পাঠক-পাঠিকাদের কিছুটা হলেও দ্বিতীয় জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে তাহলেই আমার অনিদ্র রোগে রাত জাগা সফল হবে। জয় হোক অনিদ্রার।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
গণিতের শিক্ষক মনসুর সাহেবের শিক্ষকতার বয়স ৩২ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কখনো কাউকে ধমক দিয়েছেন বলে মনে হয়না, অথচ কোন কোন এক অজানা কারণে ছাত্ররা তাকে যমের মত ভয় করে। ফিবোনাক্কি রাশিমালার প্রতি মনসুর সাহেবের তীব্র আকর্ষণ। বিখ্যাত গণিতবিদ লিওনার্দো ফিবোনাক্কির আবিষ্কৃত এই রাশিমালার প্রয়োগ প্রকৃতিতে অসংখ্য। সূর্যমুখী ফুলের পাঁপড়ির বিন্যাস, শামুকের স্পাইরেল, সামুদ্রিক কাঁকড়ার দ্বারা বালুতে তৈরি নকশা ইত্যাদি ফিবোনাক্কি রাশিমালা অনুসারে হয়।
তাই লিওনার্দো ফিবোনাক্কির মত তিনিও মনে করেন যে প্রকৃতির মূল সমস্যা লুকিয়ে আছে ফিবোনাক্কি রাশিমালায়। প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টির এক রাতে মগরা নদীর বাধ পেরুনোর সময় বজ্রপাতের শব্দে অজ্ঞান হয়ে যান মনসুর সাহেব। জ্ঞান ফিরলে পাশে দেখেন এক অপরিচিত যুবক, যে নিজেকে শূন্য জগতের বাসিন্দা বলে দাবী করছে। নামহীন এই যুবক মনসুর সাহেবের সুবিধার জন্য নিজের একটা নাম ঠিক করে দেয় – ফিবোনাক্কি। মনসুর সাহেব পুরো বিষয়টিকে নিজের উত্তপ্ত মস্তিস্কের কল্পনা ভেবে ফিবোনাক্কিকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বারবার এই রহস্যময় তরুণ তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে। তাঁর ভাষ্যমতে – মনসুর সাহেব ফিবোনাক্কি রাশিমালার অন্তরালে নিজস্ব একটি রাশিমালা নিয়ে কাজ করছেন, যে রাশিমালার ভিত্তি শূন্য।
শূন্য নিয়ে এই রাশিমালার কাজটা মনসুর সাহেবের দাদা এবং বাবাও শুরু করেছিনে, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেন নি। এবার মনসুর সাহেবের পালা, ফিবোনাক্কি এসেছে কাজটা শেষ করতে তাকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু আসলেই কি তাই??? নাকি দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতাহীন জগতের এই রহস্যময় তরুণের আগমনের পেছনে আছে কোন ভিন্ন ইতিহাস।
প্রচুর হুমায়ূন আহমেদ পড়ছি। এই উপন্যাসটা সুন্দর, অবশ্যই এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই। লেখকের চিন্তার প্যাটার্নে একটা নিজস্বতা আছে, মৌলিক গল্পের সৃজনশীলতা সহজ ভাষায় গুছিয়ে বলতে পারার সহজাত প্রতিভা নিয়ে তিনি জন্মেছিলেন। যত পড়ি, ভালো লাগে।
গণিতের শিক্ষক মনসুর সাহেব এক রহস্যময় রাশিমালা নিয়ে কাজ করছেন। তাকে সাহায্য করার জন্য এলো ফিবোনাক্কি নামের এক যুবক। আসলেই কি সে মনসুর সাহেবকে সাহায্য করতে চাইছে নাকি এই সাহায্য করতে চাওয়ার পিছনে রয়েছে অন্য কোন উদ্দেশ্য?
পাঠ প্রতিক্রিয়া: এক বসায় পড়ে ফেলার মতো ছোট্ট এবং চমৎকার একটি বই। হুমায়ূন আহমেদের সাই-ফাই গুলো পড়তে ভালো লাগে উনার ইউনিক চিন্তা-ভাবনার জন্য।
গণিত, এক বাস্তবতার পরিসরে বন্দি হয়েও অন্য এক বা একাধিক বাস্তবতার সন্ধান, আর খুব ছোটো ছোটো ব্যথা আর সুখ: এইসব নিয়েই লেখক আমাদের উপহার দিয়েছেন এই লেখাটি। পড়া শুরু করলে ছাড়া যায়না। চরিত্রগুলো রীতিমতো সামনে এসে হাঁকডাক দেয় বা রাগ, দুঃখ, বিরক্তি আর অভিমান ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু তবু, আমি তারাবাজির বেলায় কিপটেমি করলাম কারণ এই উপন্যাসটাও "শেষ হয়ে হইল না শেষ" হয়ে রয়ে গেল। মনটাই মাঝখান থেকে কেমন একটা হয়ে গেল।
পড়ি তখন ক্লাস সিক্সে।আমার পড়া হুমায়ূন আহমেদের প্রথম বই। বইয়ের ভূমিকায় লেখক লিখেছিলেন, 'জয় হোক অনিদ্রার'। এত কাঁচা বয়সে গল্পের শেষটুকু মেনে নেয়া আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল, শুরু হয় আমার অনিদ্রা। অনিদ্রার কথা বিবেচনা করলে বইটি লিখে লেখক যথেষ্টই সফল। কেউ কেউ মজা করে বলেন হুমায়ূন আহমেদ এই দেশের সব থেকে বড় ড্রাগ ডিলার, সেই অর্থে আমার ড্রাগ নেয়া শুরু 'শুন্য'র মাধ্যমে।
মনসুর সাহেব তার বত্রিশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এসে প্রথম নিয়মের ব্যতিক্রম করলেন। তিনি জটিল এক অংকের সমাধান খুঁজছেন। অংকের প্রতি তার আগ্রহ সীমাহীন। জগতের সবকিছুই তিনি অংকের চোখে দেখেন। সেরকমই একটি 'শূণ্য' জগতের সবকিছুই একদিন শূণ্য মিলাবে....
শূণ্য বইটি একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। তবে এখানে যুক্তির চেয়ে কল্পনাকে অধিক গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। মনসুর সাহেব নামক একজন অংকের স্কুল শিক্ষক রয়েছেন যিনি অল্প বয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করার পর সেই মেয়ে মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের একটা কমন বৈশিষ্ট্য গল্পের মূল চরিত্র হবে অনেকট অদ্ভুত তবে তার চারপাশে কিছু মানুষজন থাকবে যারা তাকে অবলীলায় বিনা কারণে অকৃত্রিম ভালোবেসে যাবেন। এ গল্পেও আছেন হেডমাস্টার,আজীজ বেপারী,বদরুল কিংবা হরমুজ। "শূন্য"র রহস্য ভেদ করা যায় না। শূণ্য থেকেই আসা মনসুর সাহেবের কল্পনা ফিবোনাক্কি নামক তরুণ একসময় তাকে শূণ্যেই বিলীন করে গেলেন। বইটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও সাধারণের মধ্যে সুন্দর, ছিমছাম একটা বই।
হুমায়ুন আহমেদের পড়া আমার প্রথম বই। খানিকটা অদ্ভুতভাবে শুরু হলেও গল্পটা যেন একবার পড়া শুরু করলে আর থামিয়ে রাখা যায়না। মনসুর সাহেবের সহজ সরল জীবনের প্রতি একটা ভালোবাসা জন্মে যায় ক্রমে। নিরলস একাকিত্বে ভরা মনসুর সাহেবের জীবনটাও যেন শূন্য, যা আপাত দৃষ্টিটে সহজেই অগ্রাহ্য করা গেলেও, উনার মানসেই রহস্যে ভরা। শুধু চাই সেই রহস্য চিনে নেয়ার মত প্রতিভা।গল্পের শেষটা পরে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। আমরা বুঝতে পারি অনেক না পাওয়া না চাওয়ার মধ্যেও মনসুর সাহেবের জীবনের শেষ মুহুর্তে অন্তত উনি কিছু পেয়ে গেলেন।
got bored at work and picked this book on a whim and wow. one of the most gripping bengali psychological thrillers i’ve ever read. the ending was brilliantly crafted and although it’s a short read, it leaves a lasting impact.
আজকে নিয়ে সম্ভবত আমার দশমবার পড়া হলো এই বইটা। ক্লাস সিক্স পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদের "বড়দের বই" পড়া আমার জন্য নিষেধ ছিলো। তাই ক্লাস সিক্সে ওঠার প্রথম দিনেই বপ্পির শেল্ফের একদম ডান কোণায় থাকা এই বইটি হাতে তুলে নিয়েছিলাম। এরপর আমার সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেলো, চিন্তাজগতে একটা ছোটখাটো ঝড় বয়ে গেলো। এতদিন পড়েছি মুহাম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন, যেখানে গৎবাঁধা অসম পৃথিবীর গল্প, হিউম্যানয়েডরা পৃথিবীর কর্তৃত্ব নিয়ে নিচ্ছে, এমন কাহিনী। সেখানে "শূন্য" বইটি আমাকে নতুন এক জগতের সন্ধান দিলো। আমার মনে হয়, ৬০ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট গল্পটিকে দুইভাবে দেখা যায়। প্রথমত, ফিবোনাক্কি আসলেই শূন্য জগত থেকে এসেছে, সে চায় না তার জগতের জীবন রহস্য মানুষেরা জেনে ফেলুক। আর অন্যভাবে দেখলে, মনসুর সাহেব একজন সিজোফ্রেনিক। ফিবোনাক্কি তার কল্পনা। তার ফ্যামিলি হিস্ট্রিও কিন্তু এই ব্যাখ্যাকে আরো জোরালো করে। বিজ্ঞানের ভাষায়, তার second person hallucination হচ্ছে, তিনি ডিলিউশনে ভুগছেন যে ফিবোনাক্কি তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, যেখানে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারেন একমাত্র তিনিই। বইটা আসলে একজন খুব নিঃসঙ্গ, দুঃখী, অসুস্থ মানুষের গল্প। শেষটুকু... এত অসাধারণ! চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। কিছু কিছু মানুষ কি কেবল কষ্ট পেতেই পৃথিবীতে আসে? কেন এমন হয়? কী অসাধারণ একটা বই! বাংলা সাহিত্যে এমন বই আছে...গর্ব করার মত বিষয়! হুমায়ূন আহমেদ, আপনি অসাধারণ। কেন এত আগে আগে চলে গেলেন?
This entire review has been hidden because of spoilers.
হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন যেমন হয় আর কি। হার্ডকোর ব্যাপার স্যাপার নাই। এক্সরে বিম বেশি পাস করে, বিজলী পড়ে মানুষজনের সুপারপাওয়ার চলে আসে। এখানেও সেরকম কিছু হয়। এটাও একদিক দিয়ে ভালো; সায়েন্স ফিকশশ তো আর স্পেস শীপ নিয়ে আর ইন্টার গ্যালাক্সি মারামারি নিয়েই হয় না । বেশ আগেই পড়ছিলাম। হিজিবিজি অনেক লেখা আছে। প্রথম দিকে কি নিয়ে লেখা কিছুই বোঝা যায় না। আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে। আবার জট পাকায়। এক পর্যায়ে মাঝঝঝি ঝিকররা শুরু করছিল। তবে ব্যাতিক্রমী প্রেক্ষাপটের জন্য বইটা উপভোগ করার মতো। 😊😊
হুমায়ূন আহমেদের আরেকটি চমৎকার সাই-ফাই নভেলা 'শূণ্য'। সাই ফাই বলতে আমরা যে রোবট নিয়ে ডিস্টোপিয়ান গল্পগুলা দেখি, হুমায়ূন আহমেদ বরাবরই তার বাইরে কিছু লিখেছেন। এই বইটাও সেই রকম। বর্তমান প্রেক্ষাপটেই একটা অন্য মাত্রার সম্ভাবনার গল্প 'শূণ্য'। পড়ে দেখতে পারেন৷ আমার মত মুগ্ধ না হলেও একদম খারাপ লাগবেনা।
One of the early science fiction book I read. Can't remember exact time but I know those books motivated me in many ways, kept my brain safe and sound.
সায়েন্স ফিকশন লেখার চেষ্টা করা হইছে ; ' ০' নিয়ে । কারো যদি ফিবোনাচ্চি সংখ্যা নিয়ে কোনো ধারনা না থেকে থাকে ; তবে হয়তো বইটি পড়ার পর ফিবোনাচ্চি ধারা নিয়ে কিছুটা আগ্রহ জন্মাবে ।
পৃথিবীতে এমন অনেককিছু রয়েছে যার সমাধান বা রহস্য জটিল কিন্তু মানুষ তাকে নিত্যদিন ব্যবহারের ফলে সামান্য একটা জিনিস বলে জ্ঞান করে। যেমন : শূন্য (০)। খালি চোখে এটা শুধুই একটি সংখ্যা। আচ্ছা, শূন্য কি আদৌ কোনো সংখ্যা? এই শূন্যের মধ্যে রয়েছে জটিল রহস্য কিন্তু মানুষ এটা নিয়ে চিন্তা করে না। অল্পকিছু মানুষ যারা চিন্তা করে, তারা এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছুতে পারে না।
গণিতে ফিবোনাক্কি নামে একটা রাশিমালা আছে। এই রাশিমালা নিয়ে এখন বড্ড ভাবেন মনসুর সাহেব। বয়স তার অনেক হয়েছে। এই বছর দুয়েক পর স্কুল থেকে অবসর নিবেন। সেদিন মনসুরের নিজের শরীরটা খুব একটা ভালো লাগছিল না। সকাল থেকেই চোখ দিয়ে একনাগাড়ে পানি বের হচ্ছে। ক্লাস নাইনের সেকশান বি-তে মনসুরের ক্লাস। ক্লাসে এসে গত বত্রিশ বছরের মধ্যে প্রথমবার রোল কল ছাড়াই তিনি ছাত্রদের পড়ানোতে মনোযোগ দেন। কিন্তু বিধিবাম, সকাল থেকে চোখ থেকে পানি পড়ার ব্যাপারটা এখনো বন্ধ হয়নি। বোর্ডে লিখতে পারছেন না তিনি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। শরীরটা বেশ খারাপ বোধ হয়। ছাত্রদের দিকে মুখ ফিরে বললেন, ‘আজকে আমি ক্লাস করাব না, শরীরটা একটু খারাপ।’ ছাত্ররা তবু বোর্ডের দিকেই তাকিয়ে আছে। মনসুর ভাবল, ছাত্ররা তাকে এত ভয় পায় কেন? অথচ তিনি কোনোদিন কোনো ছাত্রের গায়ে হাত তোলেননি! ছাত্ররা বিস্মিত দৃষ্টিতে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে আছে।
পরের ক্লাস পিরিয়ডে হেডমাস্টার এসে দেখেন মনসুর সাহেব চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে গিয়েছেন। অসুস্থ অসুস্থ লাগছে। হেডমাস্টার সাহেব মনসুরকে বাড়ি যেতে বললেন। সাথে প্রেশার মাপার কথা বলতেও ভুললেন না। মনসুর চলে যেতে হেডমাস্টার বোর্ডে গিয়ে দেখেন হিজিবিজি কীসব আঁকা। এমন জিনিস তিনি কখনো দেখেননি। ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে এগুলো মনসুর স্যারের কাজ।
স্কুল থেকে ফেরার পর মনসুর সাহেব বাজারে গেলেন সেদিন। পাঁচ দিস্তা কাগজ নেওয়ার সময় দোকানী বদরুল তার সাথে একটু ভালোই রসিকতা সেরে নিল। ফেরার পথে ডাক্তার বজলুরের চেম্বারে প্রেশার মাপতে গিয়ে দেখেন সেখানে গল্পের আসর বসেছে। তাই আর ঝামেলা না করে বাড়ির পথ ধরলেন। কিন্তু ফেরার পথে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। একটু দূরে দূরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আজেবাজে কীসব চিন্তা করছিলেন মনসুর সাহেব। এমন সময় তার ওপর বজ্রপাত হল। কীভাবে তা তিনি জানেন না, কিন্তু মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেলেন। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্যই বটে। বজ্রপাতে আহত হয়ে তিনি পড়ে আছেন রাস্তায়। এমন সময় এক যুবকের আবির্ভাব। যুবকটা বেশ রহস্যময়। তার দাবি সে শূন্য থেকে এসেছে। এরপ��� থেকে সেই যুবক মনসুর সাহেবের আশেপাশে থাকতে লাগে, সবসময়ই। মনসুর তার নাম দিয়েছেন ফিবোনাক্কি। ফিবোনাক্কির দাবি সে শূন্য জগৎ থেকে এসেছে মনসুরকে তার অঙ্ক সমাধানে সাহায্য করতে। আসলেই কি তাই? এই শূন্য জগৎটাই বা কী? কেনই বা সেই যুবক মনসুরকে সাহায্য করতে এল? এসব জানতে হলে যেতে হবে হুমায়ূন আহমেদের “শূন্য”-তে।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা সায়েন্স ফিকশন আগে পড়েছি কিনা মনে পড়ছে না। তবে পড়ে ���াকলেও নিঃসন্দেহে এই বইটা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা একটি উপন্যাসিকা। বইটিতে গণিতের বেশ কিছু ছোটোখাটো বিষয় গল্পচ্ছলে লেখক বলেছেন। যেহেতু বইটা কিশোর উপযোগী করে লেখা তাই অত্যন্ত সাবলীল আর সহজ। এমনিতেও হুমায়ূন আহমেদের লেখা সবসময়ই সাবলীল আর প্রাঞ্জল৷ গণিতের কিছু ইন্টারেস্টিং ব্যাপার আর ফ্যাক্ট লেখক তুলে ধরেছেন। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা তা হলো শূন্য নিয়ে কিংবা গণিতের কিছু বিষয় ভাবার একটা প্রয়াস আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। গণিত যে একটা ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট ভাবনা চিন্তা করার জন্য, তা তুলে ধরেছেন।
সাধারণত এমন ছোট কলেবরের বইয়ে চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তোলা কষ্টসাধ্য হয়। সবগুলো তো নয়ই, মূল চরিত্রগুলোকেই ঠিকঠাক সাজানো যায় না। সেই জায়গায় হুমায়ূন আহমেদ এই গল্পের সবগুলো চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের ব্যক্তিত্ব, আবেগ, কর্মকাণ্ড ফুটিয়ে তুলেছেন। এমন না যে প্রত্যেকটা চরিত্র নিয়ে আলাদা কাজ করেছেন তিনি, তবুও গল্পের মধ্যেই অসাধারণভাবে চরিত্রায়নের কাজটা আঞ্জাম দিয়েছেন। উপন্যাসিকাটিতে কিছু জায়গায় হাসির খোরাকও রয়েছে। মনসুরের জায়গা বেজায়গায় প্রাইম নাম্বার, ফিবোনাক্কি নিয়ে চিন্তাভাবনা, বদরুলের ঠাট্টা, রসিকতা, ফিবোনাক্কির অহেতুক কিছু কথাবার্তা, এসবকিছুতে হাসির খোরাক পেয়েছি। সবাই পাবে কিনা জানিনা, তবে আমি পেয়েছি। গণিত নিয়ে এমন সায়েন্স ফিকশন যে আদৌ লেখা সম্ভব তা হয়তো এই বই না পড়লে বুঝতাম না। কত সুন্দর আর সহজে পুরো গল্পটাকে সাজিয়েছেন।
হুমায়ূন আহমেদের অন্যান্য বইগুলোর মতো তার লেখা সাই ফাই বইগুলোও আলোচনা ডিজার্ভ করে। সাধারণত এখনকার নতুন পাঠকরা তাকে সাই-ফাই এর লেখক বলে জানেই না। অথচ হুমায়ূন আহমেদ মিসির আলী, হিমু, বাঁকের ভাইয়ের বাইরে দারুণ সব সাই ফাইও লিখে গিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে তার লেখা “শূন্য” বইটার মতো মৌলিক সাই-ফাই আর আছে কিনা কে জানে।
পরিশেষে, আমরা এসেছি শূন্য থেকেই। এই শূন্যের মাঝেই আবার আমাদের বিদায় হবে। শূন্য একটা রহস্যময় সংখ্যা। ওহ্ আচ্ছা, শূন্য কি আদৌ কোনো সংখ্যা? কি জানি! আমি আমার গণিতে দূর্বল।
বই : শূন্য || লেখক : হুমায়ূন আহমেদ || পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৬২
I think my very first science-fiction novel was Dr. Humayun Ahmed's "অনন্ত নক্ষত্রবীথি" (The Endless Galaxies), at the age of 10 (that book was by no means written for a 10 year old), that just left me in awe!
I don't think anyone has translated it into English as yet, and I wish someone did, or maybe someday I will do so myself!
I wanted to gift a few Bangladeshi contemporary author works to my close people in Spain, and among HA's works I found "Zero". Since I always read and make sure the translation is okay for a foreigner or the book is what someone I have in mind would like, I was reading this again. There is no info on the translator himself, but Asifur Rahman seemed to do justice to HA's signature short, easy sentence style, and that somehow kept the essence of the original book.
Now "Zero" as a sci-fi is nowhere near my favourite Ononto Nokhkhotrobithi, but it deals with a solitary mathematics professor and his fascination with the Fibonacci Series, which is actually one of my very own favourite series in the realm of mathematics. And it was refreshing to review the story.
গণিতের শিক্ষক মনসুর সাহেবের ফিবোনাক্কি রাশিমালার প্রতি তীব্র আকর্ষণ। বিখ্যাত গণিতবিদ লিওনার্দো ফিবোনাক্কির আবিষ্কৃত এই রাশিমালার প্রয়োগ প্রকৃতিতে অসংখ্য। সূর্যমুখী ফুলের পাঁপড়ির বিন্যাস, শামুকের স্পাইরেল, সামুদ্রিক কাঁকড়ার দ্বারা বালুতে তৈরি নকশা ইত্যাদি ফিবোনাক্কি রাশিমালা অনুসারে হয়। তাই লিওনার্দো ফিবোনাক্কির মত তিনিও মনে করেন যে প্রকৃতির মূল সমস্যা লুকিয়ে আছে ফিবোনাক্কি রাশিমালায়।এক অপরিচিত ছেলে তার কাছে নিজেকে শূন্য জগতের বাসিন্দা বলে দাবী করে।তিনি যুবকের নাম দেন ফিবোনাক্কি।বিষয়টিকে নিজের উত্তপ্ত মস্তিস্কের কল্পনা ভেবে ফিবোনাক্কিকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেন।মনসুর সাহেব ফিবোনাক্কি রাশিমালার অন্তরালে নিজস্ব একটি রাশিমালা নিয়ে কাজ করছেন, যে রাশিমালার ভিত্তি শূন্য।যা দাদা এবং বাবাও শুরু করেলেও শেষ করতে পারেনি।মনসুর সাহেবের একই পরিণতি হয়।নিজেকে সাহায্যকারী বললেও ফিবোনাক্কিকে মুলত তার জগতের মানুষের পাঠিয়েছে মনসুর সাহেবের কাজ নষ্ট করতে তারা চায় না কোনো মানুষ তাদের জগতে হস্তক্ষেপ করুক।
‘শূণ্য’ সংখ্যাটা খুবই রহস্যময়। এটা বাকি নয়টা অঙ্কের মতো না। আমরা জানি, কোনো সংখ্যার সাথে ০ যোগ অথবা বিয়োগ- যাই করা হোক না কেন, ফলাফল অপরিবর্তিত থাকে। আমরা আরও জানি, যেকোনো সংখ্যাকে ঐ সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে তার ভাগফল হয় ১। কিন্তু ০ কে ০ দ্বারা ভাগ করলে সেটা অনির্ণেয়! আবার কোনো সংখ্যাকে অন্য কোনো সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে তার একটা ভাগফল পাওয়া যায়। কিন্তু ০ কে যেকোনো সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা হোক না কেন ভাগফল সর্বদা ০-ই হয়। আবার যত বড় সংখ্যাই হোক না কেন তাকে ০ দ্বারা গুণ হলে গুণফল হয় শূণ্য। আবার কোনো সংখ্যাকে ০ দ্বারা ভাগ করা হলে ভাগফল হয়ে যায় অসীম....ব্লা...ব্লা...ব্লা...কত্ত কিছু!!!
হুমায়ুন আহমেদের এই বইটি শূণ্য নিয়ে লেখা কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়; বরং একটা সায়েন্স ফিকশন। তবে কাহিনীটা এর পাঠককে ‘শূণ্য’ নিয়ে ভাবাবে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যার কোনো অস্তিত্ব নেই সেটাই হচ্ছে ‘শূণ্য’। আসলেই কি তাই? আচ্ছা, যদি শূণ্যের কোনো স্বতন্ত্র জগৎ থাকে? থাকাটা কি অসম্ভব কোনো কিছু? মনসুর সাহেব সেই শূণ্যের আদ্যোপান্ত বের করার কাজে নেমেছিলেন। তিনি সফল হয়েছিলেন বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই শূণ্যের কাছেই তাকে জীবনযুদ্ধে হার মানতে হলো। আর তার সাথে সাথে হারিয়ে গেল তার কর্ম, যাতে তিনি শূণ্যের রহস্যের উৎঘাটন করেছিলেন।
কাহিনীটা পড়ে ভালো লাগল। কিন্তু একটা জায়গায় হিসাব মেলাতে পারছি না। সেদিন ঘুমানোর পর মনসুর সাহেবের ঘুম ভাঙলো পরের দিন সকাল ৯টায়। আর ফিবোনাক্কির ভাষ্যমতে মনসুর সাহেব ২৫ঘন্টা ২০মিনিট ৪০সেকেণ্ড ঘুমিয়ে ছিলেন। তাহলে হিসাব অনুযায়ী মনসুর সাহেব ঘুমাতে গিয়েছিলেন আগের দিন সকাল ৭টা ৪০মিনিটের আশেপাশে। কিন্তু তিনি তো আসলে ঘুমাতে গিয়েছিলেন সেদিন রাতের ঘটনার পর, সকালে তো না! ব্যাপারটা আমার মাথায় ধরছে না। কেউ বুঝতে পারলে আমাকে একটু বুঝিয়ে দিয়েন তো!
মনসুর সাহেব স্কুলের অংকের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তার গণিতের প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা বিশেষ করে ফিবোনাচ্চি রাশিমালার প্রতি। ফিবোনাচ্চি রাশিমালার মতো তিনি নিজেও একটা রাশিমলার সমাধান করার চেষ্টা করেন যেটা মূলত শূন্যকে নিয়ে। এমন সময় তার সাথে দেখা হয় একজন রহস্যময় ছেলের সাথে যে নিজেকে "শূন্য মাত্রার প্রাণী" দাবি করে এবং সে তাকে তার শূন্যের রাশিমালার যে সমাধান করতে চাচ্ছেন সেখানে সাহায্য করতে এসেছে। ছেলে কি আসলেই শূন্য মাত্রার কেউ নাকি মনসুর সাহেবের কল্পনা এবং তার আসার আসল উদ্দেশ্যই বা কি? গল্পটা অনেক ছোট। হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্টাইলে একটা জিনিস খেয়াল করা যায় যে তিনি গল্পের শেষে একটা অপূর্ণতা রেখে যান এখানেও কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। এখানে শূন্য মাত্রার কনসেপ্টটা বেশ নতুন মনে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বইটা বেশ ভালো লেগেছে।
এই বইয়ে লেখক জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা করেছেন এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিতে। তিনি গণিতের সাহায্যে আমাদের অস্তিত্ব ও সত্তার গভীরতা অন্বেষণ করেছেন। যেমন: যদি শূন্যকে শূন্য দিয়ে গুণ করি, ফলাফল আসবে শূন্য। ঠিক তেমনই, আমরা যদি আমাদের শরীরকে ভাঙতে থাকি—শরীর → অণু → পরমাণু → প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন—সবশেষে আমরা কোথায় পৌঁছাবো?
লেখকের মতে, এত বিশ্লেষণের পরও আমরা হয়তো পৌঁছাই শূন্যতে। অর্থাৎ, সব কিছুর গভীরে হয়তো রয়েছে এক রহস্যময় শূন্যতা, যাকে তিনি জীবন ও অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন। তাই বইটির নামও যথার্থভাবে "শূন্য"।
গতানুগতিক সায়েন্স ফিক্শন থেকে কিছুটা আলাদা আবার একেবারেই আলাদা করা যাবে না।
ফিবোনাক্কি রাশিমালা নিয়ে চমৎকার কিছু তথ্য আছে।
বইটিতে মূল চরিত্রটিকে অন্য একটি চরিত্র প্রথম থেকেই রসিকতা করতে থাকে। একদম শেষে মূল চরিত্র রসিকতাকারী ব্যক্তিটিকে কিছু কথা বলে যা শুনে ওই ব্যক্তি থ হয়ে যায়। এই ছোট্ট জায়গাটুকু আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে।
ভালো কথা, হুমায়ুন আহমেদ স্যারের বই ভালো না হয়ে কি উপায় আছে !!
মনসুর সাহেব অংকের শিক্ষক। একদিন তার চোখ দিয়ে হঠাৎ পানি পড়া শুরু করলো। তার পরিচয় হয় এক অচেনা যুবক এর সাথে যে মনসুর সাহেবকে সাহায্য করতে চায় তার করা সূত্রের উপর। আসলে সেই অচেনা যুবক শুণ্য থেকে এসেছে। এবং সে এসেছে যাতে মনসুর সাহেব তাদের শূণ্য জগত এর সূত্র বের করতে না পারে। সে সাহায্য করতে আসেনি। সে এসেছিলো মনসুর সাহেবকে আটকাতে কারণ মনসুর সাহেব অনেক কাছে চলে গিয়েছিলো তাদের জগত এর।
ফিবোনাক্কি, শূণ্য ও তার জগৎ এবং সে জগতের এক যুবক বাসিন্দা এবং একজন গণিত শিক্ষককে ঘিরে এগিয়েছে কাহিনীর গতি। মাঝে মাঝে কিছু হাস্যরসাত্মক আলাপচারিকা লেখকের লেখার এক অনন্যতা। প্রতিটি চরিত্র ও তাদের বৈশিষ্ট্য গুলো সুনিপুণ ভাবে করা। তবে খুব বেশি বৈজ্ঞানিক তাত্ত্বিক আলোচনায় না গিয়ে লেখক কল্পনাতেই বেশি জোর দিয়েছেন এই গল্পে!
বেশ ভালো একটা গল্প! আর সবথেকে ভালো হলো গল্পের এন্ডিং টা, যেটা সচরাচর হুমায়ুন আহমেদ এর গল্পে কমই দেখা যায়।
এবার আসি গল্পে। সুপারন্যাচারাল বিষয় গুলো আমার কাছে মনসুর সাহেবের অসুস্থতাজনিত ভ্রম ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। আমি অন্তত সেভাবেই গল্পটার কনক্লুশন টেনেছি। সাই-ফাই ওয়ালা সায়েন্স ফিকশন না হলেও গল্পের জন্য ৪ তারা।
শূন্যঃ কিছু লেখা পড়লে মন অসম্ভব খারাপ হয়, এইরকম একটি বই শূন্য। ফিবোনাক্কি সিরিজ নিয়ে লিখা, এই সিরিজটা যারা অংক/গণিত পছন্দ করে তাদের প্রিয় ও অদ্ভুত একটি সিরিজ। রহস্যময় এই সিরিজ ও একটি তিন পুরুষের গণিতজ্ঞ নিয়ে গল্প এগিয়েছে। সায়েন্স ফিকশন ধরণের লিখা।