আপন বড় ভাই দিগবিজয় দেব য়ের অনেক ঝাটকি,😤 ঠাডানি,😖 হুমকি-ধামকি শোনার পর বইটি পড়ে শেষ করলাম একদিনেই। 🥺 বইটি পড়ে শেষ করতে ২ ঘন্টা ২৩ মিনিট সময় লেগেছিল সবমিলিয়ে। 😥
এখন বইটি নিয়ে আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করি। ✍️
বাদল স্যারের লেখা বইগুলোর মধ্যে "রোজাবেল মা তোকে বলছি" - এই বইটি আমি প্রথম পড়লাম।😇
• এককথায় বলতে হলে বলবো যে অসাধারণ বই এটি।💙💙 • প্রতিটি গল্প আমাকে নতুন কিছু শিখতে বাধ্য করছে।✌️❤️ • বইটিতে ৩০টি গল্প রয়েছে। ৩০টি গল্পের মধ্যে ২৯টি গল্প বাদল স্যার তার মেয়ে রোজাবেলকে বলেছেন। আর ৩০ নম্বরটি রোজাবেল তার বাবা মানে বাদল স্যারকে বলছেন। • ৩০ নম্বরটিকে গল্প বলা যায় না আসলে, ৩০ নম্বরটিতে রোজাবেল বাদল স্যারের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। 💕 • ২৮ নম্বর গল্পটি আমার বেশ ভালো লেগেছিল, স্যার সেই গল্পটিতে বলেছিল যে, সে যদি এখন আবার ছোট কাল ফিরে পায় তখন সে কি কি করবে তা।💜💜 • বইয়ের প্রতিটি গল্পের শুরুতে একটি ছবি দেওয়া আছে। ছবি গুলো আমার বেশ ভালো লেগেছিল • বইটি লেখা হয়েছিল পেরেন্টদের জন্য। কিন্তু আমরা স্টুডেন্টরাই বইটি বেশি পড়ছি,😄 কারণ আমরা ভালো পেরেন্ট হতে চাই ভবিষ্যতে। 😇 • একজন মানুষকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্তু সেই মানুষটির নৈতিক শিক্ষার শুরু হয় তার বাবা-মায়ের কাছেই। বাবা-মায়ের থেকে বড় শিক্ষক আর নেই, এরা ব্যর্থ হলে বাচ্চারা কখনোই মানুষ হয় না। এসব নিয়েই এই মোর্যাল প্যারেন্টিং বইটি।💞💞 • অনেকেই হয়তো বলবে,”প্যারেন্টিং আবার শিখতে হয় নাকি? বাচ্চা তো যে কেউ মানুষ করতে পারে! এতদিন কী আমরা প্যারেন্টিং এর জন্য বই পড়েছি? কই,বই না পড়েও তো আমাদের ছেলেমেয়েকে বড় করেছি!” • প্যারেন্টিং হয়তো শিখতে হয় না, সবাই ছেলেমেয়েকে মানুষ করে।কিন্তু মানুষ করা আর ভালোভাবে মানুষ করা বা তাদের সুন্দর জীবন পেতে সাহায্য করার মধ্যে তো পার্থক্য আছে।যদিও বইটিতে কাউকেই কোনো আদেশ বা উপদেশ দেওয়া হয় নি। লেখক মোট ত্রিশটি ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে জীবনের সত্য বিষয়গুলো সহজ ভাবে বুঝিয়েছেন। • তরুণ বাবা , মায়ের মােরাল প্যারেন্টিং সম্পর্কে জানতে বইটি অবশ্যই পড়া উচিত ।💝 • প্রতিটি গল্পেই বাদল সৈয়দ স্যার এবং তার মেয়ে রোজাবেলের কিছু কথপকথন তুলে ধরেছেন। আর প্রতিটিতেই ছিল কিছু শিক্ষা।🔥
• আমার জীবনে পড়া সেরা বইগুলোর মধ্যে রোজাবেল মা তোকে বলছি বইটি অন্যতম। কিছু কিছু বই থাকে যেগুলো থেকে শুধু শিক্ষা লাভ করা যায় না, সাথে সাথে পাওয়া যায় আত্মিক শান্তিও!এই বইটিও সেরকমই একটি। এছাড়াও,লেখকের শব্দচয়ন,মেয়েকে মা,মামনি,জানপাখি,দখিনা হাওয়া ইত্যাদি আদুরে ডাকে সম্বোধন করা এবং সন্তানের সাথে বন্ধুসুলোভ ব্যবহার সবকিছু পড়ে আমার লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা অনেক গুণে বেড়ে গেছে। আশা করি এই বইটির প্রতি আমার ভালোবাসা কতটা তা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পেরেছি।
প্যারেন্টিং নিয়ে পড়া ২য় বই এটা আমার। গল্পের মতো করে লেখা। বাবা-মেয়ের কথোপকথন স্টাইলে। ৩০টার মাঝে ১০ টার মতো চ্যাপ্টার ব্যক্তিগত ভাবে ভালো লেগেছে। বাকি অধ্যায় বা গল্পগুলো মোটামুটি। দুই একটা চ্যাপ্টার নিজের জন্য ভালো রিমাইন্ডার ছিলো। আর ২-১টা খুবই ফেমাস গল্প। যেমন: William H. McRaven এর ফেমাস বই Make Your Bed বইটার মূল উপদেশ নিয়ে একটা চ্যাপ্টার ছিলো।
বইটার স্পেশালিটি হলো কিছু গল্প ডিরেক্ট বাচ্চাদের বলতে ইউজ করা যাবে। আর কিছু 'কাজ' নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বা করে দেখাতে হবে। কারণ বাচ্চারা দেখে শিখে বেশি। আবার এ বইটা ছোটরা নিজে নিজে পড়লেও শিখবে যেহেতু গল্পের মতো করে লেখা।
বইটার শেষ চ্যাপ্টারের মধ্যে মেয়ে তার বাবাকে নিজের মনের কথা শেয়ার করে। এই চ্যাপ্টারটা ইম্পর্ট্যান্ট কারণ এখানে ক্রিটিক করছে মেয়েটা এবং যেটা এডাল্টদের জন্য ইম্পর্ট্যান্ট। এবং যেহেতু ছেলে-মেয়েরা দেখে শেখে তাই এবং ক্রিটিকগুলো পজিটিভ ভাবে নিয়ে নিজেকে বেটার করতে পারলেও সেটা ইন-ডাইরেক্টলি গুড প্যারেন্টিং এর পার্ট। এন্ডিংটা এমন হওয়ায় ভালো লাগলো।
বইটা পড়তে গিয়ে আবারো রিয়েলাইজ করলাম শিক্ষকদেরও প্যারেন্টিং বিষয়ক বইপড়ার গুরুত্ব আছে। মানে আমিও আসলে এই উদ্দেশ্য থেকেই এখন থেকে ঘাটাঘাটি করছি এ জঁনরার বই। আর বিয়েতে গিফট দেয়ার বিষয় তো আছেই।
বইয়ের মাঝে নোট নেয়ার জন্য আলাদা পেইজ আছে দেখে ভালো লাগলো। কিন্তু বইটার সূচিপত্র নেই। চ্যাপ্টারের নাম নেই। এটা একটু ঝামেলার। কারণ নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার খুজে বের করার জন্য প্যারা খেতে হবে। যেহেতু এটার প্রাকটিক্যাল ইউজ আছে সূচীপত্র দরকার ছিলো গল্পের মতো করে লেখা হলেও। সূচীপত্র থাকলে এটাকে আরেকটু পার্সোনালাইজড করে ব্যবহার করা যায়, এটুকুই।