Jump to ratings and reviews
Rate this book

অতঃপর অন্তপুরে

Rate this book

302 pages, Hardcover

Published January 1, 2018

2 people are currently reading
73 people want to read

About the author

Samran Huda

8 books3 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (45%)
4 stars
4 (36%)
3 stars
2 (18%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
174 reviews1,356 followers
May 27, 2020
সামরান হুদা সচলে লিখতেন 'শ্যাজা' নিক নিয়ে। এই বইয়ের লেখাগুলোও সম্ভবত পূর্বপ্রকাশিত, গুরুচণ্ডা৯-এ, আরো দুটো ব্লগে। কিন্তু লেখক হিসেবে তাঁর লেখার সাথে আমার পরিচয় সরাসরি বইয়ের মাধ্যমেই।
গত ঈদের ছুটিতে চট্টলাস্থ বাতিঘরে গিয়ে আরো গাদাখানেক বইয়ের সাথে এনাকে থলিতে পোরা মূলত প্রচ্ছদ দেখে, নকশীকাঁথার ফোঁড় দিয়ে লেখা নামের আইডিয়া দেখে,আকারের তুলনায় খানিকটা উচ্চমূল্য মনে হওয়ায় পরও দোনোমনা সরিয়ে রেখে।

পড়ে অবশ্য মনে হয়েছে খুব জিতেছি!
অদ্ভুত সুন্দর বলে!

'অতঃপুর অন্তপুরে' সিলেটের প্রত্যন্ত গ্রামের বর্ধিঞ্চু একান্নবর্তী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সেই সময়ের দলিল, যেরকম সময় এবং পারিবারিক জীবন আমরা (প্রায়) হারিয়ে এসেছি বহু আগেই।
বসন এবং ব্যাসনের সেই প্রথা এবং পরম্পরা, যাকে বিদেশি ভাষানুসারে বলা হয় ট্রাডিশন, সব!

প্রায় বাধ্যতামূলক বলিউডি কালা চশমা আর আঁখিও সে গোলি মারে রিমিক্স গানের সাথে ডান্স মুভ যুগের মেহেন্দি নাইট আর সাংগিতের সময়ে বসে গ্রামীণ লোকাচার, খাবার আর বিয়ের রীতি-রেওয়াজের মায়াময় বিবরণ পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল টাইমমেশিনে চড়ে বসেছি যেন...
অথচ ক্ষীণকায় হলেও এরকম পারিবারিক রেওয়াজ, পাড়াতুতো সম্পর্ক আমি, আমরাও কি পাইনি?

বড় হয়েছি আধা সরকারি হাউজিঙে। ব্যাংকের সহকর্মীরা একসাথে জায়গা কিনে ঘরবাড়ি বানিয়ে বসায় বসতিটুকুর নাম দাঁড়িয়েছিল ব্যাংক কলোনি। প্রতিবেশি সবচেয়ে বয়ষ্কা নারীটি ছিলেন পাড়ার সবার দাদু, নবতর সদস্যের আগমনে পাড়ায় সবাই একত্রে হতো উল্লসিত। শবে বরাতের হালুয়া-রুটি সুতির পাতলা কাপড়ের টুকরোয় ঢেকে আমরা ট্রে হাতে নিয়ে গেছি উল্টো দিকের বাড়িতে, একইরকম পেয়ালা ভরা হালুয়া কিংবা ছিটরুটির প্লেট এসেছে নিজেদের বাড়িতেও। ঈদের দিন সেমাই-পায়েশ-কাস্টার্ড খেতে কাউকে ডাকতে হয়নি ফরমাল ফোনকলে, পাড়ার ভাবিদের মধ্যে মন কষাকষি হয় নি কষা মাংসের ঝোল নিয়ে কস্মিনকালেও। গেটের লাগোয়া জামরুল গাছের ফল আজীবন আশেপাশের সব বাড়িতে বিলিয়ে ফেলে ছড়িয়ে খেয়েছি, ফুরোয়নি।
আজ সে গাছটাও নেই, আমরাও কেউ কি আর আগের মতো আছি রে ভাই?

ব্যক্তিগত হাহুতাশ থাক, বইতে ফিরি৷ স্পয়লার দেয়ার বদনাম আছে বলে সংক্ষেপে সারব।
যদিও দাদির আদরের দুরন্ত নাতনী সামাবিবির ঈদের ছুটিতে সিলেটের গ্রামের দাদাবাড়িতে কাটানোর সময়কাল কেঁদেকেটে, জলে ভিজে জ্বর বাঁধিয়ে প্রলম্বিত করার চেষ্টার কমতি ছিল না।

সেই কবেকার ফেলে আসা শৈশব, দেশ আর জীবন, হাওড়ের অঝোরধারার বিষ্টি আর ঘরদোর কাঁপানো ঝড়, ঝড়ে ঝরে যাওয়া কাঁচা আম, কাঁচা সড়ক মাড়িয়ে চাঁদরাতে বন্দর বাজার থেকে কিনে আনা কাঁচের চুড়ি আর টিপ, শিলপাটায় বাটা মেহেদির পানপাতা নকশা, ময়দানে ঈদের নামাজ, কুরবানি ঈদের পরদিন ভেজে ঝুরঝুরে করে তোলা মাংসের পুরভরা সমুচা, ধোঁয়া ওঠা সুজির হালুয়া আর ফুলকো লুচি।

শুধু ঈদের নাশতা কিংবা দ্বিপ্রাহরিক মেনু হিসেবে সাতকড়া দিয়ে ভুনা গোশ,লাক্কা মাছের আগুন ঝাল শুটকি আর নোনা ইলিশের মখা মাখা ঝোলের ঘ্রাণ-ই নয়, আছে ফুল পিঠা, পোয়া পিঠা কিংবা মুচমুচে পাঁপড়ের গল্প।
এবং ভাপা পিঠা ও পাক্কন,আমার অতি পছন্দের।
আর চিতই, বাসার বাকি সকলের।
হালে অবশ্য মাটির চুলোর ধার থেকে শহুরে মানুষের জিবের স্বাদ মেটাতে চিতই উঠে এসেছে ধানমন্ডির লেকের ধারে, হরেক কিসিমের ভর্তাভাজির সাথে। দুধ চিতই এখন চাইলেই পাবেন ফেসবুক পেইজে অর্ডার করে।
পিয়ুরসালা পিঠার নাম অবশ্য এই বইতেই প্রথম পড়লাম। শীতের হাঁস ভুনা, চাঁটগায়ের আগুনঝাল আস্ত কুড়ার রোস্ট কিংবা খুশবুদার পোলাও, গাছপাকা তালের পিঠাপুলির মতো গ্রামের অসংখ্য খাবার আর জীবনাচরণের গল্প ছড়ানো বইয়ের পাতায় পাতায়।

পুরোনোদিনের বাংলা ছায়াছবিতে দেখা তিন কোণা ঝালর আর কলাপাতার গেট দিয়ে সাজানো বিয়েবাড়ির যেসব ডালাকুলোর আলপনা এ অন্তঃপুরে আঁকা, সেসব এখন এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলোতে পয়সা ফেললেই রেডিমেড মেলে। ঈদে মেয়ের জন্য শখ করে ছেলেদের শার্ট কিনে আনলে চোখ পাকিয়ে নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক বলার মতো কট্টর দাদি-নানি এখন আর কোন পরিবারে নেই বোধ হয়।

এখনকর দাদিরা কি সে সময়ের মতো পান খান? খয়ের ভিজিয়ে, মিহি করে সুপারি কুঁচিয়ে, মিষ্টিপানের ডালা আর হরেক পানমশলা ভরা বাহারি কারুকাজ করা বাটা বিয়েবাড়িতে গুরুজন মজলিশে সাজিয়ে দেওয়ার প্রচলন বোধহয় অজ পাড়াগাঁয়েও নেই আর।

অজাবির মতো রূপকথার রাজপুত্রের ধ্যানে আজীবন একা থেকে সন্ন্যাসব্রত পালন করে না কেউ এখন আর, কেউ ছেড়ে চলে গেলে আমরা নূতন করে ভাবতে শিখেছি ঢের আগেই৷
কিন্তু সামরানের শৈশবের রহস্যময়ী চরিত্র প্রতিবেশি অজাবি ফুফুর আজীবন কেটে গেছে বিফল প্রতীক্ষায়। পৃথিবীর সমস্ত পুরুষচক্ষুর আড়ালে এক পোড়োবাড়িতে। উঁহু, অপেক্ষায় নয় প্রতীক্ষায়।

'...অপেক্ষা একটি দরকারি শব্দ। আটপৌরে, দ্যোতনাহীন, ব্যঞ্জনাবিহীন।'
ঐ যে, রফিক আজাদের কবিতা।
এখানেও তো প্রতীক্ষাই মানানসই, নয়? :)

মৈমনসিংহ গীতিকা আর হাপু গানের সুরে, অমলিন কৈশোরের স্মৃতি আঁকা, গন্ধরাজ লেবুর গন্ধ মাখা কী অপূর্ব এক নক্সী কাঁথার মাঠে হেঁটে আসি পড়তে পড়তে, অবলীলায়।

62597379_10214545138197893_7259160845307871232_o
Profile Image for Harun Ahmed.
1,667 reviews429 followers
September 20, 2025
আধেয় বা বিষয়বস্তু ভালো হলেও লেখা অগোছালো হলে পড়ে আনন্দ পাই না আমি। এই বইটা স্মৃতিকথা হবে নাকি নারীদের অন্তঃপুর (এখানে লুপ্তপ্রায় বিবিধ খাবার রান্নাবাড়ার সূক্ষ্ম, বিস্তারিত ও লোভনীয় বিবরণ) নিয়ে লিখিত হবে তা সামরান হুদা স্থির করতে পারেননি।সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় "আইলো  নকশা পিঠাতে চড়িয়া।" এই নকশিপিঠা আমি নানিবাড়িতে তৈরি হতে দেখেছি ছোটবেলায়। পিঠা তৈরি তো নয়, এ ছিলো এক মহাযজ্ঞ। সব আত্মীয়ারা জড়ো হতেন।তারপর দুই তিনদিন ধরে চলতো পিঠা বানানো। এই নকশিপিঠা তৈরিতে এতো সূক্ষ্ম ও সযত্ন কারিগরির প্রয়োজন আছে যে এর কারিগরকে শিল্পী মানতে হয়। আমার ছোটখালা ছিলেন এরকম একজন শিল্পী। এখন আর এই পিঠা তৈরি হয় না। সেই মানুষগুলো নেই। আমাদের ব্যস্ত জীবনে দুইদিন পিঠার জন্য ব্যয় করাও সম্ভবপর নয়।

হাঁস নিয়ে অধ্যায়টা পড়ে আমি খুবই হতাশ। জানা কথা, অতিথি পাখি শিকার করা এবং তাদের "সুস্বাদু মাংস" দিয়ে ভোজ করা একসময়ের রেওয়াজ ছিলো। কিন্তু এটা এখন আইনত অপরাধ; নৈতিকভাবেও। লেখিকা প্রায় নির্বিকারভাবে অতিথি ধরা ও খাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করা উচিত ছিলো।

রান্না ও খাবারের মাঝখানে হঠাৎ এক দরিদ্র আত্মীয়াকে নিয়ে সুদীর্ঘ এক অধ্যায় লিখেছেন সামরান হুদা; আলাদাভাবে ভালো লাগলেও মূল বইয়ের সাথে এটা বেমানান। বইয়ের উপসংহার বলেও কিছু নেই।সব মিলিয়ে, "অতঃপর অন্তঃপুরে" নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। এখানে এমন কিছু বিষয় আছে যা একটা নির্দিষ্ট সময়ের দলিল, আবার কিছু বিষয় তৎক্ষণাৎ বিস্মরণযোগ্য।
Profile Image for Shuk Pakhi.
512 reviews315 followers
September 27, 2021
কী যে ভীষণ রকমের ঐশ্বর্যময় ছেলে��েলা কাটিয়েছেন সামরান হুদা। সিলেটের গ্রামের বাড়িতে দাদী, ফুপু-চাচা-চাচী-চাচাত ফুপাতো ভাই-বোন মিলে।
আহা কত কত গল্প।

একান্নবর্তী পরিবারের ঈদ উৎসব বা বিয়ের আয়োজনের যে বর্ণনা দিয়েছেন কি যে লোভ লেগে যায়।

অজাবির জন্য লাগে এক আকাশ সমান মায়া।
একরাতে স্বপ্ন দেখলো অজাবি যে এক রাজকুমার আসতেছে তার জন্য। ব্যাস এরপর সে আর কোন পুরুষের দিকে তাকায় না। তার বাড়ীর সীমানায় পুরুষের ঢুকা নিষেধ হয়ে যায়। সে নিজেও তার ভীটে বসত বাগানের সীমানা পার হয়ে এই জীবনে আর পা রাখে না বাইরে।
আহা একটা জীবন এভাবেও কাটিয়ে দেয়া যায়।

কি যে ভীষণ স্বাদের বই। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পরে যাওয়ার মতন বই ই বটে। কাপড়ের প্রচ্ছদে সূই-সুতা দিয়ে নকশা করে বইয়ের নাম লেখা হয়েছে। আর ভেতরে আছে মিঠামিঠা স্মৃতিকথার সাথে অনেক অনেক আঞ্চলিক গীত।
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews463 followers
August 4, 2025
আমি চাই ফিরে যেতে সেই গাঁয়
বাঁধানো বটের ছায়
সেই নদীটির হাওয়া ঝিরঝির
মনের গভীরে পড়ে থাকা যত
স্মৃতি-বিস্মৃতি কখনো কি ভোলা যায়

এই বইটা নিয়ে কিছু বলার আগে একটা ছোট্ট ঘটনা শেয়ার করি।

দুই বছর আগে যখন ইউকে যাচ্ছিলাম, তখন নিজের জন্য একটা ছোট ব্যাগে ১০-১৫টা খুব প্রিয় বই গুছিয়ে রেখেছিলাম। এই বইটাও ছিল তাতে। কিন্তু ঠিক কী কারণে যেন (মনে পড়ে না আর) সেই ব্যাগটা নিয়ে যাওয়া হয়নি। আর গিয়েও যেন সব ভুলে গেলাম—রুমের এক কোণায় পড়ে থাকলো বইভরা ব্যাগটা।
তারপর বছর ঘুরে গেল। গত বছরের নভেম্বর নাগাদ এক আত্মীয় ইউকে আসবেন শুনে আম্মুকে ফোন দিয়ে বললাম, “এই বইটা আর কয়েকটা বই উনাকে দিয়ে পাঠিয়ে দিও।” কিন্তু কী আশ্চর্য! সব বইই পেল, শুধু এইটাকেই খুঁজে পেল না। ভাবলাম, হারিয়ে গেছে। কারও পছন্দ হয়েছে হয়তো, নিয়ে গেছে, মনে মনে আমার কজন কাজিনের নামও ধরে নিয়েছিলাম... কয়েক মাস আগে দেশে এসে বই গুছাতে গিয়ে দেখি—ব্যাগের ভেতরেই আছে! হাসি পেল। বুকের মধ্যে একধরনের ছোট্ট আনন্দ অনুভব করলাম।

অতঃপুর অন্তপুরে মূলত সামরান হুদার নিজের গ্রাম্য জীবনের ছায়াচিত্র। একটা সময়ের ভেতর আবদ্ধ নারীদের পর্দার আড়ালে থাকা গল্প, শৈশবের অলিগলি, পুকুরঘাট আর রান্নাঘরের গন্ধ।
বইটা পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিল, “আরে! এ তো আমারই ছোটবেলা!”
যদি আগেই না জানতাম যে গল্পগুলো সিলেটের কোনো গ্রামের, তাহলে চোখ বুজে বলতাম—এ তো কুমিল্লার কোনো গ্রামের কথা, আমারই পরিচিত উঠোন। যখন পড়ছিলাম যে লেখক ছোটবেলায় কিভাবে বায়না ধরতো নতুন শাড়ি পরে নামাজ পড়ার, আমার একদম নিজের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল—

তখন বয়স বড়জোর ৭-৮ হবে। আব্বু আমার আর ভাইয়ের জন্য একজন টিচার রেখেছিলেন। মাগরিবের পর পরই পড়া শুরু হতো। আমি একদিন বায়না ধরলাম দাদুর সাথে নামাজ পড়বো। তখন নামাজ মানেই যার সাথে পড়ছি, সে যা করছে, একদম হুবহু নকল করা। দাদু মাগরিব শেষ করে অন্য আরেকটা নামাজ শুরু করলেন। আমিও সঙ্গে সঙ্গে শুরু করলাম, আর এদিকে পড়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে, তবু আমার নামাজ ফুরায় না। শেষে টিচার আম্মুকে ডেকে বললো, “এতক্ষণ ধরে তো ৫/৭ রাকাত নামাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, মেয়ে কোথায়?” আম্মু এসে দেখলো আমি এখনও দাদুর রুমে নামাজে ডুবে আছি! তারপর আম্মু এসে টেনে নিয়ে গেল আমাকে। :P

এই বই পড়তে পড়তে আরও অনেক ছোট ছোট স্মৃতি মাথায় ঘুরতে থাকে—আম্মু পিঠা বানাচ্ছে, আমি পাশে বসে আছি আর সবসময় আমাকেই প্রথমে দেওয়া হতো কারণ আমি ছিলাম বাড়ির বড় মেয়ে আর ভীষণ আদরের। আজকাল দুধ চিতই, ভাপা পিঠা, পোয়া পিঠা—সবই ফেসবুকে অর্ডার করলেই পাওয়া যায়, কিন্তু আম্মুর হাতের পিঠার স্বাদের সঙ্গে কীসে তুলনা চলে?!
সামরান হুদার মতো চাচা-চাচি, কাকা-কাকি, ভাইবোন এমন সম্পর্কের ভেতর বড় হইনি, কারণ আব্বু ছিলেন দাদার একমাত্র ছেলে। তবু আমার শৈশবটা যেন ঠিক সেরকমই ছিল—পুকুরভরা মাছ, গাছভর্তি আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, তাল, নারকেল, জলপাই—কী ছিল না! ধানের মৌসুমে মেশিনের শব্দে বিরক্ত হলেও, আতপ চালের পিঠা আর হাঁস ভুনার স্বাদ ছিল অতুলনীয়!
যখন বইতে শিমের বিচি ভাজার গল্প এল, ঠিক তখনই আম্মু কুমড়োর জন্য শিমের বিচি ভাজছিলেন। সেই গন্ধ, সেই মুহূর্ত কী আশ্চর্যভাবে মিলে গেল!

আরও অবাক হলাম—সামরান হুদার দাদিও যেমন আলাদা রকম পান খেতেন, আমার দাদুও ঠিক সেরকম! আমাদের দাদু (মানে দাদি, আমরা “দাদু” বলেই ডাকি) শুকনো সুপারি ছুঁতেন না। দাদুর জন্য কাঁচা সুপারি—বড় বড় দেখতে, ভেতরটা সাদা, হালকা মিষ্টি স্বাদ—আর যদি কষ হয়, তাহলে চলবে না। এই একরোখা খুঁতখুঁতে শর্তে সুপারি আনাতে হতো। দেখলাম বইতে ঢেঁকির কথাও উঠেছে। পড়েই মনে হলো, আমাদের বাড়িতেও তো একটা পুরোনো ঢেঁকি আছে, যেটা দাদু তাঁর বাবার বাড়ি থেকে এনেছিলেন। এখন আর কেউ ওটা ব্যবহার করে না, কিন্তু আমি ছোটবেলায় ওটার ওপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কত মজা করতাম!

মেয়েদের পালা গান, ময়মনসিংহ গীতিকা—সবই উঠে এসেছে বইয়ের পাতায় পাতায়। একটা গান তো আমার খুব প্রিয়:

“হাস মারলাম কইতর মারলাম বাইচ্যা মারলাম টিয়া,
ভালা কইরা রাইন্দো বাইঙ্গন কালাজিরা দিয়া গো
কালাজিরা দিয়া”


আর 'অজাবি'র গল্প...আমাদের গ্রামেও এক ‘অজাবি’ ছিলেন। জীবনভর রূপকথার প্রিন্সের অপেক্ষায় ছিলেন। আম্মুরা তাঁকে ফুফু ডাকতো। রান্নার স্টাইলও ছিল একদম অন্যরকম, গ্রামের ছেলেপেলে ওনার বাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে মারতো। ছিল একটু পাগলাটে, একটু অন্যরকম। এরকম অজাবি হয়তো সবার গ্রামে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। আমাকে অনেকটা নিশ্চিন্দিপুরের ইন্দির ঠাকুরুণের কথা মনে করিয়ে দিলো!

আমি যেন বারবার শুধু অপু-দুর্গার শৈশবে ফিরে যেতে চাই। তাই কি এমন বই পড়তে এত ভালো লাগে?

“হলুদ বনে বনে—
নাক-ছাবিটি হারিয়ে গেছে
সুখ নেইকো মনে।”


নাকি সত্যিই মাহমুদুল হকের কথাটাই ঠিক—

“আসলে জীবন মানেই শৈশব; জীবনভর মানুষ এই একটা ঐশ্বর্যই ভাঙিয়ে খায়, আর কোনো পুঁজিপাট্টা নেই তার।”
Profile Image for Nadia Jasmine.
213 reviews18 followers
June 16, 2024
দশ তারাও কমই হতো মুগ্ধতা প্রকাশের উপায় হিসেবে।

এতো চমৎকার এই বইয়ের পাঠক আরো বাড়ুক, দোয়া করি। নির্জলা গদ্যে লেখা আত্মজীবনীমূলক এই বই জসীমউদ্দিনের জীবনকথাকে একটু হলেও মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় যা হারিয়েছি, তা কখনোই আমরা ফিরে পাব না আর আফসোস এটার বদলে আম্বানিদের পাগলামি দেখে করছি, সেটা আরো বড় আফসোস!

নন-ফিকশন নিয়ে কোন ধরনের ভীতি থাকলে বা বিরক্তি থাকলে এই বই কাটিয়ে দিতে পারে মনে হয়। আর কোনদিন যে নন ফিকশন পড়ে নি , তার শুরু করার জন্যও ভালো একটা বই এটা।

মলাটের প্রতি যাদের আকর্ষন আছে, তাদের জন্য বলছি যে এই বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ বইটির মান রেখেছে, মানে পোষাকসর্বস্ব নয় এই বই। ভিতেরের মালমশলা মলাটের চেয়েও ভালো।

সামাবিবি ওরফে সামরান হুদার বিশাল ভক্ত বনে গেলাম।
Profile Image for Asif Khan Ullash.
145 reviews8 followers
September 19, 2025
সামরান হুদার নাম প্রথম দেখেছিলাম দামু মুখোপাধ্যায়ের ‘খ্যাটন সঙ্গী’ বইয়ের সম্পাদক হিসেবে। এরপরে, একই প্রকাশনীর ‘রসনাস্মৃতির বাসনাদেশে’ বইতেও লেখিকার একটা প্রবন্ধ ছিল, পড়ে ভালোই লেগেছিল। এই বইতেও সেরকম ঝরঝরে, ক্রিস্প লেখনীর মধ্যে দিয়ে লেখিকা তার শৈশব ও উঠতি কৈশোরের স্মৃতি লিপিবদ্ধ করেছেন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের উচ্চ-মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, উৎসব, পালা-পার্বণ, খাবার-দাবার, ঐতিহ্য, সংস্কার, সম্পর্ক সবকিছুই উঠে এসেছে একটু একটু করে। এই ধরণের স্মৃতিকথাগুলো, বিশেষ করে এমন মানুষগুলোর স্মৃতি যারা তাদের শেকড় ছিঁড়ে অন্য কোথাও থিতু হয়েছেন, তাদের লেখায় সমসময়ই অনেকখানি মায়া জড়িয়ে থাকে; তারা তাদের কথাগুলো স্মরণ করেন ও বলেন খুবই যত্ন নিয়ে। এই বইয়ের প্রতিটি শব্দে সেই মায়া স্পষ্ট।

গুণীজনেরা বলেন, “ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইট’স কাভার।” বুদ্ধি একটু শর্ট হবার কারণে আমার এই বইটি কেনার পেছনে প্রধাণ এবং একমাত্র কারণ ছিল এর প্রচ্ছদ। ক্লথ বাইন্ডিংয়ের উপরে নকশিকাঁথার রঙ্গিন ফোঁড়ে বইয়ের নাম লেখা সাথে সুন্দর ছোট, গোলবাটুল সাইজ তো আছেই। বইটা হাতে নিলে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। লিরিকালের বই মানেই যেন - ভালো বই এবং একই সাথে টপ নচ প্রোডাকশন।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.