Jump to ratings and reviews
Rate this book

চলাচল

Rate this book

Unknown Binding

Loading...
Loading...

About the author

Raja Bhattacharjee

33 books10 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (88%)
4 stars
2 (11%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 45 books1,939 followers
August 3, 2026
প্রকাশিত হওয়ার পর এই বইয়ের প্রথম রিভিউয়ার ছিলাম আমি। এদিকে গুডরিডস বলছে, এ বই নাকি আমি পড়িইনি! এ কীভাবে সম্ভব?
যাইহোক, বইটা নিয়ে দু'কথা আবার লিখেই যাই।
আমার যখন কাঁদতে ইচ্ছে হয়, আমি এই বইটা নিয়ে বসি। কখন যে মনের রোদে পোড়া আকাশে সজল মেঘ ঘনায়, কখন দেয় মন উদাস করে দেওয়া হাওয়া, তারপর মন হয়ে, চোখের কোণ দিয়ে নামে রিমঝিম— বুঝতেই পারি না। হাতের উলটো পিঠ দিয়ে নাক মুছে, বারবার চোখ খোলা-বন্ধ করে জল সামলে বইটা একসময় বন্ধ করি। বুঝি, বুকের ভেতর জমে থাকা পাথরগুলো সরে গেছে। আমি আবার শ্বাস নিতে পারছি।
কেন? এটা কি খুব "দুঃখের বই?"
উঁহু। বরং তার ঠিক উলটো। এ বই সুর দিয়ে শুধু জগতকে চেনায়ই না; তার সব অসুরের মুখোমুখি হওয়ার গল্পও বলে। এখানে রোজকার কান্না-হাসি কাহারবা আর দাদরা হয়ে ওঠে। আকাশে-বাতাসে-শ্বাসে ভেসে থাকা গুনগুন কথা আর তাল ছড়িয়ে যায় এই বইয়ের পাতা হয়ে আমাদের ভেতরেও।
আর সেই বুড়ো মানুষটা— যাকে প্রতিষ্ঠানের অচলায়তন আপ্রাণ চেষ্টা করেও বাঁধতে পারেনি, হেঁটে বেড়ান এই বইয়ের পাতায়, শহরের মলিন গলিতে, ঘাম-চকচক মানুষের মুখে।
এই দেখুন! কথাগুলো লিখতে-লিখতেই মনে হতে লাগল বইটার একের পর এক অধ্যায়ের কথা। এবার তো বইটা আবার বের করতেই হয়। তবে যাওয়ার আগে একটা কথা বলে যাই।
এই বইটা পড়া না হলে আপনি সত্যিই খুব বড়ো কিছু মিস্‌ করবেন। সিরিয়াসলি!
Profile Image for Arijit Ganguly.
Author 3 books32 followers
October 4, 2019
#চলাচল
লেখক ~ রাজা ভট্টাচার্য
প্রকাশক ~ দ্য ক্যাফে টেবিল

অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং! হ্যাটস অফ!

এই তিনটে শব্দই শুধু মাথায় এল রাজা ভট্টাচার্যের এই বই আর তার শ্রুতিমধুর পাঠের জন্য। হ্যাঁ, এই বইয়ের সাথেই পেয়েছি একটা সিডি, যাতে সবকটা গল্প লেখক পাঠ করেছেন নিজের গলায়। সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড এফেক্ট ও আবহসঙ্গীত। শুনতে শুনতে মনে হল কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। আমার স্ত্রীর বইয়ের দিকে তেমন ঝোঁক নেই, তার কারণ অবশ্যই সময়ের অভাব। তবে সেও দুমিনিট থমকে দাঁড়িয়ে রাজা দার প্রথম গল্পের পাঠ শুনল, আর শেষে বলল অডিও ফাইলগুলো সবকটা ওর ফোনে ভরে দিতে, ট্রেনে যেতে যেতে শুনবে। লেখকের ব্যারিটোন ভয়েসের যাদুতে মোহিত না হয়ে উপায় নেই যে।

ক্যাফে টেবিলকে ধন্যবাদ দুর্দান্ত প্রুফ রিডিং-এর জন্য। একটা বা দুটো বানান ভুল ছাড়া আর কোনও ত্রুটি নজরে পড়েনি। বইয়ের সাইজ আর কভার দুর্দান্ত! কল্যাণ দাসের আঁকা প্রচ্ছদ আর ভেতরের ছবিগুলো দেখেই বইটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম, নিচে দেওয়া ছবিতে ওঁর কাজের আন্দাজ পাবেন।সব মিলিয়ে হালকা ফুরফুরে একটা বই, যাকে হাতে নিয়েই ভালোবেসে ফেলা যায়।

প্রকাশকের ভাষায় এটা হল "গানের গল্পের বই। গান গাওয়ার বই নয়, গান শোনার বই, অচেনা রাস্তায়, অচিন বিভুঁইয়ে সুর খুঁজে পাওয়ার বই৷ যে সুর মানচিত্র মানে না, আর্থসামাজিক অবস্থান মানে না, সময়-অসময় মানে না - সেই সুর খুঁজে পাওয়ার গল্পের বই।" আব্দুল করিম খাঁ সাহেব থেকে এলভিস প্রেসলি পর্যন্ত সব ঘরানার গানই লেখকের জীবনের কোনও না কোনও স্মৃতির সাথে জড়িত। সেই স্মৃতিচারণায় আমরা পেয়ে যাই আদিপর্ব থেকে মহাপ্রস্থানিক পর্ব পর্যন্ত এগারোটি পর্ব। গল্পের চরিত্রগুলো লেখকের নিজের জীবন থেকেই উঠে এসেছে, পুরোটাই সত্য ঘটনা মনে হয়৷ পাঠক নিজেকে সহজেই কানেক্ট করে ফেলবেন সেইসব নস্টালজিক ঘটনার সাথে।

বইয়ের "আদিপর্ব" হয়তো অনেকেই পড়েছেন লেখকের ফেসবুক পেজে। সেই পর্বের শেষ ছবিটা তুলে দিলাম এখানে। স্পয়লার নয় এটা। কিন্তু লেখকের অদ্ভুত ইউনিক লেখনীতে পাঠককে কাছে টেনে নেওয়ার ক্ষমতা লক্ষ্য করুন শুধু।


"বুড়ো কলকাতার নিষিদ্ধ রাস্তায় হাঁটছিলাম আমরা; মফস্বল থেকে আসা এক শিক্ষক, আর জনাকয়েক শিশু-কিশোর। প্রায়ান্ধাকার গলির বাতাস কেঁপে কেঁপে উঠছিল সুরের টানে টানে - "আরও আলো, আরও আলো, এই নয়নে প্রভু ঢালো...

আমার আর ভয় করছিল না। সামনে তাকিয়ে দেখি - আমাদের অদ্ভুত দলটার সামনে সামনে হেঁটে চলেছেন এক লম্বা-পানা বুড়ো মানুষ। বদ্ধ গলিতেও সুরের হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ছে তাঁর পাকা দাড়ি আর পরণের জোব্বা। কোনও জোড়াসাঁকো, কোনও শান্তিনিকেতন যাকে বাঁধতে পারে নি কোনোমতেই - তিনি এখন হাঁটছেন আমাদের আগে আগে। বরাবরের মতো আজও, নিশ্চিন্তে তাঁকে অনুসরণ করে হাঁটতে লাগলাম আমি। দূরে দেখা যাচ্ছিল বড়োরাস্তা।

আর বাচ্চাগুলো তখন গাইছিল সমস্বরে - ভুলভাল সুরে - "আমারে বাঁধবি তোরা, সেই বাঁধন কী তোদের আছে?"


গান যারা ভালোবাসেন, সে শোনাই হোক বা গাওয়া, এই বইয়ের প্রেমে পড়তে বাধ্য। আর যারা গান দুচক্ষে সহ্য করতে পারেন না, তারাও এই গল্পের মোহতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন। এতে আছে খুব সাধারণ একজন ছেলের বড় হয়ে ওঠার গল্প। আর তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কবিগুরু এসেছেন, নজরুল এসেছেন, সাথে এসেছেন চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, ক্লিফ রিচার্ড, জন ডেনভার, হ্যারি বেলাফন্টে, বিটলস, লতা মঙ্গেশকর, ইগল্স, বব ডিলান, স্করপিয়নস, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, সুমন চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেক নামকরা শিল্পীর পাশাপাশি মাঠের ধারে বাঁশি বাজিয়ে সুর তোলা ছেলেটা, বা ঘরে ঢুকে বসে থাকা অচেনা এক লোকের কীর্তন। তবে ভাববেন না এইসব গানের গল্প নিয়েই এই বই। লেখকের সাবলীল ক্ষমতায় ফুটিয়ে তোলা গল্পগুলোর গভীরে চলে যাবেন আপনি, আর বইয়ের শেষে অনেকক্ষণ থেকে যাবে সেই আনন্দের রেশ।

বইয়ের শেষে ব্যাক কভারে লেখকের কলমে তাই ধরা পড়ে পাঠকেরই মনের কথা।

"দুপুরে বৃষ্টি এলে
ভিজে যাই তুমুল হঠাৎ -
দু'কলি গান ধরি যেই -
ছাতা সেই রবীন্দ্রনাথ!

তিনিও সঙ্গে ভেজেন,
গান গাই দু'জন মিলে -
আমি আর রবীন্দ্রনাথ
আর সব স্কুলের ছেলে..."

এই আঠেরোটা বইয়ের মধ্যে আমার কাছে "দি বেস্ট" হয়ে রইল রাজা দার "চলাচল"!

© অরিজিৎ গাঙ্গুলি
3 reviews2 followers
April 28, 2021
প্রত্যেকটা গানের পেছনেই একেকটা গল্প থাকে। থাকে স্রষ্টার সুদীর্ঘ ও সুবিস্তৃত যাত্রার অগণিত পদচিহ্ন। তবে কিছু কিছু গল্পের পথচলার পেছনেও যে সুরের ও স্বরের জগতের তন্তু জড়িয়ে ও ছড়িয়ে থাকতে পারে তা এই প্রথমবারের জন্য গলাধঃকরণ করলাম। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। 'গলাধঃকরণ করলাম' এইজন্যই লিখেছি কারণ রাজা ভট্টাচার্য, মানে আমাদের রাজা-বাবু স্যার (হ্যাঁ, এইটিই উনার স্কুলের সরকারি সম্বোধন বিধি) -এর এগারোটা গল্পের প্রত্যেকটাকেই মনে হচ্ছিল একেকটা সুস্বাদিত রঙিন শরবতের গেলাস। আর এই ছ্যাঁকাপোড়া গরমে শরবতের নাগাল পেলে শুধু চোখ বুলিয়ে ফিরে আসা অসম্ভব, আকণ্ঠ গলাধঃকরণ করাই একমাত্র কর্তব্য। আসুন, চট করে ঠোঁট বুলিয়ে নিই মিঠে শরবতের মেনুতে, মানে বইয়ের সূচীপত্রে:
০১| আদিপর্ব
০২| সভাপর্ব
০৩| একলব্যপর্ব
০৪| অনুশাসনপর্ব
০৫| কর্ণপর্ব
০৬| সৌপ্তিকপর্ব
০৭| শল্যপর্ব
০৮| ভীষ্মপর্ব
০৯| শান্তিপর্ব
১০| বিরাটপর্ব
১১| মহাপ্রাস্তানিক পর্ব
এই প্রত্যেকটা পর্বের বা অধ্যায়েরই নামগুলো রাখা হয়েছে সেগুলোর কাহিনীকে কেন্দ্র করে যা সম্পূর্ণভাবে যথাযোগ্য।

এবার আসি গল্পের প্রেক্ষাপটে। গল্পে বর্ণিত কাহিনীতে রাজা-বাবু স্যার তাঁর 'খারাপ' পাড়ার স্কুলে শিক্ষকতা করাকালীন সময়ের কিছু স্মৃতিচারণ করেছেন। তারোপরি রয়েছে উনার শৈশব ও পারিবারিক সুর-তাল-লয়মিশ্রিত জগতের এক অপূর্ব যাত্রাকাহিনী। বুড়ো কলকাতার নিষিদ্ধ রাস্তায় সে যাত্রায় পথ দেখিয়েছেন স্বয়ং রবিঠাকুর, কখনো আবার সেই যাত্রার সঙ্গী হয়েছেন চির-কিশোর কাজী নজরুল। কখনো ফের স্করপিঅনস্-এর 'উইন্ড অফ চেঞ্জ' দোলা দিয়েছে এক অন্য সুরের পালকি। বিদ্যাপতি থেকে ভূপেন হাজারিকা, রশিদ খান থেকে হানি সিং, এলভিস থেকে লতা মুঙ্গেশকর ― প্রয়োজনমতে সব্বাই উপস্তিত যে যাঁর ছন্দ অক্ষুন্ন রেখে। আর তাঁদের ওই উপস্থিতিটাই 'চলাচল'এর পাঠকদের করে তুলেছে অপ্রতিম পাঠ্যসুখের সাক্ষী।

এবার একটা একান্ত ব্যক্তিগত উপলব্ধি বারোয়ারীভাবে প্রকাশ করার পালা। আমাদের প্রায় সবার জীবনেই এমন কিছু গান আছে যেসব শুনলেই আমরা অতীতে ফিরে যেতে বাধ্য হই। সেসবের সাথে জড়িয়ে থাকে নানা ভালোলাগা, মন্দলাগার মুহুর্ত। আবার কখনো মন-দর্পণে ভেসে উঠে ভুলে যাওয়া কোনো চিরচেনা মুখ। এই বইটা পড়ার সময় হয়তো হঠাৎ কোনো গানের কলি কিংবা গল্পের কোনো সুঠাম চরিত্র আপনার চোখকে সজল করতেই পারে। তা হতেই পারে বিস্মৃত কোনো রবীন্দ্রগান অথবা কোনো নরম বুকের মন্দ অসুখ। আমার বেলায় তাই হয়েছিল, আপনার বেলায়ও হয়তো আঁখি পাবে প্রাণ!

অবশেষে, কল্যাণ দাসের ঝকঝকে প্রচ্ছদ ও মনমাতানো অলংকরণ এবং দ্য কাফে টেবল-এর হাতে হাত রেখে এই বইটি আমার কাছে রয়ে গেল 'জন্মদিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলাচলের পথে সুরের এক গাঢ় চিহ্নস্বরূপে'। আর এই চিহ্নের জন্মদাগ নিয়েই ভিজব আজীবন ―
"আমি আর রবীন্দ্রনাথ
আর সব স্কুলের ছেলে..."
Profile Image for Rupam Das.
85 reviews3 followers
July 18, 2021
গান নিয়ে গদ‍্য সংকলন 'চলাচল' পড়া শেষ করলাম। ঠিক কিভাবে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করবো তা বুঝতে পারছিনা ।তাও নিপুণভাবে না পারলেও আমি আমার পাঠ অনুভূতি প্রকাশ করবার চেষ্টা করছি।
আমাদের সকলের জীবনে গান বা সুরের প্রভাব আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারিনা। এর জন্যে কাউকে যে গায়ক হ‌ওয়া বা সুর তাল লয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতেই হবে এমন কোনও কথা নেই।প্রত‍্যেকের জীবনের চলার পথে এমন কিছু গান বা বিশেষ সুর যা শুনতে শুনতে অতীতের কোনও বিশেষ ঘটনা বা কোনও বিশেষ মানুষের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সব সঙ্গীত কখনও মনকে খুব আনন্দ দেয় আবার কখনও নিজের অজান্তেই চোখ থেকে জল চলে আসে।আর তখনই আমরা নিজেদের জীবনের ওই মুহুর্তগুলি গানের মাধ্যমে সঠিক ভাবে অনুভব করতে পারি। গান বা সুর কিভাবে মানবজীবন কে প্রভাবিত করে তাই নিয়েই এই গল্প সংকলন।প্রতিটি পর্বে শ্রদ্ধেয় লেখক এর আত্মকথায় উঠে এসেছে কোনও বিশেষ বিশেষ গান। সেই সঙ্গীত যেনও তাঁকে কখনও নতুন কিছুর সন্ধান দিচ্ছে অথবা আরও গভীরভাবে জীবনকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করছে। আর এই জীবনের চলার পথে একে একে এসেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল,বড়ু চন্ডীদাস,লতা মঙ্গেশকর,ক্লিভ রিচার্ড,সুমন চট্টোপাধ্যায় ,রশিদ খান ইত্যাদি স্বনামধন্য শিল্পীরা।পাশাপাশি অখ্যাত অচেনা কিছু চরিত্র সঙ্গীত এর মাধ্যমেই রেখেছেন নিজেদের উজ্জ্বল উপস্থিতি ।আর এই সবের পাশাপাশি সহজ সরল ভাষায় লেখা জীবনের রোজনামচা যা প্রতিটি পর্ব কে আরো সুন্দর ও প্রানবন্ত করে তুলেছে। গল্পগুলি পড়বার সময়ে আমার ছোট বেলার স্কুলের গানের দিদিমণিদের কথা বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিলো।তাঁরাও হারমোনিয়াম বাজিয়ে হাসিমুখে আমাদের গান শেখাতেন বোঝাতেন । যতটুকু গান জানি বা বুঝি তার সব কৃতিত্ব ঐ সব দিদিমণিদের। প্রতিটি গল্প অসাধারন।তাও আলাদা করে যদি বলতে হয় তাহলে অনুশাসন পর্বের 'অরন‍্য' বিশেষ ভাবে আমার মনে দাগ কাটলো।এই চরিত্রের অসহায় দিক ও হতাশা লেখক অত্যন্ত তিক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।আমি নিজে খুব একটা ‌ইংরেজি গান শুনিনা।বলতে আমার কোনও সংকোচ নেই আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চারণ বুঝতে পারিনা কিন্ত কাল এই গল্পটা পড়বার সময়ে গল্পে উল্লেখ করা এলভিস এর গাওয়া "kiss me ,my darling .Be mine to night.its now or never " ও ক্লিভ রিচার্ড এর 'summer holiday" যখন ইউটিউব এ শুনলাম তখন বুঝলাম আমার ওই পুরোনো চিন্তাধারা থেকে বেড়িয়ে আসার সময় উপস্থিত হয়েছে।কি অপূর্ব ও অসাধারণ গান!.আবার শল‍্যপর্বে "অন্ধজনে দেহো আলো,মৃতজনে দেহো প্রান" গানের সাথে ডাক্তার বাবুর অতীতের কথা পড়তে পড়তে আমিও চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি।
আমি কোনও সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ ন‌ই না আছে গান বা সুর সম্পর্কে কোনও গভীর জ্ঞান। কিন্ত তাতে এই ব‌ই পড়তে বা সারমর্ম অনুভব করতে আমার কোনও অসুবিধা হয়নি।বরং আমিও আমার অতীতের বিশেষ মুহূর্ত গুলি আমার ভীষন পছন্দের গানের মাধ্যমে আবার খুঁজে পেলাম আর সেই সাথে পেলাম অনেক নতুন সঙ্গীত ও সুর যা আমি কখনও শুনিনি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ও প্রনাম জানাই শ্রদ্ধেয় লেখক স‍্যার রাজা ভট্টাচার্য কে এমন সুন্দর সৃষ্টির জন্যে যা আমার মনকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলো।এমন 'চলাচল' আরও চলুক।প্রচ্ছদ ও প্রতিটি পর্বের অলংকরন বিশেষ ভাবে প্রশংসনীয়।
প্রকাশক দ‍্য কাফে টেবিল কেও ধন‍্যবাদ জানাই এমন সুন্দর একটি ব‌ই প্রকাশ করবার জন‍্য।নিঃসন্দেহে এ এক অভিনব সৃষ্টি।আমার পড়া অন‍্যতম সেরা ব‌ই হয়ে থাকলো 'চলাচল' যার রেশ থাকবে আজীবন।
এই সময়ে আমার খুবই পছন্দের একটি গানের কিছু কথা দিয়ে আমি এই অগোছালো লেখা শেষ করব যা আমি মাঝে মধ্যে আপন মনে গাই।
"আরো আলো আরো আলো
এই নয়নে প্রভু ঢালো
সুরে সুরে বাঁশি পুরে তুমি আরো আরো দাও তান
মোরে আরো আরো আরো দাও প্রান
প্রান ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
মোরে আরো আরো আরো দাও প্রান"
Displaying 1 - 4 of 4 reviews