সবেমাত্র গতকাল এই লেখকের একটি বই পড়লাম। পড়েই এতো ভালো লাগলো যে শেষ করার পর গুগুলেই সার্চ করে ফেললাম লেখকের অন্যান্য বইয়ের জন্য। বেশ কয়েকটি পিডিএফ পেয়ে গেলাম তার মধ্যে এই বইটির উপর যে আমার সর্বাধিক আগ্রহ জন্মাল তার একমাত্র কারন মুর্শিদাবাদের ইতিহাসের উপর আমার অপরিসীম আগ্রহ।
প্রথমেই বলে রাখি বইটি কিশোর পাঠ্য এবং ইতিহাস আশ্রিত কল্প গল্প সুতরাং বিশদ ইতিহাস জানতে চাওয়া পাঠক গণের জন্য এই বই নয়।
বিশেষ করে এই বইতে যা ভালো লাগলো তা নিম্নরূপ
(১) ইতিহাসের উপর নির্ভর করে সুনিপুণ ভাবে গল্প সাজিয়েছেন লেখক মহাশয় , ছোট্ট বই অতএব এক নিঃশ্বাসে পরে ফেলা যায়।
(২) মুর্শিদাবাদের ইতিহাস , সিরাজ - ক্লাইভ - মীরজাফরের চরিত্র বর্ণনা করতে গেলে সেই বর্ণনাকে কিশোর পাঠ্যের গণ্ডির মধ্যে রাখা এক দুরূহ ব্যাপার। লেখক মহাশয়ের কলমের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রখ্যাত লেখক হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ঐতিহাসিক কিশোর উপন্যাস গুলির কথা মনে করায় ।
(৩) খুব সাধারণ কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে লেখক যেভাবে খল চরিত্রের চিত্রায়ন করেছেন তা নিঃসন্দেহে কুর্নিশের দাবিদার।
(৪) গল্পের সাথে সাথে রয়েছে গল্পের ছবি যা পাঠ মাধুর্য্য বাড়িয়ে দেয় ।
এবার বলি যেগুলো ভালো লাগেনি সেগুলি
(১) বইয়ের নাম পলাশীর আগে ও পরে হলেও বইয়ের মূল বিষয় বস্তু ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা । পলাশীর যুদ্ধের ও খুব কমই বর্ণনা রয়েছে ততোধিক কম পলাশী পরবর্তী বাংলার কথা। অতএব নামকরণটি আমার ঘোরতর না পসন্দ ।
(২) রীতিমতো চোখে পড়ার মতো ছাপার ভুল রয়েছে বইতে । ৩৭ তম পৃষ্ঠায় মীরজাফর ও ওয়াটসনের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারের সন লেখা রয়েছে ১৯৫৭। এবং রাজকোষের সম্পত্তি ভাগের বর্ণনায় উমিচাঁদের দাবি এক জায়গায় সিকিভাগ ও দুই জায়গায় ৫ শতাংশ বলে উল্লিখিত হয়েছে।
(৩) কিশোর পাঠ্য হলেও গল্পটিকে আরও বড়ো করা যেত বিষয়বস্তু এক রেখে । যুদ্ধের বর্ণনা নামমাত্র দেখে কিশোর - কিশোরীর মন ভরবে কিনা সন্দেহ।
সব শেষে বলি । ইতিহাস আশ্রিত গল্প হিসেবে কিশোর কিশোরী তো বটেই সবাই পরে দেখতে পারেন ছোট্ট বইটি , খারাপ লাগার সম্ভাবনা নেই বরং গল্পচ্ছলে নতুন কিছু জানতে ভালোই লাগবে ।