মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।
সমসাময়িক ভ্রমণকাহিনী লেখকদের অন্যতম মইনুস সুলতান এর জন্ম সিলেটে। কেবল ভ্রমণই না, আরো নানান ক্ষেত্রেও তিনি লেখালেখি করেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ পর্যন্ত কর্মসূত্রে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশ ভ্রমণ করেন। তখনকার ভিয়েতনাম ভ্রমণ এর অভিজ্ঞতা নিয়েই সাজানো হয়েছে বইটি। মোট ২৪টি অধ্যায়ে সাজিয়েছেন তিনি তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে। আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর দেখা ভিয়েতনাম। প্রতিটা অধ্যায়ের নাম ও দারুণ মিষ্টি, যেমন, জলপুতুলের নৃত্যকলা, শহর চন্দ্রমল্লিকা, পদ্মপুকুরে ভাসে মন্দিরখানি ইত্যাদি। সাহিত্য মন্দির বা টেম্পল অব লিটারেচারের কথা আছে, আছে ফরাসি কুঠিবাড়িতে শিরঃপীড়া নিবারণের কাহিনী। ভিয়েতনামের যুদ্ধের সাথে এসে পড়েছে ভ্রমণসঙ্গীনির মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। সিক্লোচালকের উদারতা কিংবা তিমি পূজার বিচিত্র মন্দিরে কিছু সময় কাটানো, অপরিচিত নানান মানুষকে অবলোকন, গা ছমছমে পরিবেশে অন্যরকম অভিজ্ঞতা সবই আমাকে নিয়ে গেছিল সুদূর ভিয়েতনামে। ভ্রমণকাহিনীর যে মূল উদ্দেশ্য থাকে, জায়গা, ইতিহাস এবং মানুষ সম্পর্কে লেখকের পর্যবেক্ষণ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে বিচিত্র অভিজ্ঞতা, সবই পুরোমাত্রায় উপস্থিত ছিল বলা চলে। ভ্রমণকাহিনী হিসেবে বইটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।আবারো বলতে বাধ্য হচ্ছি, লেখকের শব্দচয়ন আশ্চর্যরকম সুন্দর, কানে পিয়ানোর টুংটাং মিষ্টি আওয়াজের একটা অনুভূতি দিচ্ছিল যেন। ভ্রমণের ফাঁকে ফাঁকে স্ত্রী হলেন এবং মেয়ে কাজরির পরিচয়ও খানিক পাওয়া গেল। তবে যে ব্যাপারটি আমাকে ভীষণ বিরক্ত করেছে, সেটা হচ্ছে যেকোন মেয়েকে নিয়ে লেখকের অবজারভেশনে বারবার স্তন এবং নিতম্বের প্রসঙ্গ। এক দুবার আসতে পারে, কিন্তু প্রতিটা মেয়ের বর্ণনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আসায় ব্যাপারটি তার সৌন্দর্য হারিয়েছে এবং পাঠক হিসেবে আমাকে দিয়েছে একরাশ বিরক্তি। এইটুকু বাদ দিলে বইটি ভ্রমণকাহিনী হিসেবে বেশ অন্যরকম এবং সার্থক।