Jump to ratings and reviews
Rate this book

শহীদুল জহির গল্পসমগ্র

Rate this book
অনেকে বলতে চান, জাদুবাস্তবতার রচনাভঙ্গি গ্রহণ করে স্বতন্ত্রভাবে লেখক হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার মানসেই তিনি লেখক-নাম শহীদুল হক থেকে শহীদুল জহিরে বদল করেছিলেন। উত্তর-আধুনিক প্রগতিবাদী লেখক হিসেবেও শহীদুল জহিরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শহীদুল জহির তাঁর রচিত সাহিত্যে ভাষা ব্যবহারে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করেছেন, হয়তো সফলও হয়েছেন। সাধারণভাবে বলা যায়, তিনি নিম্নবর্গের মানুষের মুখের অকৃত্রিম ভাষাকে পুঁজি হিসেবে নিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যজগতের ব্যতিক্রমী স্রষ্টা শহীদুল জহির অকালপ্রয়াত। বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশকে সৃজনশীল সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর আগমন ঘটেছিল। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সৃষ্টি আমৃত্যু (২০০৮) বহমান ছিল। তাঁর সৃষ্টির পরিমাণগত দিক খুব বেশি না হলেও গুণগত দিক অসাধারণ। অসাধারণত্বের বিষয়টি নানা দিক থেকে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ঘটনার বহুরৈখিক বর্ণনা, বুননশৈলী, শেকড়স্পর্শী অনুসন্ধান, প্রতিটি বিষয় সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে উপলব্ধিপূর্বক তা সুসংগঠিত করা, পূর্ণাঙ্গতা—এ সবই তাঁর সৃষ্টিকে বিশিষ্ট করে তুলেছে।
অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সংরক্ষণ এবং সংগ্রহের অভাবে অনেক সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম কালের অতল গহবরে তলিয়ে যায়। এ বিষয়টি অনুধাবন করে শহীদুল জহির স্মৃতি পরিষদ ও পাঠক সমাবেশ যৌথভাবে শহীদুল জহির সমগ্র প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
২০১৩ সালে প্রকাশিত শহীদুল জহির সমগ্রটি অপ্রত্যাশিত পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে এবং সংস্করণটি দ্রুতই নিঃশেষ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে শহীদুল জহিরের বেশ কিছু অগ্রন্থিত অপ্রকাশিত গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য লেখার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে প্রাপ্ত এই লেখাগুলি একটি অখণ্ড ‘সমগ্র’র মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলে অতিরিক্ত ভারী হয়ে যায়। তাছাড়া, সকল পাঠক উপন্যাস ও গল্প—দুটি বিষয় একত্রে সংগ্রহ করতে না-ও চাইতে পারেন। এই বিবেচনায় পাঠকের পছন্দ, ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে কেনার সুবিধার্থে নতুন সংযোজনসহ শহীদুল জহির রচনা সমগ্র তিনটি পৃথক খণ্ডে, যথা—শহীদুল জহির উপন্যাস সমগ্র, শহীদুল জহির গল্প সমগ্র এবং অপ্রকাশিত অগ্রন্থিত শহীদুল জহির প্রকাশ করা হলো।

451 pages, Paperback

Published February 1, 2019

14 people are currently reading
68 people want to read

About the author

Shahidul Jahir

18 books174 followers
Shahidul Jahir (also spelled Zahir) was a Bangladeshi novelist and short story writer. He was reputed for extraordinary prose style and diciton and considered a genuine founder of post-modern fiction in Bangla literature.

Born in Dhaka, Bangladesh in 1953 as Shahidul Huq, he joined the Bangladesh Civil Service in the Administrative cadre in 1981. In 2008, he was appointed as a Secretary in Charge of Ministry of CHT affairs to the Government of Bangladesh. A confirmed bachelor, he lived a quiet and a very simple life. Hardly he agreed for a formal interview for publication.

Shahidul Jahir was one of the most important contemporary writers in Bangladesh. He became interested in magic realism after reading Marquez's works. He was known to some people as the Márquez of Bangladesh, carrying on the legacy of magic-realism with strokes of his own unique surrealist style, deeply imbibing the politics, history and culture of Bangladesh, his own country home in Sirajganj and his place of birth. However, his style also reminds of Syed Waliullah, a modern Bangla fiction author of Western lineage. But he had his own style of labyrinthine narration that would lead his readers to a maze. He relied more on narration than dialogue between characters. His diction was symbolic and mystified. He resorted to colloquialism in order to infuse reality into the context and story-line. The name of his last published story was, "Miracle of Life". Here is an excerpt (translated from Bangla) from his swan song:

"An adolescent girl, or a young girl, or who is just a gal...whatever, what do we do with her? She can have a name, since she is a human being, and human beings do have names, so her name could be Pari, Banu, or Ayesha... ...If she stands at the edge of the dirty drains, standing inside her home, as broke as the ragged nest of a magpie (babui), her mother runs around...her mother goes around cooking for others, she cooks rice, she cooks curries,she makes chapatis, there are people who swallow them, or maybe they rebuke her, What the hell have you cooked,woman!... ...Perhaps at that moment, Pari or Pari Banu, is standing at the rail ways of Dayaganj or Shamibag, holding the hands of her little sister or brother, and their father runs around, he too goes to places, maybe he does things, pulls someone else's rickshaw, pushes someone else's cart, or maybe he does nothing, he just lies down on his bed and suffers from piles. Then, what do we do with this Pari? The leader, or the official of this republic, the officers, or the civil society - none of them know...We have no idea what to do with her..."


In his writing career spreading over more than two decades, Jahir published only three novels and three collections of short stories. Two collections of his selected novels and short stories were published in 2007.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
27 (71%)
4 stars
10 (26%)
3 stars
1 (2%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Akash Saha.
156 reviews26 followers
October 31, 2023
ছোটগল্পের বইয়ের কি কখনো রিভিউ দেয়া সম্ভব? - অন্য লেখকদের ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও শহীদুল জহির এর ব্যতিক্রম। লেখকের ছোটগল্পগুলো জীবনের ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে- সাধারণ মানুষের বাচনভঙ্গিতে। কখনোবা খানিক ক্লান্তি আসে দীর্ঘ বাক্যতে, কিন্তু শেষে চমকে উঠতে হয় তার জীবনকে দেখার দৃষ্টি অথবা গল্পের প্লটের জন্য। অনেক সময় গল্পের সুতো ধরতে বারবার পড়তে হয়, ফিরে যেতে হয় আগের লাইনে, আগের পৃষ্ঠার সাদাকালো গোলকধাঁধায় । লেখকের ন্যারেটিভ সামান্য জটিল, ক্রমাগত দীর্ঘ বাক্য পাঠককে বিভ্রান্ত করে। এইজন্যই সম্ভবত শহীদুল জহির খানিকটা অপরিচিত লেখকদের কাতারে থেকে যান, সাধারন পাঠকরা তাকে আবিষ্কার করতে অনেক সময় সাহস পান না। কিন্তু শহীদুল জহিরের প্রতিটি গল্প, প্রতিটি উপন্যাস অনেক দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও আলোচনা দাবি রাখে। একটু সময় নিয়ে, গল্পের গভীরে যেতে পারলে পাঠকরা আছন্ন হয়ে পড়েন শহীদুল জহিরের জাদুকরী লেখনীতে।

বইয়ের নাম: শহীদুল জহির গল্পসমগ্র
প্রকাশনী : পাঠক সমাবেশ
রেটিং : ৫/৫
Profile Image for Mojaffor Hossain.
57 reviews19 followers
April 21, 2021
শহীদুল জহির জাদুবাস্তবতা বা কুহকী বাস্তবতার লেখক কিনা সেই প্রশ্ন তোলা উচিত হবে না। কারণ স্পষ্টতই তাঁর লেখায় জাদুবাস্তবতার উপকরণ আছে। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে তিনি সচেতনভাবে জাদুবাস্তবতার বিষয়টি তাঁর গল্প-উপন্যাসে এনেছেন এবং সেটি তিনি গাবরিয়েল গারসিয়া মার্কেস থেকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলছেন, ‘জাদুবাস্তবতার ব্যাপারটা তো আমি মার্কেসের কাছ থেকে পেয়েছি। এবং এটা আমি গ্রহণ করেছি দুটো কারণে। প্রথমত, চিন্তার বা কল্পনার গ্রহণযোগ্যতার যে পরিধি সেটা অনেক বিস্তৃত হতে পারে বলে আমি মনে করি।…দ্বিতীয়ত, আমি আসলে বর্ণনায় টাইমফ্রেমটাকে ভাঙতে চাচ্ছিলাম…।’ [সাক্ষাৎকার, আহমাদ মোস্তফা কামাল গৃহীত]
কিন্তু শহীদুল জহিরকে পড়ার পর পাঠকের মনে স্বভাবতই প্রশ্ন চলে আসে- শহীদুল জহিরের জাদুবাস্তবতা কি মার্কেসীয় বা লাতিন সাহিত্যের জাদুবাস্তবতা? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। হয়ত মোটাদাগে বলা যাবে, হ্যাঁ অথবা না। কিন্তু খতিয়ে দেখলে আমরা বুঝবো দুজনের জাদুবাস্তবতা এক নয়, আবার একও। অর্থাৎ বিষয়টি তর্ক ও তদন্তের।
আমরা টেক্সট ধরেই এর একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি। ‘কাঠুরে ও দাঁড় কাক’ গল্পটি শুরু হয় এভাবে : ‘ঢাকা শহরের প্রবীণ অধিবাসীরা স্মরণ করতে পারে যে, বহু দিন পূর্বে ঢাকা শহর একবার কাকশূন্য হয়ে পড়ে।’ তুলনাটা এখান থেকেও করা যাবে। লক্ষ্য করুন, গল্পটি আরেকটু এগোলেই আমরা দেখবো গল্পের কথক কাঠুরে আকালু ও তার স্ত্রী টেপিকে নিয়ে যে গল্পটি ফাঁদেন সেটি যতটা না জাদুবাস্তব গল্প তার চেয়ে বেশি জনশ্রুতি হয়ে ওঠে। বা মিথিক ফ্যান্টাসিও বলতে পারি। কারণ বাস্তবতা-জ্ঞান থেকে এই গল্পের কোনো অর্থ-উদ্ধার করা যায় না। মার্কেসীয় জাদুবাস্তবতা হলে হয়ত সূচনাটা হতো এভাবে, ‘ঢাকা শহরের প্রবীণ অধিবাসীদের মনে আছে, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পূর্বে ঢাকা শহর একবার কাকশূন্য হয়ে পড়ে।’ অর্থাৎ আরো নির্দিষ্ট করে বলা। তাতে ঘটনাটি যে ঘটেছে সে বিষয়ে পাঠকের মনে আর কোনো প্রশ্ন থাকে না। জাদুবাস্তবতার কৌশল নিয়ে মার্কেস নিজে বলছেন : ‘যখন আপনি বলবেন, হাতি আকাশে উড়ছে, মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আপনি যদি বলেন, ৪২৫টা হাতি আকাশে উড়ছে। লোকজন আপনাকে বিশ্বাস করলেও করতে পারে।’ [সাক্ষাৎকার : প্যারিস রিভিউ] অর্থাৎ, মার্কেস যেটা বোঝাতে চাচ্ছেন- অবাস্তব ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য বা বাস্তব করে তুলতে হলে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার ভেতর চলে যেতে হবে। পাঠক তখন ধরে নেবে বিষয়টি সত্যিই ঘটছে বা ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে মার্কেসের ‘এ ভেরি ওল্ড ম্যান উইথ ইনরমাস উইংস’ গল্পটির কথা আমরা স্মরণ করতে পারি। মার্কেসীয় এই ডিটেল বা নির্দিষ্টকরণের (Fixation) অভাব আছে শহীদুল জহিরে। মার্কেস যেভাবে জাদু-উপকরণের (Megical Element) পুঙ্খানুপুঙ্খ (Detail) বর্ণনা দেন, শহীদুল জহির তা করেন না। সবসময় যে করেন না তাও না, তবে অধিকাংশ সময় তিনি পরিস্থিতির বর্ণনা করেই ছেড়ে দেন। তিনি নিজেই, ‘অথবা/হয়তো/কিংবা/বা’ ইত্যাদি শব্দের পৌনঃপুনিক ব্যবহারের করে পাঠককে আরো অনিশ্চিত বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
এই তুলনার ক্ষেত্রে আরও আমরা দেখবো, মার্কেসীয় জাদুবাস্তবতার বিষয়টি ভীষণভাবে সমাজমুখী। ব্যক্তির অভিজ্ঞতা সমাজের ভেতর সঞ্চারিত হয়। অন্যদিকে শহীদুল জহিরের জাদুবাস্তবতা সমাজের বা সমষ্টির অভিজ্ঞতা থেকে ব্যক্তির দিকে সঞ্চারিত হয়। তাঁর গল্পের দুর্বোধ্যতা বা সিদ্ধান্তহীনতা অনেক সময় মানুষের চেতনার জগতে প্রবেশ করে তাকে জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত গল্পটি হয়ে ওঠে ননসেন্স স্টোরি। সেন্স একটা থাকলেও মার্কেসে যেমন সকলের পাঠে প্রায় একরকমভাবে ধরা দেয়, শহীদুল জহিরে সেটা ঘটে না। মার্কেসের গল্পের মতো শহীদুল জহিরের গল্পে নির্মিতি বা স্ট্রাকচার থাকে না বলে পাঠকভেদে ভিন্নভিন্ন অর্থ জেগে ওঠে। আবার একই পাঠক বিভিন্নপাঠে বিভিন্নরকম অর্থ উদ্ধার করেন। অর্থাৎ মার্কেসের গল্পে প্রতীক বা কুহকী বাস্তবতার অন্তরালে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরার প্রচেষ্টাটি যেখানে জীবনমুখী সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়, সেখানে শহীদুল জহিরে এসে উল্টো দিকে মোড় নেয়। এখানে এসে তাঁর গল্পের রূপকথার প্রবণতা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেটি আমরা ‘ডুমুরখেকো মানুষ’ গল্পের আলোচনা করতে গিয়ে টের পাবো। তাই বলতে পারি, মার্কেস যে মুহূর্তে রূপকথার ভেতর থেকে বের হয়ে আসেন, শহীদুল জহির সেই মুহূর্তে রূপকথার ভেতর প্রবেশ করেন। এখানে রূপকথা এবং জাদুবাস্তবতার পার্থক্য হিসেবে এটুকু বলা প্রয়োজন : জাদুবাস্তবতায় বাস্তবতার সঙ্গে জাদু-উপকরণ মিলেমিশে যায়। কিন্তু রূপকথায় যা ঘটে সবকিছু প্রায় জাদুময়। গল্পের কাঠামো, সেটিং, টন, বিষয়বস্তু সবকিছু মিলে একটা অবাস্তব গ্রাউন্ড তৈরি করে। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, জাদুবাস্তবতা হলো fantastic elements with realistic details। ঠিক এর বিপরীত স্বভাবকে বলা যেতে পারে রূপকথা- realistic elements with fantasti details। এটা যুক্তি দিয়ে বাতিল করে দেয়া যায়। কিন্তু জাদুবাস্তবতাকে তুড়ি মেরে অস্বীকার করার উপায় থাকে না। কারণ বাস্তবতার ভেতর মানুষের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে ফ্যান্টাসি জগতের একধরনের মিলন এখানে ঘটে।
অনেক সমালোচক শহীদুল জহিরের গল্পকে সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তব গল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উল্লেখ্য, যে বাংলাদেশের সাহিত্যে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত কিছু সার্থক পরাবাস্তব গল্প লিখেছেন। কিন্তু শহীদুল জহিরের গল্পগুলোকে সম্পূর্ণ পরাবাস্তব গল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। সুরিয়ালিজমে চেতন (Conscious) এবং অবচেতনের (Subconscious) একটা বন্ধন (Unitly) গড়ে ওঠে। অন্যকথায়, স্বপ্নের সঙ্গে জাগতিক বিষয় যুক্ত হয়ে স্বপ্নবাস্তবতার সৃষ্টি করে। ফ্রয়েডের মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব থেকে জানা যায়, মানুষের মনের সিংহভাগই থাকে অবচেতন অংশে। এই অংশটি মানুষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে সেখান থেকে নানা ভাবনা বা ভাবনার টুকরো টুকরো বিষয় মানুষের চেতনার জগতে চলে আসে। বিষয়টা ভীষণভাবে ব্যক্তিগত। শহীদুল জহিরের গল্পগুলো অবচেতন থেকে আসেনি। শহীদুল জহির নিজেও বলছেন যে তিনি অনেক সময় নিয়ে গল্প লেখেন। অনেক সময় কাঠামোটা পূর্বপরিকল্পিত থাকে। অর্থাৎ তিনি লেখার সময�� সচেতন থাকেন। এই সচেতনতা থেকে তিনি ‘চতুর্থমাত্রা’র মতো গল্প লিখেছেন ক্রিয়াপদের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ কাল প্রয়োগ করে। আবার ‘ধুলোর দিনে ফেরা’র মতো গল্পহীন গল্প লিখেছেন। পরাবাস্তব গল্প এভাবে ভেবেচিন্তে আসে না। এটা একটা কবিতার মতো মুহূর্ত (Momentum) থেকে আসে।
আবার আমরা দেখি, শহীদুল জহিরের গল্পে নির্মিতির দিক থেকে স্বপ্নের বড় কোনো ভূমিকা নেই। [‘চতুর্থমাত্রা’ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম] এবং কাঠামোগতভাবে শহীদুল জহিরের গল্পগুলো ব্যক্তিগত তো নয়ই, কখনো কখনো পুরো মহল্লার। সুতরাং এসব বিবেচনায় তাঁর গল্প পরাবাস্তব নয়। তবে পরাবাস্তব গল্পের অনেক বৈশিষ্ট্য তাঁর গল্পে আছে। লিখতে লিখতে হয়ত তিনি কখনো কখনো ঘোরের ভেতর চলে গেছেন। যে কারণে পরাবাস্তবতার উপকরণ বা লক্ষণ তাঁর গল্পে আমরা খুঁজে পাই। যেমন স্বপ্নে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো তাঁর অনেক গল্পে ঘটনার ভেতর কোনো যৌক্তিক সংযোগ (Logical Connection) থাকে না। অযৌক্তিকতার (Absurdity) বিষয়টি শহীদুল জহিরের গল্পে ভীষণভাবেই আছে। পরাবাস্তব গল্পের মতোই শহীদুল জহিরের অনেক গল্পে আখ্যান বা অবয়ব বলে কিছু নেই। সেটিং অর্থাৎ টাইম-স্পেস ভেঙে গেছে। এসব কারণে তাঁর গল্পে কোথাও কোথাও পরাবাস্তব প্রবণতা চোখে পড়ে।
আলোচ্য বিশ্লেষণের পর বলা চলে শহীদুল জহিরের গল্পে জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা এবং রূপকথার বিষয় আছে। কিন্তু এমনভাবে এক ব্লেন্ডিংয়ের ভেতর দিয়ে যে তাকে আলাদা করা যায় না। [আসলে জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা এবং রূপকথা নিজেরাই প্রবণতার দিক থেকে খুব কাছাকাছি- একই বৃক্ষের তিন শাখা যেন।] যে কারণে শহীদুল জহির তাঁর গুরু মার্কেস এবং ওয়ালীউল্লাহর চেয়ে দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছেন। তাঁর গল্পকে একক কোনো সাহিত্য তত্ত্বের আলোকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে না। তাঁর সাহিত্যে বিনির্মাণের বিষয়টি এখানে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
Profile Image for Tamanna Binte Rahman.
184 reviews141 followers
September 28, 2020
লেখক নিজস্ব একটা স্টাইল তৈরি করেছেন। একই কথার পুনরাবৃত্তি, দীর্ঘবাক্য, হুটহাট ভাববাচ্যে বর্ণনা প্রথমে বিরক্তির উদ্রেক করে। কিন্তু এটাই শহিদুল জহির। যেন পুরোপুরি গল্প নয়, কিছুটা কাব্যিক। গল্পগুলোতে ভাষার ব্যবহার খেয়াল করলে বোঝা যায় সচরাচর এসব ভাষা সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়না। সাহস দেখিয়েছেন বটে! খেটে খাওয়া শ্রেণির ভাষা, লোকের সাধারণ ও কথ্য ভাষার এরকম ব্যবহার আর তার সাথে সামাজিক বাস্তবতার অসামান্য মিশ্রণে এক অনুপম অনন্য শৈলী। অধিকাংশ গল্পই লিখেছেন ভুতের গলির পটভূমিতে। তার লেখায় মুক্তিযুদ্ধ এসেছে বারেবারে। কিছুটা অতিপ্রাকৃত ঘটনার গল্পও লিখেছেন অনেকগুলো। ডলু নদীর হাওয়া, ইন্দুর-বিলাই খেলা, কোথায় পাব তারে, আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল নেই কেন, এই সময়, কাঠুরে ও দাঁড়কাক, মাটি ও মানুষের রং কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি! গল্পের কুশিলবদের মধ্যে একধরনের বিভ্রান্তি সৃস্টি করার লক্ষ্য করা যায় এবং সেভাবেই বর্ণনা করতে থাকেন। গল্পের মধ্যে চিত্র এঁকে, টেবিল এঁকে বিশ্লেষণ করে গল্প লেখা আগে কোনদিন দেখিনি বা পড়িনি।

লেখায় অভিনবত্ব আনতে গিয়ে হুটহাট বর্তমান থেকে অতীত পরমূহুর্তেই ভবিষ্যতে চলে গিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বেশ দুর্ভোগ ঘটিয়েছেন। তাই অনেক লেখাই দুর্বোধ্য মনে হয়েছে এবং পড়ায় বিরতি টেনে নিতে হয়েছে বারবার। এটুকু মেনে নিয়ে রেটিং ৪ দিয়ে দিলাম।
Profile Image for Sanowar Hossain.
281 reviews25 followers
December 30, 2023
বাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতাকে অনন্য রূপ দান করতেই হয়তোবা শহীদুল হক থেকে নিজের নাম শহীদুল জহির পরিবর্তন করেছিলেন। জহিরউদ্দদিন ছিল লেখকের দাদার নাম। তবে নাম পরিবর্তনের কৈফিয়ত হিসেবে বলেছিলেন, সেসময় একই নামে আরো দুইজন জনপ্রিয় লেখকের উপস্থিতি ছিল। যাইই হোক সেই পরিবর্তিত নামটাই যে বাংলা সাহিত্যে নিজের জাত চিনিয়ে যাবে সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ ছিল না। লেখকের প্রকাশিত, অপ্রকাশিত, অগ্রন্থিত এবং কিছু অনুবাদ গল্প দিয়ে এই সংকলনটি সাজানো হয়েছে।

শহীদুল জহিরের লেখায় সিরাজগঞ্জের সুহাসিনী, রৌহার বিল, পুরান ঢাকার ভূতের গলি, দক্ষিণ মৈশুন্দির ব্যপক উপস্থিতি পাওয়া যায়। মুখের ভাষাকে অবিকৃত রেখেই সংলাপ চালিয়ে এইসব অঞ্চলের মানুষকে গল্পে টেনে এনে যে ঘোরের সৃষ্টি করেছেন তা পাঠককে মুগ্ধ করে। নদীর ঘাট পার হতে গিয়ে একজন দূর্বল মানুষকে যখন আরো দূর্বল মানুষ ভরসা করে তখন সেই ভরসার জায়গা বজায় রাখতে তাকে কিছু একটা করে দেখাতে হয়। কিন্তু যখন সেটা পারেনা তখন সে বিদ্রোহ করতে যায়। অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিদ্রোহ করে উঠাটাই এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। একই ভিটায় বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও তাদের বংশের কোনো যোগ নেই। গায়ের রং কালো বলে যখন সন্তান কালো হবে এই আশংকায় বিয়ে হয়না কোনো স্বচ্ছল পরিবারে তখন নিজের ভাগ্যকে দোষই দেয় আম্বিয়া। কিন্তু কোলের সন্তান যখন সবার আশংকাকে উপড়ে ফেলে তখন পূর্ববত আশংকাকারীরা কেউ কেউ চরিত্রহননে লিপ্ত হয়। তখন মুখের উপর উত্তর দিতেও ভয় পায় না আম্বিয়া। মুফতে পাওয়া জায়গাতে প্রভাব খাটিয়ে ঘর তুলে ভাড়া দেওয়ার রীতি ঢাকার অনেক জায়গাতেই রয়েছে। সেখানে নানা কিছিমের মানুষ আসে তাদের মাথা গুঁজতে। কেউ কাউকে চিনেনা অথচ কারো কিছু হলেই সবাই যেন হামলে পড়ে। অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করতেও প্রতিবেশীর জুড়ি মেলা ভার।

আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই তার থেকে বড় প্রশ্ন সেখানে ফুল না থাকলেই বা কী? এমন কী ক্ষতি হয়ে যেত ফুল না থাকলে! তবে আবদুস সাত্তারের জীবনকে বিশ্লেষণ করলে একটি যৌক্তিক কারণ দাঁড় করানো যায়। ঢাকা শহরের অনেক পুরনো বাসিন্দারা হয়তো বলতে পারবেন ঢাকা একসময় কাকশূন্য হয়ে গিয়েছিল। কারণটা সৃষ্টি হয়েছিল সিরাজগঞ্জের কাঠুরে আকালু ও তার পাগল কিছিমের স্ত্রী টেপির থেকে। একজন জাদুকর যখন ডুমুর ফল বিক্রি শুরু করে তখন কোনো প্রয়োজন ছাড়াই মানুষ তার থেকে ডুমুর কেনে এবং ভালো না লাগলেও অন্যের দেখাদেখি তাকে অগ্রাহ্য করতে পারেনা। ভূতের গলিতে সংকট শুরু হয় তখনই যখন দশম শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ সেলিম শিরীন আকতারকে প্রতিদিন ফুল দিতে যায় অথবা আজিজ ব্যাপারীর বাড়িতে নতুন ভাড়াটে আসে। কেউ কিছু না বললেও সকলেই জানে ভাড়াটিয়া লোকটির নাম সুবোধচন্দ্র এবং তার স্ত্রীর নাম স্বপ্না। ফিরে ফিরে একই ঘটনা ঘটতে থাকে বারবার। দীর্ঘদিন আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সুহাসিনীর আবদুল ওয়াহিদ যখন সুহাসিনীতে ফেরত আসে তখন সবার মনে হয় আবদুল ওয়াহিদ নিখোঁজের আগে ঢাকা গিয়েছিল বন্ধু আবুল হোসেনের সাথে। সুহাসিনীর লোকেরা আরো মনে করতে পারে যে আবদুল ওয়াহিদ ঢাকা যাওয়ার পূর্বে ময়নার বাচ্চা বলে নুরজাহানকে শালিকের বাচ্চা দিয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ মৈশুন্দি ভূতের গলির লোকেরা আবারও সংকটে পড়ে যায় যখন হাবলা গোছের আবদুল করিম তার বান্ধবী শেফালির বাড়ি ময়মনসিংহ বেড়াতে যাবে। বেড়াতে যাবে ভালো কথা! কিন্তু তাই নিয়ে সংকটেরই বা কী আছে? মহল্লায় বান্দর না থাকা এবং ইন্দুর-বিলাই খেলার ইতিহাস যখন সকলের সামনে মূর্ত হয়ে উঠে তখন তৈমুর আলির পা খোঁড়া হওয়ার ইতিহাসও জীবন্ত হয়ে উঠে ডলু নদীর পাড়ে।

পাঠক হয়তো ঘুরেফিরে নিজেকে সুহাসিনী কিংবা ভূতের গলিতে আবিষ্কার করবেন। কিন্তু প্রতিবা��ই নিজেকে নতুন মানুষ হিসেবে পাবেন। পাবেন নতুন গল্প। গল্পের শুরুটা পাঠককে সংকটে ফেলে দিলেও যত গল্পের ভেতরে প্রবেশ করবেন ততই নতুন এক বস্তু আবিষ্কার করবেন। একই গল্প বিভিন্ন পাঠকের কাছে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে। তবে সব অর্থই গল্পের সার্থকতা প্রকাশ করে। অধিকাংশ গল্পের সমাপ্তি খোলসা করলেও গল্পের সারমর্ম বুঝতে পাঠককে ভাবতে হবে নিশ্চিত। গল্পগুলো আমি পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে পড়লাম। টানা পড়লে এই গল্পগুলো নেওয়া সম্ভব হতো না। প্রায় প্রতিটা গল্প অন্য গল্পগুলোর চাইতে ভালো। আমি বলবো এই বইটা সকলেরই পড়া উচিত। অন্তত পড়া শেষ করে আফসোস করতে পারবেন কেন আরো বেশি গল্প লিখলেন না শহীদুল জহির! হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Dipto Shaha.
21 reviews3 followers
April 6, 2023
হয়তো ,কিংবা ,অথবা এই শব্দগুলোর গাথুনিতে জাদুবাস্তবতাময় গল্পগুলো লেখা হয়েছে।একই নাম কিংবা বাক্যের বারবার ব্যবহার গল্পগুলোকে বাহুল্য দোষে দূষিত না করে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।গল্পের শুরুর প্লটের রহস্যময় বাক্য শেষে বাস্তবতার আশ্রয়ে কিংবা আরো অধিকতর দুর্বোধ্য হয়ে হয়েছে। বর্ণার ভিন্নতা এবং টাইম ফ্রেমকে ভেঙ্গে দিয়েও গল্পগুলো উপভোগ্য।
Profile Image for Moin Tushar.
14 reviews
December 13, 2023
একটা ঘোর লাগা সন্ধ্যাকে কেন্দ্র করে শহীদুল জহির হাতে আসে। তারপরে ঘোর আর ঘোর। পুরাতন ঢাকাকে সাহিত্যে এভাবে ফুটিয়ে তোলা অসাধারণ কাজ। জাদুবাস্তবতায় যখন ডুব দেই তখন টের পাই মার্কেজের স্পর্শ।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.