অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্তের স্মৃতিকথা 'আট দশক'। আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে খুলনার দৌলতপুরের দিনগুলির স্মরণে 'আট দশক' শুরু৷ পিতা দৌলতপুর কলেজের অধ্যাপক ছিলেন৷ তখনকার বর্ণনা নিঃসন্দেহে পাঠকের জন্য বড় পাওনা। সামাজিক ইতিহাস হিসেবেও তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ এরপর ময়মনসিংহে থেকেছেন কিছুকাল। তারপর কলেজ পাশ করার আগপর্যন্ত সময় কেটেছে ঢাকায়। আজকের পুরান ঢাকায়। তখন সদ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাবি। ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ ঢাকার অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকার একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায় ভবতোষ দত্তের লেখায়। বাঙালি মধ্যবিত্ত হিন্দু শ্রেণির ঢাকাকেন্দ্রিক জীবনই মুখ্য। বাঙালি মুসলমানের সাথে বেশিএকটা সংযোগ ছিল বলে মনে হয়না। অন্তত দত্ত মশাইয়ের লেখা তা সমর্থন করে না।
১৯২৬ সালের আগে ঢাকায় কখনও দাঙ্গা দেখেননি ভবতোষ দত্ত। আবার ১৯২৬-এর পরে যতদিন ছিলেন, ততদিন দাঙ্গা ছাড়া দিন কাটেনি। দুই সম্প্রদায় স্পষ্টতই দু'ভাগ হয়ে গিয়েছিল।
ঢাকা ব্রিটিশ আমলে ছোট্ট শহর। কিন্তু একটা সাংস্কৃতিক আবহ গড়ে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এসেছিলেন। রাজনৈতিক পরিবেশও বদলে যাচ্ছিল। সুভাষচন্দ্র বসুর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের পাশাপাশি বিপ্লবী রাজনীতির অঙ্গণে ঢাকার ভূমিকা বাড়ছিল। বিপ্লবী বিনয়-বাদল-দীনেশের কমপক্ষে দুইজন খোদ পুরান ঢাকায় থাকতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মনোভাব নেতিবাচক ছিল বলে একটি প্রচারণা এখনও আছে। এই ধরনের মনোভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় ভবতোষ দত্তের স্মৃতি কথায়। তিনি লিখেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, যিনি ঢাবির অধ্যাপক ছিলেন, তিনি নাকী এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যঙ্গ করে মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকতেন!
এইচএসসি তখনকার আইএসসি পাশ করে কলকাতায় চলে যান। ভর্তি হন বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে। কলেজের পড়াশোনা, প্রবাদপ্রতিম শিক্ষকদের কথা সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন ভবতোষ দত্ত।
অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে বেশিদিন বেকার থাকতে হয়নি। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন৷ তবে সেখানে অল্পদিন চাকরি করার সুযোগ হয়। ত্রিশের দশকের গোড়ার চট্টগ্রামের বর্ণনা আছে।
এরপর চাকরি হয় বর্ধমান রাজ কলেজে। সেখানে দুই বছর অধ্যাপনার পর যোগ দেন রিপন কলেজে। সেখান থেকে সরকারি চাকরি পান৷ এবার চললেন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে। ভবতোষ দত্ত ইসলামিয়া কলেজের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে একজন ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যে দাঙ্গার সময় হিন্দু শিক্ষকদের সাহায্য করতো। ইসলামিয়া কলেজে দুই গ্রুপ ছিল। বাংলাপন্থী গ্রুপ এবং উর্দুপন্থী। বাংলাপন্থীদের গ্রুপে সেই তরুণ, উপকারি ছেলেটি নেতৃত্ব দিতো, যার নাম শেখ মুজিবুর রহমান।
লন্ডন স্কুল অফ ইকনোমিকসে পিএইচডি করতে যান দত্ত মশাই। সেখানকার বর্ণনায় অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি আছেন, আছেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকও ( ভবতোষ দত্তের মতো মানুষও মুসলমানদের নাম ঠিক করে লেখেননি৷ রাজ্জাককে লিখেছেন রেজাক!)
লন্ডনের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি বেশ সুখপাঠ্য। দেশে ফেরার পর ভবতোষ দত্ত আইএমএফে কাজ করেছেন, শিক্ষা সচিব ছিলেন, ফিন্যান্স কমিশনে ছিলেন৷ অনেক বড়বড় পদে চাকরি করেছেন। কিন্তু সেই তুলনায় লেখাকে সমৃদ্ধ করেননি। এই বিখ্যাত অর্থনীতিবিদের কর্মজীবনের বিস্তারিত বয়ান এই বইকে আরও সুখপাঠ্য করে তুলতে পারতো৷
২শ ৩৯ পৃষ্ঠার বই। খুলনা ও ঢাকার স্মৃতি এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। নিজের শিক্ষা জীবনের কথা বড় গুছিয়ে লিখেছেন ভবতোষ দত্ত। বাকি সবকিছুতেই তাড়াহুড়ো লক্ষণীয়। গদ্য চলনসই৷
ভবতোষ দত্তর লেখায় বিশ শতকের বাঙালী ভদ্রবিত্ত সমাজের জীবনযাপনের একটা সুন্দর ছবি ফুটে উঠেছে। এই সময়ের সামাজিক ইতিহাসের প্রতি যাঁরা আগ্রহী, কিন্তু জটিল তাত্ত্বিক বইপত্র পড়তে ততটা উৎসাহী নন, সহজ ভাষায় লেখা এই মেমোয়্যারটি তাঁদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।
কলকাতার একজন প্রথম শ্রেণির অর্থনীতিবিদ এবং সুবিখ্যাত শিক্ষক হওয়ার সুবাদে ভবতোষ দত্ত পৃথিবীর নানাপ্রান্তেই কর্মসূত্রে ঘুরেছেন, বিশেষত কেন্দ্রীয় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থনীতিবিদ হিসেবে ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্যে তাঁর পা পড়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও তাঁর শিকড় হিসেবে ছিল তিনটি শহর: শৈশবে খুলনার দৌলতপুর, কৈশোরে ঢাকা এবং তারপর বাকি জীবনটুকু কলকাতা।
ভবতোষের ভিটেগ্রাম সিলেটে হলেও তাঁর জন্ম পাটনায়, শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পিতার কর্মসূত্রে প্রথমে খুলনা এবং তারপর ঢাকায়। নিজের ছাত্রজীবনের উচ্চশিক্ষার বড় অংশই কাটিয়েছেন কলকাতায়, প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর বিবাহোত্তর জীবনে লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে। কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম, বর্ধমানের মত কয়েকটি জেলা শহরে থাকলেও তারও বৃহদংশ কেটেছে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে আর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন কৃত্যকে রাইটার্সে। এছাড়া বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত করেছেন আইএমএফের কাজে আমেরিকা এবং ভারত সরকারের বিবিধ কমিটির অর্থনীতিবিদ হিসেবে দিল্লিতে।
শৈশবের দৌলতপুরে যেমন কংগ্রেসী জাতীয়তাবাদ ছিল, তেমনই বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদের চোরাগোপ্তা উপস্থিতির কথা লক্ষ্য করা যায়। গোটা বইটিতে চমৎকার সব অ্যানেকডোটাল স্টোরি রয়েছে। কিংবদন্তী বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত ছিলেন ভবতোষের স্কুলের সহপাঠী, বিনয় বসু এক বছরের সিনিয়র। যে অলিন্দ যুদ্ধ গোটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল তার কয়েকদিন আগেই দীনেশ ইডেন হিন্দু হোস্টেলে লেখকের সঙ্গে সময় কাটিয়ে গিয়েছিলেন, দুজনের সেটাই শেষ দেখা।
ত্রিশের দশক থেকে যে মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দু প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি বাংলাকে জড়িয়ে ফেলছিল, যার অন্তিম পরিণতি দেশভাগ এবং আরো পরে একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ, লেখক সে সম্পর্কেও বলেছেন। খুলনার স্মৃতিচারণায় সাম্প্রদায়িকতার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক সংযোগের কথাই উঠে আসে। বরং ব্রাহ্ম ও হিন্দুদের সামাজিক আচারের পার্থক্য, হিন্দু সামাজিক রক্ষণশীলতা প্রভৃতির উল্লেখ আমরা দেখতে পাই।
সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রথম উল্লেখ পাই বিশের দশকের মাঝামাঝি। ভবতোষ লিখেছেন, ১৯২৬ সালের আগে তিনি ঢাকায় কোনোদিন সাম্প্রদায়িক সংঘাত দেখেননি, আবার ১৯২৬-র পরে এমন কোনো বছর যায়নি যেবছর ঢাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়নি। বস্তুত শহরটি হিন্দু এলাকা ও মুসলমান এলাকায় বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। দেশভাগের পরে পঞ্চাশের গণহত্যার সময় থেকে সম্ভবত ঢাকার এই সংঘাতমূলক দাঙ্গা একতরফা হামলায় পর্যবসিত হয়।
এই ছাব্বিশের দাঙ্গা সম্পর্কে একটি তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে। এই দাঙ্গা ঢাকা, কলকাতা সহ বাংলার একাধিক বড় শহরে ছড়িয়েছিল। ভবতোষ দত্তের আলমা মাটার এবং পরবর্তী জীবনের কর্মস্থান প্রেসিডেন্সি কলেজের (এখন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) গেটের পাশে লাগানো ফলক থেকে জানা যায়, ১৯২৬ সালেই কলেজের প্রহরী রাম ইকবাল সিংহ দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন।
সংঘাতের প্রভাব অ্যাকাডেমিক জীবনেও পড়েছিল। ভবতোষ লিখছেন অনেক ভাল ভাল অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যা���য়ে এলেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আবর্তে পড়ে হিন্দুদের মধ্যে কেউ কেউ অল্পদিনের মধ্যেই চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। আজকের দিনেও যখন 'রবীন্দ্রনাথ গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সভা করেছিলেন' জাতীয় আজগুবি কথাগুলি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক অনুসারীদের তরফে প্রচারিত হয় তখন বোঝা যায়, একভাবে সে রাজনীতি চলমান। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই প্রেক্ষিতেই 'ডাক্কা ইউনিভার্সিটি, মক্কা ইউনিভার্সিটি, ফক্কা ইউনিভার্সিটি, ধাক্কা ইউনিভার্সিটি' মর্মে অম্লতিক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন। লেখক আরো বলছেন, তৎকালীন লীগ সরকারের আমলে প্রায় সমস্ত সরকারি চাকরি মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত থাকার কারণে অসংরক্ষিত অমুসলমানদের জন্য সুযোগ ছিল খুবই সীমিত, প্রথম শ্রেণীর স্কলার হওয়া সত্ত্বেও ভবতোষ দীর্ঘদিন কোনো সরকারি কলেজে অধ্যাপনার সুযোগ পাননি। অনুরূপ কথা আমরা তপন রায়চৌধুরীর মেমোয়্যার বাঙালনামাতেও দেখেছি।
এইসব মন ভারি করা খবরের মধ্যেও সম্প্রীতির অ্যানেকডোটাল কাহিনী এ বই ধরে রেখেছে। চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি লেখক ইসলামিয়া (বর্তমানের মৌলানা আজাদ) কলেজে কর্মরত। মুসলিম ছাত্র ও শিক্ষকেরা লেখকের মত হিন্দু শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে আপন করে নিয়েছিলেন। সে সময়ে এল ডায়রেক্ট অ্যাকশন ও কলকাতার দাঙ্গা। কলেজ সংলগ্ন এলাকা হিন্দু শিক্ষকদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠায় তাঁদের কলেজের বদলে শিক্ষাদপ্তরে এসে হাজিরা দিতে হত। সেই আকালেও কোনো দরকারে কলেজে যেতে হলে মুসলিম ছাত্ররা দল বেঁধে মাস্টারমশাইদের নিরাপদ এলাকা পর্যন্ত ছেড়ে যেতেন। এই অসাম্প্রদায়িক ছাত্রদের একজন নেতার নাম লেখক সপ্রশংসভাবে একাধিক বার উল্লেখ করেছেন: শেখ মুজিবুর রহমান। গত বছরে (২০২৪) তাঁর মূর্তিতে জুতো মারা, প্রস্রাব করার মত ঘটনা অনেককেই স্তম্ভিত করেছে।
দেশভাগ এবং তৎপরবর্তী উদ্বাস্তুজীবনের বিয়োগান্তক ঘটনার বিবরণী এ বইতে তেমনভাবে পাওয়া যায় না, যদিও উন্নয়নের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে দেশভাগের যে প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে পড়েছিল লেখক তা বিস্তারে আলোচনা করেছেন। পূর্ববঙ্গের বাসিন্দা 'বাঙাল' হওয়া সত্ত্বেও ভবতোষ দত্তের পরিবার অনেক আগেই পশ্চিমবঙ্গের দিকে চলে আসায় তাঁদের সরাসরি দেশভাগের ভয়াবহতার সম্মুখীন হতে হয়নি। উপরন্তু দেশভাগের ঠিক পরে পরেই দুবছর তিনি ছিলেন কলকাতার বাইরে।
ভবতোষ দত্ত মার্ক্সবাদী অর্থনীতির ধারার অনুসারী নন, কিন্তু একই সাথে তিনি বাজারমুখী অর্থনীতির অন্ধ সমর্থকও ছিলেন না। সদ্য স্বাধীন দেশে উন্নয়নমুখী কর্মসূচীর প্রয়োজনীয়তা এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন। অর্থনীতিবিদের সততা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সাথে আপোষ করতে চাননি বলেই সাবজেক্ট নলেজ শিকেয় তুলে আইএমএফের চাকরিতে একতরফা ভাবে মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে রিপোর্ট দিতে রাজি হননি, অত্যন্ত লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দশভাগের একভাগ মাইনেতে কলকাতার কলেজে পড়াতে ফিরে এসেছেন। পরবর্তী জীবনে যখন প্রশাসনিক পদে কাজ করেছেন তখনও অর্থের অপচয়, দুর্নীতি, স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে তিনি আপোষহীন থেকেছেন এবং সে কারণে কংগ্রেসি ও মার্কসবাদী রাজনীতিকদের সাথে ছোটখাটো সংঘাতও হয়েছে।
ছোটবেলায় গোঁড়া বৈষ্ণব পরিমণ্ডলে বড় হওয়ার 'প্রতিক্রিয়া'তেই বোধকরি পরবর্তী সময়ে ভবতোষ ব্যক্তিজীবনে সংশয়বাদী-নিরীশ্বরবাদী ধারার অনুসারী। কিন্তু তাঁর নাস্তিক্য আত্মসমালোচনামূলক, ধর্ম যতক্ষণ ধর্মধ্বজিতায় পরিণত হয় না ততক্ষণ তিনি তাঁকে অযথা আক্রমণ করার সার্থকতা দেখেননি। একই কারণে কুসংস্কার ও ক্ষতিকর লোকাচারের কট্টর সমালোচক হলেও সহজ ভূমিজ সাংস্কৃতিক আচারের প্রতিও তিনি সহনশীল।
কয়েক জায়গায় বিদেশি শব্দের বানানের প্রয়োগ চোখে লেগেছে। প্রায় আগাগোড়াই স্টকহোমকে উল্লেখ করা হয়েছে স্টকহোলম বলে। তখন উচ্চারণভিত্তিক বানানের বদলে সরাসরি প্রতিবর্ণীকরণই চলত নাকি এটা লেখকের তরফে প্রমাদ সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারিনি। ব্যক্তিনামের ক্ষেত্রেও একই কথা, জন হিকসের পত্নীর নামের বানান উরসুলার বদলে আরসুলা, বাংলাদেশি অধ্যাপক রাজ্জাকের নাম লিখেছেন রেজাক। একদম শেষের অধ্যায়ে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যকলাপের দায়িত্বের অংশটি বড়বেশি তাড়াহুড়ো করে এগিয়েছে বলে মনে হয়েছে, শেষও হয়েছে একটু আচমকা। বাকি বইয়ের চালের সঙ্গে ঠিক যায় না। এইসব কারণে একটি তারা বাদ গেল।
পুনশ্চ: ১৯৯১ সালের ছোট্ট সংযোজন প্যারাগ্রাফটি বইটিতে এক বিষণ্ন মেদুরতা যোগ করে, যা হয়ত নয়ের দশকের পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থবিরতারই উপজাত।