Jump to ratings and reviews
Rate this book

প্রত্নতথ্য

Rate this book
Stories of Discovery of Indian Archaeological Sites

229 pages, Hardcover

First published January 1, 2019

30 people want to read

About the author

Prasenjit Dasgupta

60 books3 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (60%)
4 stars
4 (40%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,866 followers
April 12, 2020
আজ থেকে দুশো বছর আগে এ-দেশের ছাত্রছাত্রীদের কি ইতিহাস পড়তে হত? যদি তা আদৌ পাঠ্যবিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে তাতে কী থাকত?
এখনকার বইপত্রে আমরা যা পড়ে থাকি— তার প্রায় কিছুই তখন পাঠ্যসূচিতে থাকা সম্ভব ছিল না। সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতা সম্বন্ধে কেউ ভাবতেও পারতেন না। বৈদিক সংস্কৃতির ধারণা সীমাবদ্ধ ছিল বেদমন্ত্রের মধ্যেই। পাটলিপুত্র কোথায়— লোকে জানত না। অশোকের নামও জানা ছিল না কারও, ব্রাহ্মী লিপি পড়ার তো প্রশ্নই ছিল না। স্তূপ থেকে মন্দির, ভাস্কর্য থেকে স্থাপত্যের কূটকৌশল— এককথায় বললে, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের শাসনে নির্মিত জিনিস ছাড়া বাকি প্রায় সঅঅব হারিয়ে গেছিল বিস্মৃতি ও অজ্ঞতার অন্ধকারে।
কেন?
উত্তর হিসেবে প্রায় আটশো বছর ধরে ভারতবর্ষের উত্তর, পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিমে শাসনের নামে যথেচ্ছ লুণ্ঠন ও বহ্নুৎসব চালানো শ্রেণিটিকে চিহ্নিত করলে অনেকের সমস্যা হয়। তাঁরা দাবি করেন, শঙ্খ ঘোষ বাবরি মসজিদ ভাঙার পরিপ্রেক্ষিতে 'দুর্যোধন' কবিতায় যা লিখেছিলেন, সেই "আমার কী এসে যায়, বাঁচে কি বাঁচে না ইতিহাস"— এটিই আসলে এ-দেশের লক্ষ কোটি মানুষের স্বাভাবিক চিন্তন।
আমি এই বিবাদে জড়াব না। শুধু লিখব, সেই শ্রেণিটির হাত থেকে শাসনভার যারা কেড়ে নিয়েছিল, সেই নতুন লুঠেরাদের ভিড়ে কিছু সত্যিকারের অনুসন্ধিৎসু, পরিশ্রমী এবং জ্ঞানতাপসও ছিলেন। তাঁরা না থাকলে আমাদের প্রাক-ইসলামিক অতীত সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে যেত!
কী করেছিলেন তাঁরা?
আলোচ্য বইয়ের 'প্রাক্‌-কথন' অংশের পরে থাকা পঞ্চাশটি প্রবন্ধে উঠে এসেছে বিস্মৃতির অন্ধকার থেকে ভারতবর্ষের আক্ষরিক অর্থে স্বর্ণিম অতীতের উদ্ধার হওয়ার রোমাঞ্চকর উপাখ্যানমালা। সেই পঞ্চাশটি প্রবন্ধের নাম দিতে গেলে ব্যাপারটা অত্যন্ত ক্লান্তিকর হয়ে পড়বে। আমি শুধু সেই আবিষ্কারগুলোর মধ্যে কয়েকটির কথা লিখছি। তার থেকেই বোঝা যাবে, এই ভাগ্যান্বেষী, দুঃসাহসী, অনেকক্ষেত্রে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের সম্বন্ধে কিছুই না জানা ও প্রশিক্ষণবিহীন মানুষেরা না থাকলে আমাদের ইতিহাস বইয়ে কী-কী থাকত না~
১] সম্রাট অশোক ও তাঁর কীর্তিকলাপ;
২] পাটলিপুত্র, রাজগির-সহ মৌর্য ও তার আগের-পরের যুগের ইতিহাস;
৩] অজন্তা;
৪] ব্রাহ্মী লিপি পড়ে জানা সবকিছু;
৫] বুদ্ধের ঐতিহাসিক পরিচয় (জানেন কি, যে শাক্যসিংহ-কে ভারতে আক্রমণকারী এক মিশরীয়, তথা স্তূপগুলোকে পিরামিড ভেবে তাদের নীচে ধনরত্নের খোঁজ চালানো হয়েছিল একসময়?);
৬] বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস এবং কপিলাবস্তুর অবস্থান;
৭] মধ্যভারতের প্রাগৈতিহাসিক শিল্পকর্ম;
৮] কোনারক;
৯] বাঘ গুহার শিল্পকীর্তি;
১০] কালিবাঙ্গান, হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো!
কিন্তু এই বই শুধু নীরস আবিষ্কারের কথা বলে না। সরস ও সহজ ভাষায় লেখক আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সেইসব কাণ্ডারীদের, যাঁদের হাত ধরে ঘটেছে ইতিহাসের এই উজ্জ্বল উদ্ধার। এঁদের মধ্যে আছেন~
১) উইলিয়াম জোন্স;
২) জেমস প্রিন্সেপ;
৩) রাজেন্দ্রলাল মিত্র;
৪) আলেকজান্ডার কানিংহাম;
৫) ব্রায়ান হজসন
৬) জোসেফ বেগলার;
৭) জেমস ফার্গুসন;
৮) ফ্যানি পার্কস;
৯) জন মার্শাল;
১০) দয়ারাম সাহনী ও রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
যে-সব ঘটনাক্রম, উত্থান, পতন, ভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের মধ্য দিয়ে এই চরিত্রেরা ভারতের অতীতকে মাটি খুঁড়ে তুলে এনেছিলেন— সেগুলো রহস্যকাহিনির চেয়ে কোনো অংশে কম রোমাঞ্চকর নয়। লেখক অজস্র ছবি, গ্রন্থপঞ্জি ও নির্দেশিকা দিয়ে বইটিকে সমৃদ্ধতর করে তুলেছেন। সামগ্রিক মুদ্রণসৌকর্য ও রুচিশীল প্রচ্ছদ লেখাগুলোর প্রতি সুবিচার করেছে— এও স্বীকার্য।
যদি ভারতের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী হন, যদি বিস্মৃত অতীতের পুনর্নিমাণের সেই পর্যায়গুলো নিয়ে এমন কিছু জানতে চান যা ইতিহাস বইয়ে লেখা হয় না— তাহলে এই বইটি অবশ্যই পড়ুন।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.