উপন্যাস ত্রিভুজ নিয়ে কিছু কথা...... ______________________________ উপন্যাস : ত্রিভুজ লেখিকা : সম্মাননীয়া সাথী দাস। প্রকাশক : লালমাটি। মূল্য : 480/- (প্রথম প্রকাশ , ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ) _________________________________
✪ কিছু নিজের কথা : সম্মাননীয়া লেখিকা সাথী দাসের লেখার সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে "ত্রিভুজ" উপন্যাসটির হাত ধরে। তাও হয়তো ঘটত না। মাননীয়া লেখিকার একটি আবৃত্তি ফেসবুকে শুনে আমার খুব ভালো লেগেছিল , তারপর আমি ওনাকে Friend request পাঠাই এবং উনি সেটি Accept করেন। সেইসময় ওনার আরেকটি উপন্যাস "অসমাপ্ত" প্রকাশিত হবার বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম , কিন্তু প্রথমেই ঐরকম একটি ভীমকায় উপন্যাস কিনবো ? তারচেয়ে আগে ওনার লেখা অন্য কোন একটি বই কিনে পড়ে দেখি ! এটা ভেবেই আমি ত্রিভুজকেই অগ্রাধিকার দিই। অবশ্য আরও একটি কারণও ছিল - মাননীয়া লেখিকা তাঁর কোন একটি পোস্টে লিখেছিলেন "বন্ধুরা তোমরা কি আমাকে শুধু আমার লেখা ত্রিভুজের জন্যই মনে রাখবে ?" - জানিনা কেন যেন লেখিকার লেখা এই লাইনটি মনকে ছুঁয়ে গিয়েছিল ! খুব জানতে ইচ্ছে করছিল কি আছে এই "ত্রিভুজ" উপন্যাসটিতে ? তারপরেই আমি ত্রিভুজ উপন্যাসটি কিনি এবং সত্যি ব'লতে কি আমি লেখিকার লিখনশৈলীতে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর মাননীয়া লেখিকার প্রায় সবকটি উপন্যাসই আমার সংগ্রহে এনে পড়েছি।
★ প্রায় বছর খানিক আগে আমি প্রথম "ত্রিভুজ" উপন্যাসটি পড়েছিলাম। বন্ধুরা বিশ্বাস করুন খুব কম উপন্যাসই আছে যা আমি একবার পড়ার পর দ্বিতীয়বার পড়ি। কিন্তু "ত্রিভুজ" উপন্যাসটি এমন একটি উপন্যাস যেটি আমি তিনবার পড়লাম। শুধু পড়লাম বললে কম বলা হ'বে , বলা যেতে পারে প'ড়লাম এবং তারসাথে "ম'রলাম"।
★ "ত্রিভুজ" উপন্যাসটির নাম হ'লেও পড়তে গিয়ে আমার মনে হয়েছে - চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে Reasoning এ যেমন প্রশ্ন থাকে "এই বৃত্তটির মধ্যে কয়টি ত্রিভুজ আছে ?" এই উপন্যাসটিও ঠিক সেইরকম একটি বৃত্ত।
➤ এই বৃত্তের কেন্দ্রে আছেন একমাত্র "শারদীয়া মজুমদার" আর এই শারদীয়া/দিয়াকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে তাঁর চারপাশে তৈরী হয়েছে অসংখ্য ত্রিভুজ।
➤ বইটি পড়তে কখন যে শারদীয়ার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে , কখন যে তাঁর প্রেমে পড়েছি এবং কখন যে তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছি নিজেও বুঝতে পারিনি।
➤ তারপর কখনও নিজেকে ঋদ্ধি , ঋক , ময়ূখের জায়গায় দাঁড় করিয়ে তাঁদের অনুভূতিগুলোকে বিশ্লেষন ক'রতে ক'রতে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি তাও বুঝে উঠতে পারিনি।
➤ সারাদিন চোখের সামনে কেবল ত্রিভুজের চরিত্রগুলো ঘুরে বেরিয়েছে।
★ মাননীয়া লেখিকা এটিকে একটি ত্রিকোণ প্রেমের উপন্যাস বলেছেন কিন্তু আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসে প্রেম হচ্ছে গণিতের "Complex number" যাকে " i " দিয়ে Denote করতে হচ্ছে !
➤ আর এই " i " - কে খুঁজতে গিয়ে আমার অবস্থা পাগলাগারদে যাবার মতো হয়ে গিয়েছিল।
★ আপনারা আবার ভেবে বসবেন না যে এটি বর্তমান বাংলা সিরিয়ালের মতো একটি লোকের দুটো বৌ , দুটো বৌয়ের চারটি স্বামী আবার চারটি স্বামীর আটটা বৌ এভাবে শাখা প্রশাখা বিস্তার করা উপন্যাস !
★ এটি সম্পুর্ণ একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী এবং ভিন্ন আঙ্গিকে লেখা উপন্যাস।
★ আমার কাছে উপন্যাসের সবথেকে সুন্দর জায়গা বলে যেটি মনে হয়েছে , সেটি হ'ল - দিয়া যখন নিজেকে নীল শাড়িতে আবৃত করে ঋকের কাছে এসেছে তাঁর নারীত্বের শ্রেষ্ঠ সম্মান চাইতে , আর ঋক ধীরে ধীরে দিয়ার পায়ের কাছে বসে পড়ে তাঁর পা দুটোকে জড়িয়ে ধরছে !
➤ মনে হয়েছে ঠিক ঐখানেই ঋক তাঁর প্রেমের সম্পুর্ন পরিপূর্ণতা পেয়ে গিয়েছে , এবং নীল সাগরের তটে অস্তমিত সূর্যের অস্তরাগ গায়ে মেখে ধীরে ধীরে সে অস্তাচলে যাত্রা করছে।
➤ অপরদিকে দিয়া তাঁর ঋজু গ্রীবা আরও উন্নত করে ঋদ্ধিপ্রিয়ারূপে এবং একজন সম্পুর্ণা নারী রূপে ফিরে আসছে তাঁর এবং শুধুমাত্র তাঁরই সৌভাগ্য অর্থাৎ "ঋদ্ধি" বা তাঁর নিজের স্বামী তথা প্রেমিক তথা সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর কাছে।
➤ ঠিক এইজায়গায় এসে আমি , শুধু আমি কেন যে কোন পাঠককেই একমুহূর্তের জন্য হ'লেও থেমে যেতে হ'বে।
➤ একবার হ'লেও তাঁকে তাঁর নিজের ফেলে আসা জীবনের দিকে এবং ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখতেই হ'বে।
★ এখানেই লেখিকার কলমের জাদু !
★এখানে এসে আমার তো মনে হয়েছিল শ্রদ্ধেয় মান্না দের সেই বিখ্যাত গানের কলিটি - "সুখ নামে শুকপাখীটাই ধরতে গিয়ে কিনেছি সোনার খাঁচা যা কিছু সব বিকিয়ে , সোনার শিকল কেটে দিয়ে হায় - সে পাখি আমার যায় উড়ে যায়। "
★ যাইহোক এই সুবৃহৎ উপন্যাসটি এককথায় সত্যিই অনবদ্য।
★ অনেকের কাছে এটি একটি ট্র্যাজিক উপন্যাস কিন্তু আমার কাছে এটি একটি Happy ending যুক্ত উপন্যাস , কারণ আমার মনে হয় আমি যদি কোন ব্যক্তিকে ভালোবাসি , আর সেটা যদি তাঁকে মুখে বলে বোঝাতে হয় তাহ'লে সেটা ভালোবাসাই নয় সেটা কেবলমাত্র আকর্ষন। ভালোবাসা হ'বে সবসময় "নির্বাক" কিন্তু ভীষণভাবে বাঙময়।
★ আর সবশেষে আছেই তো - "It's okay to love them both" সত্যিই তো মনের গতি তো বাতাসের চেয়েও বেশী , তাকে কে কবে অবরূদ্ধ ক'রতে পেরেছে ?
★ আমার কাছে এটি একটি কালজয়ী উপন্যাস। মাননীয়া লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিলেও কম দেওয়া হ'বে এতো সুন্দর একটি উপন্যাস আমাদের উপহার দেবার জন্য।
★ সবশেষে বলি ম্যাডাম আপনার পাঠকরা আপনাকে অবশ্যই মনে রাখবে তবে কেবলমাত্র তাঁরাই মনে রাখবেন যাঁরা আপনার সৃষ্টিকে অন্তর দিয়ে অনুভব ক'রতে পারবেন !
★ অত্যন্ত রূঢ় শুনতে হ'লেও এটাই বাস্তব সত্যি।
★★ আপনার লেখা মোটামুটি প্রায় সব উপন্যাসই আমি পড়েছি , সেই অধিকারে একজন পাঠক হিসেবে আপনার কাছে দাবি করছি এইরকম আরও উপন্যাস আপনি আমাদের উপহার দিন। _____________________________
🍁গতকাল রাতে শেষ করলাম প্রিয় লেখিকার লেখা উপন্যাস ‘ত্রিভুজ’। শেষ করার পর বেশ অনেকক্ষণ ধরেই বইটা হাতে নিয়ে বসে রইলাম প্রচ্ছদটা দেখতে দেখতে রিভিউ লিখতে শুরু করলাম। দেখতে দেখতে আবারো মনে পড়ে যেতে লাগলো উপন্যাসে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা..... 🍁প্রথমেই বলি এই বই পরিণত বয়সে এসেই পড়া উচিত, নাহলে সম্পর্কের এত জটিলতার মধ্যেও কিভাবে ভালো থাকা যায় বোঝা যাবে না। এই উপন্যাস পড়লেই খুব সহজেই বোঝা যাবে কি করে দূর থেকেই ভালোবেসে যেতে হয়,নিজের ভালোবাসার মানুষকে ভালো রাখার জন্য। 🍁লেখিকার লেখা আগেও আরো দুটি উপন্যাস পড়েছি ভীষন কাঁদিয়েছে। তবে এই বার একটু অন্যরকম হলো আমার সাথে কেঁদেছি, তবে এটা বলতেই হবে যে লেখার মধ্যে এতো গভীরতা ছিলো যে চোখের জল ও স্তব্ধ হয়ে গেছে। শুধুই ভাবিয়ে তুলেছে মনকে। 🍁উপন্যাসের প্রতিটি সম্পর্কই ত্রিভুজ এ পরিণত হয়েছে... এই উপন্যাস খুব সহজেই বুঝিয়ে দেয় ‘সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে’। আর ভালোবাসা যে কতোটা গভীর হতে পারে তা এই উপন্যাস পড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছি....... 🍁লেখিকা কে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার হয়তো জানা নেই। উনার লেখা বই পড়লেই আমি জানি আমি ভীষণ কাঁদবো, কষ্ট পাবো তাও পড়ি। কারণ তো একটাই সমাধানের সূত্র লুকিয়ে থাকে উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় পাতায়, আমি সেগুলোই শিখতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাথা উঁচু করে সবার সামনে দাঁড়াতে পারি। 🍁উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করার ভাষা আমার সত্যিই জানা নেই ....... তবে হ্যাঁ একরাশ মুগ্ধতার সাথে এই উপন্যাস আমি শেষ করেছি। এই বই গত এক বছর ধরে আমার কাছে ছিলো কিন্তু না পড়ে ফেলে রেখেছিলাম, লেখিকা ও আমাকে আগেই পড়তে বলেছিলেন, এখন পড়ার পর বুঝতে পারছি হয়তো এটাই সেই সঠিক সময়, আমার পড়ার জন্য...........
ভালোবাসা কি? কতটা তার গভীরতা? তা কি আপেক্ষিক? ঠিক কতগুলো পর্যায় অতিক্রম করলে প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসা সম্ভব! এক জীবনে কি সম্ভব ভালোবাসাকে উপলব্ধি করা! আমরা তো সম্পর্কে আবদ্ধ থাকাকালীন, অপরদিকের মানুষগুলোকে নিয়েই চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে ব্যস্ত!! ভালোবাসা যে নিজেই নিজের ধারক এবং বাহক, ভালোবাসা যে নিজেই অর্থবহ এবং সংজ্ঞাবহ একটা অনুভূতির নাম, এই ধারণার নামই ত্রিভুজ...
বুকের প্রবল রক্তক্ষরণের সঙ্গে অন্তর্দহনের নাম ত্রিভুজ... সম্পর্কের জ্যামিতির নাম ত্রিভুজ... চরম-প্রাপ্তির অপর নাম ত্রিভুজ...
⚧️♂️উপন্যাসের কিছু লাইন-
📌জীবনে দুজন মানুষকে হয়তো একসঙ্গে ভালোবাসা যায় দিয়া, কিন্তু দুটো ভিন্নধর্মী ভালোবাসাকে একসঙ্গে সারাজীবন বহন করা যায় না!! তার মানে এভাবেও ভালোবাসা যায়!! কোনো দাবী নেই, কোনো প্রত্যাশা নেই, কোনো অধিকারবোধ নেই, কোনো দায়বদ্ধতা নেই, কোনো জবাবদিহি নেই, দুটো মানুষের মধ্যে সামাজিক কোনো সংযোগসূত্রই নেই, এমনকি নেই সম্পর্কের কোনো নামও, সম্পূর্ণ নামহীন একটা সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও যেটা আছে, সেটা হলো, এক তীব্র আত্মিক টান!! সমাজের চোখে এর নামই যদি ভালোবাসা হয়, তবে হয়তো তাই...
📌হয়তো জীবন কাল তোকে এমন একটা ত্রিভুজের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে, যার চূড়ায় তুই দাঁড়িয়ে আছিস, আর নীচের দুটো বিন্দুতে তোর দুজন ভালোবাসার মানুষ! ভালো হয়তো জীবনে একাধিকবার বাসা যায় দিয়া, কিন্তু একাধিক ভালোবাসাকে সঙ্গে বহন করে আজীবন চলা যায় না। সেক্ষেত্রে তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, হয়তো জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত! যে তুমি কি চাও! তুমি যা চাও, সেটাই করবে! মনের বিরুদ্ধে গিয়ে, না তুমি নিজেকে খুশি করতে পারবে, না সঙ্গের মানুষটাকে! আজীবন নিজের সঙ্গে-সঙ্গে, অন্য কাউকে ঠকানোর চেয়ে একা থাকা অনেক ভালো। কারণ, ভালোবাসাহীন, ভিত্তিহীন সম্পর্কের ভাঙন সবসময়ই অবধারিত! তাই আমিও আর জীবনে অযথা জটিলতা বাড়াইনি। আবার শুরু করবো, পারবো না বয়ে বেড়াতে, আবার শেষ, আবার কষ্ট!
"ত্রিভুজ" আসলে এক জটিল প্রেমের তথা জটিল সম্পর্কের রসায়নের আখ্যান। নরম মনের রক্তক্ষয়ের সঙ্গে অন্তরদহনের আরেক নাম "ত্রিভুজ"। সম্পর্কের জ্যামিতির নাম "ত্রিভুজ"। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির গোলকধাঁধায় ঘুরতে থাকা মানুষের জীবনের নাম "ত্রিভুজ"।
সারা উপন্যাস জুড়ে অজস্র চরিত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও উপন্যাস মূলত গতি পেয়েছে তিনটে চরিত্রের হাত ধরেই। প্রান্তিক কুমার চৌধুরী ওরফে ঋক আর প্রতীক কুমার চৌধুরী ওরফে ঋদ্ধি; যারা সম্পর্কে ভাই এবং শারদীয়া মজুমদার ওরফে দিয়া - এরাই এই উপন্যাসের চালিকাশক্তি। এরা আবদ্ধ জীবনের ত্রিভুজে।
ঋক আর ঋদ্ধির মা রমা চেয়েছিল কন্যা সন্তানের মা হতে। কিন্তু ভগবান তাঁর সে ইচ্ছে পূরণ করেনি। নিজের ভাগ্যকে স্বীকার করে নিয়ে রমা ভেবেছিল, নিজের দুই ছেলের বউকে নিজের মেয়ে করে রাখবে। জীবনের পথে চলতে চলতে রমার আলাপ হয় নীলিমা আর তাঁর মেয়ে শারদীয়ার সঙ্গে। এরপর কোনদিকে মোড় নেবে এই দুই পরিবারের পরিণতি?
উপন্যাসের ঋক চরিত্রটি আমার মন জয় করে নিয়েছে। তাঁর আত্মত্যাগ, তার ধৈর্য্য, অপেক্ষা, দায়িত্ববোধ তাঁকে করে তুলেছে একজন আদর্শ মানুষ, যা আজকালকার যুগে প্রায় বিরল। এমন একজন মানুষকে হয়ত শুধু দুষ্প্রাপ্য হীরের সঙ্গেই তুলনা করা যায়। ঋককে জানতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই মনে পড়ে যাচ্ছিল সুচিত্রা ভট্টাচার্যের "নীল ঘূর্ণি" উপন্যাসের সৌমিকের কথা। আমার পাঠক মনে আজ থেকে সৌমিকের পাশেই জায়গা করে নিল ঋক। উপন্যাসে আলাপ হলো নীলিমার মত ব্যক্তিত্বময়ী নারীর সাথে যে মনে করিয়ে দেয় "হঠাৎ শাওন" এর নিশিগন্ধার কথা। ভালোলাগার সাথে সাথে উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝেই বিরক্ত হয়েছি একটা চরিত্রের ওপর। সে হলো শারদীয়া। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমার তাকে খুব অবুঝ, অগভীর এবং আত্মকেন্দ্রিক মনে হয়েছে। হতেই পারে, সেটা ঋকের প্রতি একরাশ ভালোবাসার কারণে। এছাড়াও উপন্যাসে আমাদের দেখা হয়ে যায় ময়ুখ, গুঞ্জা, সোমদত্ত, সৈকত, অরণ্য প্রমুখ চরিত্রের সাথে।
শুধু প্রেম নয়, জীবনের অনেক সম্পর্কেই তিনটে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে ত্রিভুজের তিন প্রান্তে। জীবন অনেক জটিল হয়ে দাঁড়ায় সেসময়। সম্পর্কের টানাপোড়েনের গল্পই আমাদের কানে কানে বলে যায় "ত্রিভুজ"। লেখিকার লেখা "হঠাৎ শাওন" এর পর এ লেখাটিও আমার মোটামুটি ভালোই লেগেছে। কিন্তু বইটায় একটা সমস্যা হয়েছে পড়তে গিয়ে। একটা ঘটনা শেষ হওয়ার পর আরেকটা নতুন ঘটনা যখন শুরু হচ্ছে, তাদের মাঝে পর্যাপ্ত ফাঁক নেই। ফলে একটা নতুন ঘটনা যে শুরু হচ্ছে সেটা বুঝতে সময় লাগছে। এ বিষয়ে প্রকাশনা একটু নজর দিলে ভালো হয়। যাই হোক, লেখিকার অন্যান্য লেখাও পরবর্তীতে পড়ার ইচ্ছে রইলো।
Totally garbage! How do people even publish this? And 4.28 star in Goodreads!!! If there is anything below one star, I'd give that. But unfortunately no option!