আহ্ আবার একঠো ৫ তারা বই। যেরকম জীবনী পড়তে গিয়ে শিল্পাচার্যের শিল্প সম্পর্কেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়, একাগ্রতায় অভিভূত হয়ে মাথা নত হয়, তাঁর প্রতি অন্যায়ে মন ক্রোধান্বিত হয়, বিষণ্ণ হয়, আবার তাঁর সাফল্যে মন উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়, ঠিক তেমন জীবনী। প্যাপিরাসের এই জীবনী সিরিজের বই খুব বেশি পড়া হয়নি। তবে যতগুলি পড়া হয়েছে তার মধ্যে এটাই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা মনে হলো। খুব খুব ভালো লেগেছে। ডুবে গেছিলাম একদম। ফলস্বরূপ বাইরের দুনিয়া কোনো প্রকার বাগড়া না দেওয়া পর্যন্ত এখন মন দিয়া গুগলে মিকেলাঞ্জেলোর শিল্পকর্ম দেখব।
মিকেলাঞ্জেলো ইতালীয় শিল্পী, চিত্রকর, স্থপতি ও ভাস্কর। ইঞ্জিনিয়ারও। তাঁর জীবনীতে এর প্রমাণ পেলাম।বইটি লিখেছেন সমীর সেনগুপ্ত। মিকেলাঞ্জেলো বুয়োনিরোত্তি। করোনা ভুলে চলে গিয়েছিলাম পনের শতকের ইতালি--- ফ্লরেন্স, রোম, পোপদের প্রতাপ। মিকেলাঞ্জেলো আজীবন ব্যক্তিগত পরাধীনতা তথা ফরমায়েসী কাজের মধ্যেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শিল্পকর্ম করে গেছেন তা জীবনী না পড়লে বিশ্বাস করা যেত না।।
পাথরে জীবন ফুটাতে রাতের পর রাত লুকিয়ে শব ব্যবচ্ছেদ করে জেনেছেন শরীরের রহস্য। এজন্য অনেকে বলেন উনার ভাস্কর্য লুকানো হিউম্যান এনাটমির ভান্ডার ।
জেনেছি---- ছবিতে তরুণ তরুণীর গায়ের রং আঁকতে হয় শহুরে মুরগির ডিমের হলদে কুসুম মিশিয়ে আর বুড়ো মানুষের কালচে ত্বক আঁকতে চাই গ্রামের মুরগির ডিমের কুসুমের গাঢ় লাল রং। চিত্রকলা ও ভাস্কর্য পার্থক্য বুঝিয়েছেন একটা আরেকটার উল্টোদিক। সাদা কাগজে রং দিয়ে ভরিয়ে হয় চিত্রকলা ।আর পাথর কেটে কেটে ছোট করে হয় ভাস্কর্য। যাহোক, বইটি পড়ে ইতালি যাওয়ার সাধ জাগল তার শিল্পকর্ম স্বচক্ষে দেখার জন্য। আলাপে জানলাম মেয়ে ও ছেলে স্বচক্ষে দেখে এসেছে। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাতে গুগলে কয়েকটি ছবি দেখলাম।
বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ব্যবসায়ী হোক, কিন্তু ছেলের জেদের কাছে হার মেনে ভর্তি করান ছবি আঁকা শিখাতে। অল্পদিনেই প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করে সে। তারপর সুযোগ এলো ভাস্কর্য শিখার।জগৎ সেরা গুরুর কাছেই তার হাতেখড়ি হয়।এখানেও প্রতিভার স্বরুপ দেখান। ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন পৃথিবীজুড়ে। শুরুতে সঠিক পারিশ্রমিক না পেলেও পরবর্তীতে ন্যায্য মূল্য পান কাজের। বেশিরভাগ অর্থ খরচ হয়ে যায় বাবার কাছে টাকা পাঠাতে। অন্যদিকে তার খ্যাতি তাকে বিপদে ফেলে দেয়।একের পর এক পোপের কাছ থেকে তিনি কাজের নির্দেশ আসে, শেষ করার আগেই আবার তাদের মত পরিবর্তন হয়ে যায়। এভাবে জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি অন্যের ইচ্ছার কাছে সঁপে কাজ করে গেছেন।তার নিজস্ব ইচ্ছার কথা কেউ কখনও জানতে চাইলো না। তিনি তৈরি করে গেছেন পৃথিবী বিখ্যাত সব কাজ - সিস্টিনের ছাদে আঁকা জেনেসিস,ডেভিড,পিয়েতা প্রমুখ। রেনেসাঁর এই কবি আর কেউ নন , তিনি আমাদের অতি পরিচিত "মিকেলাঞ্জেলো"।